📄 রমাযানের কাযা রোযা আদায়ের নিয়ম
যদি কারো জিম্মায় রমাযানের কাযা রোযা থেকে যায়, তাহলে কোন ওজর না থাকলে রমাযানের কাযা রোযা তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়াই উত্তম। কারণ মানুষের হায়াত কখন শেষ হয়ে যায় তা কেউ বলতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা নেক বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'তারাই কল্যাণকর কাজসমূহ দ্রুত সম্পাদন করে থাকে এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়।' (সূরা মুমিনূন- ৬১)
তবে যদি কোন ওজর থাকে তাহলে সুবিধা অনুযায়ী দেরি করে আদায় করা যাবে। এমনকি যদি দ্বিতীয় রমাযান চলে আসে, তবে দ্বিতীয় রমাযানের ফরয রোযা যথা নিয়মে আদায় করার পর পূর্বের কাযা রোযা আদায় করবে।
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উপর রমাযানের কাযা রোযা থাকত, কিন্তু শা'বান মাস আসার আগে আমি তা আদায় করতে সক্ষম হতাম না। রমাযানের কাযা রোযা আদায় করতে ধারাবাহিকতা শর্ত নয়। বান্দার সুবিধা অনুযায়ী একসাথেও রাখতে পারে আবার মধ্যখানে বিরতি দিয়েও রাখতে পারে।
টিকাঃ
৬২. সহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৩; তিরমিযী, হা/৭৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৯৭২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৪৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৮১৯; মিশকাত, হা/২০৩০।
📄 সাহরী খাওয়া
রোযা রাখার নিয়তে ভোররাতে যে খাবার খাওয়া হয় তাকে সাহারী বলে। এখানে এ শব্দটির উচ্চারণ 'সেহ্রী' বা 'সাত্রী' সঠিক নয়। কারণ আরবি ভাষায় 'সেরুন' শব্দের অর্থ যাদু করা। যেমন: সূরা বাকারার ১২০ নং আয়াতে উল্লেখ আছে যে, 'তারা মানুষকে যাদু শিখাত।' আবার 'সাহার' শব্দ ব্যবহৃত হয় রাতের শেষ ভাগ বুঝাতে। যেমন 'আমি তাদেরকে (নৃতের পরিবারকে) রাতের শেষ ভাগে মুক্তি দিয়েছি' (সুরা কামার- ৩৪)। তাই এর উচ্চারণে 'সেত্রী' বা 'সাত্রী' না বলে "সাহারী” বলাই শুদ্ধ।
সাহারী খাওয়ার গুরুত্ব:
আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আহলে কিতাব (ইয়াহুদি ও নাসারা) এর রোযা আর আমাদের রোযার মধ্যে পার্থক্য এই যে, আমরা সাহারী খেয়ে রোযা রাখি আর তারা সাহারী খায় না।
সাহারীতে বরকত রয়েছে:
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা সাহারী খাও, কেননা সাহারী খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা সাহারী খাও- এক ঢুক পানি দিয়ে হলেও।
সাহারী ভক্ষণকারীদের উপর রহমত বর্ষিত হয়:
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সাহারী সম্পূর্ণটাই বরকতময়। অতএব তোমরা এটা ছেড়ে দিও না, যদি তোমাদের কেউ এক ঢুক পানি পান করার সুযোগ পায়, তবে যেন তা পান করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা সাহারী ভক্ষণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করতে থাকেন।
সাহারী দেরিতে খাওয়া উত্তম : সাহারী খাওয়ার সময় হলো মধ্যরাত থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক এর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত। তবে বিলম্ব করে (সুবহে সাদিকের পূর্বে) খাওয়া মুস্তাহাব। হাদীসে বর্ণিত আছে,
সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পরিবারের সাথে সাহারী সম্পন্ন করি। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে জামা'আতে সালাত ধরার জন্য আমাকে তাড়াতাড়ি মসজিদে যেতে হতো। এ হাদীস দ্বারা বুঝা গেল, সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) সাহারীর একেবারে শেষ সময়ে খাবার গ্রহণ করতেন। অপর হাদীসে বলা হয়েছে,
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেন, আমরা নবী ﷺ এর সাথে সাহারী খেয়েছি। তারপর তিনি সালাতে দাঁড়িয়েছেন। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, সাহারী ও আযানের মাঝখানে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মতো। এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে সাহারী খাওয়া ও ফজরের আযানের মধ্যখানে ৫০টি আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময় থাকত। ৫০টি আয়াত পড়তে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। এ থেকে বুঝা যায় যে, সাহাবীরা খুব আগে সাহারী খেতেন না। আযানের কিছু সময় আগে খাওয়া শেষ করতেন।
টিকাঃ
৬৩. সহীহ মুসলিম, হা/২৬০৪; আবু দাউদ, হা/২৩৪৫; তিরমিযী, হা/৮০৯; নাসাঈ, হা/২১৬৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৯৪০: সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৩৭৭: মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৭১০৯: মিশকাত, হা/১৯৮৩।
৬৪. সহীহ বুখারী, হা/১৯২২; সহীহ মুসলিম, হা/২৬০৩; তিরমিযী, হা/৭০৮; নাসাঈ, হা/২১৪৪; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৯২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৮৮৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৯৩৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৬৬; জামেউস সগীর, হা/৫২৫৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৬৩; মিশকাত, হা/১৯৮২।
৬৫. সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৭৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/১০৩৩০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৭৫৯৯; মারেফাতুস সাহাবা, হা/৩৭২২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৭১।
৬৬. মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৪১৪; জামেউস সগীর, হা/৫৯৯৬।
৬৭. সহীহ বুখারী, হা/১৯২০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৯৪২; বায়হাকী, হা/১৯৮১; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৫৭৭০।
৬৮. সহীহ বুখারী, হা/১৯২১; সহীহ মুসলিম, হা/২৬০৬; নাসাঈ, হা/২১৫৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৯৪; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৯৪১।
📄 ইফতার প্রসঙ্গ
সূর্য ডুবার সাথে সাথেই ইফতারের সময় হয়ে যায়:
উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন রাত্রি আগমন করবে, দিন বিদায় নেবে এবং সূর্য অস্তমিত হবে, তখন রোযাদার ইফতার করবে।
মাগরিবের সালাতের সময় সম্পর্কে সকলেই একমত যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের সময় হয়ে যায়। আর মাগরিবের সালাতের সময় বর্ণনা করতে গিয়ে সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে :
সালামা ইবনে আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য অস্তমিত হয়ে অদৃশ্য হলেই রাসূলুল্লাহ ﷺ মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। সুতরাং সূর্য অস্তমিত হয়ে অদৃশ্য হলেই ইফতারের সময় হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ মাগরিবের সালাতের পূর্বেই ইফতার করতেন :
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ মাগরিবের সালাত আদায় করার পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। কিন্তু যদি তাজা খেজুর না পেতেন তবে কয়েকটি শুকনো খেজুর খেতেন। আর যদি শুকনো খেজুরও না পেতেন তাহলে কয়েক ঢুক পানি খেয়ে নিতেন। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইফতার করে মাগরিবের সালাত আদায় করার জন্য যেতেন।
কিছু লোক রয়েছে যারা 'অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো'। এ আয়াতটির ভুল ব্যাখ্যা করে বলে থাকে, মাগরিবের সালাতের পরে ইফতার করতে হবে। এটা কুরআন, সুন্নাহ ও সমস্ত মুসলিমদের ইজমার পরিপন্থী। রাসূলুল্লাহ ﷺ মাগরিবের সালাতের পরে ইফতার করেছেন এর কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং সূর্য অস্তমিত হওয়ার সাথে সাথে রোযা ভেঙ্গে ফেলাই ইসলামের বিধান।
তাড়াতাড়ি ইফতার করার গুরুত্ব:
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, লোকেরা যতদিন তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। কারণ ইয়াহুদিরা দেরিতে ইফতার করে থাকে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম ততদিন পর্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে থাকবে, যতদিন পর্যন্ত লোকেরা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কেননা ইয়াহুদি ও নাসারারা দেরিতে ইফতার করে থাকে। উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত এবং দেরি করা সমীচীন নয়।
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত:
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ মাগরিবের সালাত আদায় করার পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। কিন্তু যদি তাজা খেজুর না পেতেন তবে কয়েকটি শুকনো খেজুর খেতেন। আর যদি শুকনো খেজুরও না পেতেন তাহলে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিতেন।
ইফতারের সময় দু'আ কবুল হয় :
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিন শ্রেণির লোকের দু'আ ফেরত দেয়া হয় না, (১) ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, (২) রোযাদার ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ইফতার করে এবং (৩) মাযলুম ব্যক্তির দু'আ।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দু'আ:
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে এই দু'আ পড়তেন : 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরহমাতিকাল্লাতী ওয়াসি'আত কুল্লা শায়ইন আন তাগফিরালী।' অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার বিশ্বময় প্রশস্ত রহমতের উসিলায় তোমার কাছে আবেদন করি তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
ইফতারের সময় দু'আ:
'বিসমিল্লাহ' বলে ইফতার শুরু করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ খাওয়া আরম্ভ করে তখন সে যেন বলে, (বিস্মিল্লা-হ) অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু করছি। আর কেউ যদি খাবারের শুরুতে বিস্মিল্লা-হ বলতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বলে 'বিসমিল্লা-হি আওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহ্' অর্থাৎ এই খাবারের প্রথমেও বিসমিল্লাহ এবং শেষেও বিসমিল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, ইফতারের শুরুতে "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু...." এভাবে যে দু'আ সমাজে প্রচলিত রয়েছে তা দুর্বল হাদীসে বর্ণিত। অতএব সহীহ হাদীসে বর্ণিত দু'আ পাঠ করাই উচিত।
ইফতারের পর দু'আ:
ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন ইফতার করতেন তখন এ দু'আটি পাঠ করতেন,
'যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল 'উরূকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লা-হু।'
অর্থ : পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং নেকী নির্ধারিত হলো যদি আল্লাহ চান।
কেউ ইফতার করালে তার জন্য দু'আ :
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ (সিয়াম অবস্থায়) সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ) এর নিকট গেলেন। তখন সা'দ (রাঃ) রুটি এবং যায়তুনের তেল নিয়ে আসলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ খাবার শেষ করার পর এই দু'আ পাঠ করলেন:
'আত্ত্বারা 'ইন্দাকুমুস সা-'ইমূনা, ওয়া আকালা ত্বা'আমাকুমুল আবরা-র, ওয়া সাল্লাত 'আলাইকুমুল মালা-ইকাহ।'
অর্থ : সিয়াম পালনকারীগণ তোমাদের নিকট ইফতার করুক, সৎ লোকগণ তোমাদের আহার গ্রহণ করুক এবং ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য দু'আ করুক।
রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযীলত :
যায়েদ ইবনে খালেদ আল জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে অথবা কোন যুদ্ধাকে জিহাদের আসবাবপত্র সংগ্রহ করে দেবে বা তার পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবে সে রোযাদার ও মুজাহিদের সমান সওয়াব পাবে এবং তাকে সওয়াব দানের ক্ষেত্রে রোযাদার ও মুজাহিদের থেকে বিন্দু মাত্র কমানো হবে না।
টিকাঃ
৬৯. সহীহ বুখারী, হা/১৯৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬১২; তিরমিযী, হা/৬৯৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫১৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৬০; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২৪০; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২২৩৬; বায়হাকী, হা/৭৭৯৪; সুনানে দারেমী, হা/১৭০০; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৩৫; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৭৫৯৫; মিশকাত, হা/১৯৮৫।
৭০. সহীহ মুসলিম, হা/১৪৭২; তিরমিযী, হা/৬৯৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৫২৩; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৮৩১; বায়হাকী, হা/১৯৩৮।
৭১. আবু দাউদ, হা/২৩৫৮; তিরমিযী, হা/৬৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৯৮; দার কুতনী, হা/২২৭৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৭৬।
৭২. ইবনে মাজাহ, হা/১৬৯৮; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৪৩৪-৩৫; সহীহ বুখারী, হা/১৯৫৭; সহীহ মুসলিম, হা/২৬০৮; তিরমিযী, হা/৬৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৭৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৫৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫০২; জামেউস সগীর, হা/১৩৬৫২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৭৩; মুসনাদে দারেমী, হা/১৭৪১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৭৫৯২: মিশকাত, হা/১৯৮৩।
৭৩. আবু দাউদ, হা/২৩৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৮০৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫০৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৯৫১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৭৩; বায়হাকী, হা/৭৯০৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯০৩৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৬৪৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৭৫; মিশকাত, হা/১৯৯৫।
৭৪. আবু দাউদ, হা/২৩৫৮; তিরমিযী, হা/৬৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৯৮; দার কুতনী, হা/২২৭৮; মুস্তাদরাক, হা/১৫৭৬;
৭৫. তিরমিযী, হা/২৫২৬; মিশকাত হা/২২৪৯।
৭৬. ইবনে মাজাহ, হা/১৭৫৩; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৩৫।
৭৭. আবু দাউদ, হা/৩৭৬৯; তিরমিযী, হা/১৮৫৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭৭৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১০৭; মিশকাত, হা/৪২০২।
৭৮. আবু দাউদ, হা/২৩৫৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৫৩৯৫; দার কুতনী, হা/২২৭৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৩৬; বায়হাকী, হা/৭৯২২; জামেউস সগীর, হা/৮৮০৭; মিশকাত, হা/১৯৯৩।
৭৯. আবু দাউদ, হা/৩৮৫৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৪৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫২৯৬: জামেউস সগীর, হা/৮৮০৬।
৮০. তিরমিযী, হা/৮০৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৪৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭০৭৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪২৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৭৭৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৫১৩০; বায়হাকী, হা/৭৯২৬।
📄 রমাযান মাসে নেক আমলে অগ্রগামী হওয়া
যেহেতু রমাযান মাসটাকে মহান আল্লাহ বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, যা আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাই এ মাসটাকে ইবাদাত-বন্দেগী ও ভালো কাজের মধ্যে ব্যয় করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর একান্ত কর্তব্য।
রমাযান মাসে মানুষকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এভাবে আহ্বান করা হয়, 'হে মঙ্গল অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে কুপথগামী! একটু থামো।' অর্থাৎ এ মাসে যেহেতু রহমতের দরজা খোলা থাকে, তাই তুমি এই সুযোগকে হেলায়-খেলায় নষ্ট করো না। দুনিয়া-আখিরাতে উন্নতি লাভের জন্য তুমি ভালো কাজে তৎপর হও। অপরদিকে এ মাসে যেহেতু শয়তানগুলো বাঁধা থাকে, তাই এ সময়টি হচ্ছে পাপ থেকে দূরে সরে আসার সুবর্ণ সুযোগ। তাই তুমি সচেতন হও, ফিরে আসো তোমার প্রভুর দিকে। রমাযানের এই মর্মস্পর্শী ডাকে সকলের সাড়া দেয়া উচিত।
টিকাঃ
৮১. তিরমিযী, হা/৬৮২; নাসাঈ, হা/২১০৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৮১৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৮৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৩৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৩২।