📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বগলদ্বয়

📄 বগলদ্বয়


রাসূলুল্লাহ (স)-এর বগলদ্বয় খুবই শুভ্র ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইব্‌ন বুহায়না (রা) বলেন: إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا صَلَّى فَرَجَ بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْدُوَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ. "মহানবী (স) যখন সিজদা করিতেন, তখন উভয় হাতকে পার্শ্বদেশ হইতে ফাঁকা রাখিতেন। ফলে তাঁহার উভয় বগলের শুভ্রতা দেখা যাইত” (বুখারী, সালাত, বাব ২৭, হা. ৩৯০)।
হযরত আনাস (রা) বলেন: أَنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ ﷺ كَانَ لاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْئٍ مِنْ دُعَائِهِ إِلاَّ فِي الاسْتِسْقَاءِ فَإِنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ. "ইসতিসকার সালাতের দু'আয় রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার উভয় হাত এতটা ঊর্ধ্বে উঠাইতেন যে, তাঁহার বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হইত” (বুখারী, ইসতিসকা, বাব ২২, নং ১০৩১; মানাকিব, বাব ২৩, হা. ৩৫৬৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পদদ্বয়

📄 পদদ্বয়


রাসূলুল্লাহ (স)-এর পদদ্বয় ছিল মাংসল। হযরত আনাস (রা) বলেনঃ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ ضَخْمَ الْيَدَيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ. "রাসূলুল্লাহ (স)-এর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয় মাংসল ছিল। আমি তাঁহার পূর্বে বা পরে কাহাকেও তাঁহার অনুরূপ দেখি নাই" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯০৭)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ ضَخْمَ الْقَدَمَيْنِ حَسَنَ الْوَجْهِ لَمْ ارَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ. "মহানবী (স)-এর দুই পা ছিল মাংসল, চেহারা মুবারক ছিল সুন্দর। আমি তাঁহার পরে তাঁহার অনুরূপ আর কাহাকেও দেখি নাই" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯০৯)।
হযরত আলী (রা) বলেন: جاء النبى الله الينا وقد اخذنا مضاجعنا فذهبت لاقوم فقال على مكانكما فقعد بيننا حتى وجدت برد قدميه علي صدری.
"রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট আসিলেন, তখন আমরা বিছানায় শুইয়া পড়িয়াছিলাম। তাঁহাকে দেখিয়া আমি উঠিয়া বসিতে চাহিলাম। কিন্তু তিনি বলিলেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসিয়া পড়িলেন যে, আমি তাঁহার পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করিলাম” (বুখারী, পৃ. ৭৬২, হা. ৩৭০৭)।
হিন্দ ইব্‌ন আবূ হালাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের তালু خمصان الاخمصين "কিছুটা গভীর ছিল” (আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০; ইমাম তিরমিযী, অনু. শামাইল, পৃ. ৯)।
হযরত আনাস (রা) বলেনঃ
كان النبى ﷺ شثن القدمين والكفين
"মহানবী (স)-এর দুই পায়ের পাতা ও দুই হাতের তালু মাংসল ছিল" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯১০)।
হযরত মায়মূনা বিন্ত কারদাম (রা) বলেন:
رأيت رسول الله ﷺ فما نسيت طوول اصبع قدميه السبابة على سائر أصابعه.
• "আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখিয়াছি। তাঁহার পদদ্বয়ের দ্বিতীয় আঙ্গুল সকল আঙ্গুলের মধ্যে লম্বা ছিল, আমি ইহা ভুলি নাই" (আল-মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়্যা, ২খ., পৃ. ২৯২)।
তাঁহার পায়ের উপরিভাগ সমতল ছিল। হিন্দ ইব্‌ন আবূ হালাহ (রা) বলেন:
مسيح القدمين ينو عنهما الماء اذا زال زال قلعا .
"তাঁহার পায়ের উপরিভাগ ছিল সমতল। পদদ্বয়ের উপর পানি পড়িতেই গড়াইয়া পড়িয়া যাইত, স্থির থাকিত না" (ইমাম তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ৯; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০)।
হিন্দ ইব্‌ন আবূ হালা বলেন, شائل الاطراف "তাঁহার হাত-পায়ের আঙ্গুল পরিমিত দীর্ঘ ছিল" (ইমাম তিরমিযী, অনু. পৃ. ৯; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের নলা ছিল খুবই উজ্জ্বল। হযরত আবূ জুহায়ফা (রা) বলেন:
خرج رسول الله ﷺكاني أنظر الى وبيص ساقيه.
"রাসূলুল্লাহ (স) তাঁবু হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। আমার মনে হইতেছে যেন আমি এখনও তাঁহার দুই পায়ের নলার ঔজ্জ্বল্য দেখিতে পাইতেছি” (বুখারী, পৃ. ৭৩১, হা. ৩৫৬৬)।
হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা)-এর বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের গোছা منهوس العقبين "হালকা মাংসল ছিল” (মুসলিম, ৮খ., পৃ. ১০২, হা. ২৩৩৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শরীরের রং

📄 শরীরের রং


হযরত সাঈদ জুরায়রী (র) বলেন, আমি আবুত তুফায়ল (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি:
رایت رسول الله ﷺ وما بقى على وجه الارض احد راه غیری قلت صفه لي قال كان ابيض مليحا مقصدا .
"রাসূলুল্লাহ (স)-কে দর্শনকারীদের মধ্যে এই পৃথিবীতে আমি ব্যতীত আর কেহই জীবিত নাই। আমি তাঁহাকে বলিলাম, মহানবী (স)-এর আকৃতি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলিলেন, তাঁহার দেহের বর্ণ লাবণ্যময় ও কমনীয় ছিল” (তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ১৪)।
হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-এর বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন:
أزهر اللون ليس بابيض أمهق ولا ادم.
"গোলাপী রংয়ের, তাঁহার শরীরের রং না ছিল ধবধবে সাদা, আবার না একেবারে কড়া বাদামী” (বুখারী, ৭২৮, হা. ৩৬৪৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শরীরের ঘাম

📄 শরীরের ঘাম


হযরত আনাস (রা) বলেন, کان عرقه اللؤلؤ "রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেহের ঘাম মুক্তার দানার মত মনে হইত" (আলবানী, মুখতাসার সাহীহ মুসলিম,-পৃ. ৪১২, হা. ১৫৬৯)।
হযরত আনাস (রা) বলেন:
ما شممت عنبرا قط ولا مسقا ولا شيئا أطيب من ريح رسول الله ﷺ . "রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেহের ঘাম হইতে অধিক সুগন্ধময় কোন সুগন্ধি আমি কখনও শুকি নাই” (মুসলিম, ফাদাইল, ৮খ., পৃ. ৯৪, হা. ২৩৩০)।
হযরত আনাস (রা) বলেন:
دخل علينا النبي ﷺ فقال عندنا فعرق وجاءت امى بقارورة فجعلت تسلت العرق فيها فاستيقظ النبي ﷺ فقال يا ام سليم ما هذا الذي تصنعين قالت هذا عرقك نجعله في طيبنا وهو من أطيب الطيب.
"রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের ঘরে আসিলেন এবং দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ করিলেন। অতঃপর তাঁহার শরীর হইতে ঘাম নির্গত হইতে লাগিল। আমার মা একটি শিশিতে নির্গত ঘাম জমা করিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, হে উম্মে সুলায়ম! তুমি ইহা কি করিতেছ? তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এইগুলি হইল আপনার ঘাম। এইগুলি আমি আমাদের সুগন্ধির সাথে মিশাইব, আর আপনার ঘাম হইল সেরা সুগন্ধি" (মুসলিম, ৮খ., পৃ. ৯৪, হা. ২৩৩১)।
হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা) বলেন:
ان النبي ﷺ لم يسلك طريقا أو لا يسلك طريقا فيتبعه احد الا عرف انه قد سلكه من طيب عرقه او قال من ربح عرقه.
"রাসূলুল্লাহ (স) কোন রাস্তা দিয়া গেলে এবং কেহ তাঁহার পিছনে বাহির হইলে সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ঘামের সুগন্ধির কারণে বুঝিতে পারিত যে, তিনি এই রাস্তা দিয়া গিয়াছেন” (ইমাম দারিমী, আস-সাহীহ, ১খ., পৃ. ৯৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00