📄 ওহী নাযিলের সূচনা ও পদ্ধতিসমূহ
আল-কুরআনুল কারীম, নির্ভরযোগ্য হাদীছের গ্রন্থাবলী ও ভাষ্য গ্রন্থাবলী এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (স)-এর জীবনী গ্রন্থাবলীতে ওহী (ওয়াহহিয়)-এর সূচনা সম্পর্কীয় যাবতীয় বিবরণ আলোচনা-পর্যালোচনা ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওহীর শুভ সূচনার প্রেক্ষাপট ও পূর্বাভাষ, অনুরূপভাবে ইহার শুভ সূচনা কখন হইয়াছিল, কাহার কাছে, কত বৎসর বয়সে, কোন জায়গাতে, কোন ভাষাতে, কোন দিনে, কোন মাসে, জাগ্রত অবস্থায়, না ঘুমন্ত অবস্থাতে, কাহার মাধ্যমে, তিনি কি মানবীয় আকৃতিতে আসিয়াছিলেন, না ভিন্ন আকৃতিতে, অনুরূপভাবে ওহীর সূচনালগ্নে ফেরেস্তা ও রাসূলে কারীম (স)-এর মধ্যকার রোমাঞ্চকর অবস্থার বিবরণ, কোন আয়াতে কারীমার মাধ্যমে ওহীর শুভ সূচনা এবং সর্বোপরি রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবনে ওহীর শুভ সূচনা, প্রভাবসমূহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিম্নে আলোচনা করা হইল।
ওহী-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
ওহী (وحی) শব্দের আভিধানিক অর্থ ইশারা, ইংগিত, ব্যক্ত করা, পৌঁছানো, নির্দেশ, প্রত্যাদিষ্ট বাণী, অনুক্ত বাণী (দ্র. লিসানুল আরাব, আল-মুফরাদাত ইত্যাদি)। কুরআন মজীদে উক্ত সব অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ:
ওয়া আউহা রব্বুকা ইলা আন-নাহলি আনিত্তাখিযী মিনাল জিবালি বুইয়ূতান।
"তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে ইঙ্গিত দিয়াছেন যে, পাহাড়ে গৃহ নির্মাণ কর" (১৬: ৬৮; আরও দ্র. ১৯: ১১)।
ওয়া আউহা ফী কুল্লি সামা'ইন আমরহা।
"এবং তিনি প্রত্যেক আকাশে উহার বিধান ব্যক্ত করিলেন" (৪১: ১২)।
ইন্না আউহাইনা ইলাইকা কামা আউহাইনা ইলা নূহিন ওয়ান্নাবিয়্যীনা মিম বা'দিহী।
"নিশ্চয় আমি তোমার নিকট প্রত্যাদেশ পাঠাইয়াছি, যেমন নূহ ও তাহার পরবর্তী নবীগণের নিকট প্রত্যাদেশ পাঠাইয়াছি” (৪: ১৬৩)।
ছুম্মা আউহাইনা ইলাইকা আনিত্তা'বি' মিল্লাতা ইবরাহীমা হানিফান।
"অতঃপর আমি তোমাকে নির্দেশ দিলাম যে, তুমি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর" (১৬: ১২৩)।
আউ ইয়ুরসিলা রাসূলান ফাইয়ূহিয়া বি-ইযনিহী মা ইয়াশা'উ।
"অথবা তিনি দূত প্রেরণ করেন যিনি তাঁহার অনুমতিক্রমে তিনি যাহা চাহেন তাহা ব্যক্ত করেন বা পৌঁছান" (৪২ঃ ৫১)।
বদরুদ্দীন 'আয়নী (র) বলেনঃ আল-ওয়াহিয়ু আল-ইশারাতু ওয়াল কিতাবাতু ওয়ার রিসালাতু ওয়াল কালামুল খাফিয়্যু ওয়া কুল্লু মা আলকাইতাহু ইলা গাইরিকা। "ওহী অর্থ ইশারা করা, লিপিবদ্ধ করা, কোন কথাসহ প্রেরণ, গোপন কথা, অপরের অজ্ঞাতে কাহাকেও কিছু অবহিত করা" (উমদাতুল কারী শারহু সহীহ বুখারী, ১খ., পৃ. ১৪)।
শায়খ আবদুল্লাহ্ আস-সারকাবী বলেন: ওয়া ফী ইস্তিলাহিশ শার'ই ই'লামুল্লাহি তাআ'লা আম্বিয়াআহুর রাশাই'আ ইম্মা বিক্বালামিন আও বি রিসালাতি মালিকিন আও মানামিন আও ইলহামিন।
"শরীআতের পরিভাষায় ওহী বলা হয়, আল্লাহ কর্তৃক ফেরেশতা প্রেরণ করিয়া অথবা স্বপ্নযোগে অথবা ইলহামের সাহায্যে তাঁহার নবীগণকে কোন বিষয় বা কথা অবহিত করা” (ফাতহুল মুবতাদা শারহু মুখতাসার আয-যুবায়দী-এর বরাতে হাদীস সংকলনের ইতিহাস, পৃ. ৪৪)।
বস্তুত ওহীর গূঢ় রহস্য ও প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ব্যতীত কেহই জানেন না। ইসলামী পরিভাষায় ওহী শব্দটি মূলত নবী-রাসূলগণের নিকট আল্লাহ তাআলার বাণী এবং তাহা তাঁহাদের নিকট পৌঁছিবার পন্থাকে বুঝাইবার জন্য ব্যবহৃত হয়। আমরা ইন্দ্রিয় শক্তির সাহায্যে প্রথমে কোন জিনিস দেখিবার পর তৎসম্পর্কে জ্ঞাত হই। পক্ষান্তরে নবী-রাসূলগণ তাঁহাদের অন্তর্নিহিত শক্তির সাহায্যে দেখেন এবং তাঁহারা প্রথমে জ্ঞাত হন, অতঃপর দেখেন। নবীগণের নিকট প্রেরিত ওহীলব্ধ জ্ঞান প্রধানত দুই প্রকারঃ প্রথম প্রকার 'মৌল জ্ঞান' যাহা প্রত্যক্ষ ওহীর (وحى متلوء) মাধ্যমে প্রাপ্ত, যাহার নাম কিতাবুল্লাহ। যেমন আল্লাহ্ কিতাব আল-কুরআন। এই প্রকার ওহীর ভাব ও ভাষা উভয়ই আল্লাহ্। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা হুবহু আল্লাহ্ ভাষায় প্রকাশ করিয়াছেন। এইরূপ ওহী নাযিল হওয়ার সময় মহানবী (স)-এর নিকটে উপস্থিত লোকজন উপলব্ধি করিতে পারিত যে, তাঁহার উপর ওহী নাযিল হইতেছে।
দ্বিতীয় প্রকার জ্ঞান, যাহা প্রথমোক্ত জ্ঞানের ভাষ্য এবং যাহা পরোক্ষ ওহীর (وحى غير متلوء) মাধ্যমে প্রাপ্ত, ইহার নাম সুন্নাহ বা আল-হাদীছ। ইহার ভাব আল্লাহ্, কিন্তু মহানবী (স) তাহা নিজের ভাষায়, নিজের কথা, কর্ম ও সম্মতির মাধ্যমে প্রকাশ করিয়াছেন। এই প্রকারের ওহী মহানবী (স)-এর উপর প্রচ্ছন্নভাবে নাযিল হইত এবং অন্যরা তাহা টের পাইত না। এই প্রকারের ওহীর সমর্থন বা প্রমাণ কুরআন মজীদে বিদ্যমান। যেমন মহান আল্লাহ মহানবী (স) সম্পর্ক বলিয়াছেন:
ওয়া মা ইয়ানতিক্বু আনিল হাওয়া ইন হুওয়া ইল্লা ওয়াহিয়ুন ইউহা।
"সে (মুহাম্মাদ) মনগড়া কোন কথা বলে না। ইহা তো ওহী যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়" (৫৩: ৩-৪)।
ওয়া লাও তাক্বাওওয়ালা আলাইনা বা'দাল আক্বাওীল। লা আখাজনা মিনহু বিল ইয়ামীন। ছুম্মা লাক্বাত্ব'না মিনহুল ওয়াতীন।
"সে (নবী) যদি নিজে রচনা করিয়া কোন কথা আমার নামে চালাইয়া দিত তাহা হইলে আমি তাহার ডান হাত ধরিয়া ফেলিতাম এবং তাহার কণ্ঠনালী ছিন্ন করিয়া ফেলিতাম" (৪৪-৪৬)।
মহানবী (স) বলেন:
আলা ইন্নী উতী'তুল কিতাবা ওয়া মিছলাহু। আলা ইন্নী উতী'তুল ক্বুরআনা ওয়া মিছলাহু মা'আহ্।
"জানিয়া রাখ! আমাকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে এবং উহার সহিত উহার অনুরূপ আরও একটি জিনিস দেওয়া হইয়াছে। জানিয়া রাখ! আমাকে কুরআন দেওয়া হইয়াছে এবং উহার সহিত দেওয়া হইয়াছে উহার অনুরূপ আরও একটি জিনিস” (মুসনাদ ইমাম আহমাদ, ৪খ., পৃ. ১৩০-১; সুনান আবূ দাউদ, রিয়াদ সং, কিতাবুস সুন্নাহ, বাব ফী লুযূমিস সুন্নাহ, নং ৪৬০৪)। উপরিউক্ত হাদীছ দ্বারা দ্বিতীয় প্রকারের ওহী (পরোক্ষ ওহী) প্রমাণিত হয়।
ঊর্ধ্ব জগত হইতে এবং আসমানী মূল উৎস (উম্মুল কিতাব) হইতে নবী-রাসূলগণের নিকট ওহীর বিষয়বস্তুর প্রেরণকার্যকে তানযীল (تَنْزِيلُ) ও ইনযাল (إِنْزَالُ) বলা হয়। যেমন কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
তানযীলুল কিতাবি লা রাইবা ফীহি মির রব্বিল আ'লামীন।
"এই কিতাব জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই” (৩২: ২)।
ওয়া আনযালাত তাওরাতা ওয়াল ইনজীলা মিন ক্বাবলু হুদাল লিন্নাসি ওয়া আনযালal ফুরক্বান।
"এবং ইতিপূর্বে তিনি নাযিল করিয়াছিলেন তাওরাত ও ইনজীল মানবজাতিকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য। আর তিনি ফুরকান (কুরআন) নাযিল করিয়াছেন" (৩ঃ৪)।
অবশ্য ওহী শব্দটিও ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহৃত হইয়াছে এবং ইহার দ্বারাও ওহীর বিষয়বস্তুর প্রেরণকার্য বুঝানো হইয়াছে। যেমন,
ওয়া আউহাইনা ইলা মূসা ইযিস তাসক্বাহু ক্বাওমুহু আনিযরিব বি-'আসাকাল হাজার।
"মূসার সম্প্রদায় যখন তাহার নিকট পানি প্রার্থনা করিল তখন আমি তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম, তোমার লাঠির দ্বারা পাথরে আঘাত কর" (৭: ১৬০)।
ইন্ন হুওয়া ইল্লা ওয়াহিয়ুন ইউহা।
"ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়” (৫৩:৪)। ওয়া ইনি আহতাদাইতু ফাবিমা ইয়ুহা ইলাইয়া রব্বী।
"এবং আমি যদি সৎপথে থাকি তবে তাহা এইজন্য যে, আমার প্রতিপালক আমার নিকট ওহী প্রেরণ করেন" (৩৪:৫০)।
অবশ্য কুরআন মজীদে ওহীর প্রধান উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হইতেছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)।
হাদীছের আর এক প্রকার রহিয়াছে, যাহাকে 'হাদীছে কুদ্স্সী' বলা হয়। 'কুদ্স্সী' কুদুস হইতে গঠিত। ইহার অর্থ-পবিত্রতা, মহানত্ব। আল্লাহর আর এক নাম 'কুদ্দুস' মহান, পবিত্র। এই ধরনের হাদীছকে 'হাদীছে কুদ্স্সী' বলা হয় এজন্য যে, উহার মূল কথা সরাসরিভাবে আল্লাহ্র নিকট হইতে প্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁহার নবীকে 'ইলহাম' কিংবা স্বপ্নযোগে যাহা জানাইয়া দিয়াছেন, নবী (স) নিজ ভাষায় সেই কথাটি বর্ণনা করিয়াছেন। উহা কুরআন হইতে পৃথক জিনিস। কেননা কুরআনের কথা ও ভাষা উভয়ই আল্লাহ্র নিকট হইতে ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ।
প্রখ্যাত হাদীছ ব্যাখ্যাতা আল্লামা মুল্লা আলী আল-কারী (র) 'হাদীছে কুদ্সী'র সংজ্ঞা দান প্রসংগে বলিয়াছেন, "হাদীছে কুদ্স্সী সেসব হাদীছ, যাহা শ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল পরম নির্ভরযোগ্য হযরত মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র নিকট হইতে বর্ণনা করেন, কখনও জিবরাঈল (আ)-এর মাধ্যমে জানিয়া, কখনও সরাসরি ওহী কিংবা ইলহাম বা স্বপ্নযোগে লাভ করিয়া। যে কোন প্রকারের ভাষার সাহায্যে ইহা প্রকাশ করার দায়িত্ব রাসূলের উপর অর্পিত হইয়া থাকে” (শায়খ মুহাম্মাদ আল-মাদানী, ইতহাফুস সুন্নিয়া ফিল আহাদীছিল কুদসিয়্যা, পৃ. ১৮৭)।
আল্লামা আবুল বাকা তাঁহার 'কুল্লিয়াত' গ্রন্থে লিখিয়াছেন, "কুরআনের শব্দ, ভাষা, অর্থ, ভাব ও কথা সবই আল্লাহ্র নিকট হইতে সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ। আর হাদীছে কুদ্স্সীর শব্দ ও ভাষা রসূলের কিন্তু উহার অর্থ, ভাব ও কথা আল্লাহ্র নিকট হইতে ইলহাম কিংবা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত” (আল-হাদীছ ওয়াল-মুহাদ্দিছুন, পৃ. ১৮)।
আল্লামা তায়্যিবীও এই কথা সমর্থন করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, "কুরআনের শব্দ ও ভাষা লইয়া জিবরাঈল (আ) রাসূলে করীম (স)-এর নিকট নাযিল হইয়াছেন। আর হাদীছে কুদ্স্সীর মূল কথা ইল্হাম বা স্বপ্নযোগে আল্লাহ্ তা'আলা জানাইয়া দিয়াছেন এবং নবী করীম (স) তাঁহার নিজের ভাষায় উম্মতকে তাহা জানাইয়া দিয়াছেন (এইজন্য হাদীছে কুদ্স্সী আল্লাহ্র কথারূপে পরিচিত হইয়াছে), কিন্তু এতদ্ব্যতীত অন্যান্য হাদীছকে আল্লাহ্ কথা বলিয়া প্রচার করেন নাই এবং তাঁহার নামেও সে সবের বর্ণনা করেন নাই (আল-হাদীছ ওয়াল-মুহাদ্দিছুন, পৃ. ১৭; কুল্লিয়াত আবুল বাকা, পৃ. ২৮৮)।
টিকাঃ
১. লিসানুল আরাব, আল-মুফরাদাত ইত্যাদি;
২. বদরুদ্দীন 'আয়নী (র), 'উমদাতুল কারী শারহু সহীহ বুখারী, ১খ., পৃ. ১৪;
৩. শায়খ আবদুল্লাহ্ আস-সারকাবী, ফাতহুল মুবতাদা শারহু মুখতাসার আয-যুবায়দী;
৪. মুসনাদ ইমাম আহমাদ, ৪খ., পৃ. ১৩০-১;
৫. সুনান আবূ দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, বাব ফী লুযূমিস সুন্নাহ, নং ৪৬০৪;
৬. শায়খ মুহাম্মাদ আল-মাদানী, ইতহাফুস সুন্নিয়া ফিল আহাদীছিল কুদসিয়্যা, পৃ. ১৮৭;
৭. আল্লামা আবুল বাকা, কুল্লিয়াত, পৃ. ১৮;
৮. আল্লামা তায়্যিবী, আল-হাদীছ ওয়াল-মুহাদ্দিছুন, পৃ. ১৭।
📄 উপসংহার
"ওহীর সূচনা ও নাযিল হওয়ার পদ্ধতি" প্রসঙ্গে সূদীর্ঘ আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ওহী একটি জীবন্ত মু'জিযা। ইহার শুভ সূচনা ও পরিসমাপ্তি জিব্রাঈল আমীনের মাধ্যমে মুহাম্মাদ মুসতাফা (স)-এর নিকট হইয়াছে। স্থান-কাল-পাত্রভেদে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওহীর অবতরণ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, ইহা মহামহিমান্বিত সুবিজ্ঞ প্রতিপালকের পক্ষ হইতে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে অবতারিত। মহান আল্লাহ্ এই কথা বুঝাইতে চাহিতেছেন যে, মুহাম্মদ (স)-ই পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিলেন না যে, একমাত্র তাঁহার উপরই ওহী নাযিল হইয়াছে, বরং তাঁহার পূর্বে নূহ ('আ), ইব্রাহীম ('আ), মূসা ('আ) ও 'ঈসা ('আ) প্রমুখ নবীদের উপরও এই উদ্দেশ্যে ওহী প্রেরণ করা হইয়াছিল যে, তাঁহারা যেন দীন ইসলামকে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপ নির্দেশ রাসূলুল্লাহ (স) প্রদান করা হইয়াছিল যে, আল্লাহ্র পক্ষ হইতে যাবতীয় আহকাম তিনি যেন মানবজাতির কাছে পৌঁছাইয়া দেন এবং উহা হাতে-কলমে বুঝাইয়া দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে ওহী নাযিলের উদ্দেশ্যকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করেন এবং উহার মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য সূচিত হইতে না দেন।