📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 আলী বিন আবু তালিব (রা)

📄 আলী বিন আবু তালিব (রা)


ইবনে ইসহাক মুজাহিদের সূত্রে বর্ণনা করেন, 'আলি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেন সরাসরি আশীর্বাদপ্রাপ্ত ছিলেন। কারণ নবীজির বাল্যকালে মক্কায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এতে কুরাইশ গোত্র মারাত্মক খাদ্যসংকট ও অভাবে শিকার হয়। এদিকে নবীজির চাচা আবু তালিবের পরিবারে সদস্যসংখ্যা অনেক। ফলে তিনি পুরো পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছিলেন। নবীজির চাচা আব্বাস হাশিম গোত্রের সবচেয়ে সচ্ছল মানুষ ছিলেন। তাই নবীজি তাঁর চাচা আব্বাসকে বললেন, 'চাচাজান, আবু তালিবের পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁর সংসার চালাতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। চলুন আমরা কয়েকজন মিলে তাঁর পরিবারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিই।'
চাচা আব্বাস ভাতিজা মুহাম্মদের কথামতো তা-ই করলেন। নবীজি এবং আব্বাস একেকজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব ভাগ করে নিলেন। নবীজি চাচাতো ভাই (আবু তালিবের পুত্র) আলির দায়িত্ব নিলেন এবং আব্বাস আবু তালিবের অপর পুত্র জাফরের দায়িত্ব নেন।
ইবনে ইসহাকের সূত্রে হাকিম এ ঘটনা বর্ণনা করলেও সনদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছেন। ইমাম জাহবি তালখিস গ্রন্থে এ ঘটনা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন।
তবে অন্যান্য ঐতিহাসিকের মতে, এ বর্ণনার তেমন ভিত্তি নেই। কারণ আবু তালিবের পুত্র ছিলেন মোট চারজন। তাঁরা হচ্ছেন আলি, জাফর, উকাইল ও তালিব। তা ছাড়া আবু তালিব ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্বের অন্যতম। তাঁর অভাবের যে চিত্রায়ণ উপরিউক্ত বর্ণনায় করা হয়েছে, তা নিতান্ত হাস্যকর।
এদিকে আবু তালিবের সন্তানদের মধ্যে আলি ও জাফর ছিলেন অল্পবয়সী। কিন্তু অপর দুজন-উকাইল ও তালিব উপার্জন করতে সক্ষম ছিলেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন, জাফর আলির চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন। উকাইল জাফরের চেয়ে ১০ বছরের বড় এবং তালিব উকাইলের চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন।
উল্লেখ্য, আলি নবীজির তত্ত্বাবধানে থাকার ফলে বাল্যকালেই ইসলামে দীক্ষিত হন। এর দ্বারা উপরিউক্ত ঘটনার সত্যতা বিচার হয় না। তা ছাড়া তাঁর বড় ভাই জাফরও ইসলামের প্রাথমিক যুগেই ইমান এনেছিলেন। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী কাফেলার মধ্যে তিনিও ছিলেন। আর চাচা আব্বাস নবীজি মদিনায় হিজরতের কয়েক বছর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইবনে আবদুল বার স্বীয় সনদে ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন, খাদিজার পরই আলি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর ইবনে আবদুল বার বলেন, 'এই সনদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি কিংবা মতানৈক্য নেই।' ইমাম জাহবিও ইবনে আব্বাসের সূত্রে এমনটাই বলেছেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসমাইল ইবনে ইসহাক বলেন, আলির ফজিলত যতগুলো সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ পরিমাণ বর্ণনা অন্য কোনো সাহাবির ব্যাপারে হয়নি।
তবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ইমাম আহমাদের ব্যাপারে উপরিউক্ত বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইমাম আহমাদের বক্তব্যের অর্থ কখনোই এটা নয় যে তিনি বলেছেন, আলির যে পরিমাণ ফজিলত সেটা অন্য কারও নেই। এ জাতীয় মিথ্যা বলা থেকে ইমাম আহমাদের মতো ব্যক্তি অনেক ঊর্ধ্বে। বরং অর্থ হলো, বিশুদ্ধ বর্ণনায় আলির যত ফজিলত এসেছে, তা অন্য কারও ক্ষেত্রে আসেনি।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা)

📄 খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা)


ইবনে আবদুল বার স্বীয় সনদে ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন, খাদিজার পরই আলি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর ইবনে আবদুল বার বলেন, 'এই সনদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি কিংবা মতানৈক্য নেই।' ইমাম জাহবিও ইবনে আব্বাসের সূত্রে এমনটাই বলেছেন।

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)

📄 সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)


অন্য জায়গায় ইবনে ইসহাক সালেহ ইবনে কাইসানের সূত্রে সাহাবি সা'আদ ইবনে আবু ওয়াক্কাসের (রা.) পরিবারের কারও থেকে বর্ণনা করেন, সা'আদ বলেছিলেন, 'আমরা এমন এক জাতি, যারা নবীজির সঙ্গে মক্কায় চরম দুর্দশার মধ্যে অবস্থান করতাম। কাফেরদের অত্যাচার ও নানা রকমের নির্যাতনে আমাদের দিন চলে যেত। এর সঙ্গে জীবিকার কষ্টও ছিল। আমরা এসব দুঃখ-কষ্ট নবীজির খাতিরে সহ্য করে মেনে নিতাম। কিন্তু মুসআবের পরিবার বিত্তশালী হওয়ায় তাঁর দিন ভোগবিলাসে কেটে যেত। তাঁর পিতা তাঁকে সবচেয়ে দামি জামা-কাপড় পরিধান করাতেন।
'কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর মুসআব অসহায় হয়ে পড়েন। তাঁকে অনেক অত্যাচার-নিপীড়ন সইতে হয়। আমরা তাঁকে দেখেছি, তিনি অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। অবশেষে তিনি উহুদের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এভাবেই সম্মানিত করেন।'

📘 সিরাতের প্রচলিত ভুল > 📄 আবু বকর সিদ্দীক (রা)

📄 আবু বকর সিদ্দীক (রা)


সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সূত্রে তিনি বলেন, সর্বপ্রথম মোট সাতজন প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন। তাঁরা হলেন নবীজি, আবু বকর, আম্মার ইবনে ইয়াসির, তাঁর আম্মা সুমাইয়া, সুহাইব, বিলাল ও মিকদাদ।
তাঁদের মধ্যে নবীজিকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং আবু বকরকে তাঁর গোত্রের লোকেরা নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বাকি পাঁচজনের ওপর কুরাইশরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। জঘন্য কায়দায় বিভিন্নভাবে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00