📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিযকীল (আ)-এর দু'আ

📄 হিযকীল (আ)-এর দু'আ


বাগাবী (র) হযরত মুকাতিল (র) এবং কালবী (র) উভয়ের উদ্ধৃতি উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন যে, "ফেরেশতার ভয়ংকর গর্জনে কওমে হিযকীলের সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছে, এই সংবাদ জানিতে পারিয়া হিযকীল (আ) তাহাদের তালাশে বাহির হইয়া পড়িলেন। অবশেষে তাহাদিগকে মৃত অবস্থায় পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া তিনি খুবই ক্রন্দন করিতে লাগিলেন এবং মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দু'আ করিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতি, যাহারা আপনারই প্রশংসা করে, তাসবীহ পাঠ করে, পবিত্রতা বর্ণনা করে, আপনারই মাহাত্ম্য ঘোষণা করে এবং সর্বদা আপনারই জন্য "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পাঠ করে। আজ আমি একাকী, জাতিকে হারাইয়া আমি জাতিহারা, স্বজনহারা। তারপর আল্লাহ দু'আ কবুল করিলেন এবং ওহী পাঠাইলেন, আমি তাহদিগকে নূতন জীবন দান করিবার দায়িত্ব আপনার উপর ন্যস্ত করিলাম” (বাগাবী, মা'আলিমুত্-তানযীল, ১খ, ২২৪)। ইবনুল আছীর (র) তাঁহার তা'রীখে প্রায় অনুরূপ একটি বর্ণনা উল্লেখ করিয়াছেন (আল-কামিল ফি'ত-তারীখ, ১খ, ২১১)। ইবন জারীর (র) তাঁহার তারীখে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-সহ কতক সাহাবা হইতে বর্ণিত সনদে কওমে হিযকীল-এর পূর্ণ জীবন লাভ প্রসঙ্গে দীর্ঘ একটি হাদীছ উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন, হে হিযকীল! আমি তাহাদিগকে কিভাবে জীবিত করিব তাহা কি তুমি দেখিতে চাও? হিযকীল (আ) আরয করিলেন, হাঁ। তারপর তাঁহাকে আদেশ করা হইল, তুমি উচ্চকণ্ঠে বল, "হে. পুরাতন হাড়সমূহ! মহান আল্লাহ তোমাদিগকে নিজ নিজ স্থানে একত্র হইতে আদেশ করিতেছেন। অতঃপর হাড়সমূহ উড়িয়া যথাস্থানে মিশিয়া গেল এবং উহা দ্বারা দেহ গঠিত হইল। তারপর আবারও ওহী প্রেরণ করিলেন, তুমি হাড়সমূহকে আদেশ কর, হে হাড়সমূহ! নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্দেশ দিতেছেন, তোমরা মাংস ধারণ কর।" হাড়সমূহ মাংস ধারণ করিল, রদা-চামড়ায় সুসজ্জিত হইয়া গেল এবং মৃত্যুকালীন পরিধেয় বস্ত্রাদিতে দেহ আবৃত হইল। পুনরায় তাহাকে আদেশ করা হইল, তুমি দেহগুলিকে লক্ষ্য করিয়া বল, মহান আল্লাহ তোমাদিগকে দাঁড়াইবার আদেশ করিয়াছেন। ইহা উচ্চারিত হইতেই সকলে দাঁড়াইয়া গেল (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ৩২৩)। ইবন কাছীর (র) তাঁহার তাফসীরে আলোচ্য ঘটনটি উল্লেখ করিয়াছেন এবং হাদীছের শেষভাগে আরও বর্ণনা করিয়াছেন যে, " তাহারা সকলেই বলিতে লাগিল: سُبْحَانَكَ لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ "হে আল্লাহ! আপনারই পবিত্রতা বর্ণনা করিতেছি। আপনি ব্যতীত আর কোন মা'বুদ নাই।" পরিশেষে ইবন কাছীর কিছু শিক্ষণীয় বিষয় উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন, মৃতগুলির জীবন্ত করণের এই ঘটনার মধ্যে রহিয়াছে শিক্ষণীয় বিষয় এবং ইহা অকাট্য দলীলও বটে যে, আল্লাহ এইভাবেই কিয়ামতের দিন নির্জীব বিক্ষিপ্ত লাশগুলিকে পূনর্জীবিত করিবেন" (ইবনে কাছীর, তাফসীরুল-কুরআনিল-আজীম, ১খ, ২৯৮)। "হিযকীলের প্লেগে আক্রান্ত হইবার পর উহা হইতে পলায়ন করাটা ছিল আল্লাহর একান্ত অপছন্দীয় কাজ" এই প্রসঙ্গে আস-সুয়ূতী (র) হাকেম-এর সনদে ইবন আব্বাস (রা) হইতে একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করিয়াছেন যে, "নিঃসন্দেহে তাহারা প্লেগ হইতে বাঁচিবার জন্যই বাড়িঘর পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করিয়াছিল। তাহাদের এই পলায়ন করাটা আল্লাহর নিকটে খুবই অপছন্দীয় কাজ ছিল" (আস-সুয়ূতী, আল-ইক্লীল ফী ইস্তিস্বাতীত্-তানযীল, পৃ. ৪৪)। এই প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ রহিয়াছে যে, পলায়ন সম্পর্কিত ঘটনাটি ইহাই প্রমাণ করে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্লেগ হইতে এই পলায়নকে অপছন্দ করিয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন: قُلْ لَنْ يُنْفَعُكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنَ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ . "আপনি বুলিয়া দিন, তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর তবে নিশ্চিতভাবে জানিয়া রাখ যে, পলায়ন তোমাদের কখনও উপকার করিতে পারিবে না" (জা'ফর আহমাদ আল-উছমানী, মা আফাদাহু আলায-যান আহকামুল-কুরআন, ১খ, ৬৩৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নবজীবন লাভের পর কওমে হিযকীলের স্বজাতির কাছে প্রত্যাবর্তন

📄 নবজীবন লাভের পর কওমে হিযকীলের স্বজাতির কাছে প্রত্যাবর্তন


ইবনুল আছীর তাঁহার তারীখে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন যে, অতঃপর তাহারা সকলেই জীবিত অবস্থায় স্বজাতির কাছে প্রত্যাবর্তন করিল। সকলেই ভালভাবে জানিল যে, তাহারা মৃত অবস্থায় ছিল। তাহাদের মুখমণ্ডলে মৃত্যুর বিশেষ চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তাহারা যখনই কোন কাপড় পরিধান করিত তখনই উক্ত পরিধেয় বস্ত্র জীর্ণ কাফনের কাপড়ে পরিণত হইয়া যাইত (ইবনুল আছীর, আল-কামিল, ১খ, ২১১)। ইবনে কাছীর (র) তাহাদের জীবন যাপনের পর নিজ নিজ নির্ধারিত মৃত্যু দিবসে মৃত হওয়া প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন যে, “তাহারা সকলেই জীবিত অবস্থায় তাহাদের জাতির নিকটে প্রত্যাবর্তন করিল। সকলেই জানিল যে, তাহারা সকলে মৃত ছিল, মুখমণ্ডলে মৃত্যুর চিহ্ন বিদ্যমান ছিল, এমনকি তাহারা সকলেই তাহাদের নিজ নিজ মৃত্যু দিবসে ইন্তিকাল করিয়াছিল (ইবনে কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ, ৪)। "স্বাভাবিক জীবন যাপনে তাহাদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়িতেই লাগিল" এই প্রসঙ্গে ইবন জারীর (র) তাঁহার তাফসীরের (৩৬৮ পৃ.) আমর ইবন দীনারের সনদে একটি হাদীছ উল্লেখ করিয়াছেন যে, "তাহারা সকলে তাহাদের আবাসভূমিতে ফিরিয়া আসিল এবং দিনে দিনে তাহাদের সংখ্যা বাড়িয়াই চলিল। এমনকি একদল অপর দলকে বলাবলি করিতে লাগিল, তোমরা কাহারা? তোমরা কাহারা?" (আত-তাবারী, তাফসীর, ২খ, ২৬৮)। তাহাদের সন্তানাদি জন্মগ্রহণ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত হইয়াছে যে, "অতঃপর তাহারা স্বীয় আবাসভূমিতে প্রত্যাবর্তন করিল এবং বংশ-পরম্পরায় তাহাদের সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করিতে লাগিল" (মুজাহিদ ইবনে জাবর আত্-তাবিঈ, তাফসীর মুজাহিদ, ১খ, ১১৩)। কওমে হিযকীলের পরবর্তী জীবন যাপন ও বিবাহ-শাদী প্রসঙ্গে আত-তাবারী (র) তাঁহার তাফসীরে উল্লেখ করিয়াছেন যে, "আল্লাহ তাহাদিগকে তাহাদের আবাসভূমিতে ফিরাইয়া দিলেন। তাহারা বাড়িঘরে বসবাস, খাওয়া-দাওয়া এবং বিবাহ শাদী করিয়া স্বাভাবিক জীবন যাপন করিতে লাগিল। তারপর নির্ধারিত সময়ে তাহাদের মৃত্যু হইল" (আশ-শায়খ আবূ আলী, আত্-তাবারসী, মাজমাউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন, ১খ, ৬০৬)। "ব্যবহারিক পোশাক পরিচ্ছদ এবং তাহাদের চেহারা হরিদ্রা বর্ণ হইয়া গিয়াছিল", এই প্রসঙ্গে আস-সাবী তাঁহার তাফসীরে উল্লেখ করিয়াছেন যে, "অতঃপর তাহাদের সকলের চেহারা মৃত্যুর প্রভাবে হারিদ্রা বর্ণ হইয়া গিয়াছিল এবং তাহারা যখন কোন পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করিত তৎক্ষণাত উহা কাফনের কাপড়ে পরিবর্তিত হইয়া যাইত এবং এই অবস্থা তাহাদের বংশ-পরম্পরায় বিদ্যমান ছিল" (আস-সাবী, হাশিয়াতুস-সাবী আলা তাফসীরিল জালালায়ন, ১খ, ১০৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত হিযকীল (আ)-এর ইনতিকাল এবং নূতন নবীর আবির্ভাব

📄 হযরত হিযকীল (আ)-এর ইনতিকাল এবং নূতন নবীর আবির্ভাব


ইবন জারীর (র), ইবন কাছীর এবং ইবনুল আছীর (র) সকলেই তাঁহাদের তারীখের কিতাবে উল্লেখ করিয়াছেন যে, হযরত হিযকীল (আ) কত বৎসর জীবিত ছিলেন তাহার কোন উল্লেখ নাই। তাঁহার ইন্তিকালের পরে বনী ইসরাঈল তাহাদের প্রতি মহান আল্লাহ প্রদত্ত অঙ্গীকারসমূহ ক্রমশ ভুলিয়া যাইতে থাকে। অবশেষে সকলেই 'বা'ল' নামীয় মূর্তির পূজা আরম্ভ করিয়াছিল। পরিশেষে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত ইলয়াস ইবন য়ামীন (আ)-কে নবী হিসাবে প্রেরণ করিয়াছিলেন। (আত-তাবারী, তা'রীখ, ১খ, ৩২৪, ৩২৫; ইবন কাছীর, আল-বিদায়া, ২খ, ৪; ইবনুল-আছীর, আল-কামিল, ১খ, ২১১,২১২)। আছ-ছা'লাবী তাঁহার 'কাসাসুল আম্বিয়া'-য় হযরত হিযকীল (আ)-এর ইন্তিকাল প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করিয়াছেন : "তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান ও ঈমানদার ব্যক্তি। যাদুকরদের উপর হযরত মূসা (আ)-এর বিজয়ী হইবার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁহার ঈমান গোপন করিয়াছিলেন। যখন ঈমান প্রকাশ করিলেন তখন তাহাকে হযরত মূসা (আ)-এর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের সাথে শূলিবিদ্ধ করিয়া হত্যা করা হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি এই আয়াতের উল্লেখ করিয়াছেন: وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيْمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَتِ مِنْ رَبِّكُمْ وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ وَإِنْ يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كذاب . "ফিরআওন গোত্রের এক মু'মিন ব্যক্তি, যে তাহার ঈমান গোপন রাখিত, সে বলিল, তোমর। কি একজনকে এইজন্যই হত্যা করিবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ? অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট হইতে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করিয়াছে। যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তাহার মিথ্যা তাহার উপরই চাপিবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলিয়াছে, তাহার কিছু না কিছু তোমাদের উপরে পড়িবেই" (৪০ : ২৮; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২০১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিযকীল (আ)-এর স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি

📄 হিযকীল (আ)-এর স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি


হিযকীল (আ)-এর স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি সম্পর্কে প্রামাণ্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক এবং তাফসীর গ্রন্থে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। তবে ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা-তে তাহার স্ত্রীর ইন্তিকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত একত্রে অবস্থান সম্পর্কীয় সামান্য বর্ণনা পাওয়া যায়, "জেরুসালেমের প্রথম আত্মসমর্পণের পূর্বে হিযকীল (আ) ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালন করিতেন এবং "জেরুসালেম গির্জার" অন্যতম কর্মচারী ছিলেন। খৃ. পৃ. ৫৯৭ সালে ব্যবিলনে যাহাদিগকে নির্বাসিত করা হইয়াছিল তিনি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তিনি তেলআবিব এলাকার নিপুর-এর কাছাকাছি কেবার (KEBAR) নদীতীরের একজন বসবাসকারী ছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাহার সাথে নিজ বাড়িতে অবস্থান করিয়াছিলেন। তাহার অনুসারী একজাইল (EXILES), যিনি খুব প্রসিদ্ধ ছিলেন না, তাহার দাবি অনুসারে হিযকীল (আ) পেশার দিক হইতে ছিলেন নবী ও ধর্মপ্রচারক (PROPHET-PRIEST) [ENCYCLOPEDIA BRITANNICA, MACROPEDIA KNOWLEDGE IN DEPTH, 15 TH EDITION, 1768, VOLL 7, EZEKIEL CHAPTER, P. 127]। আছ-ছা'লাবী (র) তাঁহার "কাসাসুল আম্বিয়া" গ্রন্থের ১১তম অধ্যায়ের "ফী কিস্সাতি হিযকীল মু'মিন আলু ফিরআওনা ওয়া ইমরআতিহী...." শিরোনামে তাঁহার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের ফিরআওন কর্তৃক হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন যে, 'হিযকীল পরিবার ফিরআওন কন্যাদের সেবিকা ও চুলের পরিপাটিকারিনী ছিলেন। এই প্রসঙ্গে সাঈদ ইবন জুবায়র (র) ইবন আব্বাস (রা) হইতে একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করিয়াছেন যে, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মি'রাজের রাত্রে আমি যখন সৌরভ ও সুগন্ধময় স্থান দিয়া অতিক্রম করিতেছিলাম তখন জিবরাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কিসের সুগন্ধ? উত্তরে বলিলেন, ইহা ফিরআওন পরিবারের মহিলাদের কেশ বিন্যাসকারিনী ও তাহার সন্তানদের সৌরভ। একদিন ফিরআওন কন্যার চুল বিন্যাসের সময় হঠাৎ করিয়া ঐ মহিলার হাত হইতে চিরুনী পড়িয়া যায়। উহা উঠানোর সময় তিনি বিস্মিল্লাহ উচ্চারণ করা মাত্রই ফিরআওন কন্যা বলিয়া উঠিল, আমার পিতার নাম উচ্চারণ কর। তখন হিযকীল (আ)-এর স্ত্রী বলিলেন, "না, বরং যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমার পিতার প্রতিপালক তাহার নামে"। ফিরআওন কন্যা বলিল, তোমার এই ব্যাপারটি আমি আমার পিতাকে অবশ্যই অবহিত করিব। ফিরআওন উক্ত ঘটনা জানিতে পারিয়া হিযকীলের স্ত্রী ও তাহার সন্তানদিগকে ডাকাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, "তোমাদের প্রতিপালক কে? উত্তরে হিযকীল (আ)-এর স্ত্রী বলিলেন, "নিশ্চয় আমার প্রতিপালক এবং আপনারও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ"। তখন ফিরআওন পিতলের চুল্লিতে আগুন প্রজ্জ্বলিত করিতে আদেশ করিল। আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হইল এবং ভীষণ উত্তপ্ত হইয়া উঠিলে সন্তানাদিসহ তাঁহাকে আগুনে নিক্ষেপ করার আদেশ করা হইল। অতঃপর তিনি ফিরআওনকে বলিলেন, "তোমার কাছে আমাদের একটি দাবি আছে।" সে বলিল, সেটা কি? উত্তরে বলিলেন, "আমাদের অস্থিসমূহ দাফন করিয়া দিবে। ফিরআওন বলিল, তোমাদের জন্য ইহা করা আমার কর্তব্য। তারপর ফিরআওন-এর নির্দেশে একজন একজন করিয়া হিযকীল (আ)-এর সন্তানদিগকে প্রজ্জ্বলিত আগুনে নিক্ষেপ করা হইল। অবশেষে সবচেয়ে ছোট দুধের শিশুটি বলিয়া উঠিল : اصبري يا أماه فأنك على الحق . "হে আম্মাজান! আপনি ধৈর্যধারণ করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত"। তারপর এই ছোট্ট দুধের শিশুটিসহ তাহাকে চুল্লিতে নিক্ষেপ করা হইল। রাবী বলেন, যাহারা মায়ের কোলে কথা বলিয়াছিলেন তাহাদের সম্বন্ধে ইবন আব্বাস (রা) কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল। ইবন আব্বাস (রা) উত্তর করিলেন, "মায়ের কোলে থাকাকালীন চারজন শিশু কথা বলিয়াছিল, ঈসা ইবন মারয়াম, ইউসুফ (আ)-এর পক্ষে সাক্ষ্যদানকারী শিশুটি, জুরায়জ-এর সঙ্গী শিশুটি এবং এই শিশুটি। (আছ-ছালাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া..., পৃ. ২০১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00