📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ৭. আবূ কায়স ইনুল ফাকিহ

📄 ৭. আবূ কায়স ইনুল ফাকিহ


এই হতভাগাও সর্বদা মহানবী (স)-কে কষ্ট দিত। সে ছিল আবূ জাহলের বিশিষ্ট সহযোগী। বদর যুদ্ধকালে হযরত হামযা (রা)-এর হস্তে সে নিহত হয়।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ৮. নযর ইন্ন হারিছ

📄 ৮. নযর ইন্ন হারিছ


নযর ইবন হারিছ ছিল কুরায়শদের অন্যতম সর্দার। ব্যবসা ব্যাপদেশে সে পারস্যে গমন করিত এবং পারস্যের বাদশাহগণের ইতিহাস ও কিস্সা-কাহিনী সংগ্রহ করিয়া লইয়া আসিত। সে তাহা কুরায়শদিগকে শুনাইত এবং বলিত, মুহাম্মাদ তোমাদিগকে আদ ও ছামূদ জাতির ইতিহাস শোনান, আর আমি তোমাদিগকে রুস্তম, ইসফেন্দিয়ার ও পারস্য সম্রাটদের কাহিনী শোনাই। লোকজন ঐসব কিস্সা-কাহিনী আগ্রহের সহিত শুনিত এবং উপভোগ করিত। এইগুলি তাহাদিগকে কুরআন শ্রবণ করিতে বিরত রাখিত।
ঐ হতভাগা একটি নর্তকী গায়িকাও ক্রয় করিয়া রাখিয়াছিল। সে তাহার মাধ্যমে লোকজনকে গান শোনাইত ও নাচ দেখাইত। সে যখনই কোন ব্যক্তি সম্পর্কে জানিতে পারিত যে, সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছে, তাহার কাছেই উপস্থিত হইয়া বলিত, ইহাকে আহার্য ও পানীয় দাও এবং তাহার নাচগান উপভোগ কর। তারপর নর্তকীর নাচগানের পর সে বলিত, বল দেখি, আমার এই নর্তকীর নাচগান উত্তম, নাকি মুহাম্মাদের ঐসব কথা উত্তম যাহাতে তিনি বলেন, নামায পড়, রোযা রাখ, আল্লাহ্র দুশমনদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর। তাহার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নাযিল হয়: وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِى لَهْوَ الْحَدِيْثَ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِيْنٌ. وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ أَيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِيْ أُذْنَيْهِ وَقْرَأَ فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ “মানুষের মধ্যে কেহ কেহ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ হইতে বিচ্যুত করিবার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করিয়া লয় এবং আল্লাহ্-প্রদর্শিত পথ লইয়া ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। উহাদেরই জন্য রহিয়াছে অবমাননাকর শাস্তি। যখন উহার নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরাইয়া লয় যেন সে ইহা শুনিতে পায় নাই, যেন উহার কর্ণ দুইটি বধির। অতএব ইহাদিগকে মর্মন্তুদ শান্তির সংবাদ দাও” (৩১ঃ ৬-৭)।
বলা বাহুল্য, আহার্য ও পানীয় দান এবং নর্তকীদের নাচগানের দ্বারা প্রলুব্ধ করিয়া নিজেদের ধর্মের দিকে আহ্বান করা বাতিলপন্থীদের পুরাতন রীতি। বিশেষত খৃস্টানরা এই ব্যাপারে অত্যন্ত সক্রিয়। তাহাদের দেখাদেখি ভারতের আর্যসমাজীদের মধ্যেও এই রীতি প্রচলিত রহিয়াছে। কিন্তু আল্লাহ যাহাদিগকে বিবেক-বুদ্ধি দান করিয়াছেন, তাহারা উপলব্ধি করিতে পারেন যে, ইহা আল্লাহ্ওয়ালাদের নহে, উহা হইতেছে প্রবৃত্তি পূজারীদের অনুসৃত রীতি। সাহায্যের প্রলোভন দিয়া যাহারা ঈমান ক্রয়ের এরূপ অপচেষ্টা চালায়, তাহাদের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিই উক্ত আয়াতসমূহ নাযিলের উদ্দেশ্য।
নযর ইবন হারিছ বদর যুদ্ধে বন্দী হয় এবং রসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে হযরত আলী (রা) তাহাকে নিধন করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ৯. আস ইব্‌ন ওয়াইল আস-সাহমী

📄 ৯. আস ইব্‌ন ওয়াইল আস-সাহমী


লোকটি ছিল সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আসের পিতা। নবী করীম (স)-কে এই ব্যক্তি সর্বদা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করিত। মহানবী (স)-এর পুত্র সন্তানগণ তাঁহার জীবদ্দশায় ইনতিকাল করায় সে মন্তব্য করে, ان محمدا ابتر لا يعيش له ولد "মুহাম্মাদ 'আবতার' অর্থাৎ আটকুড়া। তাঁহার কোন পুত্রই বাঁচে না।” তাহার এরূপ কটাক্ষপাতের জবাবেই সূরা কাওছার নাযিল হয়, যাহাতে এই আয়াতটিও রহিয়াছে: إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ. "তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই আটকুড়া বা নির্বংশ" (১০৮:৩)।
কাফিররা ভাবিয়াছিল, মুহাম্মাদ (স)-এর যেহেতু কোন পুত্রসন্তানই নাই, তাই তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার আদর্শেরও স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটিবে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেল, তাঁহার অগণিত ভক্ত অনুরক্ত তাঁহার দীনের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর মদীনায় হিজরতের এক মাস পর কোন বিষাক্ত কীটের দংশনে আস ইন্ন ওয়াইলের পা ফুলিয়া উটের ঘাড়ের মত হইয়া উঠে এবং ইহার ফলেই তাহার জীবনাবসান ঘটে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ১০. ও ১১. নুবায়হ ও মুনাব্বিহ

📄 ১০. ও ১১. নুবায়হ ও মুনাব্বিহ


ইহারা ছিল দুই সহোদর। তাহাদের পিতার নাম ছিল হাজ্জাজ। ইহারাও ছিল আল্লাহ্ নবীর প্রাণের শত্রু। যখনই নবী করীম (স)-কে দেখিতে পাইত তখনই দুই ভাই তাঁহাকে বিদ্রূপ করিয়া বলিত, বাহ্! রসূল বানাইবার জন্য ইনি ছাড়া আল্লাহ বুঝি আর কাহাকেও খুঁজিয়া পাইলেন না! বদর যুদ্ধে এই দুই হতভাগাও নিহত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00