📄 হযরত আলী (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
মহিলাদের মধ্যে হযরত খাদীজা (রা) প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহার 'পর যিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি হইলেন হযরত আলী ইব্ন আবূ তালিব ইব্ন আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হিশাম ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন কুসায়্য ইব্ন কিলাব। হযরত আলী (রা)-এর তখন বয়স ছিল দশ বৎসর। তিনি তাঁহার ভাই হযরত জা'ফর (রা) হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন। হযরত জা'ফর (রা) আকীল ইব্ন আবূ তালিব (রা) হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন এবং হযরত আকীল (রা) তালিব হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন। তালিব ব্যতীত তাঁহারা প্রত্যেকেই ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। তালিবকে এক জিন ছিনাইয়া লইয়া গিয়াছিল। আর হযরত আলী (রা)-এর মা ফাতিমা বিনতে আসাদ ইব্ন হিশামও ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন।
হযরত আলী (রা)-কে আল্লাহ তা'আলা যে সৌভাগ্য দান করিয়াছিলেন উহা এই যে, তিনি ইসলামের পূর্ব হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হইতেছিলেন। একবার মক্কায় কঠিন দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। আবূ তালিবের অনেক সন্তান ছিল। তাই তাহার পক্ষে তাহাদের সকলের ভরণপোষণ নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য ছিল। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার চাচা হযরত আব্বাস (রা)-এর নিকট গেলেন। তিনি ছিলেন বানু হাশিমের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্যতম। রাসূলুল্লাহ (স) আব্বাস (রা)-কে বলিলেন,
يا عباس ان اخاك ابا طالب كثير العيال وقد أصاب الناس ما ترى من هذه الازمة فانطلق بنا اليه فنخفف عنه من عياله اخذ من بنيه رجلا وتاخذ أنت رجلا فنكلهما عنه.
“হে আব্বাস (চাচাজান)! আপনার ভাই আবূ তালিবের তো অনেক সন্তান। আর এই দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ যে কেমন বিপদগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে, উহা তো আপনি দেখিতেছেন। তাই চলুন, আমরা তাহার কাছে যাই যাহাতে তাহার ভার আমরা কিছুটা লাঘব করিতে পারি। তাঁহার সন্তানদের একজনকে আমি গ্রহণ করিব এবং আপনিও আরেকজনকে গ্রহণ করিবেন। অতঃপর আমরা তাহাদের তত্ত্বাবধান করিব"।
- হযরত আব্বাস (রা) তাহাতে সায় দেন এবং তাঁহারা উভয়ে আবূ তালিবের নিকট আসিয়া বলেন,
إنا نريد ان نخفف عنك من عيالك حتى يتكشف عن الناس ماهم فيه.
"আমরা চাহিতেছি আপনার পরিবারের ভার কিছুটা লাঘব করিতে, যে পর্যন্ত লোকজন সংকট কাটাইয়া উঠে"।
আবূ তালিব বলিলেন, ঠিক আছে, তাহা হইলে আকীলকে আমার কাছে রাখিয়া তোমাদের যাহা ইচ্ছা হয় তাহা কর। তখন রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আলী (রা)-কে তাঁহার তত্ত্বাবধানে নেন এবং হযরত আব্বাস (রা)-এর তত্ত্বাবধানে হযরত জা'ফর (রা)-কে দেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত হযরত আলী (রা) তাঁহার তত্ত্বাবধানে থাকেন এবং তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়ন করেন। আর হযরত জা'ফর (রা)-ও ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত হযরত আব্বাস (রা)-এর তত্ত্বাবধানে থাকেন।
ইন্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর সেই দিনই হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া দেখেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও হযরত খাদীজা (রা) নামায পড়িতেছেন। তিনি ইহা দেখিয়া (নামাযের পর) জিজ্ঞাসা করিলেন, হে মুহাম্মাদ! ইহা কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন,
دين الله الذي اصطفى لنفسه وبعث برسله فأدعوك الى الله وحده لا شريك له والى عبادته وأن تكفر باللات والعزى
“ইহা আল্লাহ্ দীন। এই দীনকেই তিনি নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছেন। এই দীনের পয়গাম দিয়াই তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছেন। আমি তোমাকে এক আল্লাহ্ ইবাদত করিতে আহবান জানাইতেছি, যাঁহার কোন শরীক নাই। তুমি তাঁহারই ইবাদত কর এবং লাত ও উযযাকে অস্বীকার কর।"
ইহার পর তিনি পবিত্র কুরআনের কিছু পাঠ করিলেন। হযরত আলী (রা)-এর মনও কুরআনের অলৌকিক রচনাশৈলীর প্রতি আকৃষ্ট হইল। কিন্তু তখন তিনি বলিলেন, ইহা এমন এক নূতন বিষয়, যাহা আমি ইহার পূর্বে আর কখনও শুনি নাই। আমার পিতা আবু তালিবের নিকট যে পর্যন্ত না ইহার উল্লেখ করিব, সেই পর্যন্ত আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিব না। রাসূলুল্লাহ (স) ইহাতে এইজন্য উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলেন যে, তাঁহার এই দীনের গোপনীয়তা না আবার জানাজানি হইয়া যায়। তাই তিনি হযরত আলী (রা)-কে বলিলেন,
يا على اذ لم تسلم فاكتم
“হে আলী! যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর, তাহা হইলে ইহার কথা কাহাকেও না বলিয়া গোপন রাখিও।"
ইহার পর এক রাত্র অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা হযরত আলী (রা)-এর অন্তরে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করিয়া দিলেন। প্রত্যুষে তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া আরয করিলেন,
ماذا عرضت على يا محمد.
“হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাকে কিসের প্রতি আহবান করিতেছেন”?
রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন,
تشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له وتكفر باللات والعزى وتبرأ من الانداد.
“তুমি এই মর্মে সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁহার কোন শরীক নাই এবং লাত ও উয্যাকে তুমি অস্বীকার কর ও শিরকের প্রতি তোমার অসন্তুষ্টি প্রকাশ কর।”
হ হযরত আলী (রা) ইসলাম গ্রহণ করিলেন এবং আবূ তালিবের নিকট নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখিলেন।
মহিলাদের মধ্যে হযরত খাদীজা (রা) প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহার 'পর যিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি হইলেন হযরত আলী ইব্ন আবূ তালিব ইব্ন আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হিশাম ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন কুসায়্য ইব্ন কিলাব। হযরত আলী (রা)-এর তখন বয়স ছিল দশ বৎসর। তিনি তাঁহার ভাই হযরত জা'ফর (রা) হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন। হযরত জা'ফর (রা) আকীল ইব্ন আবূ তালিব (রা) হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন এবং হযরত আকীল (রা) তালিব হইতে দশ বৎসরের ছোট ছিলেন। তালিব ব্যতীত তাঁহারা প্রত্যেকেই ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। তালিবকে এক জিন ছিনাইয়া লইয়া গিয়াছিল। আর হযরত আলী (রা)-এর মা ফাতিমা বিনতে আসাদ ইব্ন হিশামও ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন।
হযরত আলী (রা)-কে আল্লাহ তা'আলা যে সৌভাগ্য দান করিয়াছিলেন উহা এই যে, তিনি ইসলামের পূর্ব হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হইতেছিলেন। একবার মক্কায় কঠিন দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। আবূ তালিবের অনেক সন্তান ছিল। তাই তাহার পক্ষে তাহাদের সকলের ভরণপোষণ নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য ছিল। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার চাচা হযরত আব্বাস (রা)-এর নিকট গেলেন। তিনি ছিলেন বানু হাশিমের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্যতম। রাসূলুল্লাহ (স) আব্বাস (রা)-কে বলিলেন,
يا عباس ان اخاك ابا طالب كثير العيال وقد أصاب الناس ما ترى من هذه الازمة فانطلق بنا اليه فنخفف عنه من عياله اخذ من بنيه رجلا وتاخذ أنت رجلا فنكلهما عنه.
“হে আব্বাস (চাচাজান)! আপনার ভাই আবূ তালিবের তো অনেক সন্তান। আর এই দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ যে কেমন বিপদগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে, উহা তো আপনি দেখিতেছেন। তাই চলুন, আমরা তাহার কাছে যাই যাহাতে তাহার ভার আমরা কিছুটা লাঘব করিতে পারি। তাঁহার সন্তানদের একজনকে আমি গ্রহণ করিব এবং আপনিও আরেকজনকে গ্রহণ করিবেন। অতঃপর আমরা তাহাদের তত্ত্বাবধান করিব"।
- হযরত আব্বাস (রা) তাহাতে সায় দেন এবং তাঁহারা উভয়ে আবূ তালিবের নিকট আসিয়া বলেন,
إنا نريد ان نخفف عنك من عيالك حتى يتكشف عن الناس ماهم فيه.
"আমরা চাহিতেছি আপনার পরিবারের ভার কিছুটা লাঘব করিতে, যে পর্যন্ত লোকজন সংকট কাটাইয়া উঠে"।
আবূ তালিব বলিলেন, ঠিক আছে, তাহা হইলে আকীলকে আমার কাছে রাখিয়া তোমাদের যাহা ইচ্ছা হয় তাহা কর। তখন রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আলী (রা)-কে তাঁহার তত্ত্বাবধানে নেন এবং হযরত আব্বাস (রা)-এর তত্ত্বাবধানে হযরত জা'ফর (রা)-কে দেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত হযরত আলী (রা) তাঁহার তত্ত্বাবধানে থাকেন এবং তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়ন করেন। আর হযরত জা'ফর (রা)-ও ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত হযরত আব্বাস (রা)-এর তত্ত্বাবধানে থাকেন।
ইন্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর সেই দিনই হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া দেখেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও হযরত খাদীজা (রা) নামায পড়িতেছেন। তিনি ইহা দেখিয়া (নামাযের পর) জিজ্ঞাসা করিলেন, হে মুহাম্মাদ! ইহা কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন,
دين الله الذي اصطفى لنفسه وبعث برسله فأدعوك الى الله وحده لا شريك له والى عبادته وأن تكفر باللات والعزى
“ইহা আল্লাহ্ দীন। এই দীনকেই তিনি নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছেন। এই দীনের পয়গাম দিয়াই তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছেন। আমি তোমাকে এক আল্লাহ্ ইবাদত করিতে আহবান জানাইতেছি, যাঁহার কোন শরীক নাই। তুমি তাঁহারই ইবাদত কর এবং লাত ও উযযাকে অস্বীকার কর।"
ইহার পর তিনি পবিত্র কুরআনের কিছু পাঠ করিলেন। হযরত আলী (রা)-এর মনও কুরআনের অলৌকিক রচনাশৈলীর প্রতি আকৃষ্ট হইল। কিন্তু তখন তিনি বলিলেন, ইহা এমন এক নূতন বিষয়, যাহা আমি ইহার পূর্বে আর কখনও শুনি নাই। আমার পিতা আবু তালিবের নিকট যে পর্যন্ত না ইহার উল্লেখ করিব, সেই পর্যন্ত আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিব না। রাসূলুল্লাহ (স) ইহাতে এইজন্য উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলেন যে, তাঁহার এই দীনের গোপনীয়তা না আবার জানাজানি হইয়া যায়। তাই তিনি হযরত আলী (রা)-কে বলিলেন,
يا على اذ لم تسلم فاكتم
“হে আলী! যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর, তাহা হইলে ইহার কথা কাহাকেও না বলিয়া গোপন রাখিও।"
ইহার পর এক রাত্র অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা হযরত আলী (রা)-এর অন্তরে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করিয়া দিলেন। প্রত্যুষে তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া আরয করিলেন,
ماذا عرضت على يا محمد.
“হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাকে কিসের প্রতি আহবান করিতেছেন”?
রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন,
تشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له وتكفر باللات والعزى وتبرأ من الانداد.
“তুমি এই মর্মে সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁহার কোন শরীক নাই এবং লাত ও উয্যাকে তুমি অস্বীকার কর ও শিরকের প্রতি তোমার অসন্তুষ্টি প্রকাশ কর।”
হ হযরত আলী (রা) ইসলাম গ্রহণ করিলেন এবং আবূ তালিবের নিকট নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখিলেন।
📄 হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) বলেন, ইসলাম গ্রহণের তিন রাত পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখিলাম যে, আমি যেন ঘোর অন্ধকারের মধ্যে রহিয়াছি। অন্ধকারের কারণে কিছুই আমার দৃষ্টিগোচর হইতেছিল না। হঠাৎ এক আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিল। আমি তাহা অনুসরণ করিয়া চলিলাম। দেখিলাম, হযরত যায়দ ইবন হারিছা (রা), হযরত আলী (রা) এবং হযরত আবূ বাক্স (রা) আমার অনেক আগে চলিয়া গিয়াছেন। আর আমি এই সংবাদ পাইয়াছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (স) গোপনে ইসলামের দাওয়াত দিতেছেন। অতঃপর আমি তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, 'আপনি কিসের দাওয়াত দেন? তিনি বলিলেন:
اشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য প্রদান করি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল।" আমি তখন এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করিলাম।
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) বলেন, ইসলাম গ্রহণের তিন রাত পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখিলাম যে, আমি যেন ঘোর অন্ধকারের মধ্যে রহিয়াছি। অন্ধকারের কারণে কিছুই আমার দৃষ্টিগোচর হইতেছিল না। হঠাৎ এক আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিল। আমি তাহা অনুসরণ করিয়া চলিলাম। দেখিলাম, হযরত যায়দ ইবন হারিছা (রা), হযরত আলী (রা) এবং হযরত আবূ বাক্স (রা) আমার অনেক আগে চলিয়া গিয়াছেন। আর আমি এই সংবাদ পাইয়াছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (স) গোপনে ইসলামের দাওয়াত দিতেছেন। অতঃপর আমি তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, 'আপনি কিসের দাওয়াত দেন? তিনি বলিলেন:
اشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য প্রদান করি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল।" আমি তখন এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করিলাম।
📄 আবু তালিবের নিকট ইসলাম প্রকাশ
ইবন ইসহাক বলেন, যখন নামাযের সময় হইত, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কার কোন উপত্যকায় চলিয়া যাইতেন। হযরত আলী (রা) তাঁহার পিতা আবু তালিব, তাঁহার অন্যান্য চাচা ও সমগ্র গোত্রের অগোচরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত গিয়া মিলিত হইতেন এবং সেখানেই উভয়ে নামায পড়িতেন। আর সন্ধ্যা হইলে তাঁহারা ফিরিয়া আসিতেন। একদিন আবূ তালিব তাঁহাদেরকে নামাযরত অবস্থায় দেখিয়া ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যাহা অবলম্বন করিয়াছ, ইহা কোন দীন”? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
أى عم هذا دين الله ودين ملائكته ودين رسله ودين ابينا إبراهيم أوكما قال صلى الله عليه وسلم بعثني الله به رسولا الى العباد وانت أى عم احق من نزلت له النصيحة ودعوته الى الهدى واحق من اجابني اليه وأعانني عليه او كما قال.
“হে চাচা! ইহা আল্লাহ্ দীন এবং তাঁহার ফেরেশতা, তাঁহার রাসূলগণ ও আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দীন। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এই দীনের রাসূল হিসাবে মনোনীত করিয়া মানবজাতির নিকট প্রেরণ করিয়াছেন। হে চাচা! যাহাদের আমি কল্যাণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছি এবং যাহাদেরকে আমি সত্য পথের প্রতি দাওয়াত দিয়া'ছি, ইহাদের মধ্যে আপনিই আমার এই দাওয়াত গ্রহণ করিবার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি। আর আমাকে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও আপনিই অধিক হকদার।"
আবূ তালিব বলিলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! পূর্বপুরুষরা যে দীনের অনুসারী ছিলেন আমি তো তাহা ছাড়িতে পারি না। তবে আল্লাহ্ শপথ করিয়া বলিতেছি, "যে পর্যন্ত আমি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকিব, সে পর্যন্ত তোমার নিকট অমূলক কিছু পৌঁছিতে পারিবে না।" অতঃপর তিনি হযরত আলী (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, "হে প্রিয়তম পুত্র! তুমি যে দীনের উপর রহিয়াছ ইহা কোন দীন?" আলী (রা) বলিলেন,
يَا أَبَتِ آمَنْتُ بِاللهِ وَبِرَسُوْلِ اللهِ وَصَدَّقْتُهُ بِمَا جَاءَ بِهِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ للهِ وَاتَّبَعْتُهُ.
“হে পিতা! আমি তো আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-এর প্রতি ঈমান আনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ্ (স) যাহা নিয়া আসিয়াছেন তাহা আমি সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, তাঁহার সহিত নামায পড়িয়াছি এবং তাঁহার অনুগামী হইয়াছি।" আবু তালিব আলী (রা)-কে বলিলেন,
اما ان لم يدعك الا الى خير فالزمه.
"শোন! তিনি তোমাকে কল্যাণের পথেই দাওয়াত দিয়াছেন। সুতরাং ইহাতেই অটল থাক"।
ইবন ইসহাক বলেন, যখন নামাযের সময় হইত, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কার কোন উপত্যকায় চলিয়া যাইতেন। হযরত আলী (রা) তাঁহার পিতা আবু তালিব, তাঁহার অন্যান্য চাচা ও সমগ্র গোত্রের অগোচরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত গিয়া মিলিত হইতেন এবং সেখানেই উভয়ে নামায পড়িতেন। আর সন্ধ্যা হইলে তাঁহারা ফিরিয়া আসিতেন। একদিন আবূ তালিব তাঁহাদেরকে নামাযরত অবস্থায় দেখিয়া ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যাহা অবলম্বন করিয়াছ, ইহা কোন দীন”? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
أى عم هذا دين الله ودين ملائكته ودين رسله ودين ابينا إبراهيم أوكما قال صلى الله عليه وسلم بعثني الله به رسولا الى العباد وانت أى عم احق من نزلت له النصيحة ودعوته الى الهدى واحق من اجابني اليه وأعانني عليه او كما قال.
“হে চাচা! ইহা আল্লাহ্ দীন এবং তাঁহার ফেরেশতা, তাঁহার রাসূলগণ ও আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দীন। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এই দীনের রাসূল হিসাবে মনোনীত করিয়া মানবজাতির নিকট প্রেরণ করিয়াছেন। হে চাচা! যাহাদের আমি কল্যাণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছি এবং যাহাদেরকে আমি সত্য পথের প্রতি দাওয়াত দিয়া'ছি, ইহাদের মধ্যে আপনিই আমার এই দাওয়াত গ্রহণ করিবার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি। আর আমাকে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও আপনিই অধিক হকদার।"
আবূ তালিব বলিলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! পূর্বপুরুষরা যে দীনের অনুসারী ছিলেন আমি তো তাহা ছাড়িতে পারি না। তবে আল্লাহ্ শপথ করিয়া বলিতেছি, "যে পর্যন্ত আমি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকিব, সে পর্যন্ত তোমার নিকট অমূলক কিছু পৌঁছিতে পারিবে না।" অতঃপর তিনি হযরত আলী (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, "হে প্রিয়তম পুত্র! তুমি যে দীনের উপর রহিয়াছ ইহা কোন দীন?" আলী (রা) বলিলেন,
يَا أَبَتِ آمَنْتُ بِاللهِ وَبِرَسُوْلِ اللهِ وَصَدَّقْتُهُ بِمَا جَاءَ بِهِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ للهِ وَاتَّبَعْتُهُ.
“হে পিতা! আমি তো আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-এর প্রতি ঈমান আনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ্ (স) যাহা নিয়া আসিয়াছেন তাহা আমি সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, তাঁহার সহিত নামায পড়িয়াছি এবং তাঁহার অনুগামী হইয়াছি।" আবু তালিব আলী (রা)-কে বলিলেন,
اما ان لم يدعك الا الى خير فالزمه.
"শোন! তিনি তোমাকে কল্যাণের পথেই দাওয়াত দিয়াছেন। সুতরাং ইহাতেই অটল থাক"।
📄 হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ ইবনুল আস (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন যে, আগুনের গভীর এক গর্তের প্রান্তে তিনি দাঁড়াইয়া আছেন। আর তাঁহার পিতা তাঁহাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিতে উদ্যত। হঠাৎ তিনি দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে আসিয়া তাঁহার কোমর ধরিয়া তাঁহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তিনি ঘুম হইতে ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া জাগিয়া উঠলেন। আর বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! এই স্বপ্ন সত্য। অতঃপর তিনি হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর নিকট আসিয়া এই স্বপ্নের আদ্যোপান্ত জানাইলেন। আবূ বাক্স (রা) বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কল্যাণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন। তিনি (মুহাম্মাদ স) আল্লাহ্র রাসূল। আর তুমি অচিরেই তাঁহার অনুগামী হইবে এবং তাঁহার সহিত ইসলামে দীক্ষিত হইবে। ইসলামই তোমাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। কিন্তু তোমার পিতা প্রায় আগুনে পড়িয়াই গিয়াছে। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কিসের দাওয়াত দিয়া থাকেন? তিনি বলিলেন:
ادعوك الى الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وتخلع ما أنت عليه من عبادة حجر لا يسمع ولا يضر ولا يبصر ولا ينفع ولا يدرى من عبده ممن لا يعبده.
“আমি তোমাকে আল্লাহ্র প্রতি আহবান করিতেছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁহার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র রাসূল ও তাঁহার বান্দা। তুমি যে পাথরের তৈরী প্রতিমার পূজা কর তাহা ছাড়িয়া দাও। তাহা কোন কিছু শুনিতে অক্ষম, কোন কিছু দেখিতে অক্ষম, কাহারো কোন ক্ষতি বা উপকার করিতে অক্ষম। আর সে জানে না কে তাহার পূজা করিতেছে, আর কে তাহার পূজা করিতেছে না।"
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) বলেন, তখন আমি বলিলাম,
اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহ্র রাসূল"। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার ইসলাম গ্রহণে খুশী হইলেন। ইহার পর খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) আত্মগোপন করিয়া থাকিলেন। যখন তাঁহার পিতা তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কথা জানিতে পারিল, তখন তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিয়া প্রহার করিল এবং প্রহারের আঘাতে তাঁহার মাথা ফাটাইয়া দিল, আর বলিল, আল্লাহ্র শপথ! 'আমি তোর আহারাদি বন্ধ করিয়া দিব।' খালিদ (রা) বলিলেন, 'তুমি আমার পানাহার যদি বন্ধও করিয়া দাও, তাহা হইতে আল্লাহই আমাকে আমার রিযিক দান করিবেন, যাহার দ্বারা আমার জীবন নির্বাহ করিব।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে সম্মান করিতেন এবং তিনি তাঁহার সঙ্গে থাকিতেন।
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন যে, আগুনের গভীর এক গর্তের প্রান্তে তিনি দাঁড়াইয়া আছেন। আর তাঁহার পিতা তাঁহাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিতে উদ্যত। হঠাৎ তিনি দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে আসিয়া তাঁহার কোমর ধরিয়া তাঁহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তিনি ঘুম হইতে ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া জাগিয়া উঠলেন। আর বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! এই স্বপ্ন সত্য। অতঃপর তিনি হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর নিকট আসিয়া এই স্বপ্নের আদ্যোপান্ত জানাইলেন। আবূ বাক্স (রা) বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কল্যাণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন। তিনি (মুহাম্মাদ স) আল্লাহ্র রাসূল। আর তুমি অচিরেই তাঁহার অনুগামী হইবে এবং তাঁহার সহিত ইসলামে দীক্ষিত হইবে। ইসলামই তোমাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। কিন্তু তোমার পিতা প্রায় আগুনে পড়িয়াই গিয়াছে। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কিসের দাওয়াত দিয়া থাকেন? তিনি বলিলেন:
ادعوك الى الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وتخلع ما أنت عليه من عبادة حجر لا يسمع ولا يضر ولا يبصر ولا ينفع ولا يدرى من عبده ممن لا يعبده.
“আমি তোমাকে আল্লাহ্র প্রতি আহবান করিতেছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁহার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মাদ (স) আল্লাহ্র রাসূল ও তাঁহার বান্দা। তুমি যে পাথরের তৈরী প্রতিমার পূজা কর তাহা ছাড়িয়া দাও। তাহা কোন কিছু শুনিতে অক্ষম, কোন কিছু দেখিতে অক্ষম, কাহারো কোন ক্ষতি বা উপকার করিতে অক্ষম। আর সে জানে না কে তাহার পূজা করিতেছে, আর কে তাহার পূজা করিতেছে না।"
হযরত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) বলেন, তখন আমি বলিলাম,
اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله.
"আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহ্র রাসূল"। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার ইসলাম গ্রহণে খুশী হইলেন। ইহার পর খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) আত্মগোপন করিয়া থাকিলেন। যখন তাঁহার পিতা তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কথা জানিতে পারিল, তখন তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিয়া প্রহার করিল এবং প্রহারের আঘাতে তাঁহার মাথা ফাটাইয়া দিল, আর বলিল, আল্লাহ্র শপথ! 'আমি তোর আহারাদি বন্ধ করিয়া দিব।' খালিদ (রা) বলিলেন, 'তুমি আমার পানাহার যদি বন্ধও করিয়া দাও, তাহা হইতে আল্লাহই আমাকে আমার রিযিক দান করিবেন, যাহার দ্বারা আমার জীবন নির্বাহ করিব।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে সম্মান করিতেন এবং তিনি তাঁহার সঙ্গে থাকিতেন।