📄 যিনি মাতৃদুগ্ধ পান করেন নাই
সামবেদ, আগ্নেয় কাণ্ড, ৬৪ মন্ত্রে বলা হইয়াছে, "এই শিশুর ও এই তরুণের কাজ বড়ই বিচিত্র। সে স্তন্য পানের জন্য মায়ের কাছে যায় না। তাঁহার মাতার স্তন শূন্য। তবুও সে জন্মমাত্রই এই মহান দেবদূতের কার্যভার গ্রহণ করিল" (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৭৮-৭৯)।
বলা বাহুল্য, ঋষি বা পয়গাম্বরগণের ভিতর একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-ই মাতৃস্তন্য পান করেন নাই, বরং তিনি ধাত্রীর স্তন্য পান করিয়াছেন। কারণ তিনি আরব সন্তান ছিলেন। আরবে তখন ধাত্রীপ্রথা চালু ছিল। কুলীন ঘরের মাতারা সন্তানগণকে নিজের স্তন্য পান না করাইয়া ধাত্রীস্তন্য পান করাইত। তাঁহার ধাত্রীমাতা ছিলেন বিবি হালীমা (রা)। অবস্থা এই হইয়াছিল যে, হযরত মুহাম্মদ (স) ইয়াতীম বলিয়া তাঁহাকে কোন ধাত্রীমাতা গ্রহণ করিতেছিল না। পক্ষান্তরে বিবি হালীমার নিজের শিশু থাকায় স্তনে দুধ কম থাকিত বলিয়া তাহাকে কেহ সন্তান দিল না। অগত্যা বিবি হালীমা মুহাম্মদ (স)-কেই গ্রহণ করিলেন। বিবি হালীমা বলেন, "আমি মুহাম্মাদ (স)-কে ঘরে নিয়া আসিলাম। তাঁহাকে দুধ পান করাইতে বসিয়াই বরকত, মঙ্গল ও কল্যাণের আগমন দেখিতে পাইলাম। আমার বুকে দুধের জোয়ার আসিয়া গেল।"
বস্তুত সামবেদের এই মন্ত্রটি দ্বারা একাধারে উক্ত ঋষি বা পয়গাম্বরের দেশ ও পরিচয় নির্ণীত হয়। পৃথিবীর ভিতর একমাত্র আরবদেশেই ধাত্রীপ্রথা চালু ছিল এবং সেখানকার অভিজাত ঘরের সন্তানেরা মাতৃস্তন্য পান না করিয়া ধাত্রীস্তন্য পান করিত। তাহাছাড়া একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-কেই শৈশবে ও কৈশোরে "বক্ষবিদারণ" (শাক্ সাদর) করিয়া ঐশীদৌত্য পালনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এমনকি শিশু মুহাম্মাদ (স) তাঁহার ধাত্রীভ্রাতার জন্য একটি স্তন্য নির্ধারিত রাখিয়া অপর স্তন্য হইতেই শুধু দুধ পান করিতেন। বিবি হালীমা (রা) এইসব ঘটনায় অত্যধিক বিস্মিত হইয়া বলিতেন, এই শিশু ভবিষ্যতে বিরাট কিছু হইবে।
সুতরাং একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উক্ত মন্ত্রে নির্দেশিত ঋষি বা পয়গাম্বর আরবের হযরত মুহাম্মাদ (স) ভিন্ন অন্য কেহ নহেন।