📄 শারীরিক উচ্চতা
হযরত বারাআ (রা) বলেন : كان النبي ﷺمربوعا "নবী (স) মাঝারী গড়নের ছিলেন” (বুখারী, পৃ. ৭২৯, হা. ৩৫৫১)।
হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন:
كان ربعة من القوم ليس بالطويل ولا بالقصير. "মহানবী (স) ছিলেন মাঝারী গড়নের, বেমানান লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলেন না” (বুখারী, পৃ. ৭২৮, হা. ৩৫৪৭)।
হযরত আলী (রা) বলেন:
لم يكن النبى ﷺ بالطويل ولا بالقصير. "মহানবী (স) না দীর্ঘ ছিলেন আর না বেঁটে ছিলেন” (তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ৬)। এক কথায় তিনি ছিলেন মাঝারী গড়নের লোক।
📄 শরীরের চামড়া
হযরত মু'আয ইবন জাবাল (রা) বলেন:
أردفني رسول الله ﷺ خلفه في سفر فما مسست شيئا قط ألين من جلده. "এক সফরে রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বাহনের উপর তাঁহার পশ্চাতে বসাইলেন। তখন আমার মনে হইল, তাঁহার চামড়া অপেক্ষা অধিক মোলায়েম কোন কিছু আমি কখনও স্পর্শ করি নাই” (আল-মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়্যা, ২খ., ২৮২)।
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়ার হাড়
হযরত আলী (রা)-এর বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়ার হাড় মোটা ছিল (তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ৬)।
📄 মাহরে নবুওয়াত
হযরত আবূ যায়দ (রা) বলেন:
قال لي رسول الله ﷺ يا ابا زيد ادن منى فامسح ظهری فمسحت ظهره فوقعت أصابعي على الخاتم قلت وما الخاتم قال شعرات مجتمعات. "রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিলেন, হে আবূ যায়দ! আমার নিকট আস এবং আমার পিঠে হাত বুলাও। তখন আমি তাঁহার পিঠে হাত বুলাইলাম। আমার আঙ্গুলগুলি খাতাম (মাহরে নুবৃওয়াত)-এর উপর পড়িল। রাবী জিজ্ঞাসা করিলেন, খাতাম কি? তিনি বলিলেন, এক স্থানে এক গুচ্ছ চুল” (আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ৩১)।
হযরত জাবির ইব্ন সামুরা (রা) বলেন:
رأيت الخاتم عند كتفه مثل بيضة الحمامة يشبه جسده.
"আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর দুই কাঁধের মধ্যখানে মাহরে নবৃওয়াত দেখিয়াছি। তাহা ছিল কবুতরের ডিমের মত লাল বর্ণের একটি মাংসপিণ্ড” (মুসলিম, ফাদাইল, ৮খ., পৃ. ১০৬, হা. ২৩৪৪)।
হযরত সাইব ইব্ন ইয়াযীদ (রা) বলেন:
ذهبت بی خالتي الى رسول الله ﷺ فقالت يا رسول الله ان ابن اختي وجع فمسح رسول الله ﷺ رأسى ودعا لى بالبركة وتوضأ فشربت فقمت الى ظهره فنظرت الى الخاتم الذي بين كتفيه فاذا هو مثل زر الحجلة.
"আমার খালা আমাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট লইয়া গেলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের ছেলেটি অসুস্থ, তাহার জন্য দু'আ করুন। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলাইলেন এবং আমার জন্য বরকতের দু'আ করিলেন। তারপর তিনি উযূ করিলেন। আমি তাঁহার উযূর অবশিষ্ট পানি পান করিলাম। অতঃপর আমি তাঁহার পশ্চাতে দাঁড়াইয়া তাঁহার দুই কাঁধের মধ্যখানে তাঁবুর (প্রবেশ দ্বারের) পর্দার বোতামের ন্যায় মাহরে নবৃওয়াত চকচক করিতে দেখিলাম” (তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ১৫)।
হযরত আবূ নাদরা আল-আওফী (রা) বলেন:
سألت أبا سعيد الخدري عن خاتم رسول الله ﷺ یعنی خاتم النبوة فقال كان في ظهره بضعة ناشزة.
"আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাহরে নবুওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, তাহা ছিল তাঁহার পিঠে একটি উদগত মাংস খণ্ডবিশেষ" (আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ৩৩)।
হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন সারজিস (রা) বলেন:
أتيت رسول الله ﷺ وهو في ناس من أصحابه فدرت هكذا من خلفه فعرف الذي اريد فالقى الرداء عن ظهره فرأيت موضع الخاتم على كتفيه مثل الجمع حولها خيلان كانها قاليل فرجعت حتى استقبلته.
"আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে আসিলাম, তখন তিনি তাঁহার কতিপয় সাহাবীর সহিত বসা ছিলেন। আমি মহানবী (স)-এর পিছনে এমনভাবে ঘুরিতে লাগিলাম যে, তিনি আমার মনোভাব বুঝিতে পারিয়া নিজ পৃষ্ঠ হইতে চাদরটি সরাইয়া দিলেন। তখন আমি তাঁহার দুই কাঁধের উপরে খাতম (মাহরে নবুওয়াত) দেখিতে পাই। ইহার আকৃতি ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলগুলির অনুরূপ এবং চতুষ্পার্শ্বে ছিল কতকগুলি এমন তিল যাহা আঁচিলের মত মনে হইত" (তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ২৬)।
মাহরে নবুওয়াত সম্পর্কে রাবীদের বর্ণনায় পার্থক্য রহিয়াছে। ইহার কারণ এই যে, যে রাবী যেইভাবে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করিয়াছেন তিনি সেইভাবেই বর্ণনা করিয়াছেন। কেহ কবুতরের ডিমের মত, কেহ পর্দার বোতামের ন্যায়, আবার কেহ মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলের মত বলিয়াছেন। কেহ বলিয়াছেন, পৃষ্ঠে একটি উদগত মাংসখণ্ডের ন্যায়। কিন্তু সবগুলির অর্থ একই অর্থাৎ উদগত মাংসপিণ্ড। আর যে বর্ণনাকারী চুলের সমষ্টি বলিয়াছেন তাহা এই কারণে যে, মাহরে নবৃওয়াতের চারিপার্শ্বে সমান সমান চুল ছিল।