📄 ঐ বছরের অন্যান্য ঘটনাবলী
তাবুক অভিযানের প্রচলিত কাহিনি
তাবুক অভিযান সম্পর্কে কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট।
তাবুক অভিযান নবম হিজরিতে সংঘটিত হয়। তবে এই অভিযানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। আল্লাহ তায়ালা তাবুক অভিযানের প্রেক্ষাপট কোরআনের আয়াতে তুলে ধরেছেন। তিনি ইরশাদ করেন:
‘(হে নবী!) তাদের কেউ আপনাকে বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শুনে রাখো, তারা তো আগে থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।"*
ইবনে ইসহাক তাবুক অভিযান সম্পর্কে বলেন, নবীজি যখন তাবুক অভিযানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি বনু সালামার জাদ্দ ইবনে কায়েসকে অভিযানে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে জাদ্দ ইবনে কায়েস বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে এ অভিযান থেকে অব্যাহতি প্রদান করুন। আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। কারণ তাবুকে বনু আসফারের মেয়েদের দেখে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব না। আমার কওমের লোকেরা জানে, আমার চেয়ে নারীদের প্রতি কঠিন আসক্ত অন্য কেউ নেই। তাই আমি এ অভিযানে যেতে চাইছি না।' নবীজি তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন। অতঃপর এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই আয়াত অবতীর্ণ হয়।
ইবনে ইসহাক ঘটনার শুরুতে সনদ উল্লেখ করে বলেন, 'তাবুক অভিযান সম্পর্কে আমাদের শাইখদের যাঁরা যা কিছু শুনেছেন, তাঁরা তা-ই বর্ণনা করেছেন। আবার অনেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন, যা অন্যরা করেননি।'
শাইখ আলবানি বলেন, 'এ বর্ণনাটি দুর্বল। ইবনে হিশাম ইবনে ইসহাকের সূত্রে মুরসাল সনদে এটি উল্লেখ করেছেন।' অনুরূপভাবে অপর ঐতিহাসিক ইবনে জারির তাবারি তাঁর তারিখে তাবারি গ্রন্থে এ ঘটনা বর্ণনা করেন।
ইবনে জারির তাবারি তাঁর তাফসির গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আমরের সূত্রে প্রখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ থেকে ওই আয়াতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবীজি সকলকে তাবুক যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করে ইরশাদ করেন:
'তোমরা তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও। এর ফলে গনিমত হিসেবে বনু আসফারের কন্যা এবং রোমীয় সুন্দরী নারী তোমরা লাভ করবে।' তখন জাদ্দ ইবনে কায়েস বলল, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এ অভিযান থেকে অব্যাহতি প্রদান করুন এবং রোমীয় নারীদের কথা বলে আমাকে বিভ্রান্ত করবেন না।' তখন উপরিউক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।
উল্লেখ্য, ওই বর্ণনার সনদে উল্লিখিত মুজাহিদ তাবেয়ি হওয়ার কারণে এটি মুরসাল পর্যায়ে গণ্য। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন, 'ইবনে নুজাইহ তাবেয়ি মুজাহিদ থেকে সরাসরি কোরআনের তাফসির শোনেননি।' ইমাম জাহবি বলেন, 'ইবনে নুজাইহ তাবেয়ি মুজাহিদের ঘনিষ্ঠদের একজন।'
ইমাম বায়হাকি এ ঘটনা ইবনে লাহিয়ার সূত্রে উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন। কিন্তু ইবনে লাহিয়ার দুর্বলতা সবার কাছে পরিচিত এবং উরওয়া থেকে বর্ণিত হওয়ায় এটিও মুরসাল সনদের পর্যায়ভুক্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, 'বর্ণিত আছে, জাদ্দ ইবনে কায়েস মুনাফিক ছিল। আবু নু'আইম এবং ইবনে মারদুইয়া উভয়ে দাহহাকের সূত্রে সাহাবি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'জাদ্দ ইবনে কায়েসের উপরিউক্ত কথার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবার উপরিউক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন।'
এ ছাড়া ইবনে মারদুইয়া আয়েশা ও জাবেরের হাদিসের সনদের সূত্রে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে ওই সনদেও দুর্বলতা রয়েছে।
ইবনে আবদুল বার বলেন, 'বর্ণিত আছে, জাদ্দ ইবনে কায়েস পরবর্তী সময়ে তওবা করে খাঁটি মুসলিমে পরিণত হয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভালো অবগত।'
আল্লামা হাইসামি মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে লেখেন, 'ইমাম তাবারানি তাঁর মু'জামুল কাবির ও মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর সনদে ইয়াহইয়া হুম্মানি নামের এক বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।'
ইমাম জাহবি তাঁকে হাদিসের হাফেজ বললেও তাঁর বর্ণিত হাদিসকে প্রত্যাখ্যানযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে মাঈন এবং আরও অনেকে তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
ইমাম আহমাদ বলেন, 'তিনি প্রকাশ্যে মিথ্যা বলতেন।' ইমাম নাসায়ি তাঁকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাহজিব গ্রন্থে তাঁর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত এসেছে।
সর্বোপরি এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই যে তাবুক অভিযানে যেসব মুনাফিক যেতে ইচ্ছুক ছিল না, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবার উপরিউক্ত আয়াতের আগের আয়াতগুলোতে সতর্কবাণী ঘোষণা করলেও এ আয়াতটি শুধু জাদ্দ ইবনে কায়েসকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া জটিল। তা ছাড়া যদিও মেনে নেওয়া হয়, এই আয়াত জাদ্দ ইবনে কায়েসের কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে, তা সত্ত্বেও এসব বর্ণনার সনদের দুর্বলতা উল্লেখ করা ছাড়া এ কথা বলা যাবে না।
কারণ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ইসাবাহ গ্রন্থে জাদ্দ ইবনে কায়েসের জীবনীতে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। সেখানে এসেছে, 'জাদ্দ ইবনে কায়েস দ্বিতীয় আকাবার বাই'আত গ্রহণে অংশ নিয়েছিলেন।'
ইবনে হাজার লিখেছেন, 'ইমাম তাবারানি এবং ইবনে মানদাহ মুআবিয়া ইবনে আম্মারের সূত্রে জাবের (রা.) থেকে জাদ্দ ইবনে কায়েসের ঘটনা বর্ণনা করেন। ওই ঘটনায় জাদ্দ ইবনে কায়েসের দ্বিতীয় আকাবার বাই'আত গ্রহণ সম্পর্কে উল্লেখিত হয়েছে। ওই বর্ণনার সনদ শক্তিশালী।'
এই সনদে উল্লেখিত মুআবিয়া এবং আম্মার থেকে ইমাম মুসলিম হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ্ থেকে ইমাম বুখারি তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হাদিস বর্ণনা করেন। এ ছাড়া তাঁর থেকে ইমাম তিরমিজি স্বীয় রচিত সুনান গ্রন্থে হাদিস এনেছেন। তাকরিব গ্রন্থে ইবনে হাজার এসব বর্ণনাকারীর প্রত্যেককে বিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
আল্লামা হাইসামি তাঁর মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে জাবের থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করে বলেন, 'ইমাম তাবারানি এ ঘটনা তিন সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সনদের প্রত্যেকেই নির্ভরযোগ্য।' অন্য জায়গায় ভিন্ন শব্দে জাবেরের বর্ণনা উল্লেখ করার পর হাইসামি বলেন, 'ইমাম তাবারানি এটি বর্ণনা করেন এবং তাঁর সনদের সবাই সহিহ হাদিস গ্রন্থের বর্ণনাকারী।'
হাদিসের মূলপাঠ সহিহ বুখারি গ্রন্থে আমর ইবনে দিনারের সূত্রে সাহাবি জাবের থেকে বর্ণিত হয়েছে। ওই হাদিসে জাবের জাদ্দ ইবনে কায়েসের বাই'আত গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সহিহ বুখারি গ্রন্থের অন্য সনদে আতা থেকে বর্ণিত, জাবের বলেন, 'আমি, আমার পিতা এবং আমার দুই মামা যথাক্রমে জাদ্দ ইবনে কায়েস ও বারা ইবনে মা'রুর সবাই নবীজির কাছে বাই'আতে অংশ নিয়েছি।'
ইবনে হাজার আরও বলেন, আরব দেশে মায়ের নিকটাত্মীয়কে 'খালুন' বলে অভিহিত করা হয়। ইবনে আসাকির হাসান পর্যায়ের সনদে জাবের থেকে তাঁর মামার বাই'আতে অংশ নেওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁর বর্ণনায় জাবেরের মামার নাম হুর ইবনে কায়েস বলে উল্লেখিত হয়েছে।
অতঃপর ইবনে হাজার আরও বলেন, 'সিরাত গ্রন্থের কোনো রচয়িতা হুর ইবনে কায়েসের কথা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। যেমনটি ইবনে আসাকেরের বর্ণনায় এসেছে। এ বর্ণনায় হুর নাম এসেছে। হয়তো-বা এটি লেখনীতে জাদ্দ শব্দের বিকৃতির কারণে ঘটেছে। সর্বশেষে আল্লাহ তায়ালাই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত।'
অপর এক সহিহ সনদে বর্ণিত, বনু সালামার লোকেদের নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের নেতা কে হবেন?' তারা উত্তর দিল, 'জাদ্দ ইবনে কায়েস হতে পারেন। যদিও আমরা তাকে কৃপণ মনে করি।' নবীজি বললেন, 'কৃপণতার চেয়ে মারাত্মক ব্যাধি আর কী হতে পারে? না; বরং তোমাদের নেতা হবেন আমর ইবনে জামুহ।'
ইমাম বুখারি এটি আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইরাকি ও শাইখ মুনাবি একে ইমাম আহমাদ এর দিকে সম্পৃক্ত করে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। শাইখ আলবানিও অনুরূপ বলেছেন।
উল্লেখ্য, বনু সালামার লোকেরা জাদ্দ ইবনে কায়েসকে কৃপণ বলে আখ্যায়িত করেছেন; তবে মুনাফিক বলেননি। তাঁরা কখনোই কোনো মুনাফিককে নিজেদের নেতা মনোনীত করতেন না। কারণ নবীজি ইরশাদ করেন:
'তোমরা মুনাফিকদেরকে নিজেদের নেতা বলে সম্বোধন করিয়ো না। এমন করলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন।' ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এবং ইমাম বুখারি তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদও এ হাদিস বর্ণনা করেন।
ইমাম নববি, হাফেজ ইরাকি, শাইখ আলবানি এবং শাইখ শু'আইব আরনাউত প্রমুখ হাদিসবিশারদ ওই হাদিসের সনদকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন।
এদিকে ইমাম মুসলিম সহিহ মুসলিম গ্রন্থে সাহাবি জাবের থেকে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় নবীজির কাছে বাই'আত করার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'হুদাইবিয়ার বাই'আত গ্রহণের দিন আমরা নবীজির সঙ্গে ১৪০০ জন ছিলাম। আমরা সবাই তাঁর হাতে বাই'আত করছিলাম। উমর (রা.) গাছের নিচে নবীজির হাত ধরে ছিলেন। জাদ্দ ইবনে কায়েস ছাড়া সবাই তাঁর হাতে বাই'আত করেন। তখন জাদ্দ ইবনে কায়েস তার খচ্চরের পেটের নিচে লুকিয়ে ছিল।'
নিঃসন্দেহে এটি ছিল নিজেকে মহাসৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করা অথবা ইমানের দুর্বলতা। তবে ইবনে আবদুল বার এর আগের এক বর্ণনামতে, পরবর্তী সময়ে জাদ্দ ইবনে কায়েস খাঁটিমনে তওবা করেছিলেন। অতএব, বাস্তবে তওবা করে থাকলে তো আর কোনো কথা থাকে না। কারণ, তওবা আগের সমস্ত পাপকে মোচন করে দেয়। অপরদিকে তওবা না করে থাকলে এটা তার ইমানের দুর্বলতা অথবা মুনাফিকি ছাড়া আর কিছু নয়।
অন্য জায়গায় ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, জাবের বলেন, বাই'আত করার পর নবীজি বললেন, 'লাল উটের মালিক ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষমাপ্রাপ্ত।' জাবের বলেন, 'নবীজির মুখে এমন কথা শুনে আমরা লাল উটের কাছে এসে তার মালিককে বলি, আমাদের সঙ্গে চলো। নবীজি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। উত্তরে সে বলল, 'আল্লাহর কসম! তোমাদের সঙ্গীর ক্ষমা প্রার্থনার চেয়ে আমার হারিয়ে যাওয়া উট খোঁজা আমার কাছে বেশি পছন্দের।' এই ব্যক্তি তার উট হারিয়ে ফেলেছিল।
এ বর্ণনায় লাল উটের মালিকের নাম উল্লেখ নেই।
ইমাম তাবারানি সাহাবি ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন, নবীজি সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন, 'তোমরা তাবুক অভিযানের জন্য প্রস্তুত হও। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে গনিমত হিসেবে বনু আসফারের মেয়ে দান করবেন।' এ ঘোষণা শুনে মুনাফিকদের কেউ বলল, তিনি তোমাদেরকে সুন্দরী মেয়েদের লোভ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। তখনই এর উত্তরে সুরা তওবার এই আয়াত অবতীর্ণ হয় :
'(হে নবী!) তাদের কেউ আপনাকে বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শুনে রাখো, তারা তো আগে থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।"*
আল্লামা হাইসামি মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেন, 'এ বর্ণনার সনদে আবু শাইবা ইবরাহিম ইবনে উসমান রয়েছেন। তিনি দুর্বল বলে পরিচিত।'
আল্লাহ আবু জরের ওপর রহম করুন, তিনি একা চলেন
তাবুক অভিযানের ঘটনা প্রসঙ্গে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, তাবুক অভিযানে রওনা দিতে কোনো কারণে সাহাবি আবু জরের (রা.) বিলম্ব হয়ে গিয়েছিল। কারণ আবু জর উটের পিঠে করে আসায় দেরি হয়ে যাচ্ছিল। উটটি যখন আরও মন্থর হয়ে এল, তখন তিনি সেটার পিঠ থেকে সমস্ত আসবাব নিয়ে নিজের পিঠে নিলেন এবং পায়ে হেঁটেই নবীজি যে পথে গেছেন, সে পথ ধরলেন।
ওদিকে নবীজি ও সাহাবিদের দল আগেই রওনা হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আবু জর একা নিজের সরঞ্জামাদি পিঠে বহন করে নবীজির অবস্থানস্থলের দিকে আসতে থাকেন। নবীজি পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি দিলেন। তখন দূর থেকে এক মুসলিম সৈন্য তাঁকে দেখতে পেয়ে নবীজিকে সংবাদ দেয় এবং বলে, 'একাকী এক লোক হেঁটে আসছে। নবীজি বললেন, 'মনে হচ্ছে, আবু জর এদিকে আসছে।' সৈন্যরা কাছাকাছি গিয়ে তাঁকে চিনে ফেলে। তারা নবীজিকে আবু জরের আগমনের ব্যাপারে নিশ্চিত করে। তখন নবীজি বললেন, 'আল্লাহ আবু জরের ওপর রহম করুন। তিনি একাই পথ চলেন। একাকী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন এবং একাকী পুনরায় জীবিত হবেন।'
অতঃপর ইবনে ইসহাক বুরাইদা ইবনে সুফিয়ান আসলামির সূত্রে সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'পরবর্তী সময়ে মদিনা থেকে ইরাকের দিকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাবাজা শহরে একাকী অবস্থায় সাহাবি আবু জরের ইন্তেকাল হয়।'
একদিন আবু জরের প্রতি লক্ষ করে সাহাবি ইবনে মাসউদ বলেছিলেন, 'আল্লাহর রাসুল সত্য বলেছিলেন। তুমি একা পথ চলেছো, একাকী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে এবং একাকী পুনরায় জীবিত হবে।'
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ইসাবাহ গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্র উল্লেখ করে এ ঘটনাকে দুর্বল বলেছেন। তিনি তাঁর অপর গ্রন্থ মাতালিবুল আলিয়াতে লেখেন, 'ওই বর্ণনার সনদে উল্লেখিত ইবনে কাব কুরাজিকে আমি চিনি না। এখানে কুরাজি বলতে যদি মুহাম্মদ ইবনে কাব কুরাজি হয়ে থাকেন, তাহলে এই হাদিস বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত বলে গণ্য হবে।'
কিন্তু ইমাম হাকিম এ ঘটনা ইবনে ইসহাকের সনদে বর্ণনা করার পর বলেন, 'এর সনদ সহিহ; তবে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তা উল্লেখ করেননি।' তবে ইমাম হাকিম এর বক্তব্যের পর ইমাম জাহবি বলেন, 'এ বর্ণনার সনদ মুরসাল।' ইমাম জাহবি সম্ভবত এ কথা বলে বোঝাতে চাচ্ছেন, ইবনে কাব কুরাজি ও সাহাবি ইবনে মাসউদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। যেমন ইবনে হাজার বলেছিলেন।
তবে মূলত এ হাদিসের সনদের বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ইবনে ইসহাকের শিক্ষক বুরাইদা ইবনে সুফিয়ান আসলামিকে কেন্দ্র করে। ইমাম বুখারি বলেন, 'তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে।' ইমাম দারা কুতনি তাঁকে পরিত্যক্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। উকাইলি বলেন, 'বুরাইদা থেকে বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে ইমাম আহমাদ কে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'তাঁর বর্ণিত হাদিস নড়বড়ে।'
ইমাম জাহবি রচিত সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখিত এ হাদিসের সনদ বিশ্লেষণে শাইখ শু'আইব আরনাউত একে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। শাইখ আলবানিও বুরাইদার বর্ণিত হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। আর ইবনে মাসউদ থেকে ইবনে কাব কুরাজির বিচ্ছিন্নতা প্রমাণিত নয়। কারণ শক্তিশালী সনদে ইমাম বুখারি তাঁর তারিখ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইবনে কাব কুরাজি সরাসরি ইবনে মাসউদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ইবনে কাসির তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে হাদিস উল্লেখ করার পর লেখেন, 'এর সনদ হাসান পর্যায়ের হলেও অন্যান্য সিরাত গ্রন্থের রচয়িতারা তা উল্লেখ করেননি।' ইবনে কায়্যিম তাঁর জাদুল মা'আদ গ্রন্থে এ হাদিস উল্লেখ করে বলেন, 'ওই হাদিসের ঘটনায় সমস্যা রয়েছে।' অতঃপর তিনি ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণিত হাদিস কিছুটা পরিবর্তনসহকারে উল্লেখ করেন। এর সনদকে শাইখ শু'আইব আরনাউত হাসান পর্যায়ভুক্ত করেন। কিন্তু আলবানি একেও সনদজনিত সমস্যা বলে দুর্বল আখ্যা দেন।
মসজিদে জিরার পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য নবীজির নির্দেশ
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, তাবুকের উদ্দেশে যখন নবীজি রওনা হন, তখন মসজিদে জিরারের কয়েক লোক নবীজির কাছে এসে বলে, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা একটি মসজিদ বানিয়েছি অসহায়দের জন্য; যারা অন্ধকার রজনীতে এখানে আশ্রয় নেবে। আমরা চাচ্ছি, আপনি আমাদের মসজিদে এসে আমাদেরকে নামাজ পড়াবেন।' উত্তরে নবীজি বললেন, 'আমি এখন যুদ্ধাভিযানে ব্যস্ত আছি। ফেরার পথে ইনশা আল্লাহ তোমাদের মসজিদে এসে নামাজ পড়াব।'
অতঃপর তাবুক অভিযান শেষে ফেরার পথে নবীজি তাবুক ও মদিনার মাঝামাঝি জু-আউয়ান অঞ্চলে দিনের বেলায় কিছু সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি করেন। তখন তিনি মসজিদে জিরার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ভয়ংকর সংবাদ পান। তখনই তিনি বনু সালেম ইবনে আওফের ভাই মালিক ইবনে দুখশুম (রা.) এবং বনু আজলানের ভাই মা'আন ইবনে আদি অথবা আসেম ইবনে আদিকে ডেকে মসজিদে জিরার পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশ পাওয়ামাত্র তাঁরা দুজন দ্রুত বনু সালেম ইবনে আওফের বসতিতে গমন করেন। বনু সালেম ছিল মালিক ইবনে দুখশুমের গোত্র। বসতির কাছাকাছি পৌঁছে মালিক ইবনে দুখশুম মা'আনকে বললেন, 'তুমি এখানে দাঁড়াও, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘর থেকে আগুন নিয়ে ফিরে আসছি।'
অতঃপর মালিক ইবনে দুখশুম খেজুরের অনেকগুলো পাতা সংগ্রহ করে তাতে আগুন ধরিয়ে মা'আনকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে জিরারের উদ্দেশে ছুটে চললেন। মসজিদের সামনে এসে তিনি জ্বলন্ত খেজুরের পাতাগুলো মসজিদের দিকে নিক্ষেপ করেন এবং আগুন লাগিয়ে দেন। ষড়যন্ত্রকারীরা তখন মসজিদে অবস্থান করছিল। তারা আগুন দেখতে পেয়ে এদিক-ওদিক পলায়ন করে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো মসজিদ পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন:
'যারা জিদের বশে এবং কুফরির তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ওই লোকদের জন্য ঘাঁটিস্বরূপ মসজিদ নির্মাণ করেছে, যারা আগ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। অচিরেই তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছিলাম। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী আছেন তাদের ব্যাপারে, তারা সকলেই মিথ্যুক ছিল।"*
ইবনে ইসহাকের বর্ণিত ঘটনার শেষে এসেছে, এই মসজিদে জিরার ১২ জন মিলে নির্মাণ করেছিল।
শাইখ আলবানি এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, 'এর সনদ দুর্বল। ইবনে হিশাম এ ঘটনা ইবনে ইসহাকের সূত্রে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে ইবনে শিহাব জুহরি, ইয়াজিদ ইবনে রুমান, আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর, আমর ইবনে আমর এবং আরও অনেকের কাছ থেকে মুরসাল সনদে ওই ঘটনা বর্ণনা করেন।'
তবে শাইখ আলবানি তাঁর ইরওয়াউল গালিল গ্রন্থে বলেন, 'এ ঘটনা সিরাতের গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ। আমার মতে, এর সনদ সহিহ।'
ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে উপরিউক্ত সনদের সূত্রে বর্ণনা করলেও ইবনে ইসহাক সনদ ছাড়া তা উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে কাসির তাঁর বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সনদ উল্লেখ করেননি।
ঐতিহাসিক ইবনে জারির তাবারি তাঁর তাফসিরে তাবারি গ্রন্থে মুছান্নার সূত্রে সাহাবি ইবনে আব্বাস থেকে উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লেখেন, মসজিদে জিরারের নির্মাণকারীরা আনসার গোত্রের ছিল। আবু আমের তাদেরকে বলে, 'তোমরা একটি মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যাবতীয় অস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম একত্র করো। এদিকে আমি রোমের বাদশাহর দরবারে গিয়ে আমাদের পরিকল্পনা পেশ করব। অতঃপর তার কাছে সেনা সাহায্য চাইব। রোমীয় বাহিনী এসে পৌঁছালে আমরা সবাই মিলে মুহাম্মদকে মদিনা থেকে বিতাড়িত করব।'
ওদিকে মসজিদ নির্মাণ শেষ হলে তারা নবীজির দরবারে এসে নবনির্মিত মসজিদের সংবাদ দেয় এবং বলে, 'আমরা চাচ্ছি, আমরা ওই মসজিদে আপনার ইমামতিতে নামাজ আদায় করব। অতঃপর আমাদের জন্য আপনি বরকতের দোয়া করবেন।'
উল্লেখ্য, এ বর্ণনার সনদ হাসান পর্যায়ের। যদিও এই সনদের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রায়ই ভুল করে বসেন। তবে তিনি বিশ্বস্ত বটে। তাঁর থেকে বর্ণনাকারী মুআবিয়া ইবনে সালেহও কখনো কখনো হাদিস বর্ণনার সময় বিভ্রান্তির কবলে পড়েন। আর আলি ইবনে আবু তালহা সাহাবি ইবনে আব্বাসের সাক্ষাৎ পাননি।
আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় আবু আমেরের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ হয়নি। নবীজি মদিনায় হিজরত করার সময় সে মক্কায় চলে যায়। অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজিত হওয়ার পর সে তায়েফে গমন করে। অতঃপর তায়েফবাসী ইসলাম গ্রহণ করলে সে সিরিয়ায় পলায়ন করে। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
কিন্তু ইমাম হাকিম সাহাবি জাবের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'মসজিদে জিরার বিধ্বস্ত হয়ে ভেঙে পড়ার সময় আমি সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছি।' ইমাম জাহবি এ বর্ণনার সনদকে সহিহ সাব্যস্ত করে এর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। সম্ভবত আগুনে পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই সরাসরি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে মসজিদে জিরার ধ্বংস হয়ে যায়।
নামাজ থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য ছাকিফ গোত্রের শর্ত
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আফফানের সূত্রে উসমান ইবনে আবিল আস থেকে বর্ণনা করেন, ছাকিফ গোত্রের প্রতিনিধিদল নবীজির দরবারে আগমন করে। নবীজি তাদেরকে মসজিদে নববিতে আপ্যায়ন করেন, যাতে মুসলিমদের ইবাদতের পরিবেশ দেখে তাদের অন্তর বিগলিত হয়। তারা নবীজির কাছে ইসলাম গ্রহণের আগে কয়েকটি বিষয়ে শর্তারোপ করে। শর্তগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ:
এক. তারা যুদ্ধ করার জন্য রণাঙ্গনে যেতে পারবে না এবং এর প্রস্তুতিও নেবে না।
দুই. তারা উৎপাদিত ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (ওশোর বাবদ) রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য থাকবে না।
তিন, তাদেরকে যেন নামাজ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। কারণ তারা মাথাকে ঝুঁকিয়ে পশ্চাদ্দেশ উঁচু করতে লজ্জাবোধ করে।
চার. তাদের ওপর নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে নেতা বানাতে পারবে না।
তখন উত্তরে নবীজি তাদের তিনটি শর্ত মেনে নেন; কিন্তু নামাজের ব্যাপারে বললেন, 'ওই ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই, যে ধর্মে রুকু নেই।' ইমাম আবু দাউদ এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর সনদে ইমাম বায়হাকি তাঁর দালায়েল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেন। আল্লামা মুনজিরي বলেন, 'কথিত আছে, হাসান বসরি সরাসরি উসমান ইবনে আবিল আস থেকে হাদিস শোনেননি।' ইবনে ইসহাক এ ঘটনা সনদ ছাড়া উল্লেখ করার কারণে শাইখ আলবানি একে দুর্বল বলেছেন। তবে তিনি ইমাম আহমাদ ও ইমাম আবু দাউদ এর সনদের ব্যাপারে বলেন, ওই সনদের সবাই নির্ভরযোগ্য; কিন্তু হাসান প্রায়ই হাদিস বর্ণনায় 'তাদলিস' করে থাকেন। অর্থাৎ বর্ণনার সময় শিক্ষকের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে 'অমুক থেকে' বলে বর্ণনা করেন।
শাইখ বুতির বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি আরও বলেন, 'এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।' হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাহজিব গ্রন্থে লিখেছেন, 'হাসান বসরি সরাসরি উসমান ইবনে আবিল আস থেকে হাদিস শোনেননি।'
ছাকিফ গোত্র কর্তৃক ওশোর বাবদ সদকা আদায় করা থেকে এবং জিহাদ না করার ব্যাপারে অব্যাহতি চাওয়ার প্রসঙ্গ সহিহ সনদে অপর বর্ণনায় এসেছে। ইমাম আবু দাউদ হাসান ইবনে সাব্বাহর সূত্রে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'আমি জাবেরকে ছাকিফ গোত্রের বাই'আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উত্তরে তিনি বললেন, ছাকিফ গোত্র সদকা না দেওয়া ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ওপর শর্তারোপ করেছিল। এ বিষয়ে আমি তাদের উদ্দেশে নবীজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, অচিরেই ইসলাম গ্রহণের পর তারা সদকা আদায় করবে এবং যুদ্ধেও যাবে।'
আল্লামা মুনজিরি ওই হাদিসের সনদের ব্যাপারে কিছু বলেননি। শাইখ আলবানি এ বর্ণনার সনদকে ইবনে লাহিয়ার সূত্রে ইমাম আহমাদের দিকে সম্পৃক্ত করার পর সহিহ হাদিসের তালিকাভুক্ত করেন। এরপর তিনি বলেন, 'এর সনদ শক্তিশালী। যদিও এতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী। ইবনে লাহিয়া ছাড়া অন্য সূত্রে একই হাদিস বর্ণিত হলে আমরা তখন ইবনে লাহিয়ার হাদিসের সংরক্ষণে দুর্বলতার ব্যাপার থেকে নিরাপদ বোধ করি।'
অতঃপর এর আগের বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এর সনদের সবাই সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী।' ইবনে কায়্যিমের জাদুল মা'আদ গ্রন্থের হাদিসের সনদ বিশ্লেষণ করার সময় শাইখ শু'আইব আরনাউতের সনদকে হাসান পর্যায়ের অভিহিত করেছেন।
টিকাঃ
* সুরা তওবা: ৪৯
* সুরা তওবা: ১০৭