📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ই‘তিকাফ অবস্থায় যেসব কাজ করা যাবে

📄 ই‘তিকাফ অবস্থায় যেসব কাজ করা যাবে


নিজেকে পরিপাটি রাখা: ই'তিকাফকারী ব্যক্তি নিজেকে পরিপাটি রাখার জন্য স্বাভাবিকভাবে যেকোন ধরনের কাজ করতে পারবে। যেমন- গোসল করা, চুল আঁচড়ানো, তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার, ভালো পোশাক পরিধান করা। হাদীসে এসেছে,
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মাসিক অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার কেশ বিন্যাস করে দিতেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে ই'তিকাফরত অবস্থায় থাকতেন। আয়েশা (রাঃ) তার কক্ষে থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার নাগাল পেতেন।

পরিবারের লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা:
ই'তিকাফকারীর পরিবার তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীগণ ই'তিকাফকালীন তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। কিন্তু সাক্ষাৎ দীর্ঘ না হওয়া বাঞ্ছনীয়। হাদীসে এসেছে,
নবী ﷺ এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (একবার) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে দেখা করার জন্য মসজিদে গেলেন। তিনি তখন রমাযানের শেষ দশ দিনে ই'তিকাফে ছিলেন। সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর কাছে (বসে) কিছু সময় কথাবার্তা বললেন। অতঃপর (ঘরে) ফেরার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। নবী ﷺ-ও সঙ্গে সঙ্গে উঠলেন এবং তাঁকে এগিয়ে দেবার জন্য উম্মু সালামা (রাঃ) এর দরজার কাছে মসজিদের দরজা পর্যন্ত গেলেন। তখন দু'জন আনসারী সাহাবী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে সালাম দিলেন। তখন নবী ﷺ তাদেরকে বললেন, তোমরা একটু অপেক্ষা করো। এ মহিলা হলো হুয়াই-এর কন্যা সাফিয়্যা। তাঁরা বললেন, সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী ﷺ বললেন, শয়তান মানুষের শিরায় পৌঁছতে ক্ষমতা রাখে। তাই আমার ভয় হলো, সে তোমাদের মনে কোন খারাপ ধারণার সৃষ্টি করে দেয় কি না।

টিকাঃ
১০৮. সহীহ বুখারী, হা/২০৪৩; নাসাঈ, হা/৩৮৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০১৫।
১০৯. সহীহ বুখারী, হা/২০৩৫।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ই‘তিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান

📄 ই‘তিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান


• ই'তিকাফকারী যদি বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয় তাহলে তার ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি মানবীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য বের হয় তাহলে ই'তিকাফ ভঙ্গ হবে না।
• মসজিদে থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব না হলে বাইরে বের হতে পারবে।
• বাহক না থাকার কারণে ই'তিকাফকারী পানাহারের প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে।
• যে মসজিদে ই'তিকাফ বসেছে সেখানে জুমু'আর সালাতের ব্যবস্থা না থাকলে জুমু'আর সালাত আদায়ের জন্য বাইরে যেতে পারবে।
• রোগী দেখতে যাওয়া, জানাযায় উপস্থিত হওয়া ইত্যাদি কাজ করার জন্য ই'তিকাফকারীর মসজিদ থকে বের হওয়া বৈধ নয়। হাদীসে এসেছে,
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ই'তিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হলো, সে রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না ও তার সাথে মিলন থেকে বিরত থাকবে এবং অতি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হবে না।
• ই'তিকাফের নিয়ম বহির্ভূত কোন কাজের জন্য ই'তিকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া বৈধ নয়। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইত্যাদি।

টিকাঃ
১১০. আবু দাউদ, হা/২৪৭৫; বায়হাকী, হা/৮৩৭৭; মিশকাত, হা/২১০৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যেসব কারণে ই‘তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়

📄 যেসব কারণে ই‘তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়


ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটালে : গোসল ফরয হয় এমন ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকতে হবে। অপবিত্রতা যদি যৌন স্পর্শ অথবা স্বামী স্ত্রীর মিলনের ফলে হয় তবে সকলের মতে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আর তোমরা মসজিদে ই'তিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।' (সূরা বাকারা- ১৮৭)
তবে যদি স্বপ্নদোষের কারণে বীর্যপাত ঘটে তাহলে ই'তিকাফ ভঙ্গ হবে না। আর যদি হস্তমৈথুনের কারণে হয় তাহলে সঠিক মতানুসারে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।

মহিলাদের হায়েয অথবা নিফাস শুরু হলে:
ই'তিকাফ অবস্থায় মহিলাদের হায়েয-নিফাস থেকে পবিত্র থাকা জরুরি। কেননা এ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করা হারাম, অবশ্য ইস্তেহাযা অবস্থায় ই'তিকাফ করা বৈধ। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ইস্তিহাযা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীগণের মধ্য হতে কোন একজন ই'তিকাফ করেছিলেন। তিনি লাল ও হলুদ রঙের স্রাব দেখতে পাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি নিচে পাত্র রেখে সালাত আদায় করলেন।

বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হলে :
ই'তিকাফ করার প্রধান শর্তই হচ্ছে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা। সুতরাং কেউ যদি বিনা প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে বের হয়, তাহলে তার ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে- যদিও তা অল্প সময়ের জন্য হয়।

পাগল বা মাতাল হয়ে গেলে:
ইসলামের যাবতীয় বিধান কেবল সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যই প্রযোজ্য। ফলে পাগল ও মাতালকে ইসলামের বিধান পালন করা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। সুতরাং যদি কেউ সুস্থ থাকা অবস্থায় ই'তিকাফে বসে এবং ই'তিকাফ শেষ হওয়ার পূর্বেই পাগল অথবা মাতাল হয়ে যায়, তাহলে তার ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
১১১. সহীহ বুখারী, হা/৩১০; আবু দাউদ, হা/২৪৭৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৮০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫০৪২; বায়হাকী, হা/৮৩৮৫।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য

📄 ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য


১. আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা: ই'তিকাফ হলো এমন একটি ইবাদাত, যার মাধ্যমে বান্দা সমস্ত সৃষ্টি থেকে আলাদা হয়ে যথাসম্ভব আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে আসে। বান্দার কাজ হলো তাকে স্মরণ করা, তাকে ভালোবাসা ও তার ইবাদাত করা। সর্বদা তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা, এরই মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত হয়।
২. পাশবিক প্রবণতা এবং অহেতুক কাজ থেকে দূরে থাকা: ই'তিকাফের মাধ্যমে একজন মানুষ সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার সুযোগ পায়। সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দু'আ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে।
৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা: ই'তিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর খোঁজ করা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস সে কথারই প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'আমি প্রথম দশকে ই'তিকাফ করেছি এই রজনী খোঁজ করার উদ্দেশ্যে। অতঃপর ই'তিকাফ করেছি মাঝের দশকে। অতঃপর মাঝ-দশক পেরিয়ে এলাম। তারপর আমাকে বলা হলো, এটা (কদর) তো শেষ দশকে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ই'তিকাফ করতে চায়, তাহলে সে যেন ই'তিকাফ করে।'
৪. মসজিদে অবস্থানের অভ্যাস গড়ে তোলা : ই'তিকাফের মাধ্যমে বান্দার অন্তর মসজিদের সাথে জুড়ে যায়, মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠে। হাদীস অনুযায়ী যে সাতজন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা তার নিজের ছায়ার নিচে ছায়া দান করবেন, তার মধ্যে একজন হলেন ওই ব্যক্তি, যার হৃদয় মসজিদের সাথে বাধা ছিল।

টিকাঃ
১১২. সহীহ মুসলিম, হা/২৮২৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২১৭১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৮৪; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৪৫৯; বায়হাকী, হা/৮৩৫০।
১১৩. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৭০৯; সহীহ বুখারী, হা/৬৬০; সহীহ মুসলিম, হা/২৪২৭; তিরমিযী, হা/২৩৯১; নাসাঈ, হা/৫৩৮০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৩২০; জামেউস সগীর, হা/৬৯৮৩; মিশকাত, হা/৭০১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00