📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 রমাযান মাসে নেক আমলে অগ্রগামী হওয়া

📄 রমাযান মাসে নেক আমলে অগ্রগামী হওয়া


যেহেতু রমাযান মাসটাকে মহান আল্লাহ বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, যা আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাই এ মাসটাকে ইবাদাত-বন্দেগী ও ভালো কাজের মধ্যে ব্যয় করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর একান্ত কর্তব্য।
রমাযান মাসে মানুষকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এভাবে আহ্বান করা হয়, 'হে মঙ্গল অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে কুপথগামী! একটু থামো।' অর্থাৎ এ মাসে যেহেতু রহমতের দরজা খোলা থাকে, তাই তুমি এই সুযোগকে হেলায়-খেলায় নষ্ট করো না। দুনিয়া-আখিরাতে উন্নতি লাভের জন্য তুমি ভালো কাজে তৎপর হও। অপরদিকে এ মাসে যেহেতু শয়তানগুলো বাঁধা থাকে, তাই এ সময়টি হচ্ছে পাপ থেকে দূরে সরে আসার সুবর্ণ সুযোগ। তাই তুমি সচেতন হও, ফিরে আসো তোমার প্রভুর দিকে। রমাযানের এই মর্মস্পর্শী ডাকে সকলের সাড়া দেয়া উচিত।

টিকাঃ
৮১. তিরমিযী, হা/৬৮২; নাসাঈ, হা/২১০৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৮১৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৮৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৩৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৩২।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 বিশেষ বিশেষ আমলসমূহ

📄 বিশেষ বিশেষ আমলসমূহ


কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী এ মাসে যেসকল আমল করা একান্ত জরুরি এখন আমরা তা জানব এবং সে অনুযায়ী আমল করার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করব। তাহলেই রোযার মাস আমাদের জন্য সার্থক হবে।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 কিয়ামুল লাইল তথা রাতের সালাত আদায় করা

📄 কিয়ামুল লাইল তথা রাতের সালাত আদায় করা


কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের সালাত। অর্থাৎ এশার সালাতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেসব নফল সালাত আদায় করা হয় তাকে কিয়ামুল লাইল বলা হয়। আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'আর যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত্রি যাপন করে।' (সূরা ফুরকান- ৬৪)
রমযান মাসে কিয়ামুল লাইলকে ফকীহগণের পরিভাষায় সালাতুত তারাবীহ বা তারাবীর সালাত বলা হয়। তারাবীহ শব্দের অর্থ হচ্ছে, বিশ্রাম লওয়া, আরাম করা ইত্যাদি। যেহেতু এ সালাতে প্রতি চার রাক'আত পর পর বিশ্রাম করতে হয় সে কারণে এ সালাতকে তারাবীর সালাত বলা হয়।

কিয়ামুল লাইল এর গুরুত্ব ও ফযীলত :
রমযান মাসে কিয়ামুল লাইল আদায় করার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কেননা এর মধ্যে অনেক সওয়াব নিহিত রয়েছে। এ সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা বান্দার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাযান মাসে কিয়ামুল লাইল করবে তার পেছনের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

টিকাঃ
৮২. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/২৪৯; সহীহ বুখারী, হা/২০০৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৭৫; আবু দাউদ, হা/১৩৭৩; তিরমিযী, হা/৮০৮।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 তারাবীর সালাতের সূচনা

📄 তারাবীর সালাতের সূচনা


রাসূলুল্লাহ ﷺ অল্প কয়েক দিন এ সালাত আদায় করেছিলেন। প্রথম দিকে তিনি একা একা এ সালাত আদায় করতেন। তারপর এটা দেখে সাহাবায়ে কেরামও তাঁর সাথে সালাত আদায় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাসূলুল্লাহ ﷺ তা ত্যাগ করেন। যেমন- হাদীসে এসেছে,
আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক রমাযান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে রোযা রাখলাম। যখন উক্ত রমাযান মাসের ৭ দিন বাকি ছিল তখন তিনি আমাদেরকে নিয়ে রাত্রিজাগরণ করলেন। আর সেদিন তিনি রাত্রির এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত জাগরণ করেন। অতঃপর যখন রমাযান মাসের ৬ দিন বাকি ছিল সেদিন তিনি উঠলেন না। তবে যখন ৫ দিন বাকি ছিল তখন অর্ধরাত্রি পর্যন্ত জাগরণ করলেন। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি এ রাত্রিজাগরণটা আমাদের জন্য নফল হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেয়া হতো! তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, যখন কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরানোর পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করে তখন তার সেই সালাতকেই কিয়ামুল লাইল হিসেবে ধরে নেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন রমাযান মাসের ৪ দিন বাকি ছিল তখন রাত্রিজাগরণ করেননি। তবে যখন রমাযান মাসের ৩ দিন বাকি ছিল তখন তিনি তার পরিবার, স্ত্রী ও লোকদেরকে একত্রিত করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (আর তা এত দীর্ঘ করলেন) আমরা ভয় করলাম যে, ফালাহ হতে বঞ্চিত হয়ে যাব। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফালাহ কী? তিনি বললেন, সাহারীর সময় শেষ হয়ে যাওয়া। এরপর রমাযান মাসের বাকি দিনগুলোতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে রাত্রিজাগরণ করেননি।
অপর হাদীসে এসেছে,
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ রমাযানের রাতের মধ্যভাগে বের হলেন, অতঃপর মসজিদে সালাত আদায় করলেন এবং লোকজনও তাঁর পেছনে সালাত আদায় করল। পরে সকাল হলে লোকেরা এর চর্চা করল। দ্বিতীয় দিন এর চেয়ে বেশি মানুষ জামা'আতে উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাত আদায় করলেন। লোকেরাও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সালাত আদায় করল। অতঃপর সকাল হলে লোকেরা পরস্পর আলোচনা করল। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বের হলেন এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করা হলো। তারপর যখন চতুর্থ রাত হলো, তখন মসজিদ তার ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল। অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করতে বের হলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন, তিনি তাশাহ্হুদ বা খুৎবা পড়লেন, তারপর বললেন, তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট কিছুই গোপন নেই। তবে আমি আশঙ্কা করছি, তোমাদের উপর (এ সালাত) ফরয হয়ে যায় কি না। আর তোমরা তা পালন করতে অপারগ হয়ে পড়বে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুবরণ করলেন আর ব্যাপারটি এমনই রয়ে গেল।

টিকাঃ
৮৩. তিরমিযী, হা/৮০৬; আবু দাউদ, হা/১৩৭৭; নাসাঈ, হা/১৩৬৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৩২৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২০৬।
৮৪. সহীহ বুখারী, হা/৯২৪; সহীহ মুসলিম, হা/৭৬১; আবু দাউদ, হা/১৩৭৩; নাসাঈ, হা/১৩৬৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৬৭৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১১৩৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৪৪; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৪৯৭; মু'জামুল আওসাত, হা/৫৭৪; বায়হাকী, হা/৪৩৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৭৬; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৪৭২৪; মিশকাত, হা/১২৯৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00