📄 মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর উম্মতের রোযা
• রমাযানের রোযা ফরয হওয়ার আগে নবী ﷺ মুসলমানদেরকে প্রতি মাসে তিনদিন (আইয়ামে বীজের) রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং আশুরার দিনে রোযা রাখতে উৎসাহিত করতেন। হাদীসে এসেছে, জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে আশুরার দিন রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এ ব্যাপারে খুবই উৎসাহ দিতেন। আমরা রোযা রাখছি কি না- এরও খোঁজ-খবর নিতেন। পরে যখন রমাযানের রোযা ফরয হয়ে গেল তখন এ ব্যাপারে কোন আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না এবং কোন খোঁজ-খবরও নিতেন না।
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, জাহেলী যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোযা পালন করত। জাহেলী যুগে রাসূলুল্লাহ ﷺ -ও এ দিন রোযা রাখতেন। তিনি যখন মদিনায় আসেন, তখনও (প্রথমদিকে) তিনি এ রোযা রেখেছেন এবং তা রাখার হুকুমও দিয়েছেন। কিন্তু যখন রমাযানের রোযা ফরয হয় তখন তিনি আশুরার রোযা ছেড়ে দেন। অতঃপর যার ইচ্ছা সে তা রাখত আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত।'
• দ্বিতীয় হিজরীর শা'বান মাসে সর্বপ্রথম রমাযান মাসে রোযা রাখার বিধান নাযিল হয়। তবে এতে লোকদেরকে এতটুকু পর্যন্ত সুযোগ দেয়া হয়েছিল যে, যারা রোযা রাখতে চায় না, তারা প্রতি রোযার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাওয়ালেও চলবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা (এর মাধ্যমে আল্লাহকে) ভয় করতে পার। (রোযা ফরয করা হয়েছে) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, তবে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, তবে সমপরিমাণ দিনের রোযা (সুস্থ হয়ে অথবা সফর থেকে ফিরে এসে) কাযা আদায় করে নেবে; আর যারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও রোযা রাখতে চায় না তাদের জন্য এর বিনিময়ে ফিদইয়া দেয়ার সুযোগ থাকবে। আর তা হচ্ছে একজন গরীব ব্যক্তিকে (পেট ভরে) খাবার দেয়া। অবশ্য যদি কোন ব্যক্তি (এর চেয়ে বেশী দিয়ে) ভালো কাজ করতে চায়, তাহলে এ কাজ তার জন্য একান্ত কল্যাণকর হবে। তবে (এ সময়) রোযা রাখা তোমাদের জন্য খুবই ভালো; যদি তোমরা (রোযার উপকারিতা সম্পর্কে) জানতে পার।' (সূরা বাকারা- ১৮৩, ১৮৪)
• উপরোক্ত বিধান নাযিল হওয়ার এক বছর পর সুস্থদের ব্যাপারে যে ছাড় বা সুযোগ দেয়া হয়েছিল তা রহিত করে পুরো মাস রোযা রাখা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয় এবং রোগী ও মুসাফিরদের ব্যাপারে কাযার বিধান বহাল রাখা হয়। তবে যারা রোযা রাখতে অক্ষম তারা ফিদইয়া দিতে পারবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'রমাযান মাস (এমন একটি মাস) যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, আর এই কুরআন হচ্ছে মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং (হক ও বাতিলের) পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন রোযা রাখে, তবে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে তবে সে পরবর্তী দিনগুলোতে গুণে গুণে সেই পরিমাণ কাযা করে নেবে। (এ সুযোগ দিয়ে) আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কখনই তোমাদের (জীবন) কঠিন করতে চান না। আল্লাহর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমরা যেন গুণে গুণে (রোযার) সংখ্যাগুলো পূর্ণ করতে পার, আর আল্লাহ তোমাদেরকে (জীবন যাপনের) যে পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন সেজন্য তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে পার এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পার।' (সূরা বাকারা- ১৮৫)
• রমাযান মাসে রোযা রাখা বাধ্যতামূলক হয়ে যাওয়ার পর এর বিস্তারিত বিধি-বিধান সম্পর্কে মুসলমানদেরকে ধারণা দেয়া হয় এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর জেগে উঠে সহবাস করা ও খাওয়া-দাওয়া করাকে হালাল করে দেয়া হয়, যা ইতিপূর্বে হালাল ছিল না। ইবনে কাসীরের বর্ণনায় এসেছে, কায়েস ইবনে সুরমাহ আল-আনসারী রোযা রেখে সারাদিন পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বললেন, খাওয়ার কিছু আছে কি? স্ত্রী বললেন, না। এরপর স্ত্রী খাবারের খুঁজে বের হলেন। ফিরে এসে দেখেন স্বামী ঘুমিয়ে পড়েছেন। ফলে তিনি পরের দিন না খেয়ে রোযা রাখলেন। এক পর্যায়ে তিনি ক্ষুধার জ্বালায় বেঁহুশ হয়ে পড়েন। অতঃপর নবী ﷺ এর কাছে এ ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হলো।
অপরদিকে উমর (রাঃ) রোযার রাতে ঘুমানোর পর জেগে উঠে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে বসেন। পরে তিনি নিজেকে দোষী মনে করে আক্ষেপের সাথে নবী ﷺ এর কাছে গিয়ে নিজের ঘটনা বললেন। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াত নাযিল করে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সহবাস করা ও খাওয়া-দাওয়াকে বৈধ করে দিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'রোযার মাসে রাতের বেলায় তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলন করা তোমাদের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে, তোমাদের স্ত্রীরা যেমনি তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ, ঠিক তোমরাও তাদের জন্য পোশাক সমতুল্য। আল্লাহ এটা জানেন যে, তোমরা নিজেদের উপর খিয়ানত করে বসবে, তাই তিনি তোমাদের উপর দয়া করলেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। এখন চাইলে তোমরা তাদের সাথে সহবাস করতে পার এবং (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য যা (বিধি-বিধান কিংবা সন্তান) লিখে রেখেছেন তা সন্ধান করো। আর তোমরা পানাহার অব্যাহত রাখতে পার যতক্ষণ পর্যন্ত রাতের অন্ধকার রেখার ভিতর থেকে ভোরের শুভ্র আলোকরেখা পরিষ্কার না হয়। অতঃপর তোমরা রাত আসা পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করো। তবে মসজিদে যখন তোমরা ই'তিকাফ অবস্থায় থাকবে তখন নারী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকবে। এ হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। সুতরাং তোমরা এসবের নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তা'আলা তার যাবতীয় নিদর্শন মানুষের জন্য বলে দিয়েছেন, যেন তারা (এর আলোকে) আল্লাহকে ভয় করতে পারে।' (সূরা বাকারা- ১৮৭)
টিকাঃ
৬. সহীহ মুসলিম, হা/২৭০৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৯৪৬; মুসনাদে তায়ালুসী, হা/৮২১; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৪০৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৩৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৪৪৯; মিশকাত, হা/২০৬৯।
৭. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৬৬২; সহীহ বুখারী, হা/২০০২; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৬; আবু দাউদ, হা/২৪৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬২১; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/২৮৫০; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৩৯৪; বায়হাকী, হা/৮১৯২: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭০২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৭৮৪৫।
📄 রমাযানের চাঁদ
মহান আল্লাহ চাঁদকে মানুষের জন্য সময় নির্দেশক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এর দ্বারা মানুষ নিজেদের ইবাদাত ও অন্যান্য বিষয়ের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সুতরাং বান্দার প্রতি আল্লাহর খাস রহমত এই যে, তিনি ফরয রোযা শুরু হওয়ার বিষয়টি এমন একটি স্পষ্ট চিহ্নের উপর নির্ভরশীল করেছেন, যা সবার সামনে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন! তা হলো মানুষ ও হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক।' (সূরা বাকারা- ১৮৯)
• চাঁদ দেখে রোযা রাখতে হবে :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে সাওম শুরু করো আবার চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদুল ফেতর) করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তাহলে শা'বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। তারপর সিয়াম শুরু করো।
• চাঁদ দেখা না গেলে রমাযান প্রবেশ হওয়া প্রমাণ করার উপায় হলো, শা'বান মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ করে নেয়া। অবশ্য এ জন্য শা'বান মাসের শুরুর হিসাব রাখতে হবে।
• পূর্ব সতর্কতামূলকভাবে রমাযানের এক দিন আগে থেকে রোযা রাখা বৈধ নয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন রমাযানের আগে একটি বা দু'টি রোযা না করে। তবে তার কথা ভিন্ন, যে সেদিনে রোযা রাখায় অভ্যস্ত। যেমন- কেউ প্রতি সোমবার রোযা রাখে, এখন রমাযানের আগের দিন সোমবার হলে সে রোযা রাখতে পারে।
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হা/১৯০৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৮; তিরমিযী, হা/৬৮৪; নাসাঈ, হা/২১১৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৪৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৫৯; মুসনাদে দারেমী, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/১৯৭০।
৯. সহীহ বুখারী, হা/১৭১৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯২৭২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫৯২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৭৩১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯১২৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭১৮; বায়হাকী, হা/৭৭৩১; মিশকাত, হা/১৯৭৩।
📄 মাসের উপস্থিতি কীভাবে প্রমাণিত হবে
মাস প্রমাণিত হবে নতুন চাঁদ দেখা বা তার সংবাদ শোনার মাধ্যমে। তাফসীরে রুহুল মা'আনীতে আল্লামা আলুসী (রহ.) লিখেছেন যে, 'যে এই মাসে উপস্থিত হলো এবং সে মুসাফির নয় তাহলে তাকে সাওম রাখতে হবে। অথবা যে ব্যক্তি পবিত্র রমাযান মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের সংবাদ পেল এবং সংবাদটি তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হলো তার উপরেই সাওম রাখা ফরয।'
রোযা ওয়াজিব হওয়ার জন্য প্রত্যেক মুসলিমকে চাঁদ দেখা শর্ত নয়; কিছু সংখ্যক লোক চাঁদ দেখলে, বরং সঠিক মতে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তি দেখলেই তার দেখা মতে সকলের জন্য রোযা রাখা জরুরি হয়ে যাবে। হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক মানুষ (রমাযানের) নতুন চাঁদ দেখল। আমি রাসূল ﷺ -কে সংবাদ দিলাম যে, আমিও উক্ত চাঁদ দেখেছি। ফলে রাসূল ﷺ নিজে সাওম রাখলেন এবং মানুষকেও সাওম রাখতে নির্দেশ দিলেন।
চাঁদ দিয়ে যেই মাস হিসেব করা হয় তাকে বলা হয় চন্দ্রমাস। চন্দ্রমাস ২৯/৩০ দিনে হয়ে থাকে। তাই ৩৫৪ দিনে এক চন্দ্রবৎসর হয়। এজন্য রমাযান মাস ৩৩ বৎসরে সকল মৌসুমে একবার ঘুরে আসে। পৃথিবীর কোথাও নতুন চাঁদ দেখা গেলে অথবা নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার সংবাদ পেলে অথবা শা'বান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়ে গেলে সিয়াম পালন আরম্ভ করবে। আবার যখন শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখবে অথবা নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার সংবাদ পাবে অথবা রমাযান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়ে যাবে তখন সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকবে।
টিকাঃ
১০. তাফসীরে রুহুল মা'আনী সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্যঃ।
১১. আবু দাউদ, হা/২৩৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৪৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৪৮১; বায়হাকী, হা/৭৭৬৭; মিশকাত, হা/১৯৭৯।
📄 রমাযানের রোযার গুরুত্ব
আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের উপর যে কয়টি ইবাদাত ফরয করেছেন তার মধ্যে রোযা অন্যতম। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে, যেরকমভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করে দেয়া হয়েছিল। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারবে।' (সূরা বাকারা- ১৮৩)
রোযা ইসলামের মূল ভিত্তিসমূহের একটি :
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তা হলো: ১. এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। ২. সালাত কায়েম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. বাইতুল্লায় হজ্জ পালন করা। ৫. রমাযান মাসে রোযা রাখা।
যে ব্যক্তি রমাযান মাস পেয়েও তার গোনাহ ক্ষমা করাতে পারল না তার ব্যাপারে নবী ﷺ এর হাদীস:
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধূসরিত হোক, যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হয় অথচ আমার উপর দরূদ পাঠ করে না। আর ঐ ব্যক্তির নাকও ধূলায় ধূসরিত হোক, যে ব্যক্তি রমাযান মাস পেল অথচ তার গোনাহ ক্ষমা হওয়ার আগেই রমাযান মাস শেষ হয়ে গেল। আর ঐ ব্যক্তির নাকও ধূলায় ধূসরিত হোক, যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তারা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না (অর্থাৎ তাদের খেদমত করে সে জান্নাত লাভ করতে পারল না)।
টিকাঃ
১২. সহীহ বুখারী, হা/৮; সহীহ মুসলিম, হা/১২২; তিরমিযী, হা/২৬০৯; নাসাঈ, হা/৫০০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬০১৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩০৯।
১৩. তিরমিযী, হা/৩৫৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৪৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৮৩৬৫; জামেউস সগীর, হা/৫৮২৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৬৮০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৬৮৯; মিশকাত, হা/৯২৬।