📄 রমাযান মাসে বেশি বেশি কুরআন পাঠ করা
কুরআন তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদাত। কুরআন ও হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি খুবই উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং এর যথেষ্ট ফযীলতও বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয় যারা কুরআন তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমার দেয়া রিযিক হতে কিছু অংশ গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে তারা এমন ব্যবসার আশা করে যাতে কখনো লোকসান হবে না।' (সূরা ফাতির- ২৯) এ আয়াতে কুরআন পড়াকে একটি লাভজনক ব্যবসা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে সে একটি নেকী পাবে আর একটি নেকী হবে দশটি নেকীর সমান। আমি বলছি না আলিফ, লাম, মীম সব মিলিয়ে একটি হরফ; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মীম একটি অক্ষর।'
কুরআন তিলাওয়াতের এসকল ফযীলত সবসময়ের জন্য; কিন্তু রমাযান মাসে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। কারণ রমাযানের সাথে কুরআনের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে রমাযান মাসে। এ মাসের প্রতিটি রাত্রে জিবরাঈল (আঃ) আসতেন এবং কুরআনের যতটুকু নাযিল হয়েছে তা নবী ﷺ কে পড়ে শোনাতেন এবং পুনরাবৃত্তি করতেন। নবী ﷺ এর ইন্তেকালের বছর তিনি ও জিবরাঈল (আঃ) একে অপরকে সম্পূর্ণ কুরআন দু'বার পড়ে শুনিয়েছেন।
অপর একটি হাদীসে রয়েছে,
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন কুরআন ও রোযা বান্দার জন্য শাফা'আত করবে। রোযা বলবে, হে প্রভু! আমি এ বান্দাকে দিনের বেলায় খানাপিনা ও যৌন চাহিদা মিটানো থেকে বিরত রেখেছি, তাই আমার শাফা'আত কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি এ বান্দাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তাই আমার শাফা'আত কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
এজন্য সালাফুস সালেহীন (পূর্ব যুগের নেককার বান্দারা) বিশেষ করে রমাযান মাসে কুরআন পাঠে খুবই মনোযোগ দিতেন। এ মাসে কুরআন পড়ার জন্য তারা সময়ের একটা বড় অংশ নির্ধারণ করে রাখতেন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এসকল মহান মণীষীগণ না বুঝে কুরআন পড়তেন না। তারা আল্লাহর কালাম বুঝে বুঝে পড়তেন এবং এর উপর আমল করতেন। কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান এমন আছেন যারা কুরআনের শুধু শব্দগুলো পড়ে প্রতি হরফে দশটি করে নেকী অর্জনের চিন্তা করেন এবং কে কত খতম দিতে পারে- এ নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। কুরআন না বুঝে পড়লে এর দ্বারা কুরআন নাযিলের আসল উদ্দেশ্য সফল হয় না। মানুষ যাতে কুরআন পড়ে, বুঝে এবং কুরআন অনুযায়ী তাদের জীবন পরিচালনা করে- এটাই হলো কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য। কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে কুরআন পড়ার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা।
না বুঝে পড়লে পড়ার হক আদায় হয় না। না বুঝে ১০০ খতম দেয়ার চেয়ে কেউ যদি দু'চারটি আয়াত অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়ে এবং এর উপর আমল করতে পারে তবে এটা তার জন্য হাজার গুণ বেশি উত্তম হবে; যেহেতু সে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করেছে।
একজন মুসলমানের সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বড় কাজ ও ইবাদাত হলো ইসলামের সঠিক জ্ঞান লাভ করা। এজন্য যে শব্দটি দিয়ে কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে তা হলো ‘ইক্বরা’ তার মানে সবকিছুর আগে তোমাকে পড়তে হবে, জানতে হবে। মুসলিম হতে হলে কি কি কাজ করতে হবে, কোন্ কোন্ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোন্ ধরনের আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করতে হবে তা না জানা পর্যন্ত কেউ যদি হাজার বারও বলে ‘আমি মুসলিম’ তবে সে আল্লাহর কাছে মুসলিম হতে পারবে না।
তাই ইসলামের সঠিক ও নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের জন্য আল্লাহর কালাম বুঝে পড়তে হবে। কুরআনে এসেছে- 'আল্লাহর কথার চেয়ে সঠিক কথা আর কার হতে পারে?' 'এটা এমন কিতাব যার কথার মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয় নেই।'
কুরআন যেহেতু আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে, তাই একে ভালোভাবে বুঝার জন্য আরবি ভাষা শিক্ষা করা সকলের কর্তব্য। কুরআন-হাদীস বুঝার জন্য যদি কেউ আরবি ভাষা শিখে তবে এটা ইবাদাত হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া কুরআনের বিধিবিধান জানার জন্য মাতৃভাষার সহযোগিতা নেয়া যায়, বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে প্রচলিত যত ভাষা আছে প্রায় সকল ভাষাতেই কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীর প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশেও বাংলা ভাষায় কুরআন বুঝার যথেষ্ট উপকরণ বের হয়েছে। কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ, ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ, কুরআনের শব্দের অভিধানসহ বেশ কিছু ভালো ভালো তাফসীর গ্রন্থও বাংলা ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং সর্বত্রই এসব পাওয়া যাচ্ছে।
আমাদের ‘ইমাম পাবলিকেশন্স’ থেকে প্রকাশিত একটি বিষয়ভিত্তিক তাফসীর রয়েছে যার নাম ‘তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন’। এতে একেকটি বিষয় সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতগুলো একত্র করে বিভিন্ন পয়েন্টে সাজানো হয়েছে। কুরআনে আলোচিত মৌলিক বিষয়গুলোকে হাদীসের কিতাবের মতো করে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এ গ্রন্থের মাধ্যমে একেকটি বিষয় সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য কী তা একই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে জানা যাবে।
টিকাঃ
৯৭. তিরমিযী, হা/২৯১০; জামেউস সগীর, হা/১১৪১৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৩২৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৪১৬; মিশকাত, হা/২১৩৭।
৯৮. সহীহ বুখারী, হা/৪৯৯৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯১৭৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭০১০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৩০৯২৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮৩৫; মিশকাত, হা/২০৯৯।
৯৯. মুস্তাদরাকে হাকেম, ২০৩৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৬২৬, মিশকাত, হা/১৯৬৩।
📄 রমাযান মাসে বেশি বেশি করে দান করা
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সমস্ত লোকের চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। বিশেষত তাঁর দানশীলতা অন্যান্য সময় হতে রমাযান মাসে বেশি বেশি দেখা যেত, যখন জিবরাঈল (আঃ) তাঁর সাক্ষাতে আসতেন। রমাযানের প্রতি রাতেই তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাক্ষাতে উপস্থিত হতেন এবং তাঁকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাতেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ রমাযান মাসে দানশীলতায় প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশি গতিশীল হয়ে যেতেন (অর্থাৎ বেশি বেশি দান করতেন)।
দান করার অনেক দিক রয়েছে। যেমন:
• টাকা-পয়সা দান করা।
• কাপড় বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় জিনিস দান করা।
• অপরকে খাদ্য খাওয়ানো।
• রোযাদারকে ইফতার করানো ইত্যাদি।
জান্নাতবাসী বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তারা আল্লাহর মহব্বতে মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাবার দেয় এবং বলে, আমরা তোমাদেরকে খাওয়াচ্ছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য; তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান এবং কৃতজ্ঞতা আমরা চাই না।' (সূরা দাহর- ৮, ৯)
আল্লাহর নেক বান্দাদের মধ্যে এমন অনেক লোক ছিলেন, যারা অপরকে খাদ্য দানের ক্ষেত্রে খুবই উৎসাহী ছিলেন। এক্ষেত্রে তারা শুধু গরীবদেরকে বাছাই করতেন না। অনেকে এমনও ছিলেন, যারা মেহমান ছাড়া খাবার খেতেন না। অপরকে খাদ্য খাওয়ানোতে যথেষ্ট কল্যাণ রয়েছে, এর মধ্যে একটি হচ্ছে- যে খাওয়ায় এবং যাদেরকে খাওয়ানো হয় তাদের মধ্যে আন্ত রিকতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, যা জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম। নবী ﷺ বলেন, 'তোমরা মুমিন না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; আর তোমরা পরস্পরে ভালোবাসা ব্যতীত মুমিন হতে পারবে না।'
টিকাঃ
১০০. সহীহ বুখারী, হা/৬; সহীহ মুসলিম, হা/৬১৪৯; নাসাঈ, হা/২০৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬১৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৮৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৪০; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২৫৫২; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৯২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৮৭; মিশকাত, হা/২০৯৮।
১০১. সহীহ মুসলিম, হা/২০৩; আবু দাউদ, হা/৫১৯৫; তিরমিযী, হা/২৬৮৮; ইবনে মাজাহ, হা/৬৮, ৩৬৯২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০১৮০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৩৬; মুসনাদুল বাযযার, হা/২২৩২।
📄 রমাযান মাসে উমরা করা
কাবা হলো ইবাদাতের উদ্দেশ্যে নির্মিত পৃথিবীর সর্বপ্রথম গৃহ। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন। হজ্জ ও উমরার মাধ্যমে এসব নিদর্শন দেখা যায়। উমরার অগণিত ফযীলত রয়েছে। হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, একবার উমরা করার পর আবার উমরা করলে তা দুই উমরার মধ্যবর্তী গোনাহসমূহের কাফ্ফ্ফারা হয়ে যায়। আর হজ্জে মাবরুরের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।
রমযান মাসে উমরা করার ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'যখন রমাযান মাস আসবে তখন উমরা করো। কেননা এ মাসে উমরা করার সওয়াব একটি হজ্জের সমান।'
অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'রমযান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ্জ করার সমান।'
নবী ﷺ এর ইন্তেকালের পরেও তাঁর সাথে হজ্জ করার সমান সওয়াব পাওয়া যায় এমন সুযোগ কে হারায়? এজন্য আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে সামর্থ্য দিয়েছেন তাদের রমাযান মাসে উমরা করা উচিত।
টিকাঃ
১০২. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৭৬৭; সহীহ বুখারী, হা/১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হা/৩৩৫৫; তিরমিযী, হা/৯৩৩; নাসাঈ, হা/২৬২৯; ইবনে মাজাহ, হা/২৮৮৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৯৪৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৯৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৯৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮৪৩।
১০৩. সহীহ মুসলিম, হা/৩০৯৭; তিরমিযী, হা/৯৩৯; নাসাঈ, হা/২১১০; ইবনে মাজাহ, হা/২৯৯১-৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০২৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৭০০; মিশকাত, হা/২৫০৯।
১০৪. সহীহ বুখারী, হা/১৮৬৩; সহীহ মুসলিম, হা/৩০৯৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৩০৭৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৭৭৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১১৮।
📄 রমাযান মাসে ই‘তিকাফ করা
* 'ই'তিকাফ' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো আবদ্ধ থাকা, কোন নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। ইসলামী পরিভাষায় ই'তিকাফ হলো, ইবাদাতের নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পদ্ধতি অনুযায়ী কোন মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ রাখা।
ই'তিকাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত। নবী করীম ﷺ নিজেই ই'তিকাফ করেছেন এবং তার স্ত্রীগণ ও সাহাবীরাও ই'তিকাফ করেছেন।
ই'তিকাফ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। কারণ এটি এমন এক নির্জনতা, যখন বান্দা দুনিয়ার বিভিন্ন ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর দরজায় হাজির হয় এবং আল্লাহর আনুগত্য ও যিকির করার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখে। বান্দা তার দেহ ও মনকে স্বীয় প্রভুর উদ্দেশ্যে বেঁধে রাখে।
* ই'তিকাফের বাস্তবরূপটা এমন- যেন কোন ব্যক্তি কারো কাছ থেকে তার দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য তার দরজায় ধর্ণা দেয় এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঐ দরজায় পড়ে থাকে। ঠিক তেমনিভাবে যারা ই'তিকাফ করেন তারা মায়ার সংসারকে ভুলে একাধারে কয়েকদিন যাবৎ আল্লাহর দরজায় নিজেদেরকে আটক রাখেন, ফলে আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট পুরস্কার দান করেন।
এক হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
'যে ব্যক্তি অর্ধ হাত আমার নিকটবর্তী হয় আমি এক হাত তার নিকটবর্তী হই। আর যে ব্যক্তি এক হাত আমার নিকটবর্তী হয় আমি তার দিকে এক গজ নিকটবর্তী হই। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আসি। আর যে ব্যক্তি জমিন ভর্তি পাপ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং সে আমার সাথে কাউকে শরীক না করে, তাহলে আমিও ঐ পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করি।'
অপর এক হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
'আমি আমার বান্দার সাথে তার ধারণা অনুযায়ী ব্যবহার করে থাকি। আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথেই থাকি; সে যখন আমাকে একা একা স্মরণ করে তখন আমিও এককভাবে তাকে স্মরণ করি। আর সে যখন আমাকে জনসমক্ষে স্মরণ করে, তখন আমি এর থেকে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি।'
টিকাঃ
১০৫. সহীহ মুসলিম, হা/৭০০৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮২১; মিশকাত, হা/২২৬৫।
১০৬. সহীহ বুখারী, হা/৭৩০৫; সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৮১; তিরমিযী, হা/৩৬০৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৩৪০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯১৪২; জামেউস সগীর, হা/১৪০৯৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৪৮৭; মিশকাত, হা/২২৬৪।