📄 আবু তালিবের নিকট ইসলাম প্রকাশ
ইবন ইসহাক বলেন, যখন নামাযের সময় হইত, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কার কোন উপত্যকায় চলিয়া যাইতেন। হযরত আলী (রা) তাঁহার পিতা আবু তালিব, তাঁহার অন্যান্য চাচা ও সমগ্র গোত্রের অগোচরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত গিয়া মিলিত হইতেন এবং সেখানেই উভয়ে নামায পড়িতেন। আর সন্ধ্যা হইলে তাঁহারা ফিরিয়া আসিতেন। একদিন আবূ তালিব তাঁহাদেরকে নামাযরত অবস্থায় দেখিয়া ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যাহা অবলম্বন করিয়াছ, ইহা কোন দীন”? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
أى عم هذا دين الله ودين ملائكته ودين رسله ودين ابينا إبراهيم أوكما قال صلى الله عليه وسلم بعثني الله به رسولا الى العباد وانت أى عم احق من نزلت له النصيحة ودعوته الى الهدى واحق من اجابني اليه وأعانني عليه او كما قال.
“হে চাচা! ইহা আল্লাহ্ দীন এবং তাঁহার ফেরেশতা, তাঁহার রাসূলগণ ও আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দীন। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এই দীনের রাসূল হিসাবে মনোনীত করিয়া মানবজাতির নিকট প্রেরণ করিয়াছেন। হে চাচা! যাহাদের আমি কল্যাণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছি এবং যাহাদেরকে আমি সত্য পথের প্রতি দাওয়াত দিয়া'ছি, ইহাদের মধ্যে আপনিই আমার এই দাওয়াত গ্রহণ করিবার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি। আর আমাকে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও আপনিই অধিক হকদার।"
আবূ তালিব বলিলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! পূর্বপুরুষরা যে দীনের অনুসারী ছিলেন আমি তো তাহা ছাড়িতে পারি না। তবে আল্লাহ্ শপথ করিয়া বলিতেছি, "যে পর্যন্ত আমি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকিব, সে পর্যন্ত তোমার নিকট অমূলক কিছু পৌঁছিতে পারিবে না।" অতঃপর তিনি হযরত আলী (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, "হে প্রিয়তম পুত্র! তুমি যে দীনের উপর রহিয়াছ ইহা কোন দীন?" আলী (রা) বলিলেন,
يَا أَبَتِ آمَنْتُ بِاللهِ وَبِرَسُوْلِ اللهِ وَصَدَّقْتُهُ بِمَا جَاءَ بِهِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ للهِ وَاتَّبَعْتُهُ.
“হে পিতা! আমি তো আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-এর প্রতি ঈমান আনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ্ (স) যাহা নিয়া আসিয়াছেন তাহা আমি সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, তাঁহার সহিত নামায পড়িয়াছি এবং তাঁহার অনুগামী হইয়াছি।" আবু তালিব আলী (রা)-কে বলিলেন,
اما ان لم يدعك الا الى خير فالزمه.
"শোন! তিনি তোমাকে কল্যাণের পথেই দাওয়াত দিয়াছেন। সুতরাং ইহাতেই অটল থাক"।
ইবন ইসহাক বলেন, যখন নামাযের সময় হইত, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কার কোন উপত্যকায় চলিয়া যাইতেন। হযরত আলী (রা) তাঁহার পিতা আবু তালিব, তাঁহার অন্যান্য চাচা ও সমগ্র গোত্রের অগোচরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত গিয়া মিলিত হইতেন এবং সেখানেই উভয়ে নামায পড়িতেন। আর সন্ধ্যা হইলে তাঁহারা ফিরিয়া আসিতেন। একদিন আবূ তালিব তাঁহাদেরকে নামাযরত অবস্থায় দেখিয়া ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যাহা অবলম্বন করিয়াছ, ইহা কোন দীন”? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
أى عم هذا دين الله ودين ملائكته ودين رسله ودين ابينا إبراهيم أوكما قال صلى الله عليه وسلم بعثني الله به رسولا الى العباد وانت أى عم احق من نزلت له النصيحة ودعوته الى الهدى واحق من اجابني اليه وأعانني عليه او كما قال.
“হে চাচা! ইহা আল্লাহ্ দীন এবং তাঁহার ফেরেশতা, তাঁহার রাসূলগণ ও আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দীন। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এই দীনের রাসূল হিসাবে মনোনীত করিয়া মানবজাতির নিকট প্রেরণ করিয়াছেন। হে চাচা! যাহাদের আমি কল্যাণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছি এবং যাহাদেরকে আমি সত্য পথের প্রতি দাওয়াত দিয়া'ছি, ইহাদের মধ্যে আপনিই আমার এই দাওয়াত গ্রহণ করিবার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি। আর আমাকে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও আপনিই অধিক হকদার।"
আবূ তালিব বলিলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! পূর্বপুরুষরা যে দীনের অনুসারী ছিলেন আমি তো তাহা ছাড়িতে পারি না। তবে আল্লাহ্ শপথ করিয়া বলিতেছি, "যে পর্যন্ত আমি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকিব, সে পর্যন্ত তোমার নিকট অমূলক কিছু পৌঁছিতে পারিবে না।" অতঃপর তিনি হযরত আলী (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, "হে প্রিয়তম পুত্র! তুমি যে দীনের উপর রহিয়াছ ইহা কোন দীন?" আলী (রা) বলিলেন,
يَا أَبَتِ آمَنْتُ بِاللهِ وَبِرَسُوْلِ اللهِ وَصَدَّقْتُهُ بِمَا جَاءَ بِهِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ للهِ وَاتَّبَعْتُهُ.
“হে পিতা! আমি তো আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-এর প্রতি ঈমান আনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ্ (স) যাহা নিয়া আসিয়াছেন তাহা আমি সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, তাঁহার সহিত নামায পড়িয়াছি এবং তাঁহার অনুগামী হইয়াছি।" আবু তালিব আলী (রা)-কে বলিলেন,
اما ان لم يدعك الا الى خير فالزمه.
"শোন! তিনি তোমাকে কল্যাণের পথেই দাওয়াত দিয়াছেন। সুতরাং ইহাতেই অটল থাক"।
📄 হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ ইবনুল আস (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন যে, আগুনের গভীর এক গর্তের প্রান্তে তিনি দাঁড়াইয়া আছেন। আর তাঁহার পিতা তাঁহাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিতে উদ্যত। হঠাৎ তিনি দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে আসিয়া তাঁহার কোমর ধরিয়া তাঁহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তিনি ঘুম হইতে ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া জাগিয়া উঠলেন। আর বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! এই স্বপ্ন সত্য। অতঃপর তিনি হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর নিকট আসিয়া এই স্বপ্নের আদ্যোপান্ত জানাইলেন। আবূ বাক্স (রা) বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কল্যাণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন। তিনি (মুহাম্মাদ স) আল্লাহ্র রাসূল। আর তুমি অচিরেই তাঁহার অনুগামী হইবে এবং তাঁহার সহিত ইসলামে দীক্ষিত হইবে। ইসলামই তোমাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। কিন্তু তোমার পিতা প্রায় আগুনে পড়িয়াই গিয়াছে। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কিসের দাওয়াত দিয়া থাকেন? তিনি বলিলেন:
ادعوك الى الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وتخلع ما أنت عليه من عبادة حجر لا يسمع ولا يضر ولا يبصر ولا ينفع ولا يدرى من عبده ممن لا يعبده.
“আমি তোমাকে আল্লাহ্র প্রতি আহবান করিতেছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁহার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র রাসূল ও তাঁহার বান্দা। তুমি যে পাথরের তৈরী প্রতিমার পূজা কর তাহা ছাড়িয়া দাও। তাহা কোন কিছু শুনিতে অক্ষম, কোন কিছু দেখিতে অক্ষম, কাহারো কোন ক্ষতি বা উপকার করিতে অক্ষম। আর সে জানে না কে তাহার পূজা করিতেছে, আর কে তাহার পূজা করিতেছে না।"
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) বলেন, তখন আমি বলিলাম,
اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহ্র রাসূল"। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার ইসলাম গ্রহণে খুশী হইলেন। ইহার পর খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) আত্মগোপন করিয়া থাকিলেন। যখন তাঁহার পিতা তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কথা জানিতে পারিল, তখন তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিয়া প্রহার করিল এবং প্রহারের আঘাতে তাঁহার মাথা ফাটাইয়া দিল, আর বলিল, আল্লাহ্র শপথ! 'আমি তোর আহারাদি বন্ধ করিয়া দিব।' খালিদ (রা) বলিলেন, 'তুমি আমার পানাহার যদি বন্ধও করিয়া দাও, তাহা হইতে আল্লাহই আমাকে আমার রিযিক দান করিবেন, যাহার দ্বারা আমার জীবন নির্বাহ করিব।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে সম্মান করিতেন এবং তিনি তাঁহার সঙ্গে থাকিতেন।
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন যে, আগুনের গভীর এক গর্তের প্রান্তে তিনি দাঁড়াইয়া আছেন। আর তাঁহার পিতা তাঁহাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিতে উদ্যত। হঠাৎ তিনি দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে আসিয়া তাঁহার কোমর ধরিয়া তাঁহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তিনি ঘুম হইতে ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া জাগিয়া উঠলেন। আর বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! এই স্বপ্ন সত্য। অতঃপর তিনি হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর নিকট আসিয়া এই স্বপ্নের আদ্যোপান্ত জানাইলেন। আবূ বাক্স (রা) বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কল্যাণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন। তিনি (মুহাম্মাদ স) আল্লাহ্র রাসূল। আর তুমি অচিরেই তাঁহার অনুগামী হইবে এবং তাঁহার সহিত ইসলামে দীক্ষিত হইবে। ইসলামই তোমাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। কিন্তু তোমার পিতা প্রায় আগুনে পড়িয়াই গিয়াছে। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কিসের দাওয়াত দিয়া থাকেন? তিনি বলিলেন:
ادعوك الى الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وتخلع ما أنت عليه من عبادة حجر لا يسمع ولا يضر ولا يبصر ولا ينفع ولا يدرى من عبده ممن لا يعبده.
“আমি তোমাকে আল্লাহ্র প্রতি আহবান করিতেছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁহার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র রাসূল ও তাঁহার বান্দা। তুমি যে পাথরের তৈরী প্রতিমার পূজা কর তাহা ছাড়িয়া দাও। তাহা কোন কিছু শুনিতে অক্ষম, কোন কিছু দেখিতে অক্ষম, কাহারো কোন ক্ষতি বা উপকার করিতে অক্ষম। আর সে জানে না কে তাহার পূজা করিতেছে, আর কে তাহার পূজা করিতেছে না।"
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) বলেন, তখন আমি বলিলাম,
اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহ্র রাসূল"। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার ইসলাম গ্রহণে খুশী হইলেন। ইহার পর খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) আত্মগোপন করিয়া থাকিলেন। যখন তাঁহার পিতা তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কথা জানিতে পারিল, তখন তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিয়া প্রহার করিল এবং প্রহারের আঘাতে তাঁহার মাথা ফাটাইয়া দিল, আর বলিল, আল্লাহ্র শপথ! 'আমি তোর আহারাদি বন্ধ করিয়া দিব।' খালিদ (রা) বলিলেন, 'তুমি আমার পানাহার যদি বন্ধও করিয়া দাও, তাহা হইতে আল্লাহই আমাকে আমার রিযিক দান করিবেন, যাহার দ্বারা আমার জীবন নির্বাহ করিব।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে সম্মান করিতেন এবং তিনি তাঁহার সঙ্গে থাকিতেন।
📄 হযরত যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর যায়দ ইব্ন হারিছা ইব্ন শুরাবীল ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর ক্রীতদাস ছিলেন, পরে তাঁহাকে মুক্ত করেন। হযরত যায়দ (রা)-এর মা ছিলেন সু'দা বিন্তে ছা'লাবা। যায়দ (রা)-এর বয়স যখন ৮ বৎসর, তখন তাঁহার মা তাহাকে নিয়া আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতে বাহির হন। পথে তাঁহারা দুস্যদের কবলে পড়েন এবং যায়দ (রা)-এর মা তাঁহাকে হারান। দস্যুরা যায়দ (রা)-কে আরবের হুবাশা নামক বাজারে বিক্রয় করিয়া দেয়। হাকীম ইব্ন হিযাম ইব্ন খুওয়ায়লিদ একবার শাম দেশ হইতে কিছু গোলাম খরীদ করিয়া আনেন। ইহাদের মধ্যে অল্প বয়স্ক যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-ও ছিলেন। হযরত খাদীজা (রা) হাকীম ইব্ন হিযামের ফুফু ছিলেন। তিনি তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্রের সহিত সাক্ষাত করিতে গেলে হাকীম বলেন, ফুফুজান! এই গোলামদের মধ্যে যাহাকে আপনার পছন্দ হয়, তাহাকে নিয়া যান। হযরত খাদীজা (রা) যায়দ (রা)-কে পছন্দ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) হযরত খাদীজা (রা)-এর নিকট যায়দ (রা)-কে দেখিলেন এবং যায়দ (রা)-কে খাদীজা (রা)-এর নিকট চাহিলেন। তখন হযরত খাদীজা (রা) যায়দ (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অর্পণ করেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে আযাদ করিয়া তাহাকে পোষ্য পুত্ররূপে নির্ধারণ করেন। এই ঘটনা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি ওহী নাযিলের পূর্বেকার।
হযরত যায়দ (রা)-এর পিতা হারিছা তাহার সন্তান (যায়দ)-কে দুর্বৃত্তরা ছিনাইয়া নেওয়ার ফলে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং অনেক অশ্রুপাত করিয়া নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন,
بكيت على زيد ولم ادر ما فعل - احي فيرجى ام اتى دونه الاجل. فوالله ما ادرى واني لسائل - اغا لك بعدى السهل ام غالك الجبل. وياليت شعري هل لك الدحراً - وبة فحسبى من الدنيا رجوعك لي بجل.
تذكرنيه الشمس عند طلوعها وتعرض ذكراه اذا غربها أفل. وان هبت الارواح هيجن ذكره فياطول ما حزني عليه وما وجل. سأعمل نص العيس في الأرض جاهدا ولا اسام التطواف أو تسام الابل. حیاتي او تأتي على منيتي فكل امریء فان وان غره الأمل.
“যায়দের জন্য আমি কত যে কাঁদিয়াছি! কিন্তু জানি না তাহার কি হইয়াছে! সে কি জীবিত আছে যে, তাহার জন্য কোন প্রত্যাশা করা যাইবে, নাকি মৃত্যু তাহার পথের প্রতিবন্ধক হইয়াছে! আল্লাহর শপথ! আমি জানি না। আমি জিজ্ঞাসা করিতেছি, আমার নিকট হইতে অন্তর্হিত হওয়ার পর তোমাকে কি বিজন প্রান্তর ছিনাইয়া নিয়াছে, না কোন পাহাড়? হায়! আমি যদি জানিতে পারিতাম যে, তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে, তবে তোমার প্রত্যাগমন আমার আনন্দময় জীবন উপভোগের জন্য যথেষ্ট হইত। সূর্য তাহার উদয়কালে আমাকে তাহার স্মরণে বিভোর করিয়া তোলে এবং তাহার অস্তকালেও তাহার স্মরণ আমাকে বিভোর করিয়া দেয়। আর যখন বাতাস প্রবাহিত হয় তখন তাহার স্মরণ উম্মাতাল করিয়া তোলে। কত দীর্ঘ হইবে তাহার জন্য সংকটময় ও ব্যথা-বেদনার কাল! তাহার অবিরাম সন্ধানে কত দ্রুত ভূপৃষ্ঠ চষিয়া বেড়াইতেছি এবং কালের বিপর্যয়ও আমাকে ক্লিষ্ট-ক্লান্ত করিতে পারিতেছে না। হয়ত উটই ক্লিষ্ট-ক্লান্ত হইয়া পড়িতেছে। আজীবন এইভাবেই ঘুরিয়া বেড়াইব। বেড়াইতে বেড়াইতে মৃত্যু আসিয়া পড়িবে। মৃত্যু তো প্রত্যেকেরই আসে, যদিও প্রত্যাশার চোরাবালি আমাকে ধোঁকায় ফেলিয়া রাখিয়াছে"।
অতঃপর যায়দ (রা)-এর পিতা ও চাচা তাঁহার খোঁজে মক্কায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স) সম্পর্কে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলে লোকজন উত্তর দিল যে, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে আছেন। তাহারা উভয়ে সেখানে উপস্থিত হইয়া বলেন, হে আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র! হে হাশিমের পৌত্র! হে সরদার পুত্র! আপনারা মহান কা'বার অধিবাসী এবং তাহার প্রতিবেশী। আপনারা অসহায়কে সাহায্য করেন। বন্দীর ভরণপোষণ করেন। আমাদের সন্তানের ব্যাপারে আপনার নিকট আমরা আসিয়াছি। এই মুক্তিপণের বিনিময়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমাদের প্রতি সদয় হউন। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, কে সেই গোলাম? তাহারা বলিলেন, যায়দ ইব্ন্ন হারিছা। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা ছাড়া আর কিছু নয় তো? তাহারা বলিল, না, সে কোথায়? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করুন। সে যদি আপনাদের সঙ্গ অবলম্বন করিয়া লয় তাহা হইলে সে তো আপনাদের সঙ্গে যাইবে। আর সে যদি আমার সহিত থাকিতে চায়, তাহা হইলে সে আমার সঙ্গেই থাকিবে। আমি তাহার ব্যাপারে জবরদস্তি করিব না। অতঃপর যায়দ (রা)-কে তিনি ডাকিয়া পাঠাইলেন। হযরত যায়দ (রা) আসিলে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি ইহাদিগকে চিন? যায়দ (রা) বলিলেন, হাঁ, চিনি। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহারা কে? তিনি বলিলেন, ইনি আমার পিতা আর ইনি আমার চাচা। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন,
انا من قد علمت ورأيت صحبتی فاخترنی او اخترهما .
“তুমি আমার ব্যাপারে অবগত আছ এবং আমার সংস্পর্শে আছ। এখন তোমার ইচ্ছা, যদি আমার কাছে থাকিতে চাও, তাহা হইলে আমার কাছে থাকিবে অথবা ইচ্ছা করিলে তাহাদের সঙ্গে যাইতে পারিবে”।
যায়দ (রা) বলেন,
ما انا بالذي اختار عليك احدا - انت منى بمكان الاب والعم.
“আমি আপনাকে ছাড়া আর কাহাকেও অবলম্বন করিতে পারিব না। আপনিই আমার জন্য পিতা এবং চাচা”।
ইহা শুনিয়া তাহারা বলিল, ধিক্ তোমাকে! তোমার পিতা, চাচা, পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজনের উপর গোলামীকে প্রাধান্য দিতেছ? যায়দ (রা) বলিলেন, আমি এই মহান ব্যক্তির মাঝে এমন কিছু দেখিয়াছি যে, তাঁহাকে আমি কখনও ছাড়িয়া যাইতে পারিব না। রাসূলুল্লাহ (স) তখন তাহার হাত ধরিয়া তাহাকে কুরায়শদের এক সভায় নিয়া গিয়া বলিলেন,
اشهدكم أن زيدا ابنى يرثه ويرثني
“তোমরা সাক্ষী থাক, আজ হইতে যায়েদ আমার পুত্র। আমরা পরস্পরের উত্তরাধিকারী হইব”।
যায়দ (রা)-এর পিতা ও চাচা যখন ইহা দেখিলেন, তখন তাহারা অত্যন্ত আনন্দিত হইলেন এবং আনন্দ চিত্তে ফিরিয়া গেলেন। তখন হইতে যায়দ (রা)-কে মুহাম্মাদ (স)-এর পুত্র বলিয়া ডাকা হইত। ইহার পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) নবুওয়াত প্রাপ্ত হন তখন তিনি তাঁহাকে সত্য বলিয়া মানিয়া লন এবং ইসলাম গ্রহণ করিয়া তাঁহার সঙ্গে নামায পড়েন। অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়, أَدْعُوهُمْ لا بَائِهِمْ )তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ পরিচয়ে; ৩৩৪ ৫), তখন যায়দ (রা) বলেন, انا زيد بن حارثة
“আমি হারিছার পুত্র যায়দ"।
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর যায়দ ইব্ন হারিছা ইব্ন শুরাবীল ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর ক্রীতদাস ছিলেন, পরে তাঁহাকে মুক্ত করেন। হযরত যায়দ (রা)-এর মা ছিলেন সু'দা বিন্তে ছা'লাবা। যায়দ (রা)-এর বয়স যখন ৮ বৎসর, তখন তাঁহার মা তাহাকে নিয়া আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতে বাহির হন। পথে তাঁহারা দুস্যদের কবলে পড়েন এবং যায়দ (রা)-এর মা তাঁহাকে হারান। দস্যুরা যায়দ (রা)-কে আরবের হুবাশা নামক বাজারে বিক্রয় করিয়া দেয়। হাকীম ইব্ন হিযাম ইব্ন খুওয়ায়লিদ একবার শাম দেশ হইতে কিছু গোলাম খরীদ করিয়া আনেন। ইহাদের মধ্যে অল্প বয়স্ক যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-ও ছিলেন। হযরত খাদীজা (রা) হাকীম ইব্ন হিযামের ফুফু ছিলেন। তিনি তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্রের সহিত সাক্ষাত করিতে গেলে হাকীম বলেন, ফুফুজান! এই গোলামদের মধ্যে যাহাকে আপনার পছন্দ হয়, তাহাকে নিয়া যান। হযরত খাদীজা (রা) যায়দ (রা)-কে পছন্দ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) হযরত খাদীজা (রা)-এর নিকট যায়দ (রা)-কে দেখিলেন এবং যায়দ (রা)-কে খাদীজা (রা)-এর নিকট চাহিলেন। তখন হযরত খাদীজা (রা) যায়দ (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অর্পণ করেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে আযাদ করিয়া তাহাকে পোষ্য পুত্ররূপে নির্ধারণ করেন। এই ঘটনা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি ওহী নাযিলের পূর্বেকার।
হযরত যায়দ (রা)-এর পিতা হারিছা তাহার সন্তান (যায়দ)-কে দুর্বৃত্তরা ছিনাইয়া নেওয়ার ফলে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং অনেক অশ্রুপাত করিয়া নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন,
بكيت على زيد ولم ادر ما فعل - احي فيرجى ام اتى دونه الاجل. فوالله ما ادرى واني لسائل - اغا لك بعدى السهل ام غالك الجبل. وياليت شعري هل لك الدحراً - وبة فحسبى من الدنيا رجوعك لي بجل.
تذكرنيه الشمس عند طلوعها وتعرض ذكراه اذا غربها أفل. وان هبت الارواح هيجن ذكره فياطول ما حزني عليه وما وجل. سأعمل نص العيس في الأرض جاهدا ولا اسام التطواف أو تسام الابل. حیاتي او تأتي على منيتي فكل امریء فان وان غره الأمل.
“যায়দের জন্য আমি কত যে কাঁদিয়াছি! কিন্তু জানি না তাহার কি হইয়াছে! সে কি জীবিত আছে যে, তাহার জন্য কোন প্রত্যাশা করা যাইবে, নাকি মৃত্যু তাহার পথের প্রতিবন্ধক হইয়াছে! আল্লাহর শপথ! আমি জানি না। আমি জিজ্ঞাসা করিতেছি, আমার নিকট হইতে অন্তর্হিত হওয়ার পর তোমাকে কি বিজন প্রান্তর ছিনাইয়া নিয়াছে, না কোন পাহাড়? হায়! আমি যদি জানিতে পারিতাম যে, তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে, তবে তোমার প্রত্যাগমন আমার আনন্দময় জীবন উপভোগের জন্য যথেষ্ট হইত। সূর্য তাহার উদয়কালে আমাকে তাহার স্মরণে বিভোর করিয়া তোলে এবং তাহার অস্তকালেও তাহার স্মরণ আমাকে বিভোর করিয়া দেয়। আর যখন বাতাস প্রবাহিত হয় তখন তাহার স্মরণ উম্মাতাল করিয়া তোলে। কত দীর্ঘ হইবে তাহার জন্য সংকটময় ও ব্যথা-বেদনার কাল! তাহার অবিরাম সন্ধানে কত দ্রুত ভূপৃষ্ঠ চষিয়া বেড়াইতেছি এবং কালের বিপর্যয়ও আমাকে ক্লিষ্ট-ক্লান্ত করিতে পারিতেছে না। হয়ত উটই ক্লিষ্ট-ক্লান্ত হইয়া পড়িতেছে। আজীবন এইভাবেই ঘুরিয়া বেড়াইব। বেড়াইতে বেড়াইতে মৃত্যু আসিয়া পড়িবে। মৃত্যু তো প্রত্যেকেরই আসে, যদিও প্রত্যাশার চোরাবালি আমাকে ধোঁকায় ফেলিয়া রাখিয়াছে"।
অতঃপর যায়দ (রা)-এর পিতা ও চাচা তাঁহার খোঁজে মক্কায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স) সম্পর্কে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলে লোকজন উত্তর দিল যে, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে আছেন। তাহারা উভয়ে সেখানে উপস্থিত হইয়া বলেন, হে আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র! হে হাশিমের পৌত্র! হে সরদার পুত্র! আপনারা মহান কা'বার অধিবাসী এবং তাহার প্রতিবেশী। আপনারা অসহায়কে সাহায্য করেন। বন্দীর ভরণপোষণ করেন। আমাদের সন্তানের ব্যাপারে আপনার নিকট আমরা আসিয়াছি। এই মুক্তিপণের বিনিময়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমাদের প্রতি সদয় হউন। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, কে সেই গোলাম? তাহারা বলিলেন, যায়দ ইব্ন্ন হারিছা। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা ছাড়া আর কিছু নয় তো? তাহারা বলিল, না, সে কোথায়? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করুন। সে যদি আপনাদের সঙ্গ অবলম্বন করিয়া লয় তাহা হইলে সে তো আপনাদের সঙ্গে যাইবে। আর সে যদি আমার সহিত থাকিতে চায়, তাহা হইলে সে আমার সঙ্গেই থাকিবে। আমি তাহার ব্যাপারে জবরদস্তি করিব না। অতঃপর যায়দ (রা)-কে তিনি ডাকিয়া পাঠাইলেন। হযরত যায়দ (রা) আসিলে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি ইহাদিগকে চিন? যায়দ (রা) বলিলেন, হাঁ, চিনি। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহারা কে? তিনি বলিলেন, ইনি আমার পিতা আর ইনি আমার চাচা। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন,
انا من قد علمت ورأيت صحبتی فاخترنی او اخترهما .
“তুমি আমার ব্যাপারে অবগত আছ এবং আমার সংস্পর্শে আছ। এখন তোমার ইচ্ছা, যদি আমার কাছে থাকিতে চাও, তাহা হইলে আমার কাছে থাকিবে অথবা ইচ্ছা করিলে তাহাদের সঙ্গে যাইতে পারিবে”।
যায়দ (রা) বলেন,
ما انا بالذي اختار عليك احدا - انت منى بمكان الاب والعم.
“আমি আপনাকে ছাড়া আর কাহাকেও অবলম্বন করিতে পারিব না। আপনিই আমার জন্য পিতা এবং চাচা”।
ইহা শুনিয়া তাহারা বলিল, ধিক্ তোমাকে! তোমার পিতা, চাচা, পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজনের উপর গোলামীকে প্রাধান্য দিতেছ? যায়দ (রা) বলিলেন, আমি এই মহান ব্যক্তির মাঝে এমন কিছু দেখিয়াছি যে, তাঁহাকে আমি কখনও ছাড়িয়া যাইতে পারিব না। রাসূলুল্লাহ (স) তখন তাহার হাত ধরিয়া তাহাকে কুরায়শদের এক সভায় নিয়া গিয়া বলিলেন,
اشهدكم أن زيدا ابنى يرثه ويرثني
“তোমরা সাক্ষী থাক, আজ হইতে যায়েদ আমার পুত্র। আমরা পরস্পরের উত্তরাধিকারী হইব”।
যায়দ (রা)-এর পিতা ও চাচা যখন ইহা দেখিলেন, তখন তাহারা অত্যন্ত আনন্দিত হইলেন এবং আনন্দ চিত্তে ফিরিয়া গেলেন। তখন হইতে যায়দ (রা)-কে মুহাম্মাদ (স)-এর পুত্র বলিয়া ডাকা হইত। ইহার পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) নবুওয়াত প্রাপ্ত হন তখন তিনি তাঁহাকে সত্য বলিয়া মানিয়া লন এবং ইসলাম গ্রহণ করিয়া তাঁহার সঙ্গে নামায পড়েন। অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়, أَدْعُوهُمْ لا بَائِهِمْ )তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ পরিচয়ে; ৩৩৪ ৫), তখন যায়দ (রা) বলেন, انا زيد بن حارثة
“আমি হারিছার পুত্র যায়দ"।
📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি তখন কিশোর ছিলাম এবং মক্কায় উকবা ইব্ন আবূ মু'ঈতের বকরী চরাইতাম। অতঃপর একদিন রাসূলুল্লাহ (স) ও আবূ বাক্স (রা) আমার নিকট আসিলেন। তাঁহারা তখন মুশরিকদের নিকট হইতে আত্মগোপন করিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিলেন, عندك ياغلام لبن تسقينا “হে বালক! তোমার নিকট কি আমাদের পান করার মত দুধ আছে?” আমি বলিলাম, 'আমি এইগুলির রক্ষক। আমি আপনাদেরকে দুধ পান করাইতে অক্ষম।' তিনি বলিলেন,
هل عندك من جزعة لم ينزل عليها الفحل بعد ?
"তোমার নিকট কি কোন ছোট বকরী আছে, যাহা দুধবিহীন"?
আমি বলিলাম, আছে। তখন আমি তাহা নিয়া আসিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) সেই বকরীর স্তনে হাত দিয়া দু'আ করিলেন। বকরীর স্তন দুধে ভরিয়া গেল। আবূ বাক্স (রা) পাথরের একটি পাত্র নিয়া আসিলেন। তিনি তাহাতে দুধ দোহন করিলেন, অতঃপর দুধ পান করিলেন, আবূ বাক্স (রা)-ও পান করিলেন, অতঃপর আমাকেও পান করাইলেন। ইহার পর রাসূলুল্লাহ্ (স) বকরীর স্তনকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, اقلص “দুধ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া যাও।” তখন দুধের ধারা বন্ধ হইয়া গেল। আমি ইহা দেখিয়া মুসলমান হইয়া গেলাম। পরে যখন আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিলাম তখন বলিলাম, আমাকে এই উত্তম বাণী অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শিখাইয়া দিন। তিনি বলিলেন,
بارك الله فيك فانك غلام وعلم الله
"মহান আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করুন। নিশ্চয় তুমি আল্লাহ্ দীক্ষাপ্রাপ্ত গোলাম।"
অতঃপর আমি ৭০টি সূরা তাঁহার নিকট হইতে শিখিয়াছি, যে ব্যাপারে কেহ আমার সঙ্গে বিতণ্ডা করিতে পারিবে না।