📄 শেষ কথা
নবী করীম (সা:) কে মহান আল্লাহ তা'য়ালা সর্বোচ্চ মর্যাদার সোপানে উপনীত করেছেন এবং পৃথিবীতে সকল মানুষের হিদায়াতের উৎস হিসাবে একমাত্র তাঁকেই নির্বাচিত করেছেন। পৃথিবীতে তাঁর আগমনের মাধ্যমে অন্যান্য সকল মতবাদ-মতাদর্শ ও মত-পথ বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে এবং এটাই স্বাভাবিক। তাঁর আগমনের পরে যদি ভিন্ন কারো মতবাদ, মতাদর্শ ও প্রথাসমূহ পূর্ণ বা আংশিক গ্রহণ করার সুযোগ রাখা হতো, তাহলে তা হতো নবী করীম (সা:) এর মর্যাদার সাথে সাংঘর্ষিক। মহান মালিক রাব্বুল আলামীন তা রাখেননি। হিদায়াতের সকল উৎস হিসাবে পৃথিবীর মানুষের সম্মুখে তাঁকেই পেশ করেছেন।
সুতরাং তাঁকে বাদ দিয়ে মুসলিম দাবীদার কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী নবী-রাসূল বা দার্শনিক, রাজনীতিবিদ বা অন্য কোনো চিন্তানায়কের মত-পথ অনুসরণ করে তাহলে স্পষ্টতই সে ব্যক্তি নবী করীম (সা:) এর মর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলো এবং নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করার অধিকার হারালো। তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করে মহান আল্লাহ তা'য়ালা পৃথিবীর মানুষকে এ কথাও জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর প্রতি কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের অনুসরণের জন্যে যে জীবন বিধান অবতীর্ণ করা হয়েছে, সেই জীবন বিধান অনুসরণ না করার অর্থই হলো নবী করীম (সা:) এর মর্যাদার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা। আর কেউ যদি তা করে তাহলে সে ব্যক্তি অবশ্যই সকল দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন- ওয়ামাইঁ ইয়াবতাগি গইরাল ইসলামি দীনান ফালাইঁ ইউক্ববালা মিনহু ওয়া হুওয়া ফিল আ-খিরাতি মিনাল খ-সিরীন।
যদি কেউ ইসলাম ছাড়া (নিজের জন্যে) অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যর্থ হবে। (সূরা আলে ইমরান-৮৫)
এ ক্ষুদ্র পরিসরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, সমগ্র মানব মণ্ডলীর মহান শিক্ষক মুহাম্মাদ (সা:) এর সর্বোচ্চ মর্যাদা, তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য এবং তাঁর পবিত্র শিক্ষা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন হাদীসের আলোকে যৎসামান্য আলোচনা করা হলো। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, নবী করীম (সা:) ২৩ বছরের নবুয়্যাতের জীবনকালে অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করে ক্ষুধা ও দারিদ্রে নিষ্পেষিত হয়ে এমনকি পবিত্র দেহ মুবারকের রক্ত ঝরিয়ে মানুষের কল্যাণে আল্লাহপ্রদত্ত যে জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন, যে আদর্শবান মুসলিম গড়েছিলেন, আমরা কি সেই জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে নিজেদের ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত অনুসরণ করছি? তিনি যে ধরনের মুসলিম গড়ার লক্ষ্যে আগমন করেছিলেন, সেই ধরনের মুসলিম হিসাবে নিজেদের গড়ার চেষ্টা করছি? আমরা মুখে দাবী করছি মুসলিম কিন্তু আমরা বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করছি যে, আমাদের অধিকাংশ কর্মই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।
এ কথা মানব জাতির ইতিহাসে প্রমাণিত সত্য যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা জীবন বিধান অনুসারে এই পৃথিবীতে যে মানব গোষ্ঠীই জীবন পারিচালিত করেছে, তারাই শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সফলতা অর্জন করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যেখানেই আল্লাহ তা'য়ালার বিধান অনুসরণ করা হয়েছে, সেখানেই খাদ্য-বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। রাষ্ট্র ও সমাজে যাবতীয় অনাচার, বিপর্যয়, অশান্তি ও অকল্যাণ থেকে সুরক্ষিত থেকেছে। আর যেখানেই আল্লাহ তা'য়ালার বিধানের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছে, অমান্য বা বিরোধিতা করা হয়েছে, সেখানেই সার্বিকভাবে ভাঙ্গন ও বিপর্যয় ধেয়ে এসেছে।
সুতরাং এ কথা ইতিহাসে প্রমাণিত সত্য যে, একমাত্র ইসলামী জীবন বিধানই মানব জাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি ও সফলতার একমাত্র গ্যারান্টি এবং মানব রচিত কোনো প্রকার মতবাদ-মতাদর্শ মানুষের জীবনে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার শোচনীয় স্বাক্ষর রেখেছে। মানব জাতির প্রত্যেকটি বিপর্যয়ের বাঁকেই আল্লাহর বিধান অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিকভাবে অনুভূত হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে। অতএব সার্বিক বিবেচনায় রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার নেতৃত্ব আল্লাহভীরু জ্ঞানী-গুণী মুসলিম কর্তৃক পরিচালিত হতে হবে। এই ধরনের রাষ্ট্রে মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক যোগ্যতা সম্পন্ন ও আল্লাহভীরু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে পরামর্শ পরিষদ বা মাজলিশে শূরা বর্তমান থাকবে এবং এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালিত হবে।
একমাত্র এই ধরনের রাষ্ট্র ও সমাজই দেশের জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করতে সক্ষম। কুরআন-সুন্নাহ্ ভিত্তিক এই ধরনের ব্যবস্থাপণা যথাযথভাবে অবলম্বিত হওয়ার কারণেই খুলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতকালে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্র অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি, দুষ্কৃতি তথা যাবতীয় অপরাধ থেকে মুক্ত ছিলো। সর্বত্রই সততা আর ন্যায়-নীতির চিহ্ন ছিলো আকাশের প্রজ্জ্বল সূর্যের মতোই স্পষ্ট।
খুলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতকালে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে আসীন কোনো ব্যক্তির দ্বারা কুরআন-সুন্নাহর একটি বিধানও লংঘিত হয়নি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন ব্যক্তি থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেক স্তর ছিলো ইনসাফের মোড়কে আবৃত। ফলে সেই রাষ্ট্র ও সমাজ একটি পরিপূর্ণ ইনসাফভিত্তিক সমাজের ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছিলো। পক্ষান্তরে একনায়কত্ব, রাজতন্ত্র তথা বাদশাহী, স্বেচ্ছাচারমূলক শাসন, পাশ্চাত্যের ভোগবাদী গণতন্ত্র ইত্যাদি পদ্ধতির কারণে দেশের জনগণকে হতে হয় নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও অধিকার বঞ্চিত। প্রত্যেক পদে পদে তাদেরকে অন্যায় আর অবিচারের সম্মুখিন হতে হয়। শক্তিমান কর্তৃক দুর্বল লাঞ্ছিত হবে, এটাই হয় এসব পদ্ধতির অধীনে শাসিত রাষ্ট্রে। জনগণ থাকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এসব কারণেই ইসলামী শরীয়াত উল্লেখিত পদ্ধতির বিপরীতে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় কুরআন-সুন্নাহ্ ভিত্তিক শুরাঈ পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়েছে। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন-
ওয়া আমরুহুম শূরা বাইনাহুম।
এবং নিজেদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরস্পরের পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত করে। (সূরা শূরা-৩৮)
বর্তমান কালেও পৃথিবীর যে কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে ও সমাজে সার্বিক ক্ষেত্রে ন্যায়-নীতি তথা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খুলাফায়ে রাশেদীনের অনুসরণে ঈমানদারদের মধ্য থেকে জ্ঞানী-গুণী, বিচক্ষণ, দূরদর্শী, যোগ্য, সচেতন ও আল্লাহভীরু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে শূরাঈ পদ্ধতি চালু করা একান্তই অপরিহার্য। কুরআন-সুন্নাহ্ ও খুলাফায়ে রাশেদা কর্তৃক গৃহিত শরঈ সিদ্ধান্তসমূহ বিশেষ কোনো কালের গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ নয়- সর্বকালের, যে কোনো স্থানের ও সর্বযুগের জন্য তা প্রযোজ্য ও অনুসরণযোগ্য এবং বিশেষ করে মুসলমানদের অস্তিত্বের স্বার্থেই তা অনুসরণ করা একান্তই অপরিহার্য। পক্ষান্তরে অতীত যুগে ও বর্তমানে মানুষ নিজের মন-মস্তিষ্ক ও চিন্তাধারা প্রয়োগ করে যেসব নীতি-আদর্শ, মতবাদ-মতাদর্শ আবিষ্কার করেছে এবং অনাগত দিনে করবে, তা যদি কুরআন-সুন্নাহ্ ও খুলাফায়ে রাশেদা কর্তৃক অনুসৃত নীতির পরিপন্থী হয়, তাহলে পৃথিবীর যে কোনো স্থানের মুসলমানদের জন্য তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা ফরজ তথা অপরিহার্য।
নবী করীম (সা:) এর যুগেও এক শ্রেণীর লোকজন ইসলামের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখে রাজনৈতিক ও পার্থিব সুবিধা আদায় করার লক্ষ্যে নবী করীম (সা:) এর সম্মুখে এসে নিজেদের মুসলিম হবার দাবী জানাতো। এদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-
ক্বা-লাতিল আ’রা-বু আ-মান্না ক্কুল্লাম তু’মিনূ ওয়া লা-কিন ক্কুলু আসলামনা ওয়া লাম্মা ইয়াদখুলিল ঈমা-নু ফী ক্কুলূবিকুম।
এ (আরব) বেদুঈনরা বলে, আমরা তো ঈমান এনেছি; আপনি বলে দিন- না, তোমরা (সঠিক অর্থে এখনও) ঈমান আনোনি, তোমরা (বরং) বলো, আমরা (তোমাদের রাজনৈতিক) বশ্যতাই স্বীকার করেছি মাত্র, (কারণ, যথার্থ) ঈমান তো এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশই করেনি। (সূরা হুজুরাত- ১৪)
বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলিম ইসলামকে একান্তই ঐচ্ছিক বিষয়ে পরিণত করেছে। ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের মতো একটি ধর্ম আখ্যায়িত করে এর বিধি-বিধানকে ঐচ্ছিক বিষয়ে পরিণত করেছে। আল্লাহ তা'য়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:) কে পরিণত করেছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের পাত্রে। মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি সন্দিহান এবং বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রেও দৃঢ়তার অভাব প্রকট। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত লোকজন ইসলামের বিধি-বিধান সঙ্কুচিত করার উপদেশ দিচ্ছে। আবার যারা ইসলামের কতিপয় বিধি-বিধান তাচ্ছিল্যভরে পালন করছে, তারাও সুবিধানুযায়ী পালন করছে। যে বিধানসমূহ পালন করলে শয়তানী শক্তি ক্ষিপ্ত হবে না, তা পালন করছে আর যে বিধি-বিধান পালন করলে ইসলাম বিরোধী শক্তি ক্ষিপ্ত হবে তা পালন করছে না। এ ধরনের লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন- আফাতু’মিনুনা বিবা’দ্বিল কিতা-বি ওয়া তাকফুরুনা বিবা’দ্ব ফামা জাযা-উ মাইঁ ইয়াফ’আলু যা-লিকা মিনকুম ইল্লা খিযইউন ফিল হায়া-তিদ দুন্ইয়া ওয়া ইয়াওমাল ক্কিয়া-মাতি ইউরাদ্দুনা ইলা আশাদ্দিল আযা-ব।
তোমরা কি (তাহলে) আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস করো এবং আরেক অংশ অবিশ্বাস করো? (সাবধান!) কখনো যদি কোনো (জাতি বা) ব্যক্তি (ইসলামী জীবন বিধানের অংশবিশেষের ওপর ঈমান আনতে) এ আচরণ করে, তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হবে যে, পার্থিব জীবনে তাদের লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে, তাদের পরকালেও কঠিনতম আযাবের দিকে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা আল বাকারা- ৮৫)
সুতরাং মুসলিম হিসাবে যারা দাবী করবে তাদের এ সুযোগ নেই যে, তারা নিজেদের জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করবে অর্থাৎ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবন। ইসলাম একটি বিশাল মতাদর্শের নাম, এখানে জীবনের কোনো ভাগ নেই। সম্পূর্ণ জীবনেই ইসলামের বিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক। নবী করীম (সা:) ও সাহাবায়ে কেরাম জীবনের সকল ক্ষেত্রে যেভাবে পবিত্র কুরআনের বিধান অনুসরণ করেছেন, অনুরূপভাবেই ইসলামকে অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন- ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুদ খুলু ফিস সিলমি কা-ফফাহ ওয়া লা তাত্তাবি’উ খুতুওয়া-তিশ শয়তানি ইন্নাহু লাকুম আদুউউম মুবীন।
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে (-র ছায়াতলে) এসে যাও এবং কোনো অবস্থায়ই (অভিশপ্ত) শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; কেননা শয়তান হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন! (সূরা আল বাকারা-২০৮)
বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলো, ইসলামের বাইরে যেসকল আদর্শ বা মতবাদ রয়েছে তা সবই অভিশপ্ত। বর্তমান জগতের অধিকাংশ মুসলিম এই অভিশপ্ত পথ বেয়ে চলছে বিধায় এরা মহান আল্লাহ তা'য়ালার রহমত থেকে বঞ্চিত। সমগ্র দুনিয়া জুড়ে এরা প্রতি মুহূর্তে অন্যের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র পিপীলিকার যে মূল্য রয়েছে, মুসলিম নামের লোকগুলোর সে মূল্য নেই। সর্বত্রই এরা অপমানিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত, নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত, অধিকার বঞ্চিত এবং নিজের সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগও এদের নেই। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক এরা দাসত্বের করুণ জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। মুসলিম নামের এই লোকগুলো যখন এক আল্লাহ তা'য়ালার দাসত্ব পরিত্যাগ করেছে, তখন অগণিত শক্তির দাসত্ব করতে এরা বাধ্য হচ্ছে।
মুসলিম নামের দাবীদার অধিকাংশ লোকগুলো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে ইসলামকে বিতাড়িত করেছে। শুধু বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত হয়নি, এরা ইসলামকে বানিয়েছে অনুগ্রহের পাত্র। ইসলামের নাম দিয়েছে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ এবং এর বিপরীত আদর্শের নাম দিয়েছে প্রগতিবাদ। কুরআন-হাদীস ও ইসলামী সাহিত্যের নাম দিয়েছে জঙ্গী বই-পুস্তক।
পৃথিবীতে ভিন্ন কোনো জাতি নিজ ধর্ম, আদর্শ ও নীতিমালার এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে অশ্লীল অশালীন ভাষায় সমালোচনা করে, এমন দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। কিন্তু মুসলিম দাবীদার একশ্রেণীর লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী স্বজাতি, স্বধর্ম, স্বআদর্শ ও আদর্শিক ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এমন নোংরা ভাষায় সমালোচনা করে, এ পর্যন্ত কোনো অমুসলিম এ ধরনের সমালোচনা করেছে বলে মনে হয় না। বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমানের অবস্থা দেখলে মনে পড়ে হ্যামিলনের সেই বংশী বাদকের কথা। কেউ একজন বংশী বাজিয়ে চলেছে আর তার বাঁশীর ঐন্দ্রজালিক সুরের মুর্ছনায় তন্দ্রাগ্রস্ত হয়ে নিশ্চিত ধ্বংস গহ্বরের দিকে এগিয়ে চলেছে। এ অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হবে এবং জাতির চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীতে সবথেকে কঠিন কাজ হচ্ছে মৃতপ্রায় জাতিকে প্রাণের স্পন্দনে উজ্জ্বীবিত করা। কবির ভাষায়- পানিতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করা বড়ই কঠিন, খরস্রোতা নদীর স্রোত ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন। কিন্তু এর থেকেও কঠিন কাজ হলো পথভ্রষ্ট উদ্ভ্রান্তজাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।
وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ
ওয়া মা আলাইনা ইল্লাল বালাগ