📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গোপনে দাওয়াত

📄 গোপনে দাওয়াত


ইহা তো স্বীকৃত ব্যাপার যে, মক্কা নগরী সব সময়ই সমগ্র আরবের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এইখানে কা'বার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য রহিয়াছে। এইখানে তখন সেই প্রতিমা পূজারীরাও ছিল, যাহাদেরকে সমগ্র আরবে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হইত। এইজন্যই অন্য যে কোন স্থান হইতে মক্কায় ধর্মীয় সংস্কারমূলক কাজ করা খুবই দুরূহ ছিল। তাই তখন এমন অটল দৃঢ়তার প্রয়োজন ছিল যেই অবিচলতায় বিপদের শত ঝাপটাও স্বীয় স্থান হইতে বিচ্যুত করিতে পারিবে না। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রাখিয়া সুচিন্তিত যেই পথটি উন্মুক্ত ছিল, সেইটি হইল, প্রথম প্রথম দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ গোপনে লোকচক্ষুর অন্তরালে আঞ্জাম দেওয়া যাহাতে মক্কাবাসী হঠাৎ করিয়া এক উত্তেজক অবস্থার সম্মুখীন না হয়।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত জা'ফর ইবন আবূ তালিব (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ

📄 হযরত জা'ফর ইবন আবূ তালিব (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ


একদিন হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত নামায পড়িতেছিলেন। হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর ডানপার্শ্বে দাঁড়াইয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে সেইখান দিয়া আবূ তালিব পথ অতিক্রম করেন। জা'ফর (রা)-ও তাহার সঙ্গে ছিলেন। আবূ তালিব যখন এইভাবে নামায পড়িতে দেখেন তখন জা'ফর (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলেন, হে বৎস! তুমিও আলীর মত তোমার চাচাত ভাইয়ের সঙ্গী হইয়া যাও এবং তাঁহার বামদিকে দাঁড়াইয়া নামাযে শরীক হইয়া যাও। তখন তিনি নামাযে দাঁড়াইয়া যান। বর্ণিত আছে, তিনি ৩১ জনের পর ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারিগণ

📄 প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারিগণ


হযরত খাদীজা (রা)-র ইসলাম গ্রহণ
ইহা তো অতি স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (স) সর্বপ্রথম তাহাদেরকেই ইসলামের দাওয়াত দিবেন, যাহাদের সহিত তাঁহার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল অর্থাৎ তাঁহার পরিবারস্থ লোকজন এবং তাঁহার বন্ধু-বান্ধবগণ। তাই তিনি সর্বপ্রথম তাহাদেরকেই দাওয়াত দিয়াছেন। তাঁহার পরিচিতদের মধ্যে তাহাদেরকেই দাওয়াত দিয়াছেন, যাহাদের মুখাবয়বে তিনি কল্যাণের আভা দেখিয়াছিলেন, যাহাদের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হইয়াছিলেন যে, তাহারা সত্য ও কল্যাণকেই পছন্দ করে। তাঁহার সততা ও পরিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাহারা জ্ঞাত। উপরন্তু তিনি যাঁহাদেরকে দাওয়াত দিয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে এমন এক জামাআত ছিল, যাহারা কখনও রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্রেষ্ঠত্ব, অনুপম চরিত্র মাধুর্য এবং সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করেন নাই। তাহারা তাঁহার দাওয়াত কবুল করিয়া লইয়াছিলেন। আল-কুরআনের ভাষায় ইহারা "আস-সাবিকীন আল-আওওয়ালীন” (প্রথম অগ্রগামী জামাআত)-এর অভিধায় অভিহিত।
এই ধারাবাহিকতায় সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি ঈমান আনেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি নাযিলকৃত সকল কিছু তিনি মানিয়া নেন। হযরত কাতাদা (র) বলেন, হযরত খাদীজা (রা) পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান আনেন। আল-ওয়াকিদীর বর্ণনা সূত্রে আত-তাবারী বলেন,
اصحابنا مجموعون على أن اول اهل القبلة استجاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم خديجة بنت خويلد.
"আমাদের সকলেই এই ব্যাপারে একমত যে, মুসলমানদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ডাকে সর্বপ্রথম সাড়া দিয়াছেন হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা)।"
হযরত খাদীজা (রা)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দাওয়াত কার্যকে আল্লাহ তা'আলা সহজ করিয়া দেন। বিরুদ্ধাচরণকারীদের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও আপত্তিকর কথাবার্তার কারণে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভীষণ দুঃখ হইত। আল্লাহ তা'আলা হযরত খাদীজা (রা)-এর মাধ্যমে তাঁহার এই দুঃখবোধ ও দুশ্চিন্তা বিদূরিত করিতেন। তিনি তাঁহার সত্যতা সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করিতেন। আর তখন বিরুদ্ধচারীদের আচার-আচরণ সহ্য করা তাঁহার জন্য সহজ হইয়া উঠিত। তখন তিনি আরও অধিক অবিচলতার সহিত তাঁহার কার্যধারা অব্যাহত রাখিতেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন জা'ফর ইবন আবি তালib (রা) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) হযরত খাদীজা (রা) সম্পর্কে ইরশাদ করিয়াছেন:
امرت ان ابشر خديجة بيتا من قصب لا خضب فيه ولا نصب.
"আমি এই মর্মে আদিষ্ট হইয়াছি যে, খাদীজাকে যেন আমি জান্নাতের একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেই, যেখানে না কোন হট্টগোল হইবে, না কোন দুঃখ-কষ্ট থাকিবে।"
একদা হযরত জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন, 'খাদীজাকে তাঁহার মহান রব সালাম জানাইয়াছেন'। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন,
يا خديجة هذا جبريل يقرئك السلام من ربك.
"হে খাদীজা! ইনি জিবরাঈল (আ) তোমাকে তোমার রবের সালাম পৌঁছাইতেছেন।"
খাদীজা (রা) বলিলেন, 'মহান পরওয়ারদিগারের নিজ সত্তাই তো শান্তিময়, সকলের প্রতি তাঁহার প্রেরিত শান্তিই বর্ষিত হয়। জিবরাঈল (আ)-এর প্রতিও শান্তি বর্ষিত হউক"। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিয়াছেন,
قد امنت بی اذا كفر بي الناس وصدقتنى اذا كذبني الناس وواستني مالها اذا حرمني الناس.
"মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করিয়াছে, খাদীজা তখন আমার প্রতি ঈমান আনিয়াছে। মানুষ যখন আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছে, খাদীজা তখন তাঁহার সত্যতা মানিয়া নিয়াছে। মানুষ যখন আমাকে বঞ্চিত করিয়াছে, খাদীজা তখন তাঁহার সম্পদ দ্বারা আমাকে সহযোগিতা করিয়াছে।"
ইব্‌ন ইসহাক বলেন, ইহার পর কিছুদিন ওহী নাযিল বন্ধ থাকিলে রাসূলুল্লাহ (স) অত্যন্ত শংকিত হইয়া পড়েন। তখন সূরা আদ-দুহা নাযিল হয়। এই সূরার সর্বশেষ আয়াতে বলা হয়:
وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِثْ
"তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা জানাইয়া দাও" (৯৩:১১)।
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হইতে নবুওয়াতের যে মহান নেয়ামত আপনাকে দেওয়া হইয়াছে, আপনি তাহা প্রচার করুন। তাহার প্রতি আপনি মানবজাতিকে দাওয়াত দিন। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) নবুওয়াতের এই মহান নেয়ামত তাহাদের নিকট প্রচার করিতে লাগিলেন অতি সংগোপনে, যাহাদের প্রতি তাঁহার আস্থা ছিল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত আফীফ কিন্দী (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ

📄 হযরত আফীফ কিন্দী (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ


হযরত আফীফ কিন্দী (রা) হযরত আব্বাস (রা)-এর বন্ধু ছিলেন। তাঁহারা ব্যবসায় করিতেন। ব্যবসায়িক সূত্রে তিনি ইয়ামানেও যাতায়াত করিতেন। আফীফ কিন্দী (রা) বলেন, একবার আমি হযরত আব্বাস (রা)-এর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আসিলেন। প্রথমে তিনি উত্তমরূপে উযু করিলেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়াইয়া গেলেন। ইহার পর একজন মহিলা আসিয়া অনুরূপ উযু করিয়া নামাযের জন্য দাঁড়াইয়া গেলেন। অতঃপর এগার বৎসরের একজন বালক আসিয়া অনুরূপ উযু করিয়া সেই প্রথম ব্যক্তির বরাবর নামাযে দাঁড়াইয়া গেলেন। আমি আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কোন ধর্ম? হযরত আব্বাস (রা) বলিলেন, ইহা আমার ভাতিজার ধর্ম, যিনি বলেন, 'আল্লাহ তাঁহাকে রাসূল বানাইয়া পাঠাইয়াছেন'। আর এই বালক আলী ইব্‌ন আবূ তালিবও আমার ভাতিজা। সে এই ধর্মের অনুসারী হইয়াছে। আর এই স্ত্রীলোক মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী। আফীফ (রা) পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি বলিতেন, হায়! আমি যদি চতুর্থ নম্বরে মুসলমান হইতাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00