📘 সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন 📄 নবী করীম (সা:) কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী

📄 নবী করীম (সা:) কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী


নবী করীম (সা:) যখন ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি তখন নবী পরিবারের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব পালন করতেন হযরত বিলাল (রাঃ)। হযরত আব্দুল্লাহ হাওজানী (রা:) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'আল্লাহ তা'য়ালার রাসূল (সা:) এর পারিবারিক ভরণ-পোষণের অবস্থা কেমন ছিল?'

হযরত বিলাল (রা:) তাঁকে জানিয়েছিলেন, 'নবী করীম (সা:) এর পারিবারিক যাবতীয় কাজ-কর্মের দায়িত্ব আমার ওপরে অর্পিত ছিল। আল্লাহর নবীর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত আমি সে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো মেহমান এলে আমাকে আদেশ করা হতো তাকে আপ্যায়নের জন্য। আমি ঋণ করে হলেও সে ব্যবস্থা করতাম। পরে আবার সে ঋণ পরিশোধ করে দিতাম'। (আবু দাউদ)

কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন, নবী করীম (সা:) যখন ১২ বছর বয়সে সর্বপ্রথম-চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়া গমন করেন সে সময় হযরত বিলালের জন্ম। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন, নবী করীম (সা:) এর নবুয়‍্যাত লাভের ২৮ বছর পূর্বে হযরত বিলাল (রা:) মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন। তবে এ বিষয়ে, সকল ঐতিহাসিক একমত যে, হযরত বিলাল (রা:) বিশ্বনবী (সা:) এর থেকে ১২ বা ১৪ বছরের ছোট ছিলেন। তাঁর পিতা রাবাহ ছিলেন হাবশী। তিনি তাঁর স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মক্কায় এসে কুরাইশদের বনী জুমাহ বংশের দাসত্বের জীবনে বন্দী হয়ে পড়েছিলেন। হযরত বিলাল (রা:) যে সময় পৃথিবীতে চোখ মেলে ছিলেন, সে সময় পৃথিবী ছিল শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত।

মক্কার উমাইয়া ইবনে খালফ ছিলো নৃশংতা ও নির্মমতার প্রতীক। হযরত বিলাল (রা:) ছিলেন এই লোকটির কৃতদাস, তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পরে তাঁর ওপরে উমাইয়া লোমহর্ষক নির্যাতন করেছিলো। এ লোকটি ইসলাম বিরোধী নেতৃবৃন্দের অন্যতম একজন ছিল। মানব ইতিহাসে সে যুগে যতগুলো কঠোর হৃদয়ের মানুষের আগমন ঘটেছিল, উমাইয়া ছিল তাদের একজন। হযরত বিলাল (রা:)-এর জীবনের ২৮ টি বছর এই উমাইয়া ইবনে খালফের কাছেই দাসত্ব করে কাটিয়ে ছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জন্মগতভাবেই সর্বোত্তম স্বভাব চরিত্র দান করেছিলেন। সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য করার মত প্রকৃত জ্ঞান তাঁর ছিল। ইসলাম পূর্ব জীবনেও তাঁর চরিত্রে খারাপ কিছু স্পর্শ করতে পারেনি। এ কারণে সমাজের উত্তম চরিত্রের লোকগুলোর সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় নবী করীম (সা:) এর সাথেও হযরত বিলাল (রা:) এর আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

এ কারণে তিনি নবী করীম (সা:) কে অত্যন্ত কাছ থেকে জানার সুযোগ লাভ করেছিলেন। ফল এই হয়েছিল যে, রাসূল (সা:) নবুয়‍্যাত লাভ করে মহাসত্যের দিকে মানুষকে গোপনে আহ্বান করার প্রাথমিক দিকেই হযরত বিলাল (রা:) সাড়া দিয়েছিলেন। প্রথম যে ভাগ্যবান সাত ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সা:) এর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন হযরত বিলাল (রা:) ছিলেন তাদের একজন। এ কারণে ইসলামের ইতিহাস 'সাবিকুনাল আওয়ালিন' এর মত বিশাল মর্যাদার উপাধি তাঁকে দান করেছে। মক্কার ইসলাম বিরোধিদের ঘৃণ্য কর্মধারা ছিলো, সমাজের অর্থ, বিত্তহীন দুর্বল শ্রেণী যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি অত্যাচার করলেই তাঁরা ইসলাম ত্যাগ করবে এবং ভয়ে আর কেউ মুহাম্মাদ (সা:) এর সাথে থাকবে না। বর্তমান যুগেও ইসলামপন্থীদের ক্ষেত্রে সেই একই ঘৃণ্য পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে ইসলাম বিরোধিরা। সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, রাষ্ট্র বিরোধী ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ইসলামপন্থী লোকগুলোর ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে অন্যান্য মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়, যেনো আর কেউই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করে।

উমাইয়া ইবনে খালফ যখন জানতে পারলো তাঁরই দাস বিলাল তাঁকে না জানিয়ে 'মুহাম্মাদ (সা:)-এর আদর্শ গ্রহণ করেছে। তখন সে ক্রোধে উন্মাদ হয়ে পড়লো। তাঁকে ডেকে সে কর্কশ কণ্ঠে প্রশ্ন করলো, 'আমি জানতে পারলাম তুমি মুহাম্মাদ (সা:) এর আদর্শ গ্রহণ করেছো?'

তাওহীদের নির্ভীক সেনানী হযরত বিলাল (রা:) দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, 'আমি আল্লাহ তা'য়ালার রাসূল মুহাম্মাদ (সা:) এর আদর্শ গ্রহণ করেছি'।

কোথায় কার সামনে কি ঘোষণা দিলেন হযরত বিলাল (রাঃ)। সামান্যতম ভীতিও তাঁকে স্পর্শ করলো না। এ কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলে কি পরিণতি ঘটবে তাও তাঁর অজানা ছিল না। সবার ওপরে মহান আল্লাহই একমাত্র সত্য, ঈমানের এই দৃপ্ত প্রত্যয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর রব একমাত্র মহান আল্লাহ। তিনি আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোনো শক্তির দাসত্ব করছেন না। হযরত বিলালের নির্ভীক উচ্চারণ উমাইয়ার অপবিত্র শরীরে যেন আগুন ধরিয়ে দিল। সে তাঁর চেহারা বিকৃত করে স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতে চিৎকার করে বললো, 'তুমি আমাদের আদর্শ ত্যাগ করতে পারো না। এখনো সময় আছে মুহাম্মাদ (সা:) এর আদর্শ ত্যাগ করে আমাদের আদর্শে ফিরে এসো। আর যদি না আসো তাহলে জেনে রেখো, ভয়ংকর শাস্তি ভোগ করতে হবে'।

একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত যাঁর হৃদয়ে আর কারো ভয়ের কোনো স্থান নেই, সে কি আর উমাইয়ার মতো এক পাপীষ্ঠের হুমকির মুখে ইসলাম ত্যাগ করতে পারে! তাওহীদের প্রেম সুধায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত বিলাল (রা:) জড়তাহীন কণ্ঠে জবাব দিলেন, 'আমার এই রক্ত মাংসে গড়া দেহটির ওপর তোমার শক্তি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আমার হৃদয় দিয়েছি আল্লাহ তা'য়ালা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সা:) কে। সেখানে তোমার শক্তি কার্যকর হবে না। আমি এক আল্লাহ তা'য়ালার দাসত্ব বরণ করে নিয়েছি। তোমাদের হাতের বানানো মাটির মূর্তির সামনে আমি মাথানত করতে পারি না'।

সমাজের প্রভাব প্রতিপত্তি ও অর্থ বিত্তহীন সামান্য গোলামের দুঃসাহসী উচ্চারণে উমাইয়া প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো। পরক্ষণেই সে ক্ষুধার্ত নেকড়ের ন্যায় গর্জন করে হযরত বিলাল (রা:) এর কালো দেহটার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অবশেষে নির্যাতক নিজেই ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে শুরু করলো চাবুকের আঘাত। কঠিন চাবুকের প্রতিটি আঘাতে বিলাল (রা:) এর কালো শরীরটা রক্তের আলপনায় লাল হয়ে গেল। তিনি অবিশ্রান্তভাবে মহান আল্লাহ তা'য়ালার নাম উচ্চারণ করতে থাকলেন। আল্লাহ তা'য়ালার নাম যেন তাঁর সকল যন্ত্রণা তৎক্ষণাৎ মুছে দিচ্ছে। উমাইয়া তাঁকে আঘাতের পর আঘাত করেও যখন মুহাম্মাদ (সা:) এর আদর্শ ত্যাগ করাতে ব্যর্থ হলো, তখন সে লোহা আগুনে পুড়িয়ে তা হযরত বিলাল (রা:) এর পবিত্র শরীরে ছ্যাঁকা দিতে লাগলো।

আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হযরত বিলাল (রা:) এর দেহ থেকে রক্ত ঝরছে, দেহে অসহনীয় যন্ত্রণা। ঐ অবস্থাতেই তাঁকে উমাইয়া বেঁধে রাখলো। খাদ্য-পানীয় বন্ধ করে দিলো। সমগ্র রাত তাঁকে বেঁধে রেখে পরের দিন সকালে দু'হাত রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হলো মক্কার মরু প্রান্তরে। সূর্যের প্রচন্ড তাপে বালুকা রাশির ভেতর থেকে যেন অনল প্রবাহিত হচ্ছে। আগুনের মতো উত্তপ্ত বালুর ওপরে হযরত বিলাল (রা:) এর রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত দেহটা চিৎ করে শুইয়ে দেয়া হলো। তিনি যেন নড়তে না পারেন, তাঁর বুকের ওপরে বিশাল পাথর খন্ড চাপা দেয়া হলো। শরীর বালির উত্তাপে পুড়ে যাচ্ছে, বুকের ওপরে পাথর চাপা, শ্বাস গ্রহণ করা যাচ্ছে না। প্রাণভরে একবার শ্বাস নেয়ার জন্য বুকের ভেতরটা খাঁচায় আবদ্ধ পাখির মতই ছটফট করছে। দেহের ক্ষতগুলো আগুনের মতই জ্বলছে। এক ফোটা পানির জন্য বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহর নবীর সাহাবী হযরত বিলাল (রা:) কে জীবনের এই কঠিন মুহূর্তেও উমাইয়া প্রস্তাব দিল, 'এখনো মুহাম্মাদ (সা:) এর আদর্শ ত্যাগ কর, অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবি'।

হযরত বিলাল (রা:) তাঁর জীবনের এই চরম মুহূর্তেও ব্যথায় জর্জরিত ক্ষত বিক্ষত হাতটি কোনো মতে উঁচু করে শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে আকাশের দিকে দেখিয়ে উচ্চারণ করলেন, 'আহাদ, আহাদ, আহাদ'। সমগ্র দিন তাঁর ওপরে এই লোমহর্ষক নির্যাতন করে শেষ বিকেলে উমাইয়া মক্কার উশৃংখল যুবকদের হাতে আল্লাহর এই সাহাবীকে উঠিয়ে দিল। ঐতিহাসিকগণ বলেছেন, হযরত বিলাল (রা:) কে মক্কার সন্ত্রাসী যুবকরা তাঁর গলায় রশি বেঁধে কন্টকাকীর্ণ ও পাহাড়ী পথ দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে বেড়াতো। উটের পায়ের সাথে তাঁকে বেঁধে উটকে তাড়ানো হতো। ফলে তাঁর দেহের গোস্ত ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতো। এভাবে দিনের পর দিন তাকে অনাহারে রেখে তাঁর ওপরে বর্ণনাতীত নির্যাতন করা হয়েছে কিন্তু তাঁকে আদর্শচ্যুত করা যায়নি।

ঘটনাক্রমে হযরত আবু বকর (রা:) হযরত বিলাল (রা:) এর এ করুণ অবস্থা জানতে পেরে তিনি উমাইয়ার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, 'হে উমাইয়া! তুমি এই নির্দোষ দাসটির উপরে অত্যাচার করছো কেনো? সে যদি মুহাম্মাদ (সা:) এর আল্লাহর দাসত্ব করে এতে তোমার কোনো ক্ষতি সে করছে না। তুমি যদি তাঁর ওপরে দয়া করো তাহলে আখিরাতের দিন আল্লাহ তা'য়ালা তোমার প্রতি দয়া করবেন'। আল্লাহ তা'য়ালার দুশমন জালিম উমাইয়া বিদ্রুপ করে বললো, 'আমার দাস তাকে আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করবো। এতে কারো কিছু বলার নেই। আমি ঐ আখিরাত বিশ্বাস করি না'। হযরত আবু বকর (রা:) উমাইয়ার কথার জবাবে বললেন, 'দেখো, তুমি একজন শক্তিশালী নেতা। এটা তোমার পক্ষে শোভা পায় না যে তুমি একজন অসহায় মানুষের ওপরে নির্যাতন করবে। এটা তোমার সম্মানের বিপরীত কাজ'।

এ কথায় উমাইয়া ক্রোধ প্রকাশ করে বললো, 'হে আবু বকর! তোমার দেখছি এই দাসটির প্রতি দারুণ মমতা! একে তুমি কিনে নিলেই পারো'। হযরত আবু বকর (রা:) এ সুযোগই কামনা করছিলেন। তিনি দ্রুত বললেন, 'আমি প্রস্তুত আছি। বলো এর বিনিময়ে তুমি কি চাও?' উমাইয়া জানালো, 'তোমার দাস ফুসতাতকে আমাকে দাও আর একে নিয়ে যাও'।

হযরত আবু বকর (রা:) তৎক্ষণাৎ রাজী হলেন। জালিম উমাইয়া অবাক হয়ে গেল। কারণ হযরত আবু বকরের দাস ফুসতাত অত্যন্ত মান সম্পন্ন দাস ছিল। মক্কার লোকদের কাছে তাঁর সুনাম ছিল। উমাইয়া ধারণা করেছিল, আবু বকর তাঁর প্রস্তাবে রাজী হবে না। একটি দক্ষ এবং বিশ্বস্ত লোকের সাথে বিলাল (রা:)-কে বিনিময় করতে রাজী দেখে উমাইয়ার লোভ বৃদ্ধি পেলো। সে জানালো, 'ফুসতাতকে দেবে আর চল্লিশ আওকিয়া রৌপ্য দিতে হবে'।

হযরত আবু বকর (রা:) এতেও রাজী হলেন। শুধু বিলাল (রা:) কেই নয়, তিনি দাসত্বের বন্ধনে বন্দী নির্যাতিত অনেক মুসলমানকে কিনে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। উমাইয়া আত্মতৃপ্তির হাসি হেসে বললো, 'আবু বকর! তোমাকে আমি একজন বুদ্ধিমান হিসাবেই জানতাম। তোমার স্থলে আমি হলে এই দাসটিকে সামান্য পয়সা দিয়েও কিনতাম না'।

হযরত আবু বকর (রা:) হযরত বিলাল (রা:) কে সাথে নিয়ে উমাইয়াকে বললেন, 'তুমি আসলে এর মূল্য জানো না। প্রয়োজনে আমি এই মানুষটিকে কিনে নেয়ার জন্য আমার সকল সম্পদ দিয়ে দিতাম। আমি যদি ইয়েমেনের বাদশাহ হতাম, সে বাদশাহীর বিনিময়েও আমি এই দাসকে গ্রহণ করতাম'।

তিনি হযরত বিলালকে সাথে নিয়ে নবী করীম (সা:) এর কাছে এসে সকল ঘটনা জানালেন। আল্লাহর নবী (সা:) খুশী হয়ে বললেন, 'তুমি আমাকেও এই কাজে অংশীদার বানিয়ে নাও'। হযরত আবু বকর (রা:) বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি বিলালকে মুক্ত করে দিয়েছি'। হযরত বিলাল (রা:) নবীর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেছিলেন। নবী করীম (সা:) মদীনায় মসজিদ নির্মাণ করে হযরত বিলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনিই ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন।

মদীনার আউস গোত্রের প্রভাবশালী নেতা হযরত সায়াদ ইবনে মুয়াজ (রা:) মক্কায় উমরা করার উদ্দেশ্যে এসে আল্লাহর দুশমন উমাইয়ার মেহমান হয়েছিলেন। তার সাথে হযরত সায়াদ (রা:) এর পূর্ব থেকেই বন্ধুত্ব ছিল। উমাইয়া মদীনায় গেলে হযরত সায়াদ (রা:) এর মেহমান হত আর সায়াদ (রা:) মক্কায় এলে উমাইয়ার মেহমান হতেন। হযরত সায়াদ (রা:) ইসলাম গ্রহণের পরে প্রথম মক্কায় এসে উমাইয়ার মেহমান হলেন। তিনি উমাইয়ার সাথে কা'বাঘর তাওয়াফ করার জন্য বের হলেন। আবু জাহিল তাকে দেখে উমাইয়াকে জিজ্ঞাসা করলো, 'তোমার সাথের লোকটির পরিচয় কি?' উমাইয়া পরিচয় দেয়ার পরে আবু জাহিল রুক্ষ্ম কন্ঠে বলেছিল, 'তোমরা আদর্শ ও দেশদ্রোহীদের আশ্রয় দিয়েছো, বিষয়টি আমাদের কাছে অসহনীয়। এ অবস্থায় তোমরা মক্কায় আসবে এটাও আমরা পছন্দ করি না। খোদার কসম! তুমি যদি উমাইয়ার সাথে না থাকতে তাহলে জীবিত ফিরে যেতে না'।

হযরত সায়াদ (রা:) নির্ভীক কণ্ঠে জবাব দিলেন, 'তোমরা যদি আমাদেরকে মক্কায় হজ্জ আদায় করতে আসতে না দাও, আমরাও তোমাদের ব্যবসার পথ অর্থাৎ সিরিয়া যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিব'। উমাইয়া ইবনে খালফ তার বন্ধু হযরত সায়াদকে বললো, 'সায়াদ, আবু হাকামের (আবু জাহিল) সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো, কারণ সে এখানের নেতা'। হযরত সায়াদ (রা:) উমাইয়াকে বললেন, 'উমাইয়া, আল্লাহর শপথ! আমি রাসূল (সা:) কে বলতে শুনেছি, আবু জাহিল তোমার হত্যাকারী'। উমাইয়া আতঙ্কিত কণ্ঠে জানতে চাইলো, 'সে কি আমাকে মক্কায় হত্যা করবে?' হযরত সায়াদ (রা:) বললেন, 'রাসূল (সা:) এ কথা বলেননি কোথায় সে তোমাকে হত্যা করবে'।

এ কথা শুনে উমাইয়া ইবনে খালফ আতঙ্কে বিচলিত হয়ে পড়লো। মুহাম্মাদ (সা:) এর ভবিষ্যদ্বাণী যে সত্য প্রমাণীত হয় তা মক্কার লোকগুলো ইতোপূর্বেও প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে ভয়ে সে কথাটা তার স্ত্রীকেও জানালো। উমাইয়া শপথ করেছিল, মক্কার বাইরে সে যাবে না। কিন্তু মক্কার বাইরে সে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। আবু জাহিল তাকে বদরের যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছিলো। প্রথমে সে যেতে রাজী হয়নি, কিন্তু আবু জাহিল তাকে আত্মমর্যাদায় আঘাত দিয়ে কিছু কথা বলার পরই সে তার মৃত্যুস্থান বদরের প্রান্তরে গিয়েছিলো অর্থাৎ উমাইয়াকে চুম্বকের মতোই মৃত্যু সেখানে টেনে নিয়েছিলো। যুদ্ধ শুরুর পূর্বেই নবী করীম (সা:) উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামের সম্মুখে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, শত্রুপক্ষের নেতৃবৃন্দ বদরের প্রান্তরে কে কোন্ স্থানে নিহত হবে। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবায়ে কেরাম বলেন, আমরা দেখেছি নবী করীম (সা:) যেসব স্থান দেখিয়েছিলেন ঐসব স্থানেই তাদের লাশ পড়েছিলো। (মুসলিম)

বদরের প্রান্তরে ইসলামের দুশমনরা বিপর্যস্ত হয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলো। সমগ্র জীবন উমাইয়া ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিলো, বিশাল বপু আর স্থূল দেহের অধিকারী ছিলো আল্লাহর এই দুশমন। আত্মরক্ষার্থে উমাইয়া বদরের প্রান্তর থেকে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিলো। হযরত বিলাল (রা:) এ সময় মুসলিম বাহিনীর আহারের জন্য ময়দা পিষছিলেন। তাঁর চোখেই পড়েছিল, উমাইয়া পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে। তাছাড়া ইসলামের বিখ্যাত শত্রুগুলোর নাম মদীনার অলি গলিতে ছড়িয়েছিল। হযরত বিলাল (রা:) উচ্চকণ্ঠে মদীনার আনসারদেরকে উমাইয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। আল্লাহর নবীর সাহায্যকারীরা শাণিত অস্ত্র হাতে উমাইয়ার দিকে উল্কার বেগে ছুটে গেল, মদীনার আনসাররা আল্লাহর দুশমন উমাইয়াকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলো। বুখারী শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত ইসলাম বিরোধীদের লাশ বদরের প্রান্তরে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে পড়েছিল এবং প্রচণ্ড রোদে বিকৃত দেখাচ্ছিল। উমাইয়ার শরীরে ছিল যুদ্ধের মূল্যবান পোষাক। তা খুলে নেয়ার জন্য সাহাবীরা চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ক্ষণিকের মধ্যেই এই জালিমের লাশ পচে ফুলে দেহের পোষাকের মধ্যে এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে, দেহ থেকে পোষাক খুলতে গেলে উমাইয়ার শরীরের গোস্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। পরে সাহাবায়ে কেরাম তাকে ঐ অবস্থাতেই মাটি ও পাথর দিয়ে চাপা দিয়েছিলেন। নবী করীম (সা:) এর ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্ত বায়িত হয়েছিলো।

📘 সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন 📄 নবী করীম (সা:) এর ভবিষ্যৎ বাণী, নিহত পারস্য সম্রাট

📄 নবী করীম (সা:) এর ভবিষ্যৎ বাণী, নিহত পারস্য সম্রাট


নবী করীম (সা:) এর পত্র নিয়ে পারস্য সম্রাটের দরবারে পত্র গিয়েছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজায়ফা (রা:)। পারস্য সম্রাটের দরবারের নিয়ম ছিল সম্রাট যতক্ষণ আদেশ না করতেন ততক্ষণ কোনো ব্যক্তি মাথা উঠাতো না। হযরত আব্দুল্লাহ (রা:) দরবারে প্রবেশের সময় এই নিয়ম তাঁকে একজন জানিয়ে দিল। তিনি বললেন, 'আমার পক্ষে মাথানত করা সম্ভব নয়, কারণ আমরা এক আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত আর কারো কাছে মাথানত করি না'।

প্রহরী তাঁকে জানালো, এই নিয়ম পালন না করলে সম্রাট কারো পত্র গ্রহণ করেন না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজায়ফা (রা:) দরবারে প্রবেশ করলেন। সম্রাট দরবারে প্রবেশ করে সামনের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। উপস্থিত সকলেই নত মস্তকে রয়েছে কিন্তু একজন লোক মাথা সোজা রেখে গর্বিত ভঙ্গীতে বসে আছে। তিনি লোকটির পরিচয় জানতে চাইলেন। তাকে বলা হলো, লোকটি এসেছে সেই আরব থেকে। আপনার জন্য সে একটি বার্তা এনেছে।

সম্রাট তাঁকে কাছে আসতে বললেন। হযরত আব্দুল্লাহ (রা:) কাছে এসে তাকে সালাম জানিয়ে নবী করীম (সা:) এর পত্র তার হাতে হস্তান্তর করলেন। নবী করীম (সা:) সম্রাটের কাছে লিখেছিলেন-

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

মহান আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা:) এর পক্ষ থেকে পারস্য সম্রাট খসরুর কাছে। যারা আল্লাহ তা'য়ালার বিধান অনুসরণ করে এবং আল্লাহ তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস করে তাদের প্রতি সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত আর কেউ দাসত্ব পাবার উপযুক্ত নয় এবং আমি তাঁর প্রেরিত রাসূল। জীবিত মানুষকে সতর্ক করার জন্য আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। তোমার প্রতি আমার আহ্বান, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। তোমার ওপর আল্লাহ তা'য়ালার পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হবে। যদি না করো তাহলো তোমার শাসিত প্রজাদের যাবতীয় অন্যায় কাজের জন্য তুমি দায়ী হবে।

পত্রের শেষে নবী করীম (সা:) এর পবিত্র নাম মুবারক সীলমোহর করা ছিল। অর্থাৎ 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্' (সা:) সীল মোহর করা ছিল। পারস্যের সম্রাট খসরু ছিল চরম পাপাচারী। পৃথিবীর অন্য কোনো মানুষ তার সমমর্যাদার হতে পারে, এ বিষয়টি সে মানতো না। নবী করীম (সা:) এর পত্র পাঠ করার সাথে সাথে সে অহঙ্কারে গর্জে উঠলো। চিৎকার করে বললো, 'এতবড় সাহস কার! আরবের সামান্য একজন মানুষ আমাকে বলে আমার আদর্শ ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য? তারপরে সে আমার নামের পূর্বে নিজের নাম লিখেছে?'

চরম অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে সে নবী করীম (সা:) এর পত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করলো। তার ধৃষ্টতার এখানেই শেষ হলো না। ইয়েমেনের গভর্ণর বাজানকে আদেশ দিল, 'আরবের সেই মুহাম্মাদ (সা:) কে গ্রেফতার করে তার দরবারে প্রেরণ করা হোক'।

নবী করীম (সা:) কে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে পারস্য সম্রাটের আদেশ অনুযায়ী বাজান দুইজন রাজ কর্মচারীকে মদীনায় প্রেরণ করলো। নবী করীম (সা:) এর দরবারে তারা উপস্থিত হয়ে রাসূল (সা:) কে জানালো, 'আমরা পারস্য সম্রাটের আদেশ অনুযায়ী আপনাকে গ্রেফতার করতে এসেছি। আপনি স্বেচ্ছায় যদি আমাদের সাথে না যান তাহলে সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করতে বাধ্য হবে'।

নবী করীম (সা:) তাদেরকে অত্যন্ত সমাদর করে মেহমানদারী করলেন। রাসূল (সা:) এর সাথে তাঁর সাহাবায়ে কেরামের ব্যবহার দেখে পারস্য রাজের কর্মচারীবৃন্দ বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলো। তারা পুনরায় জানালো, 'আপনি যদি আদেশ অনুসারে উপস্থিত হন তাহলে ইয়েমেনের গভর্ণর আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারেন। আর তা যদি না করেন তাহলে আপনার শহর তিনি মাটির সাথে মিশিয়ে দিবেন'।

আল্লাহর নবী (সা:) তাদেরকে জানালেন, 'আপনাদের প্রশ্নের জবাব আমি আগামী কাল দিব'।

তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মেহমান খানায় রাখা হলো। তারা অবাক হলো, পারস্য সম্রাটের আদেশে মানুষ থরথর করে কাঁপে। অথচ এই মানুষটির মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া নেই। পরের দিন তারা নবী করীম (সা:) এর দরবারে এলেন। আল্লাহর রাসূল (সা:) তাদেরকে জানালেন, 'তোমাদের সম্রাট আর এই পৃথিবীতে জীবিত নেই। তার সন্তান তাকে গতরাতে নিহত করেছে। তোমাদের গভর্ণর বাজানকে বলবে, পারস্য সম্রাট যেমন আমার পত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করেছে, মহান আল্লাহ তা'য়ালা পারস্য সাম্রাজ্যকে তেমনি টুকরো টুকরো করে দিবেন। বাজানকে বলবে, সে যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে তাকে আমি তার পদেই বহাল রাখবো। কারণ অচিরেই ইসলাম পারস্যের সিংহাসনে বসবে'।

পারস্যের দূতগণ অবাক হয়ে ইয়েমেনে ফিরে গেল। সেখানেই তারা জানতে পারলো সম্রাট খসরুর সন্তান সিরওয়াহ পিতাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছে। সে বাজানের কাছে সংবাদ প্রেরণ করেছে, দ্বিতীয় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত আরবের সেই নবীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না। ইয়েমেনের গভর্ণর তার দূতের মুখে নবী করীম (সা:) সম্পর্কে সংবাদ শুনে সে এবং রাজ দরবারের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু কিছু দিন পর ইয়েমেনের গভর্ণর বাজানের মনে পৃথিবীর প্রতি বিতৃষ্ণা জেগে উঠেছিল। তাঁর ইচ্ছা ছিল, জীবনের বাকী দিনগুলো সে নবী করীম (সা:) এর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিবে। এ কারণে সে গভর্ণরের পদ হতে পদত্যাগ করে মদীনার পথে যাত্রা করেছিল। পথে তিনি এক গুপ্ত ঘাতকের হাতে শাহাদাতবরণ করেন। ইতিহাস সাক্ষী, নবী করীম (সা:) এর ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হতে বেশি দেরী হয়নি।

📘 সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন 📄 সুরাকা, সেদিন তোমাকে কতই না সুন্দর দেখাবে!

📄 সুরাকা, সেদিন তোমাকে কতই না সুন্দর দেখাবে!


মহান আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর প্রিয় হাবীবকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ অনুসারে প্রস্তুতি নিতে থাকলেন। ইসলামের দুশমনরা সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করলো যাতে মুহাম্মাদ (সা:) মক্কা ত্যাগ করতে না পারেন। এমনকি জালিমের দল আল্লাহর নবীকে হত্যার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলো। আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর হাবীবকে মদীনার পথে নিয়ে গেলেন। দুশমনরা নবী করীম (সা:) কে না পেয়ে ঘোষণা করেছিলো, তাঁর সন্ধানদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কারের লোভে নির্বোধ কিছু মানুষ আল্লাহর নবীর সন্ধানে বের হয়েছিল। সুরাকা ইবনে মালিক (রা:), তিনি মক্কা বিজয়ের পরে মুসলমান হয়েছিলেন। তিনি স্বয়ং বর্ণনা করেন, একদিন আমি আমার গোত্রের পরামর্শ সভায় বসে আছি, এ সময় এক ব্যক্তি এসে বললো, 'আমি এই মাত্র একটি দলকে দেখে এলাম তাঁরা মদীনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমার মনে হয় উক্ত দলে মুহাম্মাদ (সা:) আছেন'।

এ কথা আমার কানে প্রবেশ করতেই আমি তাকে ইশারা দিলাম সে যেন বিষয়টি আর কাউকে না বলে। তারপর আমি সেখান থেকে উঠে বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সাথে নিয়ে দ্রুত বের হয়ে পড়লাম। একস্থানে গিয়ে আমি আমার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম যে, মুহাম্মাদ (সা:) এর কোনো ক্ষতি আমি করতে পারবো কিনা।

আমি 'না' বোধক চিহ্ন দেখতে পেলাম। তবুও আমি বিরত না হয়ে তাদের পিছনে ছুটলাম। অবশেষে তাঁরা আমার দৃষ্টি সীমার মধ্যে এসে গেল। এ সময় আমার ঘোড়াটি হোঁচট খেয়ে আমাকে ঘোড়ার পিঠ থেকে নিক্ষেপ করলো। আমি আবার আমার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। এবারেও অকৃতকার্যতার চিহ্ন বের হলো। তবুও আমি তাদেরকে ধরার জন্য অগ্রসর হলাম।

এবার আমার ঘোড়ার সামনের পা দুটো নীচে বসে গেল। আমি ঘোড়ার পা উঠাতেই সে গর্ত থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকলো। তখন আমি বুঝলাম মুহাম্মাদ (সা:) কে ধরা যাবে না। তারপর তাদেরকে আহ্বান করে বললাম, খোদার শপথ! তোমাদের সম্পর্কে আমার আর কোনো সন্দেহ নেই। আমি জুসুমের সন্তান সুরাকা। আমি তোমাদের ক্ষতির কারণ হবো না। তোমরা একটু থামো, তোমাদের সাথে আমার কিছু কথা আছে।

নবী করীম (সা:) হযরত আবু বকর (রা:) কে বললেন, তাঁর কাছ থেকে জেনে নাও সে আমাদের কাছে কি চায়?

হযরত আবু বকর (রা:) জানতে চাইলেন আমি তাদের কাছে কি চাই। আমি বলেছিলাম, আমাকে কিছু লিখে দিন, যা আমার এবং আপনার মধ্যে একটা প্রমাণ হয়ে থাকবে।

তারপর আমি তাদেরকে মক্কার লোকদের ঘোষনা সম্পর্কে জানালাম। কোনো বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, হযরত আবু বকর (রা:) নবী (সা:) এর নির্দেশে 'মুক্তিনামা' লিখে দিয়েছিলেন। আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে হযরত আবু বকর (রা:) এর গোলাম তা লিখে দিয়েছিলেন। কোনো বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নবী করীম (সা:) সে সময় সুরাকাকে বলেছিলেন, 'সে সময় তোমাকে কতই না সুন্দর দেখাবে যখন পারস্য সম্রাটের অলংকারাদি তোমার দেহে শোভা পাবে'।

বিশ্বনবী (সা:) এর সেদিনের কথা বাস্তবে রূপলাভ করেছিল হযরত উমার (রা:) এর শাসনামলে। পারস্য সাম্রাজ্য জয় করার পরে হযরত উমার (রা:) পারস্য সম্রাটের অলংকারসমূহ হযরত সুরাকাকে পরিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। নবী করীম (সা:) আর হযরত আবু বকর (রা:) সে সময় পৃথিবীতে ছিলেন না। প্রায় তের চৌদ্দ বছর পূর্বের সে কথা স্মরণে এলে হযরত সুরাকা (রা:) এর আনন্দের পরিবর্তে তাঁর দু'চোখ অশ্রু সরোবরে প্লাবিত হয়ে পড়েছিল।

📘 সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন 📄 ভবিষ্যৎ বাণী সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস

📄 ভবিষ্যৎ বাণী সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস


হযরত ছাওবান (রা:) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সা:) বলেছেন, শীঘ্রই আমার উম্মতের জন্য এমন একটি সময় আসবে যখন দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি তাদের দিকে এমনভাবে ধাবিত হবে, যেমন ধাবিত হয় ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্যের দিকে।

এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! সেদিন কি আমরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য থাকবো যে দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি আমাদেরকে ধ্বংস করার জন্য অগ্রসর হবে?

নবী করীম (সা:) বললেন- না, বরং সেদিন তোমাদের সংখ্যা হবে প্রচুর। কিন্তু তোমরা হবে বন্যার পানির ফেনা সমতুল্য। অবশ্যই আল্লাহ তা'য়ালা সেদিন তোমাদের মনে তাদের ভয় প্রবেশ করিয়ে দিবেন।

এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর হাবীব! আমাদের মনে এ দুর্বলতা ও ভীতি দেখা দেয়ার কারণ কী হবে?

নবী করীম (সা:) বললেন, যেহেতু সেদিন তোমরা দুনিয়াকে ভালোবাসবে এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করবে। (আবু দাউদ, বায়হাকী)

উল্লেখিত হাদীসে স্পষ্ট যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তা বর্তমান মুসলমানদের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন। নবী করীম (সা:) বলেছিলেন, এমন একটি সময় আসবে, যখন পৃথিবীতে মুসলিম নামে পরিচিত লোকের সংখ্যা হবে অগণিত। কিন্তু তাদের ঈমানী শক্তি থাকবে না, তারা পৃথিবীতে ভোগ-বিলাসকে প্রাধান্য দিবে। ইসলামের শত্রুদের আনুগত্য করে হলেও ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার চেষ্টা করবে। ইসলামের দুশমনরা সংখ্যায় অল্প হলেও তারাই মুসলমানদের ওপরে নির্যাতন করবে, মুসলমানদেরকে অবজ্ঞা, অবহেলা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে। কারণ, শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে অবতীর্ণ হয়ে শাহাদাতবরণ করাকে মুসলমানরা পসন্দ করবে না। দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে এমনভাবে মত্ত হয়ে থাকবে যে, তাদের চোখের সামনে অন্য মুসলিম নারী, শিশু, কিশোর, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ দুশমনদের হাতে লাঞ্ছিত-অপমানিত ও অত্যাচারিত হতে থাকবে, কিন্তু তারা মৌখিক প্রতিবাদও করবে না। মুসলমানরা নিজের যাবতীয় সহায়-সম্পদ, অর্থ-বিত্ত, শক্তি-মত্তা ইসলামের দুশমনদের অধীন করে দিবে। নিজেদের অর্থ-সম্পদ শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে শত্রুকে পরাজিত করার মন-মানসিকতা মুসলমানদের থাকবে না, যদিও তারা সংখ্যায় হবে বিপুল।

নবী করীম (সা:) বলেছেন, ইয়াহুদীদের সাথে মুসলমানদের বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হবে। সে যুদ্ধে ইয়াহুদীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হরে। এমনকি তারা পর্বত, বৃক্ষ, পাথর ইত্যাদির আড়ালে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করবে। সে সময় পর্বত, বৃক্ষ ও পাথর খন্ড থেকে আওয়াজ উত্থিত হবে, হে মুসলিমগণ, এদিকে এসো, এখানে ইয়াহুদী আত্মগোপন করে আছে। (মুসলিম)

নবী করীম (সা:) এর এ ভব্যিষদ্বাণী বাস্তবায়িত হতে খুব একটা দেরী নেই ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিবর্গ ইয়াহুদীদের সহযোগিতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে তাদের ধ্বংসের মঞ্চ প্রস্তুত করছে।

খন্দকের যুদ্ধে পরীখা খননকালে বিশাল একটি পাথরখণ্ড পরীখা খননে বাধা সৃষ্টি করছিলো। সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই উক্ত পাথরখণ্ড ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। অবশেষে নবী করীম (সা:) শাবলের আঘাতে পাথরখণ্ডটি চূর্ণ করলেন। তিনি তিনবার পাথরখণ্ডে আঘাত করেছিলেন। প্রত্যেক আঘাতেই লৌহ আর পাথরের ঘর্ষণে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ নির্গত হয়েছিলো। নবী করীম (সা:) বললেন, আমি যখন প্রথম আঘাত হানলাম তখন আমাকে পারস্যের রাজধানী ও তার পরিপার্শ্বের এলাকা দেখানো হলো এবং আমার দু'চোখ দিয়ে তা দেখলাম।

সাহাবায়ে কেরাম আবেদন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! দোয়া করুন এসব এলাকা যেনো আমার জয় করতে পারি'। নবী করীম (সা:) দোয়া করার পর বললেন, 'আমি যখন দ্বিতীয় আঘাত করলাম তখন রোম সম্রাটের রাজধানী ও তার পরিপার্শ্বের এলাকা দেখানো হলো'। সাহাবায়ে কেরাম উক্ত এলাকা বিজয় করার জন্যে দোয়ার আবেদন জানালে তিনি দোয়া করে পুনরায় বললেন, 'আমি যখন তৃতীয় আঘাত করলাম তখন আমাকে আবিসিনিয়ার রাজধানী ও তার আশেপাশের এলাকা দেখানো হলো। তবে আবিসিনিয়ার লোকজন তোমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না এলে তোমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অগ্রসর হয়ো না। আর তুর্কীদেরকে তোমরা অবকাশ দিবে যতক্ষণ তারা তোমাদেরকে অবকাশ দেয়'। (মুসলিম, নাসাঈ)

নবী করীম (সা:) এর এ ভবিষ্যদ্বাণীও সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। হযরত উসমান (রা:) এর শানসামলে দেশে কতিপয় লোকজন বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে এ সংবাদ রাসূল (সা:) পূর্বেই তাঁকে জানিয়েছিলেন। মদীনার একটি খেজুর বাগানে নবী করীম (সা:) বসেছিলেন। সেখানে হযরত আবু বকর (রা:) এলে তিনি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ জানালেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে হযরত উমার (রা:) এলে তাঁকেও তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। এরপর হযরত উসমান (রা:) সেখানে এলে তাঁকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে জানিয়ে দিলেন, তিনি নানা ধরনের বিশৃংখলা ও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবেন। (মুসলিম)

নবী করীম (সা:) এর এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হতে খুব বেশী দেরী হয়নি। আল্লাহর রাসূল (সা:) হযরত আবু বকর (রা:), হযরত উমার (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) কে সাথে নিয়ে মদীনার একটি পাহাড়ে উঠলেন। পাহাড়টি অকস্মাৎ কাঁপতে থাকলো। নবী করীম (সা:) পবিত্র কদম মুবারক দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করে বললেন, 'হে পাহাড়! শান্ত হও। তোমার উপরে রয়েছেন একজন রাসূল, একজন সিদ্দীক এবং দুই জন শহীদ'। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ)

নবী করীম (সা:) এর এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হলো। হযরত উমার (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) উভয়েই শাহাদাতবরণ করেছেন। নবী করীম (সা:) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, 'আমার পরে কিয়ামতের পূর্বে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী লোক নিজেদেরক নবী হিসাবে দাবী করবে'। (মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ)

নবী করীম (সা:) এর পরে এ পর্যন্ত প্রায় উনত্রিশ জন মিথ্যাবাদী নিজেকে নবী হিসাবে দাবী করেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার কাদিয়ান নামক গ্রামের মির্জা গোলাম আহমাদ কাদীয়ানী। আবহমান কাল থেকে ইসলামের চির দুশমন ইয়াহুদী-খ্রিষ্ট-মুশরিকরা মুসলমানদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নানা ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে থাকে। আর একাজে তারা কখনো নিজেরা প্রকাশ্যে আসে না। পর্দার আড়ালে থেকে মূল কলকাঠি নাড়তে থাকে। নামধারী কোনো মুসলমানকে নির্বাচিত করে তার মাধ্যমেই অমুসলিমরা নিজেদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার কাজে তারা মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীকে নির্বাচিত করে মুসলমানদের খতমে নবুয়‍্যাত বিষয়ক আকিদা-বিশ্বাসের ওপরে চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে। এই লোকটির মাধ্যমে নবুয়‍্যাতের দাবী উত্থাপন করে তারা এক নতুন ফেত্না সৃষ্টি করেছে। নবুয়‍্যাতের দাবী করার কারণে পৃথিবীর সকল মুহাক্কিক আলিম-ওলামা এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কাদিয়ানীরা কাফির-তারা মুসলমান নয়।

কাদিয়ানীদের পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম দেশেই সরকারীভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ-বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তাদেরকে সারকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়নি। তবে এব্যাপারে এদেশের আলিম-ওলামা ও সচেতন মুসলমানরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। কিন্তু বাম-রামপন্থী নাস্তিক, মুরতাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ-ধর্মহীন গোষ্ঠী কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করেছে। মির্জা গোলামের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী সে ১৮৩৯ বা ১৮৪০ খৃষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করে এবং তার পিতা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ছিলো দখলদার ইংরেজদের রাজকর্মচারী ও তাদের অনুগত ভৃত্য। এই গোলাম আহমাদ নামক লোকটি প্রথমে ইসলামের একজন প্রচারক হিসেবে সাধারণ মুসলমানদের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করলো। কিছুদিন পর নিজেকে মুজাদ্দীদ হিসেবে দাবী করলো। তারপর সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ইমাম মাহ্দী হিসেবে দাবি করলো। এরপর সে নিজেকে নবী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম বলে ফতোয়া দিলো। মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী তার শরীয়াতের ভিত্তি স্থাপন করলো ইংরেজদের শর্তহীন আনুগত্যের ওপরে। ইংরেজদের অর্থপুষ্ট এই জাহান্নামী ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা আলিম-ওলামাদের বিরুদ্ধে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করে নানা ধরনের বই-পুস্তক রচনা করে প্রচার করলো এবং তার রচিত বইপত্রে সে ইংরেজদেরকে এদেশে আল্লাহ তা'য়ালার রহমত হিসেবে ঘোষণা করলো।

তার অপপ্রচারে যারা প্রলুব্ধ হতো, তাদেরকে ইংরেজ রাজশক্তি অর্থ-বিত্ত দিয়ে, উচ্চপদে চাকরীসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়ের সৃষ্টি করলো। ইংরেজ সৃষ্ট ফেত্না মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীর অনুসারীরাই কাদিয়ানী নামে পরিচিত। ইসলামের দুশমন চরম মুসলিম বিদ্বেষী ইয়াহুদী রাষ্ট্র ইসরাঈলের হাইফা শহরেই কাদিয়ানীদের প্রধান কেন্দ্র অবস্থিত এবং সেখান থেকেই পরিচালিত হয় তাদের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম। লন্ডনেও তাদের বিশাল কেন্দ্র রয়েছে। তাদের পৃথক টিভি চ্যানেল রয়েছে। বিজ্ঞাপন ব্যতীত টিভি চ্যানেল-এর কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব। পক্ষান্তরে এ, এমটিভি চ্যানেল বিজ্ঞাপন ব্যতীতই বিশ্বব্যাপী পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং এ কথা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, কাদিয়ানীদের টিভি চ্যানেল এ, এমটিভি ইসলামের দুশমনদের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এদের আড্ডা রয়েছে। ঢাকায় এদের কেন্দ্র বশী বাজারে। কাদিয়ানীরা মুসলিম হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের ঈমান হরণ করার কাজে নিয়োজিত।

নবী করীম (সা:) বলেছেন, অত্যন্ত দ্রুত এমন সময় সম্মুখে আসবে যে, এমন কোনো মানুষ থাকবে না যে সুদের সাথে জড়িত হবে না। যদিও সে প্রত্যক্ষভাবে সুদ গ্রহণ করবে না, তবুও সুদ জড়িত ধুলো-বালি বাতাসের সাথে উড়ে এসে তার নাকে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত অর্থনীতি সুদের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থনৈতিক লেনদেন সুদের মাধ্যমে ব্যতীত সম্ভব নয়। শিল্প, কলকার-খানা যা কিছু উৎপাদন করছে এর সকল কিছুই কোনো না কোনোভাবে সুদের সাথে জড়িত। বৈদেশকি ঋণ সুদ ব্যতীত পাওয়া যায় না এবং বিদেশ থেকে কোনো কিছু আমদানী-রফতানী করতে গেলেও সুদ ব্যতীত সম্ভব নয়। পোষাকের প্রতিটি সুতা এবং খাদ্যের প্রত্যেক কণার সাথেও সুদ জড়ানো হয়েছে। ইসলামী অর্থনীতির বাস্তবায়ন ব্যতীত সুদের অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তা'য়ালা সুদের অভিশাপ থেকে সকলকে মুক্ত রাখার পরিবেশ দান করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px