📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 হিজরতের তৃতীয় বছর

📄 হিজরতের তৃতীয় বছর


ইবনে ইসহাক এই ঘটনা ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাইখ আলবানি বলেন, 'ইবনে ইসহাকের বর্ণনার সনদ সহিh; তবে তা মুরসাল ধারায় বর্ণিত হয়েছে।'
মূল ঘটনা সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে সহিh মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। নবীজি ও তাঁর সাহাবিগণ কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বদর রণাঙ্গনে যাত্রা করেন। উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়ে বদর প্রান্তরের দুই পাশে ছাউনি ফেলে। রাতে মুসলিম বাহিনীর শিবিরে কুরাইশ গোত্রের বনু হাজ্জাজের এক কৃষ্ণ দাস সাহাবিদের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
সাহাবিগণ তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, 'এই বলো! তোমাদের নেতা আবু সুফিয়ান কোথায়?' উত্তরে কৃষ্ণ দাস বলল, 'আমি জানি না আবু সুফিয়ান কোথায় আছে। তবে এখানে আবু জাহল, উতবা, শায়বা, উমাইয়া ইবনে খালফ ও আরও অন্যান্য নেতা রয়েছে।' তখন সাহাবিগণ তাকে মারধর করেন। পিটুনি খেয়ে ভয়ে সে বলতে শুরু করে, 'আচ্ছা বলছি! এখানে কুরাইশদের যে কজন নেতা বসে আছে, সেখানেই আবু সুফিয়ান অবস্থান করছে।' এ কথা বলার পর সাহাবিগণ তাকে ছেড়ে দেন।
ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও সে আগের মতো বলে, 'এখানে আবু সুফিয়ান নেই। সে কোথায়, আমি জানি না।' তখন আবারও তাকে সাহাবিগণ মারতে থাকেন। মার খেয়ে দাসটি আবার বলে, 'এখানেই আবু সুফিয়ান রয়েছে।' সাহাবিগণ তাকে আবার ছেড়ে দেন। এরপর যখনই সে পুনরায় আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে অস্বীকার করে, সাহাবিগণ তাকে পুনরায় মারতে থাকেন। কিছুক্ষণ এভাবে চলতে থাকে।
ওদিকে নবীজি নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি সাহাবিদের কাছে এসে বললেন, 'আশ্চর্য! যখনই এই কৃষ্ণ দাস তোমাদেরকে সত্য বলছে, তখনই তোমরা তাকে প্রহার করছ। আর যখন সে মিথ্যা বলছে, তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে।'
এরপর তিনি মাটিতে হাত দিয়ে চিহ্নিত করে দেখিয়ে দেখিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন, 'আগামীকাল কুরাইশের অমুক নেতা এখানে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। অমুক সরদার এখানে মারা পড়বে।' পরদিন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, নবীজি যেখানে যার নাম ধরে হাতের আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, সেখানেই সে মৃত্যুবরণ করেছে।
ইমাম আহমদের বর্ণনায় রয়েছে, নবীজি কৃষ্ণ দাসকে ডেকে কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। দাস উত্তর দেয়, 'তারা সংখ্যায় বিপুল। যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসেছে।' নবীজি তাকে জোর করে আবারও জিজ্ঞেস করেন, 'সত্যি করে বলো! তারা সংখ্যায় কত?' তখন দাস অস্বীকার করে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'আচ্ছা! তারা প্রতিদিন কয়টা উট জবাই করে?' দাস উত্তর দেয়, 'প্রতিদিন ১০টা করে জবাই করে।'
তখন নবীজি বললেন, 'তার মানে কুরাইশদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। একটি উট প্রতি ১০০ জন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য।'
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণিত হয়েছে, নবীজি ওই দাসকে জিজ্ঞেস করছিলেন, 'এই বাহিনীতে কুরাইশদের কোন কোন নেতা রয়েছে?' এ ছাড়া আরও রয়েছে, দাসের কাছ থেকে সবকিছু জেনে নবীজি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশে বললেন, 'মক্কা নগরী তার কলিজাগুলোকে (কুরাইশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গ) তোমাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।'

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 কা‘ব বিন আশরাফকে গোপনে হত্যা

📄 কা‘ব বিন আশরাফকে গোপনে হত্যা


ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
বদর প্রান্তরে কুরাইশরা উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে যখন সম্মত হলো, তখন তাদের মনে পড়ল বকর গোত্রের সঙ্গে তাদের শত্রুতা রয়েছে। তারা ভাবল, পেছনে আমাদের সন্তান ও নারীদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। আবার পেছন দিক থেকে আমাদের ওপর হামলাও করতে পারে। এটা ভাবতে ভাবতে কুরাইশদের যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়ার উপক্রম হলো। ঠিক এমন সময় সুরাকার বেশে শয়তান এসে হাজির হয়। সুরাকা কিনানা গোত্রের সম্ভ্রান্ত লোক এবং বনু বকর এলাকার বড় নেতা। শয়তান বলা শুরু করল, 'আমি তোমাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি। কিনানা গোত্র তোমাদের পেছনে এমন কোনো তৎপরতা চালাতে দেবে না, যা তোমরা চাও না। সুরাকাবেশী শয়তানের এমন আশ্বস্ততা শুনে কুরাইশরা এবার যুদ্ধের দিকে দ্রুত বেরিয়ে এল।' ইবনে ইসহাকের এ ঘটনা মুরসাল ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে কাসির বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনা আল্লাহ তায়ালার নিম্নোক্ত বাণীর প্রতিফলন।' তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ إِنِّي أَرَىٰ مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ غَرَّ هُؤُلَاءِ دِينُهُمْ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল, আজকের দিনে কোনো মানুষই তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক। অতঃপর যখন উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো, তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছন দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সঙ্গে নই। আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন।
'যখন মুনাফেকরা এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, তারা বলতে লাগল, এরা নিজেদের ধর্মের ওপর গর্বিত। বস্তুত, যারা ভরসা করে আল্লাহর ওপর, সে নিশ্চিন্ত। কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।"
অধিকাংশ মুফাসসির সুরা আনফালের উপরিউক্ত আয়াতের তাফসিরে এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আল্লামা কুরতুবি ও আল্লামা শাওকানি প্রমুখ মুফাসসির ইঙ্গিতসূচক বাক্যে ওই ঘটনার উদ্ধৃতি টেনেছেন।
ইবনে সা'দি মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেন, 'সম্ভবত ইবলিস সুরাকা ইবনে মালিকের বেশ ধারণ করে কুরাইশদের ধোঁকা দিয়েছে। সে তাদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে আজ তোমরা অবশ্যই বিজয় লাভ করবে। এরপর যখন কুরাইশরা বাইরে বেরিয়ে এল, তখনই ইবলিস পলায়ন করে।' যেমন আল্লাহ তায়ালা সুরা হাশরে ইরশাদ করেছেন:
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبِّ الْعَالَمِينَ - فَكَانَ عَاقِبَتَهُمَا أَنَّهُمَا فِي النَّارِ خَالِدَيْنِ فِيهَا وَذُلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ
'তারা শয়তানের মতো, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলে, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।
'অতঃপর উভয়ের পরিণতি এই হবে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।"
সাইয়্যেদ কুতুব বলেন, 'ওই ঘটনার দ্বারা কোরআনের একটি বিষয় দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ইবলিস মুশরিকদের যাবতীয় কার্যাবলির মধ্যে একপ্রকার চমক সৃষ্টি করে তাদের সামনে তা প্রকাশ করে। ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়। তবে আমরা প্রায়ই এর ধরন বা প্রকৃতি বুঝতে পারি না।'
ইমাম তাবারানি তাঁর মু'জামুল কাবির গ্রন্থে রিফা'আ ইবনে রাফের সূত্রে বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধে ইবলিস যখন দেখতে পেল, ফেরেশতাগণ মুসলিম বাহিনীর পক্ষ হয়ে লড়ে যাচ্ছে, তখন সে আতঙ্কিত হয়ে উঠল যে তাকে ফেরেশতারা মেরে ফেলবেন। এদিকে যুদ্ধের কাতারে শয়তানের হাত হারিস ইবনে হিশাম ধরে রেখেছিল। হারিস বুঝেছিল সে সুরাকা; কিন্তু হঠাৎ করে শয়তান হারিসের বুকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে তাকে নিচে ফেলে দেয়। তারপর ভীত অবস্থায় যুদ্ধের ময়দান থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে সাগরে ছুড়ে দেয় আর তখনো ভয় পেতে থাকে ফেরেশতারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। তখন সে হাত উঠিয়ে আল্লাহর কাছে বলতে থাকে, 'হে আল্লাহ! আমার প্রতি তোমার অনুগ্রহ এবং অবকাশ চাই।' এদিকে সুরাকাবেশী শয়তানের পলায়নের পর আবু জাহল যুদ্ধরত সৈন্যদের সাহস দিয়ে বলে, 'সুরাকার পলায়ন তোমাদেরকে যাতে না দমিয়ে দেয়। সে তো মুহাম্মদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে লিপ্ত; তাই এমন করেছে। আর উতবা, শায়বা ও ওলিদের নিহত হয়ে যাওয়া তোমাদেরকে কোনোভাবেই যাতে শঙ্কিত না করে তোলে। কারণ, তারা অনেক তাড়াহুড়ো করেছে। লাত ও উজ্জার কসম! তাদেরকে পাহাড়ের সঙ্গে পিষে না ফেলা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। আমি তোমাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখতে চাই না, যে তাদের এক ব্যক্তিকে মাত্র হত্যা করেছে। বরং তোমরা এমনভাবে তাদেরকে পাকড়াও করো, যাতে তারা তাদের নিকৃষ্ট কর্মের (লাত ও উজ্জার উপাসনা ছেড়ে দেওয়া এবং গোত্র থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া) শাস্তি হাড়ে হাড়ে টের পায়।'
এরপর তাবারানি আরও লম্বা ঘটনা বর্ণনা করেন। এ বর্ণনার সনদ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আল্লামা হাইসামি বলেন, 'এ বর্ণনার সূত্রে আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান রয়েছেন। যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল বলে পরিচিত। তা ছাড়া অধিকাংশ বিজ্ঞ মুহাদ্দিস তাঁকে পরিত্যক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।'

টিকাঃ
* সুরা আনফাল: ৪৮-৪৯
* সুরা হাশর: ১৬-১৭

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 গাযওয়ায়ে উহুদ

📄 গাযওয়ায়ে উহুদ


ইবনে ইসহাক উহুদের যুদ্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে বনু নাজ্জারের মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেন, উহুদের রণাঙ্গনে যুদ্ধ শেষে নবীজি ঘোষণা দিলেন, 'কে আছ যে আমাকে সা'আদ ইবনে রবির খোঁজ দেবে? আমি জানি না, তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে। দেখো, তাঁকে জীবিত বা মৃতদের মধ্যে পাওয়া যায় কি না?'
তখন এক অনসারি সাহাবি উত্তরে বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তাঁর তথ্য আপনাকে দিচ্ছি।' এরপর তিনি সা'আদ ইবনে রবির খোঁজ করতে লাগলেন। অনেকক্ষণ পর দেখলেন, সা'আদ (রা.) রণাঙ্গনের এক পাশে আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন। তখনো তাঁর প্রাণ বাকি ছিল। তিনি তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, 'আমাকে নবীজি বলেছেন, তোমাকে খুঁজে তাঁর কাছে তোমার সংবাদ নিয়ে যেতে। আর বলেছেন, তুমি জীবিতদের মধ্যে আছ, নাকি মৃতদের মধ্যে।'
উত্তরে সা'আদ ওই আনসারি সাহাবিকে বললেন, 'আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তুমি আমার পক্ষ থেকে প্রিয় নবীকে সালাম ও ধন্যবাদ দেবে। এর সঙ্গে তাঁর উম্মতকেও আমার সালাম বলবে। এরপর আমার পক্ষ থেকে সবাইকে বলবে, তোমাদের কেউ তোমাদের নবীর ব্যাপারে সামান্যতম অবহেলা করলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ছেড়ে দেবেন না। আর তোমাদের চোখের পাতা নড়তে থাকে। অর্থাৎ, তোমরা জীবিত থাকতে নবীজির যাতে কিছু না হয়।' এরপরই তিনি শহীদ হয়ে যান। অতঃপর আনসারি সাহাবি বলেন, 'আমি নবীজির কাছে গিয়ে তাঁর শাহাদাতের সংবাদ দিই।'
ইমাম বুখারি বলেন, 'এর সনদ মুরসাল।' শাইখ আলবানি এর সনদকে ত্রুটিযুক্ত বলে অভিহিত করেন। ইমাম মালিক ইবনে আনাস তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের (মৃত্যু-১৪৪ হি.) সূত্রে মুরসাল সনদে উল্লেখ করেছেন।
ইবনে আবদুল বার বলেন, 'আমি এ ঘটনার কোনো উৎস সম্পর্কে অবগত নই। তবে ঐতিহাসিক ও সিরাত গ্রন্থের রচয়িতাদের কাছে শুনেছি।'
অন্যতম ঐতিহাসিক ইবনে সা'আদ এ ঘটনা ইমাম মালিকের সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকিম এ ঘটনা দুটি সনদে বর্ণনা করেন। প্রথম সনদে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ থেকে খারেজা ইবনে জায়িদ ও তার পিতার সূত্রে উল্লেখ করেন। অতঃপর বলেন, 'এর সনদ সহিহ। তবে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এটি উল্লেখ করেননি।' ইমাম জাহবি তালখিস গ্রন্থে বলেন, 'এর সনদ সহিহ।' এরপর দ্বিতীয় সনদে ইবনে ইসহাকের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। ইমাম জাহবি এই সনদকে মুরসাল বলে অভিহিত করেন।
শাইখ আলবানি বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে কাছিরের সূত্রে বলেন, 'ইমাম মালিক যেসব বর্ণনাকারীর পরিচয় জানেন না, ইচ্ছে করে তিনি বর্ণনার সূত্রে তাঁদের নাম বাদ দিয়ে দেন। এ জন্য তিনি অধিকাংশ বর্ণনায় মুরসাল কিংবা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।'
সা'আদ ইবনে রবি সম্পর্কে ইমাম বুখারি সহিহ সনদে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, নবীজি মদিনায় হিজরতের পর আনসারি সাহাবিদের মধ্যে একেকজন করে মুহাজির সাহাবিকে বণ্টন করে তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় মদিনার অন্যতম ধনী সাহাবি সা'আদ ইবনে রবির সঙ্গে মক্কার মুহাজির সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আওফকে পরিচয় করিয়ে দেন।
সাহাবি সা'আদ ইবনে রবি তাঁর মুহাজির ভাই আবদুর রহমান ইবনে আওফকে বললেন, 'মদিনায় আমার বিপুল সম্পত্তি। আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি দুই ভাগ করে এর এক ভাগ তোমাকে দিয়ে দিলাম। আর আমার দুজন স্ত্রী রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে যাকে তোমার পছন্দ হয়, আমাকে বলো। আমি তাকে তালাক প্রদান করব। এরপর তার ইদ্দত শেষ হলে তুমি তাকে বিয়ে করবে।'

আবু দুজানাকে নবীজির তরবারি প্রদান
উহুদের যুদ্ধের ঘটনায় ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, নবীজি একটি তরবারি নিয়ে বললেন, 'কে আছ, এই তরবারি গ্রহণ করে এর পূর্ণ দায়িত্ব পূর্ণ করবে?' নবীজির কথা শুনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেলেন, কিন্তু নবীজি তাঁদের কাউকে সেই তরবারি দিলেন না। কিন্তু বনু সায়েদার এক বীর এগিয়ে এলেন। তাঁর নাম আবু দুজানা সিমাক ইবনে খারাশা (রা.)। নবীজিকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই তরবারির দায়িত্ব বা পাওনা কী?'
উত্তরে নবীজি বললেন, 'এটা দিয়ে শত্রুকে আঘাত করে আমার কাছ থেকে তাদের সরিয়ে দেবে।' আবু দুজানা বললেন, 'আমি এর দায়িত্ব যথাযথ আদায় করতে পারব। আপনি আমাকে দিন।' নবীজি তাঁকে তরবারিটি দিয়ে বললেন, 'যাও! আক্রমণ করো।'
আবু দুজানা একজন মহাবীর ছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি সদর্পে এগিয়ে চলতেন। সমগ্র আরবে তাঁর খ্যাতি লোকমুখে প্রসিদ্ধ ছিল। যুদ্ধের ময়দানে তিনি অসম্ভব কৌশলী ছিলেন। তাঁর একটি লাল রঙের মস্তকবন্ধনী ছিল। তিনি যখন লাল মস্তকবন্ধনী তাঁর মাথায় বাঁধতেন, তখন সৈন্যরা বুঝতে পারত, তিনি এখন চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করতে যাচ্ছেন।
আবু দুজানা নবীজির হাত থেকে তরবারি গ্রহণ করে নিজের মাথায় মস্তকবন্ধনী শক্ত করে বেঁধে নেন। অতঃপর প্রবল বিক্রমে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে সারিবদ্ধ শত্রুসৈন্যদের মাঝখান দিয়ে সদর্পে এগোতে শুরু করলেন এবং নর্দনকুর্দন করতে লাগলেন।
ইবনে ইসহাক সাহাবি উমরের আজাদকৃত দাস জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আসলামের সূত্রে বনু সালামার এক আনসারি থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি যখন দেখলেন, আবু দুজানা শত্রুদের সারির ভেতর নর্দনকুর্দন করে সদর্পে এগোতে শুরু করছেন, তখন তিনি বললেন, 'এভাবে হাঁটাকে আল্লাহ তায়ালা শুধু রণাঙ্গনে পছন্দ করেন।' এভাবে হাঁটলে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তবে রণাঙ্গনের ব্যাপার আলাদা।
ওই ঘটনার প্রথম অংশ সহিহ মুসলিম গ্রন্থে সাহাবি আনাসের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবীজি উহুদের রণাঙ্গনে একটি তরবারি নিয়ে বললেন, 'কে আছ, এই তরবারি দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে?' লোকেরা বলতে লাগল, আমি পারব, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে দিন। তখন নবীজি বললেন, এই তরবারির যথাযথ দায়িত্ব কে পূর্ণ করতে পারবে? এ কথা শুনে কেউই তরবারি নিতে সাহস করল না। কিন্তু বনু সায়েদার বীর আবু দুজানা সিমাক ইবনে খারাশা বললেন, 'আমি এর দায়িত্ব যথাযথ আদায় করতে পারব। আপনি আমাকে দিন।' নবীজি তাঁকে তরবারিটি দিলেন। তিনি তা নিয়ে মুশরিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ইবনে কাসির বলেন, 'ইবনে ইসহাক এ ঘটনা সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন।'
উপরিউক্ত ঘটনার দ্বিতীয় অংশ ইবনে ইসহাক জাফর ইবনে আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণনা করেন। জাফরের ব্যাপারে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, 'জাফরের বর্ণনার সমার্থক অন্য বর্ণনা পাওয়া গেলে তাঁর বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করা যাবে। অন্যথায় তাঁর হাদিসের মান দুর্বল বলে বিবেচিত হবে।'
তা ছাড়া ইবনে ইসহাকের ওই সনদে যে আনসারির কথা বলা হয়েছে তিনি অজ্ঞাত। কারণ তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির প্রণীত বর্ণনাকারীদের তালিকার বিন্যাসের নীতিমালার আলোকে জাফর ইবনে আবদুল্লাহর অবস্থান সপ্তম পর্যায়ে। এ পর্যায়ের বর্ণনাকারী তাঁরাই হয়ে থাকেন, যাঁরা কোনো সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন না।
আল্লামা হাইসামি ওই বর্ণনার সনদকে ইমাম তাবারানির দিকে সংযুক্ত করার পর বলেন, 'এই সনদে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাঁর পরিচিতি আমি পাইনি।'
রণাঙ্গনে সদর্পে এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ইমাম আহমদ, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিজি এবং ইমাম নাসায়ি প্রমুখ মুহাদ্দিস সাহাবি জাবের ইবনে আতিকের সূত্রে বর্ণনা করেন, নবীজি বলেছেন:
'সন্দেহ বা অবিশ্বাসের ক্ষেত্রে আত্মসম্মানবোধকে আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন এবং যে ক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ নেই, সেখানে আত্মসম্মানবোধ বা আবেগকে তিনি ঘৃণা করেন। আবার দান করার সময় আবেগে উজ্জীবিত হওয়া এবং যুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে অহমিকা প্রদর্শন করাকে আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। কিন্তু অন্যায় ও গর্বের বেলায় অহমিকা তিনি ঘৃণা করেন।'
ইবনুল কায়্যিম এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এর সনদকে সহিহ বলেছেন। শাইখ শু'আইব আরনাউতও এর সনদকে উত্তম বলে অভিহিত করেন।
এক বর্ণনায় এসেছে, একবার সাহাবি আবু দুজানা এক নারীকে হত্যার জন্য ওই তরবারি কোষমুক্ত করেন; কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নারীটিকে ছেড়ে দেন। লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কেন এমন করলেন? তিনি উত্তর দিলেন, 'নবীজির তরবারির সম্মান রক্ষার্থে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।'
আল্লামা হাইসামি মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেন, 'ইমাম বাজ্জার তাঁর সনদে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁর সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।'
ইমাম বায়হাকি দালায়েলুন নবুওয়াহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেন। তবে তাঁদের দুজনের সনদে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াজে নামের এক বর্ণনাকারী রয়েছেন, হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর তাকরিব গ্রন্থে তাঁকে অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করেছেন।

মুশরিক বাহিনীর পদচিহ্ন অনুসরণে আলির গোয়েন্দাগিরি
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, নবীজি সাহাবি আলিকে নির্দেশ দিলেন, 'তুমি কুরাইশদের বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ করে আমাকে সংবাদ দাও। দেখো, তারা কোন দিকে যাত্রা করেছে। যদি দেখো, তারা উটে আরোহণ করেছে এবং ঘোড়াগুলোকে বিশ্রামে রেখেছে, তাহলে বুঝবে, তারা মক্কার দিকে যাত্রা করছে। অন্যদিকে যদি দেখো, তারা উটগুলোকে পানি পান করিয়ে হাঁকিয়ে আনছে এবং তারা ঘোড়ায় চড়ে বসেছে, তাহলে বুঝবে, তাদের লক্ষ্য মদিনা। যদি তারা মদিনার দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালার কসম! আমি নিজেই তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।'
আলি (রা.) বলেন, 'নবীজির নির্দেশ পেয়ে আমি কুরাইশদের গতিবিধি অনুসরণ করে এগোতে থাকি। দেখি, তারা ঘোড়াগুলোকে বিশ্রামে রেখে উটে আরোহণ করছে। অতঃপর তারা মক্কার উদ্দেশে রওনা হয়।'
শাইখ আলবানি বলেন, 'ইবনে হিশাম এ ঘটনা ইবনে ইসহাকের সূত্রে সনদ ছাড়া বর্ণনা করেছেন।'
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ফাতহুল বারি গ্রন্থে লেখেন, 'কুরাইশদের গতিবিধি দেখতে সা'আদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস গিয়েছিলেন, আলি নন। ঐতিহাসিক ওয়াকিদি এমনই উল্লেখ করেছেন।'
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে আয়েশার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি সুরা আলে ইমরানের ১৭২ নং আয়াত প্রসঙ্গে স্বীয় ভাগিনা উরওয়া ইবনে জুবায়েরকে বলেন, 'হে আমার বোনের পুত্র! যখন উহুদের যুদ্ধে নবীজি আহত হন এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে কুরাইশ বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে, তখন তিনি সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন, “কে আছ, কুরাইশদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আমাকে সংবাদ দেবে?"
'তখন নবীজির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৭০ জন সাহাবি কুরাইশ বাহিনীর পেছন দিক থেকে তাদের গতিবিধি ও পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু জানার জন্য অগ্রসর হন। তাঁদের মধ্যে তোমার পিতা জুবায়ের ও আবু বকরও ছিলেন।'
ইবনে কাসির বলেন, 'এই ঘটনা হামরাউল আসাদ যুদ্ধের সময়ের। অতঃপর তিনি বলেন, ইবনে আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদের সূত্রে ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, উহুদের যুদ্ধে পরাজয়বরণ করার পর ফিরে যাওয়ার সময় কুরাইশ বাহিনী যখন পিছু হটতে শুরু করে, তখন তাদের কেউ চিৎকার করে বলছিল, 'তোমরা কিছুই করতে পারলে না। মুহাম্মদকে হত্যা করতে পারোনি; আর সাহায্যকারী সেনাদলও তোমরা আনতে হওনি। তাদের উন্নতবক্ষা তরুণীদের ওপর চড়াও হতে পারোনি। তাই নতুন যুদ্ধের জন্য ফিরে চলো সবাই।'
নবীজি তাদের এ কথা শুনতে পেয়ে মুসলিম সেনাদলকে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার নির্দেশ দেন। কুরাইশ বাহিনীর পিছু নিয়ে নবীজির জানবাজ সাহাবিগণ হামরাউল আসাদ অথবা উয়াইনা অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হন। এরপর যখন দেখলেন, কুরাইশ বাহিনী মক্কার দিকে যাত্রা করেছে, তখন তাঁরা মদিনার পথ ধরেন। আর মুশরিকরা হুমকি দিয়ে বলে গেল, আগামী বছর আমরা আসছি।
ঐতিহাসিক গ্রন্থে হামরাউল আসাদ পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার ঘটনাকে স্বতন্ত্র আরেকটি গাজওয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন আল্লাহ তায়ালা নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন:
الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِن بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيمٌ
'যারা আহত হয়ে পড়ার পরও আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করেছে, তাদের মধ্যে যারা সৎ ও মুত্তাকি, তাদের জন্য রয়েছে বিশাল সাওয়াব।"*
ইবনে মারদুইয়া এ ঘটনা মুহাম্মদ ইবনে মানসুর কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের আলোকে ইকরিমার সূত্রে সাহাবি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'এই সনদের বর্ণনাকারীরা সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের আওতাভুক্ত। তবে ওই সনদে ইকরিমার আগে সাহাবি ইবনে আব্বাসের নাম উল্লেখ নেই। তাই এটি মুরসাল সনদের পর্যায়ভুক্ত। ইবনে আবু হাতেম ও আরও অনেকে ওই ঘটনা এভাবে মুরসাল সনদে বর্ণনা করেছেন।'

আবু উজ্জাহ জুমাহিকে হত্যা
ইবনে হিশাম আবু উবাইদার সূত্রে বর্ণনা করেন, উহুদের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কুরাইশ বাহিনী যখন পিছু হটছিল, তখন কুরাইশ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার আবু সুফিয়ান ইবনে হারব পুনরায় মদিনা অভিমুখে অগ্রসর হতে চেয়েছিল। নবীজি তা বুঝতে পেরে মুসলিম বাহিনীর একটি দল নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করেন। তখন তিনি মুআবিয়া ইবনে মুগিরা ইবনে আস এবং আবু উজ্জা জুমাহিকে গ্রেপ্তার করেন।
আবু উজ্জা জুমাহিকে নবীজি বদর যুদ্ধেও গ্রেপ্তার করেছিলেন। কিন্তু তখন তাকে ছেড়ে দেন। এবার তিনি তাকে আর ছাড়লেন না। তিনি বললেন, 'জুমাহি! তুমি মনে করছ, এবারও তুমি ছাড়া পাবে আর মক্কায় গিয়ে সবাইকে বলবে, মুহাম্মদকে দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিয়ে চলে আসছি। আল্লাহর কসম! এবার থেকে মক্কায় কেউই তোমার মুখ দেখতে পাবে না।' অতঃপর নবীজি বললেন, 'হে জুবায়ের! তার গর্দান উড়িয়ে দাও।' নির্দেশ শোনামাত্র জুবায়ের তাকে হত্যা করেন।
ইবনে হিশাম এরপর সাঈদ ইবনে মুসাইয়েবের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবীজি জুমাহিকে গ্রেপ্তার করার পর বলেন, 'নিশ্চয় মুমিন কখনো একই গর্তে দুবার পড়ে যায় না। হে আসেম! তাকে হত্যা করো।' এরপর আসেম ইবনে সাবেত তাকে হত্যা করেন।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ফাতহুল বারি গ্রন্থে এ সম্পর্কে লেখেন, ইবনে ইসহাক আবু উজ্জাকে হত্যার ঘটনা সনদসহ উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর অপর গ্রন্থ তালখিসুল হাবির এর মধ্যে বলেন যে, বদর যুদ্ধের সময় আবু উজ্জাকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি তাকে এই শর্তে ছেড়ে দিয়েছিলেন, যেন সে পুনরায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে। কিন্তু উহুদের যুদ্ধে সে শর্ত ভঙ্গ করে কুরাইশ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে মদিনায় আক্রমণ করতে আসে। তাই নবীজি তাকে আবারও হত্যার নির্দেশ দেন।'
ইমাম বায়হাকি ওই ঘটনা দীর্ঘ পরিসরে সাঈদ ইবনে মুসাইয়েব থেকে উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, দ্বিতীয়বার আবু উজ্জাকে গ্রেপ্তার করার পর নবীজি তাকে বলেন, 'কোথায় তোমার প্রতিজ্ঞা? শর্ত ভঙ্গ করলে কেন? তুমি মনে করছ, এবারও তুমি ছাড়া পেয়ে মক্কায় গিয়ে লোকদের বলবে, মুহাম্মদকে দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিয়ে চলে আসছি। আল্লাহর কসম! এবার থেকে কেউই তোমার মুখ দেখতে পাবে না।'
ইমাম শু'বা বলেন, এরপর নবীজি বললেন, 'নিশ্চয় মুমিন কখনো একই গর্তে দুবার পড়ে যায় না।' উল্লেখ্য, ইমাম বায়হাকির সনদে ওয়াকিদির নাম রয়েছে।'
শাইখ আলবানি এ ঘটনাকে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেন। অতঃপর বলেন, 'ইবনে ইসহাক সনদ ছাড়া এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হিশামও তা-ই করেছেন। তবে ইবনে হিশাম সাঈদ ইবনে মুসাইয়েবের ব্যাপারে বলেন যে, “তার থেকে আমি জানতে পেরেছি।” এর দ্বারা এই সনদের দুর্বলতা সহজেই বোঝা যায়।'
কিন্তু ইমাম বায়হাকি মুহাম্মদ ইবনে উমরের সূত্রে সাঈদ ইবনে মুসাইয়েব থেকে বিচ্ছিন্নতা ছাড়া দীর্ঘ পরিসরে এ ঘটনা বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলবানি বলেন, 'ইমাম বায়হাকির সনদেও মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। কারণ এই সনদে যে মুহাম্মদ ইবনে উমরের কথা এসেছে, তিনি মূলত ঐতিহাসিক ওয়াকিদি। আর ওয়াকিদি প্রত্যাখ্যানযোগ্য বলে সবার কাছে পরিচিত।'
অতঃপর আলবানি আরও বলেন, তবে মুমিন ব্যক্তির দুবার একই গর্তে পড়ে না যাওয়ার ব্যাপারে যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তা সহিহ। শাইখাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) এই হাদিসের সূত্র সম্পর্কে একমত পোষণ করেছেন। কিন্তু ওই হাদিসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে উপরিউক্ত ঐতিহাসিক বর্ণনায় যা উল্লেখিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
তবে ঐতিহাসিক আসাকির ওই প্রেক্ষাপট সঠিক বলে দাবি করেছেন এবং শাইখ মুনাবি তাঁর ফায়জুল কাদির গ্রন্থে আসাকেরের অনুকরণে তা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এর কারণ হিসেবে কিছুই বলেননি। ইবনে বাত্তাল, তুরবিস্তি ও অন্যান্য ঐতিহাসিক এ ক্ষেত্রে আসাকেরের অনুসরণ করেছেন।

মুখাইরিক ইহুদিদের মধ্যে সর্বোত্তম
বনু ছালাবা গোত্রে এক ইহুদি ছিল। তার নাম মুখাইরিক। উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে লড়ে সে নিহত হয়। ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, উহুদের যুদ্ধ ঘনিয়ে এলে মুখাইরিক তার গোত্র ও ইহুদি সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলল, 'হে ইহুদি সম্প্রদায়! তোমরা ভালো করে জানো, এখন এ যুদ্ধে মুহাম্মদকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কারণ তাঁর সঙ্গে আমাদের এ ব্যাপারে চুক্তি কার্যকর আছে।' উত্তরে ইহুদিরা বলল, আজ শনিবার। আর শনিবারে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ। মুখাইরিক বলল, 'না, এখন শনিবার বলে কিছু নেই।'
এরপর সে তরবারি কোষমুক্ত করে বলে, 'আমি এ যুদ্ধে নিহত হলে মুহাম্মদের জন্য আমার কিছু করার থাকবে না। তিনি যা ভালো মনে করেন, তা-ই করবেন। অতঃপর সে নবীজির বাহিনীর সঙ্গে উহুদ প্রান্তরের দিকে রওনা হয়। মুসলিমদের পক্ষে লড়তে লড়তে অবশেষে সে নিহত হয়। তার মৃত্যুসংবাদ শুনে নবীজি বললেন, 'মুখাইরিক ইহুদিদের মধ্যে সর্বোত্তম।'
ইবনে ইসহাক এভাবেই সনদ ছাড়া ওই ঘটনা বর্ণনা করেন। ঐতিহাসিক ওয়াকিদিও এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ইসাবাহ গ্রন্থে এর সনদকে জুহরির সূত্রে উমর ইবনে শাব্বাহর দিকে মুরসাল ধারায় সংযুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া ওই বর্ণনার সনদে আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান নামের এক বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি অধিকাংশ হাদিসের পণ্ডিতদের কাছে প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
জুবায়ের ইবনে বাক্কারের সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে জাবালা থেকেও এ বর্ণনার সনদ পাওয়া যায়। তবে এই সনদে জুবায়ের ইবনে বাক্কারও হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যানযোগ্য। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন, 'মুহাদ্দিসগণ তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।'
সর্বোপরি যদি এ ঘটনাকে সহিহ বলে মেনে নিতেই হয়, তাহলে এর ব্যাখ্যা হলো, এখানে নবীজি মুখাইরিককে উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ইহুদিদের মধ্যে সর্বোত্তম বলেছেন। অপরদিকে ইহুদিদের মধ্যে সর্বোত্তম বিবেচিত হচ্ছেন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন।
সহিহ বুখারি গ্রন্থে সাহাবি সা'আদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'এই ভূপৃষ্ঠে জীবিতদের মধ্যে আমি শুধু আবদুল্লাহ ইবনে সালামের ব্যাপারে নবীজিকে বলতে শুনেছি, সে নিশ্চিত জান্নাতি।'

গাজওয়ায়ে উহুদের ব্যাপারে প্রচলিত ভিত্তিহীন কাহিনি
এক.
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ইবনে সা'আد তাঁর তবাকাত গ্রন্থে ওয়াকিদির সূত্রে বর্ণনা করেন, উহুদের যুদ্ধে উম্মে উমারা নুসাইবা বিনতে কাব (রা.) প্রবল বিক্রমে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার বীরত্ব দেখে নবীজি বলেছিলেন- 'আজকে তুমি যা করলে তা অন্য আর কে করতে পারল? আমি উহুদের যুদ্ধে ডানে-বামে যেদিকেই লক্ষ করেছি, উম্মে উমারাকে যুদ্ধ করতে দেখেছি।'
ইবনে হিশাম বলেন, উম্মে উমারা নুসাইবা বিনতে কাব উহুদের যুদ্ধে অনেক শত্রুদের হত্যা করেন। সাঈদ ইবনে আবু জায়িদ আনসারি বলেন, উম্মে সা'আদ বিনতে সা'আদ ইবনে রবি বলেছেন, 'আমি উম্মে উমারার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তখন উহুদের যুদ্ধের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন- হঠাৎ মুসলিমদের পরাজয় দেখে আমি নবীজির দিকে ছুটলাম। দেখি কয়েকজন হতভাগা কাফের নবীজির দিকে তির ছুড়ে মারছে। কেউ তরবারি নিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে। আমি নবীজিকে আড়াল করে উদ্যত শত্রুদের তরবারির আঘাত প্রতিহত করতে শুরু করি। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর দিকে ধেয়ে আসা শত্রুদের সঙ্গে আমি সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হই এবং অব্যাহতভাবে তির নিক্ষেপ করতে থাকি।'
শাইখ ড. আকরাম ওমরি বলেন, 'এ বর্ণনার সনদ বিচ্ছিন্ন।' তা ছাড়া এ সনদে যে সাঈদ ইবনে আবু জায়েদের নাম এসেছে, তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত আরবি ব্যাকরণবিদ। তাঁর পুরো নাম সাঈদ ইবনে আওস ইবনে ছাবেত ইবনে বাশির ইবনে আবু জায়িদ আনসারি। তাঁর পূর্বপুরুষ আবু জায়িদ আনসারি নবীজির সাহাবি ছিলেন। সাঈদ ইবনে আওস ১২০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, তাঁর ও উহুদের যুদ্ধের মধ্যে সময়ের বিস্তর ব্যবধান।
দুই.
ইমাম জাহবি তাঁর তারিখুল ইসলাম গ্রন্থের মাগাজি (যুদ্ধ) অধ্যায়ে মা'মারের সূত্রে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান জাহশি থেকে বর্ণনা করেন: 'উহুদের যুদ্ধে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশের (রা.) তরবারি ভেঙে যায়। তখন তিনি নবীজির কাছে এসে এ ব্যাপারে জানালে তিনি তাঁকে খেজুরগাছের একটি ডাল দেন। আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ নবীজির হাত থেকে খেজুরের ডাল গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে তা তরবারিতে রূপান্তর হয়ে যায়।' অতঃপর ইমাম জাহবি বলেন, 'এর সনদ মুরসাল।' আল্লামা সুহাইলি রওজুল আনফ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, জুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেছেন, 'উহুদের যুদ্ধে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশের তরবারি ভেঙে গিয়েছিল।' কিন্তু তিনি তাঁর সনদ উল্লেখ করেননি।
তিন.
ইবনে ইসহাক তাঁর উল্লেখিত গাজওয়ায়ে উহুদের হাদিসের শেষের দিকে বলেন, যুদ্ধের পর কুরাইশ বাহিনী যখন মক্কার দিকে যাত্রা করল, তখন আবু সুফিয়ান ইবনে হারব নবীজিকে উদ্দেশ করে উচ্চস্বরে বলল, 'আগামী বছর তোমাদের সঙ্গে বদর প্রান্তরে আবার দেখা হবে।' নবীজি তার এ কথা শুনে এক সাহাবিকে বললেন, 'তুমি বলে দাও, হ্যাঁ, নির্দিষ্ট সময়েই তাদের সঙ্গে আমাদের আবারও দেখা হবে।' ইবনে ইসহাক এটি সনদ ছাড়া বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানি বলেন, 'ইবনে ইসহাক ছাড়া অন্য কারও সূত্রে আমি এ বর্ণনা পাইনি।' তবে ওয়াকিদি এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি সকল হাদিসবিশারদের মতে প্রত্যাখ্যানযোগ্য।

টিকাঃ
* সুরা আলে ইমরান: ১৭২

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 হিজরতের চতুর্থ বছর

📄 হিজরতের চতুর্থ বছর


ইমাম জাহবি বলেন, জুহরির সূত্রে মা'মার মিকসাম থেকে বর্ণনা করেন, 'উহুদের যুদ্ধে যখন নবীজির সামনের নিচের ডান ও বাম পাশের দুটি দাঁত ভেঙে যায়, তখন তিনি উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাসকে এই বলে বদ-দোয়া দেন, “হে আল্লাহ! বছর পুরো হওয়ার আগেই উতবা যেন কাফের হয়ে মরে যায়।” পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই উতবা কাফের হয়েই মৃত্যুবরণ করে।
'অতঃপর ইমাম জাহবি বলেন, এ ঘটনা মুরসাল সনদে বর্ণিত হয়েছে।' হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, 'আবদুর রাজ্জাক তাঁর তাফসির গ্রন্থে বিচ্ছিন্ন সনদে এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন।'
এদিকে ইমাম বুখারি সাহাবি আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন, নবীজি বলেছিলেন, 'এই জাতির ওপর আল্লাহ তায়ালার ভয়ানক আজাব ধেয়ে আসছে।' এর দ্বারা নবীজি তাঁর সামনের নিচের দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।
ইবনে আব্বাসের অপর সূত্রে রয়েছে, নবীজি বলেন, 'এই জাতির ওপর আল্লাহ তায়ালার ভয়ানক আজাব ধেয়ে আসছে, যারা তাদের নবীর চেহারাকে রক্তাক্ত করেছে।'
আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে আছে, উহুদের যুদ্ধে মারাত্মক আহত হওয়ার পর নবীজি বলেছিলেন, 'ওই জাতি কীভাবে সফল হবে, যারা তাদের নবীকে আহত করেছে!' এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন:
لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
'হয়তো আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কিছুই করার নেই। কারণ তারা জালেম।"*
ইবনে উমরের অপর বর্ণনায় আছে, নবীজি উহুদে আহত হওয়ার পর সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, সুহাইল ইবনে উমর এবং হারিস ইবনে হিশামের বিরুদ্ধে বদ-দোয়া করতেন। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা ওই আয়াত অবতীর্ণ করেন।

টিকাঃ
* সুরা আলে ইমরান: ১২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00