📄 ফিতরা কখন আদায় করবে
হাদীসের ভিত্তিতে যাকাতুল ফিতর প্রদানের দু'টি সময় পাওয়া যায়। একটি ফযীলতপূর্ণ সময়, অপরটি সাধারণ সময়।
প্রথমত: ফযীলতপূর্ণ সময়:
ঈদের দিন সকালে ঈদের সালাতের পূর্বে আদায় করা। হাদীসে এসেছে,
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সাদাকাতুল ফিতরকে ফরয করেছেন রোযাদারকে (রোযা অবস্থায়) অনর্থক কথা এবং অন্যায় কাজের গোনাহ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পূর্বে আদায় করলো সেটা হবে গ্রহণীয় যাকাত, আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করবে সেটা অন্যান্য সাদাকার মতো সাধারণ সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং বিনা কারণে সালাতের পর বিলম্ব করলে তা 'সাদাকাতুল ফিতর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশের পরিপন্থী। এজন্য ঈদুল ফিতরের সালাত একটু বিলম্ব করে আদায় করা উচিত যাতে মানুষ সালাতের পূর্বেই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: সাধারণ সময়:
ঈদের এক দু'দিন পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েয। হাদীসে এসেছে,
ইবনে উমর (রাঃ) নিজের এবং ছোট-বড় সন্তানদের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতেন। তিনি যাকাতের হকদারদেরকে ঈদের একদিন বা দু'দিন পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর পৌঁছে দিতেন।
সাদাকাতুল ফিতর ঈদের সালাতের পূর্বেই আদায় করতে হবে। বিনা কারণে ঈদের সালাতের পর আদায় করা জায়েয নেই। তবে যদি কোন বিশেষ কারণবশত বিলম্ব করে, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। যেমন- সে এমন স্থানে আছে যে, তার নিকট আদায় করার মতো কোন বস্তু নেই বা এমন কোন ব্যক্তিও নেই, যে এর হকদার হবে।
টিকাঃ
১২৫. আবু দাউদ, হা/১৬১১; ইবনে মাজাহ, হা/১৮২৭: সুনানে দার কুতনী, হা/২০৬৭; জামেউস সগীর, হা/৫৮৮৩।
১২৬. সহীহ বুখারী, হা/১৫১১; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৩৯৭।
📄 ঈদ প্রসঙ্গ
রমাযান মাস শেষে পশ্চিমাকাশে যখন শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা যায় তখন মুসলিম সমাজে এক নতুন আনন্দ বিরাজ করে। তবে এই খুশিতে শয়তানী কার্যকলাপ না ঢুকিয়ে নবী ﷺ এর শিক্ষা ও আমলের অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।
ঈদ শব্দটি 'আওদুন' শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে, বার বার ফিরে আসা। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার এ দু'টি দিন প্রতি বছর একবার করে ফিরে আসে বিধায় এ দু'টি দিনকে ইসলামী শরীয়তে ঈদের দিন বলা হয়েছে। তাছাড়া ঈদের অন্য অর্থ হচ্ছে, আনন্দ, উৎসব ইত্যাদি। মুসলিম সমাজ এ দু'টি দিন তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে এবং আনন্দ করে, তাই এ দিনগুলোকে ঈদের দিন বলা হয়।
মহানবী ﷺ মদিনায় হিযরত করার পর দ্বিতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে প্রথম ঈদের সালাত আদায় করেন। নবী ﷺ বলেছেন, 'হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতিরই আনন্দোৎসব রয়েছে। আর আমাদের আনন্দোৎসব হচ্ছে এটা (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।)'
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মদিনাতে এলেন, তখন এখানকার বাসিন্দাদের দুটি উৎসব ছিল, যাতে তারা আনন্দ করত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে প্রশ্ন করেন, এই দু'দিনে তোমরা কী কর? তারা বলল, আমরা ইসলাম আগমনের পূর্বে এ দু'দিন আনন্দোৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তা'আলা ওগুলোর পরিবর্তে আরো উত্তম কিছু দান করেছেন। একটি হলো রোযা ভাঙ্গার আনন্দের দিন "ঈদুল ফিতর” এবং অপরটি হলো কুরবানীর দিন “ঈদুল আযহা”। শুধু খেলাধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য যে দুটো দিন ছিল আল্লাহ তা'আলা তা পরিবর্তন করে এমন দুটো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর শুকরিয়া, তার যিকির, তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার সাথে সাথে শালীন আমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা ও খাওয়া-দাওয়া করা হয়।
মুসলিমদের ঈদ হলো দু'দিন :
মুসলিমদের ঈদ হলো দু'দিন। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নবী নামে তৃতীয় আরেকটি ঈদ প্রচলন করা নিঃসন্দেহে বিদআত, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
টিকাঃ
১২৭. সহীহ বুখারী, হা/৯৫২; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৯৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৫৭৫; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২১৩৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৮০৯; বায়হাকী, হা/২০৮০১; শারহুস সুন্নাহ, হা/১১১১; মিশকাত, হা/১৪৩২।
১২৮. নাসাঈ, হা/১৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৮৫০; বায়হাকী, হা/৫৯১৮।
📄 ঈদের দিন করণীয়
ঈদের দিন সকালে গোসল করা : ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। কেননা এ দিনে সকল মানুষ সালাত আদায়ের জন্য মিলিত হয়। যে কারণে জুমু'আর দিন গোসল করা মুস্তাহাব সে কারণেই ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব। হাদীসে এসেছে,
নাফে' (রহ.) হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন।
শালীনতা বজায় রেখে যথাসম্ভব উত্তম পোশাক পরিধান করা:
আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করণার্থে ঈদের দিন সুগন্ধি ব্যবহার ও উত্তম পোশাক পরিধান করা ভালো। হাদীসে এসেছে,
আমর ইবনে শু'আইব (রহ.) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দার উপর তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন।
ঈদুল আযহার দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া:
বুরায়দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না এবং ঈদুল আযহার দিন সালাত আদায় না করে কিছু খেতেন না।
ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত:
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ “ঈদুল ফিতর”-এর দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তা বেজোড় সংখ্যায় খেতেন।
পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া:
আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নাত হলো ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া। ইমাম তিরমিযী (রহ.) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এ অনুযায়ী আমল করেন এবং তাদের মত হলো, পুরুষরা ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাবে এবং ঈদুল ফিতরের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে কিছু খেয়ে নেবে। ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন, মুস্তাহাব হচ্ছে, গ্রহণযোগ্য কোন কারণ ছাড়া যানবাহনে আরোহণ করবে না।
ঈদগাহে আসা-যাওয়ার সময় পথ পরিবর্তন করা :
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ ঈদের দিন রাস্তা পরিবর্তন করতেন অর্থাৎ এক পথে যেতেন এবং অন্য পথে আসতেন।
ঈদের দিন তাকবীর পাঠ করা জরুরি :
আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আল্লাহ তা'আলা চান তোমরা রোযার দিনগুলো (রমাযানের সংখ্যা) পূর্ণ করো এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করো, যেভাবে তিনি তোমাদেরকে শিখিয়েছেন। তাহলে আশা করা যায়, তোমরা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবে।' (সূরা বাকারা- ১৮৫)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের প্রেক্ষিতে বলেন, প্রত্যেক রোযাদারের কর্তব্য হচ্ছে, শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তাকবীর বলতে থাকা। যতক্ষণ না ঈদগাহ থেকে ফিরে আসে।
ঈদুল ফিতরের দিনের তাকবীরের প্রথম এবং শেষ সময়ঃ
তাকবীর আরম্ভ হবে ঈদের জন্য বের হওয়ার সাথে সাথে এবং ঈদের সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে তার সময় শেষ হয়ে যায়। এক হাদীসে এসেছে,
যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরের দিনে বের হতেন এবং ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবীর দিতে থাকতেন। তারপর সালাত সমাপ্ত করতেন। অতঃপর যখন তিনি সালাত সমাপ্ত করতেন, তখন তাকবীর দেয়া বন্ধ করতেন।
নিচের বাক্যগুলোর মাধ্যমে তাকবীর পড়তে হয়:
'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লা-হিল হামদ।'
অর্থ : আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
টিকাঃ
১২৯. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৪২৬; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬৩৪৪; মুসনাদে শাফেয়ী, হা/৩২২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৫৭৫৩।
১৩০. তিরমিযী, হা/২৮১৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১৮৮; জামেউস সগীর, হা/২৭২৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১২৯০; মিশকাত, হা/৪৩৫০।
১৩১. তিরমিযী, হা/৫৪২; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৫৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৮১২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১০৮৮; মিশকাত, হা/১৪৪০।
১৩২. সহীহ বুখারী, হা/৯৫৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২২৯০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪২৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৮১৪; মিশকাত, হা/১৪৩৩।
১৩৩. তিরমিযী, হা/৫৩০।
১৩৪. সহীহ বুখারী, হা/৯৮৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/১১০৮; জামেউস সগীর, হা/৮৯০৭; মিশকাত, হা/১৪৩৪।
১৩৫. ফাতহুল বায়ান ১ম খণ্ড ২৩৯ পৃষ্ঠা।
১৩৬. সনদ মুরসাল: মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বাহ হা/৫৬৬৭; সিলসিলা সহীহাহ হা/১৭১।
১৩৭. উমদাতুল কারী ১০/৩১০।
📄 মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার বিধান
মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুমতি :
উম্মে আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন, যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঋতুবতী, সাবালিকা এবং পর্দাশীল নারীদেরকে নিয়ে বের হই। অতঃপর ঋতুবতী নারীরা সালাত আদায় করা হতে পৃথক থাকতেন। কিন্তু তারা অন্যান্য উত্তম কাজসমূহ ও মুসলিমদের দু'আয় অংশগ্রহণ করতেন। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে এমন অনেক নারী আছে, যাদের কোন চাদর নেই। তখন তিনি বললেন, তাদের বোন যেন তাদেরকে চাদর ধার দেয়।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কন্যা ও স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু' রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করলেন না। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে সাদাকা করার আদেশ দেন। ফলে মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার সাদাকা করতে লাগল।
উম্মে আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো। এমনকি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত ও তাদের দু'আর সাথে দু'আ করত। আর তারা সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতার আশা করত।
উপরোক্ত হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রাপ্তবয়স্কা, গৃহবাসিণী এবং ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদেরকেও দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আরো প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মহিলাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যদি কোন মহিলার ওড়না/চাদর না থাকে তাহলে তাকে তার অপর বোনের চাদর ধার নিয়ে হলেও ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী মহিলারা নামাযের সময় নামায পড়া হতে বিরত থাকবে এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজে ও মুসলিমদের দু'আয় শরীক হবে।
অপর হাদীসে এসেছে,
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন- আযান-ইকামত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ) এর উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং "আল্লাহ ভীতি” অর্জন করার আদেশ করলেন ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর তিনি সমবেত জনতার সামনে উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বক্তৃতা শেষ করে মহিলাদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি তাদের সামনেও উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বললেন, তোমরা সাদাকা করো। কেননা তোমাদের বেশির ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্য থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একজন মহিলা দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন- হে আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কেননা তোমরা বেশি বেশি অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলারা তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল।
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের সালাত আদায় করে বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট গিয়েছেন। তাদেরকে দান সাদাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন, এমনকি মহিলারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করে তাদের কানের রিং ও গলার হার পর্যন্তও দান করে দিয়েছেন। উক্ত দানগুলো বিলাল (রাঃ) একত্রিত করে নিয়ে এসেছেন।
কিন্তু বড় অনুতাপের বিষয় হলো এই যে, মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সহীহ হাদীস ও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অনেক মুসলিম সমাজ মহিলাদেরকে মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া এবং মুসলিমদের দু'আ, দ্বীন শিক্ষা ও ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা হতে বঞ্চিত করছে।
ঈদের সালাতের সময়:
সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে ঈদের সালাতের সময় আরম্ভ হয় এবং দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় এ সালাত আদায় করা যায়। ঈদুল আযহার সালাত একটু আগে পড়া উত্তম। যেহেতু এরপর পশু কুরবানী করতে হয়। আর ঈদুল ফিতরের সালাত একটু দেরিতে পড়া উত্তম, যাতে লোকেরা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করে ঈদগাহে আসতে পারে।
টিকাঃ
১৩৮. সহীহ বুখারী, হা/৩২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৮১৮।
১৩৯. মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৪; জামেউস সগীর, হা/৯০১৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৫।
১৪০. সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; বায়হাকী, হা/৬০২০; আবু দাউদ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২০৯৮।
১৪১. সহীহ বুখারী, হা/৯৭১।
১৪২. সহীহ মুসলিম, হা/২০৮৫; নাসাঈ, হা/১৫৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৪৬০; সুনানে দারেমী, হা/১৬১০; বায়হাকী, হা/৬০১৫।
১৪৩. সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, ১/৫২৮।