📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 হিজরতের দ্বিতীয় বছর

📄 হিজরতের দ্বিতীয় বছর


সিরাতের গ্রন্থে প্রসিদ্ধ আছে, নজির গোত্রের ইহুদি সম্প্রদায় নবীজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার কারণে তাদেরকে মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়। বনু নজিরের ইহুদি আমর ইবনে উমাইয়া দামরি অপর গোত্র বনু আমরের দুজনকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নবীজি বনু নজিরের এলাকায় গমন করেন।
তখন নবীজি বনু নজিরের দুর্গের এক প্রাচীরের পাশে বসে ছিলেন। প্রাচীরের অপর পাশে কয়েকজন ইহুদি নবীজিকে উদ্দেশ করে উন্মাদের মতো বলছিল, 'হ্যাঁ, এবার মুহাম্মদ তোমাকে পেয়েছি। তুমি জানো না, কেন আমরা তোমাকে ডেকে এনেছি?' নবীজি তাদের কাছে রক্তপণের টাকা চাইলে তারা বলল, 'হ্যাঁ আবুল কাসেম, তুমি যেমনটা চাও তেমনটাই হবে। আমরা তোমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করব।' এরপর তারা নবীজিকে হত্যা করার সলাপরামর্শ করতে থাকে। তাদের কেউ বলল, 'তোমাদের মধ্যে কে আছ, যে প্রাচীরের ওপর উঠে মুহাম্মদের ওপর পাথর ছুড়ে মারবে?' তখন আমর ইবনে জাহহাশ ইবনে কাব এগিয়ে এসে বলে, 'আমি পারব।' এরপর সে একটি বড় পাথর নিয়ে দেয়াল টপকে প্রাচীরের ওপর উঠে পড়ে। এদিকে আমর ইবনে জাহহাশের ঠিক নিচে নবীজি প্রাচীরের অপর পাশে অবস্থান করছিলেন। তখনই আল্লাহ তায়ালা ওহির মাধ্যমে নবীজিকে সব জানিয়ে দেন।
ইবনে ইসহাক এ ঘটনা ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তা ছাড়া তিনি তাঁর থেকে সরাসরি এ ঘটনা শোনার ব্যাপারে স্পষ্ট বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনা মুরসাল ধারায় বর্ণিত। শাইখ আলবানি একে দুর্বল বর্ণনার তালিকাভুক্ত করেছেন।
বনু নজিরকে মদিনা মুনাওয়ারা থেকে বহিষ্কারের প্রকৃত কারণ সহিh সনদে নিরবচ্ছিন্ন ধারায় বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, ইবনে মারদুইয়া এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালেকের সূত্রে নবীজির এক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
'বদর যুদ্ধের পূর্বে কুরাইশরা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইসহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং যারা মূর্তিপূজকদের হুমকি দিয়ে চিঠি লিখল যে, তারা কেন মুহম্মদকে আশ্রয় দিল। তাদের কাছ থেকে বারবার ওয়াদা নিল যে তারা সমগ্র আরবকে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে রণপ্রস্তুতির জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। চিঠি পেয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সঙ্গীরা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে লাগল। ঠিক এমন মুহূর্তে নবীজি তাদের কাছে এসে সোজা বললেন, “কুরাইশদের মতো কেউ যাতে তোমাদের ধোঁকা না দেয়। কুরাইশরা চায় তোমরা নিজেদের মধ্যে যাতে সংকটের মুখোমুখি হও।” নবীজির এ কথা শুনে তারা বাস্তবতা বুঝতে পারে। এরপর তারা সেখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
'বিধ্বস্ত মনে তারা বদর প্রান্তর ত্যাগ করে। কুরাইশদের প্রথম সারির একাধিক নেতাকে হারিয়ে যেন তারা বেসামাল হয়ে পড়ে। মক্কায় ফিরে শুরু হয় তাদের নয়া চক্রান্তের পালা। তারা মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নজির বরাবর দ্বিতীয়বার চিঠি প্রেরণ করে। ওই চিঠিতে কুরাইশ সম্প্রদায়ের নেতারা তাদেরকে নবীজি ও মুসলিমদের সঙ্গে গাদ্দারি করার জন্য উসকে দেয়। তারা চিঠিতে লিখে পাঠায়, “তোমাদের রয়েছে বিশাল চক্র। আবার রয়েছে দুর্গ।” এরপর বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় সেই চিঠিতে। এবার বনু নজির গাদ্দারি করতে প্রস্তুত হয়ে যায়।
'এরপর বনু নজির তাদের এক প্রতিনিধিদলকে নবীজির দরবারে প্রেরণ করে। তারা তাঁকে নতুন প্রস্তাব দেয়, আপনি আপনার তিনজন সঙ্গী বাছাই করুন এবং আমরা আমাদের তিনজন বিজ্ঞ মনীষী বাছাই করব। এরপর তারা আপনার সঙ্গে দেখা করে যদি আপনার ধর্ম মেনে নেয়, আমরাও তা-ই করব। নবীজি তাদের প্রস্তাবে সায় দেন। এরপর তারা ফিরে যায়। বনু নজির দুর্গে পৌছে তারা তিনজনকে গোপনে খঞ্জর নিয়ে প্রেরণ করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এদিকে বনু নজিরের এক ইহুদি নারীর আনসারি ভাই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন নবীজির সাহাবি। ওই নারী দ্রুত তার মুসলিম ভাইয়ের কাছে লোক মারফত নিজ গোত্র বনু নজিরের সব পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়। তখনই ওই সাহাবি বনু নজিরের কাছে পৌঁছার পূর্বেই নবীজির দরবারে গিয়ে সব জানান। সব শুনে নবীজি বুঝতে পারলেন, আসলে তারা কী করতে চাচ্ছে।
'নবীজি সেদিনই বনু নজিরের দুর্গের উদ্দেশে বাহিনী প্রেরণ করে তাদের সকলকে দুর্গ অবরোধ করে বন্দী করার নির্দেশ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি ইহুদিদের অপর গোত্র বনু কুরাইজার দুর্গ অবরোধ করেন। তাদের সঙ্গে চুক্তি হলে সেখান থেকে সেনা হটিয়ে ফিরে আসেন বনু নজিরের কাছে। এরপর পুনরায় বনু নজিরের এলাকায় এসে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। অবশেষে একপর্যায়ে তারা মদিনা থেকে বহিষ্কার হতে বাধ্য হয়। লড়াই শেষে নবীজি বললেন, “উট বোঝাই করে যা ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারো; কিন্তু সব ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রেখে যেতে হবে।” এরপর তারা নিজেদের আসবাবপত্র ঘরবাড়ির দরজা পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যায়। এরপর নিজ হাতে আবাসস্থলগুলো ধ্বংস করে দেয়। এভাবেই প্রথমবারের মতো ইহুদিদের বনু নজির গোত্র মদিনা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হয়। এরপর তারা সিরিয়ার দিকে চলে যায়।'
ইবনে হাজার আসকালানি আরও বলেন: 'আবদে ইবনে হুমাইদ তাঁর তাফসির গ্রন্থে আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। অতএব, তিনি এই ঘটনার কোনো সহিh সনদ নেই বলে যে মত দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। তাই ইবনে ইসহাক বনু নজিরের ইহুদিদের মদিনা থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার যে কারণ বর্ণনা করেছেন, তার চেয়ে এই বর্ণনার সনদ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এর পরও অধিকাংশ সিরাত লেখক ইবনে ইসহাকের অনুকরণ করেছেন।'
ইমাম আবু দাউদও এমনই বর্ণনা করেছেন। শাইখ শু'আইব আরনাউত জামেউল উছুল গ্রন্থে তাঁর সনদকে সহিh সাব্যস্ত করেছেন।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 গাযওয়ায়ে বদর

📄 গাযওয়ায়ে বদর


ইবনে ইসহাক ইকরিমার সূত্রে সাহাবি ইবনে আব্বাস এবং ইয়াজিদ ইবনে রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন, 'কুরাইশ নেতা আবদুল মুত্তালিবের কন্যা আতিকা দমদমের মক্কায় আগমনের তিন রাত আগে এক স্বপ্ন দেখেন। এতে তিনি খুবই ভয় পান। তখন তিনি নিজ ভাই আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কাছে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভাই! আমার খুব ভয় করছে।' এরপর ইবনে ইসহাক আরও লম্বা কাহিনি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে ইসহাক ওই বর্ণনার সনদে নিজ শায়খের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি এমন প্রায়ই করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম বায়হাকির কথা আগেও উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলতেন, 'ইবনে ইসহাক তাঁর শায়খের নাম উল্লেখ না করলে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়।'
ইমাম হাকিম ইবনে ইসহাকের সূত্রে এ ঘটনা বর্ণনা করার সময় ইবনে ইসহাকের শায়খের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি হচ্ছেন হুসাইন ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস। তবে ইমাম হাকিম তাঁর সম্পর্কে কিছুই বলেননি।
ইমাম জাহবি হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহকে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। আল্লামা হাইসামি দুটি সূত্রে এ বর্ণনার সনদকে ইমাম তাবারানির দিকে উল্লেখ করেছেন। প্রথম সূত্রে আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান রয়েছেন, যাকে পরিত্যক্ত সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় সূত্রটি মুরসাল। কারণ এই সূত্রে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী বলে চিহ্নিত। তা ছাড়া তাঁর বর্ণিত হাদিস হাসান পর্যায়ের আওতাভুক্ত।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে বয়কট

📄 ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে বয়কট


ইবনে ইসহাক কুরাইশ বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: একদিন নবীজি এবং সাহাবি আবু বকর (রা.) এক বৃদ্ধ আরবের খোঁজ পেলেন। যে কুরাইশদের মদিনা অভিমুখে যাত্রা ও তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে গুপ্তচরের মাধ্যমে সবকিছু জেনেছিল। নবীজি ছদ্মবেশে বৃদ্ধ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কুрайশ বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে কী জানো? তারা কি আসলেই মদিনায় আক্রমণ করতে চাচ্ছে? আচ্ছা! মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা কি পারবে এই যুদ্ধ ঠেকাতে? তারাই-বা কী করতে চাচ্ছে?' বৃদ্ধ তখনো নবীজি ও আবু বকরকে চিনতে পারেনি।
তাই সে বলল, 'তার আগে বলো, তোমরা কারা? কোথেকে এসেছ?' নবীজি বললেন, 'না, তুমি যদি আমাদেরকে এই সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে কিছু বলো, তাহলে আমরা তোমাকে আমাদের পরিচয় দেব।' বৃদ্ধ লোকটি তখন এক এক করে কুরাইশদের পরিকল্পনা ও তাদের বর্তমান অবস্থান এবং মদিনায় মুসলিম বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে সব বলে দেয়। এরপর সে বলে, 'গুপ্তচর যদি সত্যি বলে থাকে, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি তেমনই হবে, যেমন আমি বলেছি।' নবীজি ও আবু বকর চুপচাপ সব শুনছিলেন।
উভয় পক্ষের অভিযানের প্রস্তুতির যাবতীয় তথ্য দেওয়ার পর বৃদ্ধ লোকটি আবারও নবীজিকে জিজ্ঞেস করল, 'এবার বলো, তোমরা কারা?' তখন উত্তরে নবীজি বললেন, 'আমরা পানি থেকে সৃষ্ট।' এ কথা বলে নবীজি ও আবু বকর মদিনার দিকে ছুটলেন। পেছন থেকে বৃদ্ধ বলতে লাগল, 'পানি থেকে আবার কী হয়? ইরাকের পানি থেকে নাকি?'
ইবনে হিশাম বলেন, এ বর্ণনায় উল্লিখিত বৃদ্ধ লোকটি হচ্ছে সুফিয়ান দামরি। ইবনে ইসহাক এ ঘটনার বর্ণনায় তাঁর শায়খের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। তিনি হচ্ছেন ইবনে হিব্বান, যিনি সবার নিকট নির্ভরযোগ্য বলে পরিচিত। তবে সনদের সমস্যা অন্য জায়গায়। অর্থাৎ ইবনে ইসহাকের এ বর্ণনার সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ ইবনে হিব্বান ১২১ হিজরিতে ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। অতএব, তাঁর জন্ম এবং এই ঘটনার মধ্যে ব্যবধান হলো ৪৫ বছর।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 হিজরতের তৃতীয় বছর

📄 হিজরতের তৃতীয় বছর


ইবনে ইসহাক এই ঘটনা ইবনে ইয়াজিদ রোমানের সূত্রে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাইখ আলবানি বলেন, 'ইবনে ইসহাকের বর্ণনার সনদ সহিh; তবে তা মুরসাল ধারায় বর্ণিত হয়েছে।'
মূল ঘটনা সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে সহিh মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। নবীজি ও তাঁর সাহাবিগণ কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বদর রণাঙ্গনে যাত্রা করেন। উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়ে বদর প্রান্তরের দুই পাশে ছাউনি ফেলে। রাতে মুসলিম বাহিনীর শিবিরে কুরাইশ গোত্রের বনু হাজ্জাজের এক কৃষ্ণ দাস সাহাবিদের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
সাহাবিগণ তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, 'এই বলো! তোমাদের নেতা আবু সুফিয়ান কোথায়?' উত্তরে কৃষ্ণ দাস বলল, 'আমি জানি না আবু সুফিয়ান কোথায় আছে। তবে এখানে আবু জাহল, উতবা, শায়বা, উমাইয়া ইবনে খালফ ও আরও অন্যান্য নেতা রয়েছে।' তখন সাহাবিগণ তাকে মারধর করেন। পিটুনি খেয়ে ভয়ে সে বলতে শুরু করে, 'আচ্ছা বলছি! এখানে কুরাইশদের যে কজন নেতা বসে আছে, সেখানেই আবু সুফিয়ান অবস্থান করছে।' এ কথা বলার পর সাহাবিগণ তাকে ছেড়ে দেন।
ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও সে আগের মতো বলে, 'এখানে আবু সুফিয়ান নেই। সে কোথায়, আমি জানি না।' তখন আবারও তাকে সাহাবিগণ মারতে থাকেন। মার খেয়ে দাসটি আবার বলে, 'এখানেই আবু সুফিয়ান রয়েছে।' সাহাবিগণ তাকে আবার ছেড়ে দেন। এরপর যখনই সে পুনরায় আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে অস্বীকার করে, সাহাবিগণ তাকে পুনরায় মারতে থাকেন। কিছুক্ষণ এভাবে চলতে থাকে।
ওদিকে নবীজি নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি সাহাবিদের কাছে এসে বললেন, 'আশ্চর্য! যখনই এই কৃষ্ণ দাস তোমাদেরকে সত্য বলছে, তখনই তোমরা তাকে প্রহার করছ। আর যখন সে মিথ্যা বলছে, তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে।'
এরপর তিনি মাটিতে হাত দিয়ে চিহ্নিত করে দেখিয়ে দেখিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন, 'আগামীকাল কুরাইশের অমুক নেতা এখানে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। অমুক সরদার এখানে মারা পড়বে।' পরদিন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, নবীজি যেখানে যার নাম ধরে হাতের আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, সেখানেই সে মৃত্যুবরণ করেছে।
ইমাম আহমদের বর্ণনায় রয়েছে, নবীজি কৃষ্ণ দাসকে ডেকে কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। দাস উত্তর দেয়, 'তারা সংখ্যায় বিপুল। যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসেছে।' নবীজি তাকে জোর করে আবারও জিজ্ঞেস করেন, 'সত্যি করে বলো! তারা সংখ্যায় কত?' তখন দাস অস্বীকার করে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'আচ্ছা! তারা প্রতিদিন কয়টা উট জবাই করে?' দাস উত্তর দেয়, 'প্রতিদিন ১০টা করে জবাই করে।'
তখন নবীজি বললেন, 'তার মানে কুরাইশদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। একটি উট প্রতি ১০০ জন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য।'
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণিত হয়েছে, নবীজি ওই দাসকে জিজ্ঞেস করছিলেন, 'এই বাহিনীতে কুরাইশদের কোন কোন নেতা রয়েছে?' এ ছাড়া আরও রয়েছে, দাসের কাছ থেকে সবকিছু জেনে নবীজি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশে বললেন, 'মক্কা নগরী তার কলিজাগুলোকে (কুরাইশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গ) তোমাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00