📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 গাযওয়ায়ে বদর

📄 গাযওয়ায়ে বদর


ইবনে ইসহাক ইকরিমার সূত্রে সাহাবি ইবনে আব্বাস এবং ইয়াজিদ ইবনে রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন, 'কুরাইশ নেতা আবদুল মুত্তালিবের কন্যা আতিকা দমদমের মক্কায় আগমনের তিন রাত আগে এক স্বপ্ন দেখেন। এতে তিনি খুবই ভয় পান। তখন তিনি নিজ ভাই আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কাছে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভাই! আমার খুব ভয় করছে।' এরপর ইবনে ইসহাক আরও লম্বা কাহিনি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে ইসহাক ওই বর্ণনার সনদে নিজ শায়খের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি এমন প্রায়ই করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম বায়হাকির কথা আগেও উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলতেন, 'ইবনে ইসহাক তাঁর শায়খের নাম উল্লেখ না করলে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়।'
ইমাম হাকিম ইবনে ইসহাকের সূত্রে এ ঘটনা বর্ণনা করার সময় ইবনে ইসহাকের শায়খের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি হচ্ছেন হুসাইন ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস। তবে ইমাম হাকিম তাঁর সম্পর্কে কিছুই বলেননি।
ইমাম জাহবি হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহকে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। আল্লামা হাইসামি দুটি সূত্রে এ বর্ণনার সনদকে ইমাম তাবারানির দিকে উল্লেখ করেছেন। প্রথম সূত্রে আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান রয়েছেন, যাকে পরিত্যক্ত সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় সূত্রটি মুরসাল। কারণ এই সূত্রে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী বলে চিহ্নিত। তা ছাড়া তাঁর বর্ণিত হাদিস হাসান পর্যায়ের আওতাভুক্ত।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে বয়কট

📄 ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে বয়কট


ইবনে ইসহাক কুরাইশ বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: একদিন নবীজি এবং সাহাবি আবু বকর (রা.) এক বৃদ্ধ আরবের খোঁজ পেলেন। যে কুরাইশদের মদিনা অভিমুখে যাত্রা ও তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে গুপ্তচরের মাধ্যমে সবকিছু জেনেছিল। নবীজি ছদ্মবেশে বৃদ্ধ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কুрайশ বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে কী জানো? তারা কি আসলেই মদিনায় আক্রমণ করতে চাচ্ছে? আচ্ছা! মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা কি পারবে এই যুদ্ধ ঠেকাতে? তারাই-বা কী করতে চাচ্ছে?' বৃদ্ধ তখনো নবীজি ও আবু বকরকে চিনতে পারেনি।
তাই সে বলল, 'তার আগে বলো, তোমরা কারা? কোথেকে এসেছ?' নবীজি বললেন, 'না, তুমি যদি আমাদেরকে এই সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে কিছু বলো, তাহলে আমরা তোমাকে আমাদের পরিচয় দেব।' বৃদ্ধ লোকটি তখন এক এক করে কুরাইশদের পরিকল্পনা ও তাদের বর্তমান অবস্থান এবং মদিনায় মুসলিম বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে সব বলে দেয়। এরপর সে বলে, 'গুপ্তচর যদি সত্যি বলে থাকে, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি তেমনই হবে, যেমন আমি বলেছি।' নবীজি ও আবু বকর চুপচাপ সব শুনছিলেন।
উভয় পক্ষের অভিযানের প্রস্তুতির যাবতীয় তথ্য দেওয়ার পর বৃদ্ধ লোকটি আবারও নবীজিকে জিজ্ঞেস করল, 'এবার বলো, তোমরা কারা?' তখন উত্তরে নবীজি বললেন, 'আমরা পানি থেকে সৃষ্ট।' এ কথা বলে নবীজি ও আবু বকর মদিনার দিকে ছুটলেন। পেছন থেকে বৃদ্ধ বলতে লাগল, 'পানি থেকে আবার কী হয়? ইরাকের পানি থেকে নাকি?'
ইবনে হিশাম বলেন, এ বর্ণনায় উল্লিখিত বৃদ্ধ লোকটি হচ্ছে সুফিয়ান দামরি। ইবনে ইসহাক এ ঘটনার বর্ণনায় তাঁর শায়খের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। তিনি হচ্ছেন ইবনে হিব্বান, যিনি সবার নিকট নির্ভরযোগ্য বলে পরিচিত। তবে সনদের সমস্যা অন্য জায়গায়। অর্থাৎ ইবনে ইসহাকের এ বর্ণনার সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ ইবনে হিব্বান ১২১ হিজরিতে ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। অতএব, তাঁর জন্ম এবং এই ঘটনার মধ্যে ব্যবধান হলো ৪৫ বছর।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 হিজরতের তৃতীয় বছর

📄 হিজরতের তৃতীয় বছর


ইবনে ইসহাক এই ঘটনা ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাইখ আলবানি বলেন, 'ইবনে ইসহাকের বর্ণনার সনদ সহিh; তবে তা মুরসাল ধারায় বর্ণিত হয়েছে।'
মূল ঘটনা সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে সহিh মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। নবীজি ও তাঁর সাহাবিগণ কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বদর রণাঙ্গনে যাত্রা করেন। উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়ে বদর প্রান্তরের দুই পাশে ছাউনি ফেলে। রাতে মুসলিম বাহিনীর শিবিরে কুরাইশ গোত্রের বনু হাজ্জাজের এক কৃষ্ণ দাস সাহাবিদের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
সাহাবিগণ তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, 'এই বলো! তোমাদের নেতা আবু সুফিয়ান কোথায়?' উত্তরে কৃষ্ণ দাস বলল, 'আমি জানি না আবু সুফিয়ান কোথায় আছে। তবে এখানে আবু জাহল, উতবা, শায়বা, উমাইয়া ইবনে খালফ ও আরও অন্যান্য নেতা রয়েছে।' তখন সাহাবিগণ তাকে মারধর করেন। পিটুনি খেয়ে ভয়ে সে বলতে শুরু করে, 'আচ্ছা বলছি! এখানে কুরাইশদের যে কজন নেতা বসে আছে, সেখানেই আবু সুফিয়ান অবস্থান করছে।' এ কথা বলার পর সাহাবিগণ তাকে ছেড়ে দেন।
ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও সে আগের মতো বলে, 'এখানে আবু সুফিয়ান নেই। সে কোথায়, আমি জানি না।' তখন আবারও তাকে সাহাবিগণ মারতে থাকেন। মার খেয়ে দাসটি আবার বলে, 'এখানেই আবু সুফিয়ান রয়েছে।' সাহাবিগণ তাকে আবার ছেড়ে দেন। এরপর যখনই সে পুনরায় আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে অস্বীকার করে, সাহাবিগণ তাকে পুনরায় মারতে থাকেন। কিছুক্ষণ এভাবে চলতে থাকে।
ওদিকে নবীজি নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি সাহাবিদের কাছে এসে বললেন, 'আশ্চর্য! যখনই এই কৃষ্ণ দাস তোমাদেরকে সত্য বলছে, তখনই তোমরা তাকে প্রহার করছ। আর যখন সে মিথ্যা বলছে, তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে।'
এরপর তিনি মাটিতে হাত দিয়ে চিহ্নিত করে দেখিয়ে দেখিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন, 'আগামীকাল কুরাইশের অমুক নেতা এখানে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। অমুক সরদার এখানে মারা পড়বে।' পরদিন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, নবীজি যেখানে যার নাম ধরে হাতের আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, সেখানেই সে মৃত্যুবরণ করেছে।
ইমাম আহমদের বর্ণনায় রয়েছে, নবীজি কৃষ্ণ দাসকে ডেকে কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। দাস উত্তর দেয়, 'তারা সংখ্যায় বিপুল। যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসেছে।' নবীজি তাকে জোর করে আবারও জিজ্ঞেস করেন, 'সত্যি করে বলো! তারা সংখ্যায় কত?' তখন দাস অস্বীকার করে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'আচ্ছা! তারা প্রতিদিন কয়টা উট জবাই করে?' দাস উত্তর দেয়, 'প্রতিদিন ১০টা করে জবাই করে।'
তখন নবীজি বললেন, 'তার মানে কুরাইশদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। একটি উট প্রতি ১০০ জন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য।'
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণিত হয়েছে, নবীজি ওই দাসকে জিজ্ঞেস করছিলেন, 'এই বাহিনীতে কুরাইশদের কোন কোন নেতা রয়েছে?' এ ছাড়া আরও রয়েছে, দাসের কাছ থেকে সবকিছু জেনে নবীজি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশে বললেন, 'মক্কা নগরী তার কলিজাগুলোকে (কুরাইশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গ) তোমাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।'

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 কা‘ব বিন আশরাফকে গোপনে হত্যা

📄 কা‘ব বিন আশরাফকে গোপনে হত্যা


ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
বদর প্রান্তরে কুরাইশরা উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে যখন সম্মত হলো, তখন তাদের মনে পড়ল বকর গোত্রের সঙ্গে তাদের শত্রুতা রয়েছে। তারা ভাবল, পেছনে আমাদের সন্তান ও নারীদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। আবার পেছন দিক থেকে আমাদের ওপর হামলাও করতে পারে। এটা ভাবতে ভাবতে কুরাইশদের যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়ার উপক্রম হলো। ঠিক এমন সময় সুরাকার বেশে শয়তান এসে হাজির হয়। সুরাকা কিনানা গোত্রের সম্ভ্রান্ত লোক এবং বনু বকর এলাকার বড় নেতা। শয়তান বলা শুরু করল, 'আমি তোমাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি। কিনানা গোত্র তোমাদের পেছনে এমন কোনো তৎপরতা চালাতে দেবে না, যা তোমরা চাও না। সুরাকাবেশী শয়তানের এমন আশ্বস্ততা শুনে কুরাইশরা এবার যুদ্ধের দিকে দ্রুত বেরিয়ে এল।' ইবনে ইসহাকের এ ঘটনা মুরসাল ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে কাসির বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনা আল্লাহ তায়ালার নিম্নোক্ত বাণীর প্রতিফলন।' তিনি ইরশাদ করেন:
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ إِنِّي أَرَىٰ مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ غَرَّ هُؤُلَاءِ دِينُهُمْ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল, আজকের দিনে কোনো মানুষই তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক। অতঃপর যখন উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো, তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছন দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সঙ্গে নই। আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন।
'যখন মুনাফেকরা এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, তারা বলতে লাগল, এরা নিজেদের ধর্মের ওপর গর্বিত। বস্তুত, যারা ভরসা করে আল্লাহর ওপর, সে নিশ্চিন্ত। কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।"
অধিকাংশ মুফাসসির সুরা আনফালের উপরিউক্ত আয়াতের তাফসিরে এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আল্লামা কুরতুবি ও আল্লামা শাওকানি প্রমুখ মুফাসসির ইঙ্গিতসূচক বাক্যে ওই ঘটনার উদ্ধৃতি টেনেছেন।
ইবনে সা'দি মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেন, 'সম্ভবত ইবলিস সুরাকা ইবনে মালিকের বেশ ধারণ করে কুরাইশদের ধোঁকা দিয়েছে। সে তাদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে আজ তোমরা অবশ্যই বিজয় লাভ করবে। এরপর যখন কুরাইশরা বাইরে বেরিয়ে এল, তখনই ইবলিস পলায়ন করে।' যেমন আল্লাহ তায়ালা সুরা হাশরে ইরশাদ করেছেন:
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبِّ الْعَالَمِينَ - فَكَانَ عَاقِبَتَهُمَا أَنَّهُمَا فِي النَّارِ خَالِدَيْنِ فِيهَا وَذُلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ
'তারা শয়তানের মতো, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলে, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।
'অতঃপর উভয়ের পরিণতি এই হবে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।"
সাইয়্যেদ কুতুব বলেন, 'ওই ঘটনার দ্বারা কোরআনের একটি বিষয় দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ইবলিস মুশরিকদের যাবতীয় কার্যাবলির মধ্যে একপ্রকার চমক সৃষ্টি করে তাদের সামনে তা প্রকাশ করে। ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়। তবে আমরা প্রায়ই এর ধরন বা প্রকৃতি বুঝতে পারি না।'
ইমাম তাবারানি তাঁর মু'জামুল কাবির গ্রন্থে রিফা'আ ইবনে রাফের সূত্রে বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধে ইবলিস যখন দেখতে পেল, ফেরেশতাগণ মুসলিম বাহিনীর পক্ষ হয়ে লড়ে যাচ্ছে, তখন সে আতঙ্কিত হয়ে উঠল যে তাকে ফেরেশতারা মেরে ফেলবেন। এদিকে যুদ্ধের কাতারে শয়তানের হাত হারিস ইবনে হিশাম ধরে রেখেছিল। হারিস বুঝেছিল সে সুরাকা; কিন্তু হঠাৎ করে শয়তান হারিসের বুকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে তাকে নিচে ফেলে দেয়। তারপর ভীত অবস্থায় যুদ্ধের ময়দান থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে সাগরে ছুড়ে দেয় আর তখনো ভয় পেতে থাকে ফেরেশতারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। তখন সে হাত উঠিয়ে আল্লাহর কাছে বলতে থাকে, 'হে আল্লাহ! আমার প্রতি তোমার অনুগ্রহ এবং অবকাশ চাই।' এদিকে সুরাকাবেশী শয়তানের পলায়নের পর আবু জাহল যুদ্ধরত সৈন্যদের সাহস দিয়ে বলে, 'সুরাকার পলায়ন তোমাদেরকে যাতে না দমিয়ে দেয়। সে তো মুহাম্মদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে লিপ্ত; তাই এমন করেছে। আর উতবা, শায়বা ও ওলিদের নিহত হয়ে যাওয়া তোমাদেরকে কোনোভাবেই যাতে শঙ্কিত না করে তোলে। কারণ, তারা অনেক তাড়াহুড়ো করেছে। লাত ও উজ্জার কসম! তাদেরকে পাহাড়ের সঙ্গে পিষে না ফেলা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। আমি তোমাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখতে চাই না, যে তাদের এক ব্যক্তিকে মাত্র হত্যা করেছে। বরং তোমরা এমনভাবে তাদেরকে পাকড়াও করো, যাতে তারা তাদের নিকৃষ্ট কর্মের (লাত ও উজ্জার উপাসনা ছেড়ে দেওয়া এবং গোত্র থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া) শাস্তি হাড়ে হাড়ে টের পায়।'
এরপর তাবারানি আরও লম্বা ঘটনা বর্ণনা করেন। এ বর্ণনার সনদ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আল্লামা হাইসামি বলেন, 'এ বর্ণনার সূত্রে আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান রয়েছেন। যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল বলে পরিচিত। তা ছাড়া অধিকাংশ বিজ্ঞ মুহাদ্দিস তাঁকে পরিত্যক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।'

টিকাঃ
* সুরা আনফাল: ৪৮-৪৯
* সুরা হাশর: ১৬-১৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00