📄 ১. অশ্বারোহণ ও খড়গ ধারণ
ভগবত পুরাণের দ্বাদশ স্কন্ধ, দ্বিতীয় অধ্যায়ে উনিশতম শ্লোকে উল্লেখ আছে যে, কল্কি অবতার দেবতা প্রদত্ত অশ্বে আরোহণ করিবেন এবং তরবারি দ্বারা দুষ্টের দমন করিবেন। এই দিক দিয়া দেখা যায় যে, মুহাম্মাদ (স)-ও আল্লাহ্ তরফ হইতে 'বোরাক' নামক একটি ঐশী অশ্ব লাভ করেন এবং উহাতে আরোহণ করিয়া তিনি মি'রাজ গমন করেন। তাহা ছাড়া হযরত মুহাম্মাদ (স) ঘোড়া ভালবাসিতেন। তাঁহার আরও সাতটি ঘোড়া ছিল। হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি মহানবী (স)-কে অশ্বে আরোহণ করিয়া গলায় তরবারি ঝুলান অবস্থায় দেখিয়াছি।
হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর মোট নয়টি তরবারি ছিল (ক) বংশ-পরম্পরায় প্রাপ্ত সাতটি তরবারি; (খ) যুলফাকার নামক তলোয়ার; (গ) কলঙ্গ নামক তরবারি।
📄 ২. জগত গুরু
ভাগবত পুরাণের উক্ত শ্লোকে কল্কি অবতারকে 'জগৎপতি' বলা হইয়াছে। উপদেশাবলী দ্বারা যিনি নিপতিত পৃথিবীকে উদ্ধার ও রক্ষা করেন, তাঁহাকে জগৎপতি বলা হয়। তিনি নির্দিষ্ট কোন জাতির গুরু নহেন। তিনি হইলেন সমগ্র বিশ্বের গুরু। এই দৃষ্টিকোণ হইতে দেখা যায় যে, কুরআনে হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব পালনের আহবান জানাইয়া বলা হইয়াছে, হে মুহাম্মাদ! আপনি ঘোষণা করুন যে, আপনি সমগ্র বিশ্বের জন্য নবীস্বরূপ আগমন করিয়াছেন (সূরা আ'রাফঃ ১৫৮ আয়াত দ্র.)। তেমনি সূরা ফুরকানের প্রথম আয়াতে বলা হইয়াছে "মহিমান্বিত সেই প্রভু যিনি স্বীয় বান্দার উপর পবিত্র গ্রন্থ নাযিল করিয়াছেন যাহাতে তিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য পাপ হইতে সতর্ককারী হন" (২৫: ১)।
📄 ৩. অসাধু দমন
কল্কি পুরাণে কল্কি অবতার বা অন্তিম অবতার সম্পর্কে বলা হইয়াছে যে, তিনি পাপাচারিগণকে দমন করিবেন। ইহা একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কারণ কুরআনের বহুস্থানে কাফির, মুশরিক তথা পাপাচারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে। তিনি আরবের পাপাচারী দুর্বৃত্তদিগকে কঠোর হস্তে দমন করিয়া সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন, এক আল্লাহ্র সহিত অন্যান্য দেব-দেবীর অর্চনাকে রোধ করিয়াছেন এবং মূর্তিপূজা বিলোপ করিয়াছেন। ইসলাম অর্থ আল্লাহতে আত্মসমর্পণ। তাই যাহারা ইসলামকে অস্বীকার করিয়াছে, তিনি সেই কাফির ও জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হইয়া তাহদিগকে পরাস্ত করিয়াছেন। ফলে সমগ্র আরব হইতে ব্যভিচার, লুণ্ঠন, অত্যাচার ও অবিচার নির্মূল, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। তাঁহার বিশ্বস্ত সহচরগণ অনতিকালের ভিতর রোমক ও পারস্য সাম্রাজ্যের জালিম ও ব্যভিচারী সম্রাটদের পতন ঘটাইয়া প্রায় সমগ্র বিশ্বে সত্য ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন।
📄 ৪. জন্মস্থান
ভাগবত পুরাণের দ্বাদশ স্কন্ধ, দ্বিতীয় অধ্যায়ে, অষ্টাদশ শ্লোকে বলা হইয়াছে, কল্কি অবতার 'সম্ভল' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করিবেন। 'সম্ভল' শব্দের অর্থ হইল 'শান্তির ঘর'। মক্কা নগরীকে 'দারুল আমান' এবং কা'বা ঘর ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে বায়তুল হারাম বলা হয়। এতদুভয়ের তাৎপর্য 'শান্তির ঘর' ও 'নিরাপদ আবাস'। ফলে জন্মস্থানগত সাযুজ্যও বর্তমান (ঐ, পৃ. ২৩)।