📄 নবুওয়াতের মর্যাদা
নবুওয়াতের মর্যাদা
সম্মান ও মর্যাদা, 'ইলম ও আমলের পার্থক্যের অনুপাতে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীভেদ লক্ষ্য করা যায়। তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হইলেন বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ। শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবীর ভাষায় ইহারা হইলেন 'মুফহিমূন'। তিনি বলেন, ইহারা হইলেন সেই সকল লোক, যাহাদের রহিয়াছে সর্বোচ্চ ফেরেশতাসুলভ প্রকৃতি। যাহারা এই অবস্থানে পৌঁছিবার যোগ্যতাসম্পন্ন, তাঁহারা সঠিক পরিকল্পনা ও সত্য দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিশ্বজোড়া এক নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁহাদের উপর আল্লাহ্র দরবার হইতে এমন প্রজ্ঞা ও প্রাণসঞ্জীবনী শক্তির বিকাশ ঘটে, যেইগুলির মধ্যে আল্লাহ্ প্রত্যক্ষ নির্দেশাবলীর লক্ষণাদি দেখিতে পাওয়া যায়। তাঁহারা সঠিক বিবেকবান এবং আকার-আকৃতি, আচার-আচরণ, বুদ্ধি ও মেধায় মধ্যমপন্থী হইয়া থাকেন। তাঁহারা সঠিক প্রবৃত্তির উপর অবিচল থাকেন।
তাঁহাদের আচার-আচরণ মনোমুগ্ধকর হইয়া থাকে। আল্লাহ্র সহিত তাঁহাদের সম্পর্ক থাকে ইবাদত ও আনুগত্যের এবং বান্দাদের সহিত সম্পর্ক হয় ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের। তাঁহারা সিদ্ধান্ত দানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের প্রতি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেন না, বরং তাহাদের দৃষ্টি থাকে সর্বসাধারণের কল্যাণের প্রতি। জগৎ স্রষ্টা তাঁহাদিগকে সাহায্য করিতে থাকেন। তাই অল্প আয়াসেই তাঁহাদের নৈকট্যলাভ ও শান্তির সেই দ্বার উন্মুক্ত হইয়া যায় যাহা অন্যদের জন্য সম্ভব হয় না।
এই 'মুফহিমূন' বা প্রজ্ঞা ও মনীষার অধিকারিগণ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত। যোগ্যতা ও দক্ষতার তারতম্যেই এই শ্রেণীবিভেদ। এই যোগ্যতার নিরিখেই তাহাদেরকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যাহারা অধিকতর ইবাদতের মাধ্যমে আত্মসংশোধনের স্তর লাভ করেন তাঁহারা হইলেন 'কামিল'। যাহারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী হইয়া সঠিক পরিকল্পনার জ্ঞানসমূহ লাভের অধিকারী হইয়াছেন, তাঁহারা হইলেন 'হাকীম'। যাহারা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জ্ঞান লাভ করিয়াছেন এবং তাঁহাদেরকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছে তাঁহাদেরকে বলা হয় 'খলীফা'। যাঁহার নিকট জিবরাঈল ('আ)-এর আগমন ঘটে, তাঁহার নিকট হইতে তিনি জ্ঞান লাভ করেন, বিভিন্ন মুজিযার প্রকাশ ঘটে তাঁহাকে مؤيد بروح القدس জিবরাঈল কর্তৃক সাহায্যকৃত বলিয়া অভিহিত করা হয়। যাঁহার চেহারা ও অন্তরে নূর বা জ্যোতি থাকে, তাঁহার সংসর্গে মানুষ জীবনজিজ্ঞাসার সন্ধান পায়, তাঁহার নূর বিচ্ছুরিত হইয়া তাঁহার সঙ্গীদেরকে আলোকিত করে এবং তাঁহারাও কামালিয়াতের স্তর লাভ করেন, তাঁহাকে 'হাদী' (হিদায়াতকারী) এবং 'মুযাক্কী' (পবিত্রতা প্রদানকারী) বলা হয়। যাঁহার ইলমের বড় অংশ ধর্মের মূলনীতি, নিয়ম-পদ্ধতি ও ইহার সফলসমূহের অবগতির লক্ষ্যে হয়। আর তাঁহার মাধ্যমে ধর্মের বিলুপ্ত ও নিষ্প্রাণ বিধানসমূহকে পুনর্জীবিত করা সম্ভব হয় তাঁহাকে ইমাম বলা হয়। যাঁহার অন্তরে এই প্রেরণা প্রদান করা হয় যে, তিনি মানুষকে সেই মহা দুর্ভোগ হইতে সাবধান করিবেন, যাহা তাহাদের কৃতকর্মের ফলে এই জগতে নির্দিষ্ট করিয়া রাখা হইয়াছে, অপকর্মের ফলে তাহারা যে আল্লাহ্ রহমত হইতে বঞ্চিত হইবেন এবং কবর ও হাশরে তাহাদের উপর যেই বিপদ আসিবে তাহার সম্পর্কে যিনি লোকদিগকে অবহিত করেন, তিনি হইলেন মুনযির বা ভীতি প্রদর্শনকারী।
যখন আল্লাহর ইচ্ছা হয় তখন সৃষ্টিকুলের হিদায়াত ও সংশোধনের জন্য এবং অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া আসার জন্য 'মুফহিমূন'-এর মধ্য হইতে কাহাকেও, প্রেরণ করেন। বান্দাদের উপর এই প্রেরিত ব্যক্তির অনুসরণ করা আবশ্যকীয় করা হয়। আল্লাহ্র পক্ষ হইতে তাকীদ করা হয় যে, যেই ব্যক্তি তাঁহার অনুসরণ করিবে তিনি তাহার উপর সন্তুষ্ট হইবেন এবং যে তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিবে তাহার উপর তিনি নারাজ হইবেন। এইরূপ ব্যক্তিকেই নবী বলা হয়। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে যত নবী আগমন করিয়াছিলেন তাঁহাদের কেহ কেহ মুফহীমূনের উপরিউক্তস্তরসমূহের মধ্য হইতে এক-দুইটি স্তরের অধিকারী
নবুওয়াতের মর্যাদা
সম্মান ও মর্যাদা, 'ইলম ও আমলের পার্থক্যের অনুপাতে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীভেদ লক্ষ্য করা যায়। তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হইলেন বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ। শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবীর ভাষায় ইহারা হইলেন 'মুফহিমূন'। তিনি বলেন, ইহারা হইলেন সেই সকল লোক, যাহাদের রহিয়াছে সর্বোচ্চ ফেরেশতাসুলভ প্রকৃতি। যাহারা এই অবস্থানে পৌঁছিবার যোগ্যতাসম্পন্ন, তাঁহারা সঠিক পরিকল্পনা ও সত্য দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিশ্বজোড়া এক নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁহাদের উপর আল্লাহ্র দরবার হইতে এমন প্রজ্ঞা ও প্রাণসঞ্জীবনী শক্তির বিকাশ ঘটে, যেইগুলির মধ্যে আল্লাহ্ প্রত্যক্ষ নির্দেশাবলীর লক্ষণাদি দেখিতে পাওয়া যায়। তাঁহারা সঠিক বিবেকবান এবং আকার-আকৃতি, আচার-আচরণ, বুদ্ধি ও মেধায় মধ্যমপন্থী হইয়া থাকেন। তাঁহারা সঠিক প্রবৃত্তির উপর অবিচল থাকেন।
তাঁহাদের আচার-আচরণ মনোমুগ্ধকর হইয়া থাকে। আল্লাহ্র সহিত তাঁহাদের সম্পর্ক থাকে ইবাদত ও আনুগত্যের এবং বান্দাদের সহিত সম্পর্ক হয় ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের। তাঁহারা সিদ্ধান্ত দানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের প্রতি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেন না, বরং তাহাদের দৃষ্টি থাকে সর্বসাধারণের কল্যাণের প্রতি। জগৎ স্রষ্টা তাঁহাদিগকে সাহায্য করিতে থাকেন। তাই অল্প আয়াসেই তাঁহাদের নৈকট্যলাভ ও শান্তির সেই দ্বার উন্মুক্ত হইয়া যায় যাহা অন্যদের জন্য সম্ভব হয় না।
এই 'মুফহিমূন' বা প্রজ্ঞা ও মনীষার অধিকারিগণ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত। যোগ্যতা ও দক্ষতার তারতম্যেই এই শ্রেণীবিভেদ। এই যোগ্যতার নিরিখেই তাহাদেরকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যাহারা অধিকতর ইবাদতের মাধ্যমে আত্মসংশোধনের স্তর লাভ করেন তাঁহারা হইলেন 'কামিল'। যাহারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী হইয়া সঠিক পরিকল্পনার জ্ঞানসমূহ লাভের অধিকারী হইয়াছেন, তাঁহারা হইলেন 'হাকীম'। যাহারা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জ্ঞান লাভ করিয়াছেন এবং তাঁহাদেরকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছে তাঁহাদেরকে বলা হয় 'খলীফা'। যাঁহার নিকট জিবরাঈল ('আ)-এর আগমন ঘটে, তাঁহার নিকট হইতে তিনি জ্ঞান লাভ করেন, বিভিন্ন মুজিযার প্রকাশ ঘটে তাঁহাকে مؤيد بروح القدس জিবরাঈল কর্তৃক সাহায্যকৃত বলিয়া অভিহিত করা হয়। যাঁহার চেহারা ও অন্তরে নূর বা জ্যোতি থাকে, তাঁহার সংসর্গে মানুষ জীবনজিজ্ঞাসার সন্ধান পায়, তাঁহার নূর বিচ্ছুরিত হইয়া তাঁহার সঙ্গীদেরকে আলোকিত করে এবং তাঁহারাও কামালিয়াতের স্তর লাভ করেন, তাঁহাকে 'হাদী' (হিদায়াতকারী) এবং 'মুযাক্কী' (পবিত্রতা প্রদানকারী) বলা হয়। যাঁহার ইলমের বড় অংশ ধর্মের মূলনীতি, নিয়ম-পদ্ধতি ও ইহার সফলসমূহের অবগতির লক্ষ্যে হয়। আর তাঁহার মাধ্যমে ধর্মের বিলুপ্ত ও নিষ্প্রাণ বিধানসমূহকে পুনর্জীবিত করা সম্ভব হয় তাঁহাকে ইমাম বলা হয়। যাঁহার অন্তরে এই প্রেরণা প্রদান করা হয় যে, তিনি মানুষকে সেই মহা দুর্ভোগ হইতে সাবধান করিবেন, যাহা তাহাদের কৃতকর্মের ফলে এই জগতে নির্দিষ্ট করিয়া রাখা হইয়াছে, অপকর্মের ফলে তাহারা যে আল্লাহ্ রহমত হইতে বঞ্চিত হইবেন এবং কবর ও হাশরে তাহাদের উপর যেই বিপদ আসিবে তাহার সম্পর্কে যিনি লোকদিগকে অবহিত করেন, তিনি হইলেন মুনযির বা ভীতি প্রদর্শনকারী।
যখন আল্লাহর ইচ্ছা হয় তখন সৃষ্টিকুলের হিদায়াত ও সংশোধনের জন্য এবং অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া আসার জন্য 'মুফহিমূন'-এর মধ্য হইতে কাহাকেও, প্রেরণ করেন। বান্দাদের উপর এই প্রেরিত ব্যক্তির অনুসরণ করা আবশ্যকীয় করা হয়। আল্লাহ্র পক্ষ হইতে তাকীদ করা হয় যে, যেই ব্যক্তি তাঁহার অনুসরণ করিবে তিনি তাহার উপর সন্তুষ্ট হইবেন এবং যে তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিবে তাহার উপর তিনি নারাজ হইবেন। এইরূপ ব্যক্তিকেই নবী বলা হয়। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে যত নবী আগমন করিয়াছিলেন তাঁহাদের কেহ কেহ মুফহীমূনের উপরিউক্তস্তরসমূহের মধ্য হইতে এক-দুইটি স্তরের অধিকারী
সম্মান ও মর্যাদা, 'ইলম ও আমলের পার্থক্যের অনুপাতে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীভেদ লক্ষ্য করা যায়। তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হইলেন বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ। শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবীর ভাষায় ইহারা হইলেন 'মুফহিমূন'। তিনি বলেন, ইহারা হইলেন সেই সকল লোক, যাহাদের রহিয়াছে সর্বোচ্চ ফেরেশতাসুলভ প্রকৃতি। যাহারা এই অবস্থানে পৌঁছিবার যোগ্যতাসম্পন্ন, তাঁহারা সঠিক পরিকল্পনা ও সত্য দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিশ্বজোড়া এক নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁহাদের উপর আল্লাহ্র দরবার হইতে এমন প্রজ্ঞা ও প্রাণসঞ্জীবনী শক্তির বিকাশ ঘটে, যেইগুলির মধ্যে আল্লাহ্ প্রত্যক্ষ নির্দেশাবলীর লক্ষণাদি দেখিতে পাওয়া যায়। তাঁহারা সঠিক বিবেকবান এবং আকার-আকৃতি, আচার-আচরণ, বুদ্ধি ও মেধায় মধ্যমপন্থী হইয়া থাকেন। তাঁহারা সঠিক প্রবৃত্তির উপর অবিচল থাকেন। তাঁহাদের আচার-আচরণ মনোমুগ্ধকর হইয়া থাকে। আল্লাহ্র সহিত তাঁহাদের সম্পর্ক থাকে ইবাদত ও আনুগত্যের এবং বান্দাদের সহিত সম্পর্ক হয় ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের। তাঁহারা সিদ্ধান্ত দানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের প্রতি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেন না, বরং তাহাদের দৃষ্টি থাকে সর্বসাধারণের কল্যাণের প্রতি। জগৎ স্রষ্টা তাঁহাদিগকে সাহায্য করিতে থাকেন। তাই অল্প আয়াসেই তাঁহাদের নৈকট্যলাভ ও শান্তির সেই দ্বার উন্মুক্ত হইয়া যায় যাহা অন্যদের জন্য সম্ভব হয় না।
এই 'মুফহিমূন' বা প্রজ্ঞা ও মনীষার অধিকারিগণ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত। যোগ্যতা ও দক্ষতার তারতম্যেই এই শ্রেণীবিভেদ। এই যোগ্যতার নিরিখেই তাহাদেরকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যাহারা অধিকতর ইবাদতের মাধ্যমে আত্মসংশোধনের স্তর লাভ করেন তাঁহারা হইলেন 'কামিল'। যাহারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী হইয়া সঠিক পরিকল্পনার জ্ঞানসমূহ লাভের অধিকারী হইয়াছেন, তাঁহারা হইলেন 'হাকীম'। যাহারা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জ্ঞান লাভ করিয়াছেন এবং তাঁহাদেরকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছে তাঁহাদেরকে বলা হয় 'খলীফা'। যাঁহার নিকট জিবরাঈল ('আ)-এর আগমন ঘটে, তাঁহার নিকট হইতে তিনি জ্ঞান লাভ করেন, বিভিন্ন মুজিযার প্রকাশ ঘটে তাঁহাকে مؤيد بروح القدس জিবরাঈল কর্তৃক সাহায্যকৃত বলিয়া অভিহিত করা হয়। যাঁহার চেহারা ও অন্তরে নূর বা জ্যোতি থাকে, তাঁহার সংসর্গে মানুষ জীবনজিজ্ঞাসার সন্ধান পায়, তাঁহার নূর বিচ্ছুরিত হইয়া তাঁহার সঙ্গীদেরকে আলোকিত করে এবং তাঁহারাও কামালিয়াতের স্তর লাভ করেন, তাঁহাকে 'হাদী' (হিদায়াতকারী) এবং 'মুযাক্কী' (পবিত্রতা প্রদানকারী) বলা হয়। যাঁহার ইলমের বড় অংশ ধর্মের মূলনীতি, নিয়ম-পদ্ধতি ও ইহার সফলসমূহের অবগতির লক্ষ্যে হয়। আর তাঁহার মাধ্যমে ধর্মের বিলুপ্ত ও নিষ্প্রাণ বিধানসমূহকে পুনর্জীবিত করা সম্ভব হয় তাঁহাকে ইমাম বলা হয়। যাঁহার অন্তরে এই প্রেরণা প্রদান করা হয় যে, তিনি মানুষকে সেই মহা দুর্ভোগ হইতে সাবধান করিবেন, যাহা তাহাদের কৃতকর্মের ফলে এই জগতে নির্দিষ্ট করিয়া রাখা হইয়াছে, অপকর্মের ফলে তাহারা যে আল্লাহ্ রহমত হইতে বঞ্চিত হইবেন এবং কবর ও হাশরে তাহাদের উপর যেই বিপদ আসিবে তাহার সম্পর্কে যিনি লোকদিগকে অবহিত করেন, তিনি হইলেন মুনযির বা ভীতি প্রদর্শনকারী।
যখন আল্লাহর ইচ্ছা হয় তখন সৃষ্টিকুলের হিদায়াত ও সংশোধনের জন্য এবং অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া আসার জন্য 'মুফহিমূন'-এর মধ্য হইতে কাহাকেও, প্রেরণ করেন। বান্দাদের উপর এই প্রেরিত ব্যক্তির অনুসরণ করা আবশ্যকীয় করা হয়। আল্লাহ্র পক্ষ হইতে তাকীদ করা হয় যে, যেই ব্যক্তি তাঁহার অনুসরণ করিবে তিনি তাহার উপর সন্তুষ্ট হইবেন এবং যে তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিবে তাহার উপর তিনি নারাজ হইবেন। এইরূপ ব্যক্তিকেই নবী বলা হয়। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে যত নবী আগমন করিয়াছিলেন তাঁহাদের কেহ কেহ মুফহীমূনের উপরিউক্তস্তরসমূহের মধ্য হইতে এক-দুইটি স্তরের অধিকারী ছিলেন।
টিকাঃ
১. শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ১খ., পৃ. ৮৪।
📄 নবুওয়াতের দুইটি পর্যায়
নবীর আবির্ভাবকে দুইটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। একটি হইল, একজন নবীর নবুওয়াত দ্বারা তাঁহার অনুসারী উম্মত হিদায়ত লাভ করিবে। দ্বিতীয় পর্যায় হইল, তাঁহার উম্মতের বিকীরিত হিদায়াত দ্বারা অন্যান্য উম্মতও অন্ধকার হইতে আলোর পথে আসিবে। যেই নবীর মধ্যে আবির্ভাবের এই দুই পর্যায় পাওয়া যাইবে তিনিই হইবেন নবুওয়াতের উচ্চ সোপানের অধিকারী। এই নবীর সত্তাগত আবির্ভাবকে প্রথম পর্যায় এবং তাঁহার উম্মতের দ্বারা অন্যান্য উম্মতের হিদায়াতের যে সুযোগ লাভ হয় ইহাকে দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত আবির্ভাব বলা হয়। নবুওয়াতের প্রথম পর্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করিয়া ইরশাদ হইয়াছেঃ
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ والحكمة (الجمعة - ٢).
"তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাহাদের মধ্য হহতে, যে তাহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ, তাহাদিগকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত" (৬২: ২)।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আবির্ভাবের প্রতি এই আয়াতে ইঙ্গিত রহিয়াছে। ইরশাদ হইয়াছে:
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ (ال عمران ۱۱).
"তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হইয়াছে; তোমরা সৎ কার্যের নির্দেশ দান কর, অসৎ কার্যের নিষেধ কর” (৩: ১১০)।
এই আয়াত হইতে প্রতীয়মান হয় যে, যেইভাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবী হিসাবে প্রেরণ তাঁহার উম্মতের জন্য হইয়াছিল অনুরূপ তাঁহার উম্মতের প্রেরণ ছিল অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি। আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত হইতেও এই কথাই স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছেঃ
لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ (الحج ۷۷).
"যাহাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হয় এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানবজতির জন্য" (২২ঃ ৭৭)।
এইজন্য হাদীছে বর্ণিত রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করিয়া ইরশাদ করিয়াছেন :
فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِرِينَ.
"তোমাদেরকে সহজকরণের নিমিত্তে প্রেরণ করা হইয়াছে, কঠোরতা প্রদর্শনের জন্য তোমরা প্রেরিত হও নাই"।
রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই দুই পর্যায়ের পূর্ণ যোগ্যতা প্রদান করা হইয়াছিল (শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ১খ., পৃ. ৮৪)।
নবীর আবির্ভাবকে দুইটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। একটি হইল, একজন নবীর নবুওয়াত দ্বারা তাঁহার অনুসারী উম্মত হিদায়ত লাভ করিবে। দ্বিতীয় পর্যায় হইল, তাঁহার উম্মতের বিকীরিত হিদায়াত দ্বারা অন্যান্য উম্মতও অন্ধকার হইতে আলোর পথে আসিবে। যেই নবীর মধ্যে আবির্ভাবের এই দুই পর্যায় পাওয়া যাইবে তিনিই হইবেন নবুওয়াতের উচ্চ সোপানের অধিকারী। এই নবীর সত্তাগত আবির্ভাবকে প্রথম পর্যায় এবং তাঁহার উম্মতের দ্বারা অন্যান্য উম্মতের হিদায়াতের যে সুযোগ লাভ হয় ইহাকে দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত আবির্ভাব বলা হয়। নবুওয়াতের প্রথম পর্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করিয়া ইরশাদ হইয়াছে:
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ والحكمة (الجمعة - ٢).
"তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাহাদের মধ্য হহতে, যে তাহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ, তাহাদিগকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত" (৬২: ২)।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আবির্ভাবের প্রতি এই আয়াতে ইঙ্গিত রহিয়াছে। ইরশাদ হইয়াছে:
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ (ال عمران ۱۱).
"তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হইয়াছে; তোমরা সৎ কার্যের নির্দেশ দান কর, অসৎ কার্যের নিষেধ কর” (৩: ১১০)।
এই আয়াত হইতে প্রতীয়মান হয় যে, যেইভাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবী হিসাবে প্রেরণ তাঁহার উম্মতের জন্য হইয়াছিল অনুরূপ তাঁহার উম্মতের প্রেরণ ছিল অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি। আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত হইতেও এই কথাই স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছেঃ
لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ (الحج ۷۷).
"যাহাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হয় এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানবজতির জন্য" (২২ঃ ৭৭)।
এইজন্য হাদীছে বর্ণিত রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করিয়া ইরশাদ করিয়াছেন :
فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِرِينَ.
"তোমাদেরকে সহজকরণের নিমিত্তে প্রেরণ করা হইয়াছে, কঠোরতা প্রদর্শনের জন্য তোমরা প্রেরিত হও নাই"।
রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই দুই পর্যায়ের পূর্ণ যোগ্যতা প্রদান করা হইয়াছিল (শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ১খ., পৃ. ৮৪)।
📄 রাসূল প্রেরণের জন্য কোন জাতি নির্বাচন
রাসূল প্রেরণের জন্য কোন জাতি নির্বাচন
ইহা সুস্পষ্ট যে, রাসূল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা আল্লাহ পাকের হিকমত অনুযায়ী তখনই দেখা দেয় যখন বিশ্বের সার্বিক নিয়ম-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা প্রকট হইয়া উঠে। এই শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সেই কালে কেবল এই রাসূলের আবির্ভাবের সঙ্গেই সম্পৃক্ত হইয়া থাকে। বিশ্বের অগণিত জাতির মধ্য হইতে যেই জাতি আল্লাহ পাকের ইবাদত ও আনুগত্য প্রকাশের শক্তি ও যোগ্যতা বেশী রাখে এবং তাঁহার রহমত ও করুণা অধিক মাত্রায় ধারণ করিতে সক্ষম সেই জাতির প্রতিই সংশ্লিষ্ট রাসূল প্রেরিত হন। যেহেতু এই জাতির সংশোধন সেই নবীর অনুসরণের মধ্যে নিহিত থাকে, আল্লাহ তা'আলা সেই নবীর অনুসরণ করা তাহাদের সকলের উপর ওয়াজিব করিয়াছেন। রাসূলের আবির্ভাবের সময় যদি কোন ফাসাদ সৃষ্টিকারী সাম্রাজ্য নির্মূল করিয়া নূতন কোন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয় তাহা হইলে আল্লাহ তা'আলা সেখানে একজন রাসূল প্রেরণ করেন যিনি অপকর্মকারী জাতিকে ও ইহার ধর্ম সর্বাগ্রে সংশোধন করেন। পরে এই জাতির দ্বারা অন্যান্য জাতিও সংশোধিত হয়। এই লক্ষ্যে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাব ঘটিয়াছিল।
আর আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট যদি এইরূপ হয় যে, আল্লাহ তা'আলা কোন জাতিকে স্থায়িত্ব দান ও শান্তিময় অবস্থানে সমুন্নত করিবার ইচ্ছা করেন, তখন তাহাদের মধ্যে এমন একজনকে প্রেরণ করেন যিনি তাহাদের যাবতীয় আবিলতা দূর করিয়া আল্লাহ্ কিতাবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করিবেন। এইরূপ আবির্ভাবের দৃষ্টান্ত হইলেন মূসা ('আ)। তাঁহার আবির্ভাবের লক্ষ্য ছিল বানু ইসরাঈলকে প্রতিষ্ঠা করা।
আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট যদি এইরূপ হয় যে, কোন জাতি সম্পর্কে আল্লাহ্র ফায়সালা হইল তাহাদেরকে দীর্ঘায়ু দান করা, তাহাদেরকে স্বীয় ধর্মে স্থির রাখা, তখন তাহাদের মধ্যে ধর্মের সংস্কারকগণ আবির্ভূত হন। যেমন বানু ইসরাঈলে বিভিন্ন সময়ে হযরত দাউদ ('আ), হযরত সুলায়মান ('আ) প্রমুখ নবীর আবির্ভাব ঘটিয়াছিল।
রাসূল প্রেরণের জন্য কোন জাতি নির্বাচন
ইহা সুস্পষ্ট যে, রাসূল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা আল্লাহ পাকের হিকমত অনুযায়ী তখনই দেখা দেয় যখন বিশ্বের সার্বিক নিয়ম-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা প্রকট হইয়া উঠে। এই শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সেই কালে কেবল এই রাসূলের আবির্ভাবের সঙ্গেই সম্পৃক্ত হইয়া থাকে। বিশ্বের অগণিত জাতির মধ্য হইতে যেই জাতি আল্লাহ পাকের ইবাদত ও আনুগত্য প্রকাশের শক্তি ও যোগ্যতা বেশী রাখে এবং তাঁহার রহমত ও করুণা অধিক মাত্রায় ধারণ করিতে সক্ষম সেই জাতির প্রতিই সংশ্লিষ্ট রাসূল প্রেরিত হন। যেহেতু এই জাতির সংশোধন সেই নবীর অনুসরণের মধ্যে নিহিত থাকে, আল্লাহ তা'আলা সেই নবীর অনুসরণ করা তাহাদের সকলের উপর ওয়াজিব করিয়াছেন। রাসূলের আবির্ভাবের সময় যদি কোন ফাসাদ সৃষ্টিকারী সাম্রাজ্য নির্মূল করিয়া নূতন কোন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয় তাহা হইলে আল্লাহ তা'আলা সেখানে একজন রাসূল প্রেরণ করেন যিনি অপকর্মকারী জাতিকে ও ইহার ধর্ম সর্বাগ্রে সংশোধন করেন। পরে এই জাতির দ্বারা অন্যান্য জাতিও সংশোধিত হয়। এই লক্ষ্যে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাব ঘটিয়াছিল।
আর আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট যদি এইরূপ হয় যে, আল্লাহ তা'আলা কোন জাতিকে স্থায়িত্ব দান ও শান্তিময় অবস্থানে সমুন্নত করিবার ইচ্ছা করেন, তখন তাহাদের মধ্যে এমন একজনকে প্রেরণ করেন যিনি তাহাদের যাবতীয় আবিলতা দূর করিয়া আল্লাহ্ কিতাবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করিবেন। এইরূপ আবির্ভাবের দৃষ্টান্ত হইলেন মূসা ('আ)। তাঁহার আবির্ভাবের লক্ষ্য ছিল বানু ইসরাঈলকে প্রতিষ্ঠা করা।
আবির্ভাবের প্রেক্ষাপাপট যদি এইরূপ হয় যে, কোন জাতি সম্পর্কে আল্লাহ্র ফায়সালা হইল তাহাদেরকে দীর্ঘায়ু দান করা, তাহাদেরকে স্বীয় ধর্মে স্থির রাখা, তখন তাহাদের মধ্যে ধর্মের সংস্কারকগণ আবির্ভূত হন। যেমন বানু ইসরাঈলে বিভিন্ন সময়ে হযরত দাউদ ('আ), হযরত সুলায়মান ('আ) প্রমুখ নবীর আবির্ভাব ঘটিয়াছিল।
📄 নবীগণের সুনিশ্চিত সফলতা
নবীগণের সুনিশ্চিত সফলতা
সকল নবীর আবির্ভাবের প্রাক্কালে আল্লাহ তা'আলার এই সিদ্ধান্ত থাকে যে, তিনি নবী ও তাঁহার অনুগামীগণকে সফলতা দান করিবেন, তাঁহার বিরুদ্ধবাদীদিগকে একের পর এক পরাজয়ের সম্মুখীন করিবেন, যাহাতে সত্যের প্রতিষ্ঠা ও দাওয়াতের কাজ পরিপূর্ণতা লাভ করে। এই সম্পর্কে আল-কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে:
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ. أَنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ. وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ (الصفت - ۱۷۱-۱۷۳).
"আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হইয়াছে যে, অবশ্যই তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে এবং আমার বাহিনীই হইবে বিজয়ী (৩৭: ১৭১-১৭৩)।
ঘটনাবলী দ্বারা এই নীতি প্রমাণিত। জনগণের মনস্তত্ত্ব (Psychology of People) ও নেতৃত্বের মনস্তত্ত্বের (Psychology of Leadership) ঘটনাবলী ইহার প্রমাণ বহন করে। ইমাম গাযালী ও শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবী নবুওয়াত ও ইহার সফলতা সম্পর্কে যেই সারগর্ভ আলোচনা করিয়াছেন উহাকে রূপক অর্থে নবুওয়াতের মনস্তত্ত্ব (নফসিয়াত নবুওয়াত) বলিয়া অভিহিত করা যায় (শিবলী নু'মানী-সুলায়মান নাদবী, প্রাগুক্ত)।
নবীগণের সুনিশ্চিত সফলতা
সকল নবীর আবির্ভাবের প্রাক্কালে আল্লাহ তা'আলার এই সিদ্ধান্ত থাকে যে, তিনি নবী ও তাঁহার অনুগামীগণকে সফলতা দান করিবেন, তাঁহার বিরুদ্ধবাদীদিগকে একের পর এক পরাজয়ের সম্মুখীন করিবেন, যাহাতে সত্যের প্রতিষ্ঠা ও দাওয়াতের কাজ পরিপূর্ণতা লাভ করে। এই সম্পর্কে আল-কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে:
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ. أَنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ. وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ (الصفت - ۱۷۱-۱۷۳).
"আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হইয়াছে যে, অবশ্যই তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে এবং আমার বাহিনীই হইবে বিজয়ী (৩৭: ১৭১-১৭৩)।
ঘটনাবলী দ্বারা এই নীতি প্রমাণিত। জনগণের মনস্তত্ত্ব (Psychology of People) ও নেতৃত্বের মনস্তত্ত্বের (Psychology of Leadership) ঘটনাবলী ইহার প্রমাণ বহন করে। ইমাম গাযালী ও শাহ ওলীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলাবী নবুওয়াত ও ইহার সফলতা সম্পর্কে যেই সারগর্ভ আলোচনা করিয়াছেন উহাকে রূপক অর্থে নবুওয়াতের মনস্তত্ত্ব (নফসিয়াত নবুওয়াত) বলিয়া অভিহিত করা যায় (শিবলী নু'মানী-সুলায়মান নাদবী, প্রাগুক্ত)।