📄 ৯. আস ইব্ন ওয়াইল আস-সাহমী
লোকটি ছিল সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আসের পিতা। নবী করীম (স)-কে এই ব্যক্তি সর্বদা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করিত। মহানবী (স)-এর পুত্র সন্তানগণ তাঁহার জীবদ্দশায় ইনতিকাল করায় সে মন্তব্য করে, ان محمدا ابتر لا يعيش له ولد "মুহাম্মাদ 'আবতার' অর্থাৎ আটকুড়া। তাঁহার কোন পুত্রই বাঁচে না।” তাহার এরূপ কটাক্ষপাতের জবাবেই সূরা কাওছার নাযিল হয়, যাহাতে এই আয়াতটিও রহিয়াছে: إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ. "তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই আটকুড়া বা নির্বংশ" (১০৮:৩)।
কাফিররা ভাবিয়াছিল, মুহাম্মাদ (স)-এর যেহেতু কোন পুত্রসন্তানই নাই, তাই তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার আদর্শেরও স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটিবে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেল, তাঁহার অগণিত ভক্ত অনুরক্ত তাঁহার দীনের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর মদীনায় হিজরতের এক মাস পর কোন বিষাক্ত কীটের দংশনে আস ইন্ন ওয়াইলের পা ফুলিয়া উটের ঘাড়ের মত হইয়া উঠে এবং ইহার ফলেই তাহার জীবনাবসান ঘটে।
📄 ১০. ও ১১. নুবায়হ ও মুনাব্বিহ
ইহারা ছিল দুই সহোদর। তাহাদের পিতার নাম ছিল হাজ্জাজ। ইহারাও ছিল আল্লাহ্ নবীর প্রাণের শত্রু। যখনই নবী করীম (স)-কে দেখিতে পাইত তখনই দুই ভাই তাঁহাকে বিদ্রূপ করিয়া বলিত, বাহ্! রসূল বানাইবার জন্য ইনি ছাড়া আল্লাহ বুঝি আর কাহাকেও খুঁজিয়া পাইলেন না! বদর যুদ্ধে এই দুই হতভাগাও নিহত হয়।
📄 ১২. আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব
আসওয়াদ, তাহার বন্ধুবান্ধব ও সহচররা যখনই নবী করীম (স)-কে দেখিতে পাইত, তখনই চক্ষু টিপিয়া ইশারা করিত এবং তাঁহাকে শুনাইয়া বলিত, ঐযে! ঐ ব্যক্তিই গোটা পৃথিবীর রাজত্বের অধিকারী হইবেন, রোম সম্রাট কায়সার এবং ইরান সম্রাট কিসরার রাজকোষ দখল করিবেন। এরূপ বিদ্রূপাত্মক বাক্যবাণ প্রয়োগের সাথে সাথে তাঁহাকে লক্ষ্য করিয়া শিশ এবং হাততালি দিত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অন্ধ করিয়া দেওয়ার এবং তাহার পুত্রের মৃত্যুর বদু'আ করেন। সত্যসত্যই আসওয়াদ অন্ধত্ববরণ করে এবং তাহার পুত্র বদর যুদ্ধে নিহত হয়। কুরায়শরা যখন উহুদ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিল তখন আসওয়াদ মৃত্যুশয্যায়। কিন্তু ঐ মৃত্যুশয্যা হইতেও সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে স্বগোত্রকে যুদ্ধের উস্কানী দিয়া যাইতেছিল। কিন্তু উহুদ যুদ্ধের পূর্বেই তাহার মৃত্যু হয়।
📄 ১৩. আসওয়াদ ইব্ন আবদে ইয়াগৃছ
সম্পর্কে লোকটি ছিল নবী করীম (স)-এর মামাতো ভাই। তাহার পিতা আবদে ইয়াগুছ ছিলেন মা-আমিনার আপন ভাই। কিন্তু এতদসত্ত্বেও আসওয়াদ নবী করীম (স)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের অন্যতম ছিল। সে যখনই দরিদ্র মুসলমানদিগকে দেখতি পাইত, তখন বিদ্রুপ করিয়া বলিত, ঐ ব্যক্তিরাই হইবে গোটা পৃথিবীর বাদশাহ, কিসরা কায়সারের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী! মহানবী (স)-কে দেখামাত্র উপহাস করিয়া বলিত, 'আচ্ছা, আজ ঊর্ধাকাশ হইতে কোন খবর আসে নাই?' এরূপ বিদ্রূপবার্ণে সে সর্বদা তাঁহাকে জর্জরিত করিত।