📄 হাতের কোমলতা
রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুবারক হস্তদ্বয় খুবই কোমল ছিল। হযরত আনাস (রা) বলেনঃ
ما مسست حريرا ولا ديباجا ألين من كف النبي ﷺ "কোন রেশম কিংবা কোন গরদকেও আমি মহানবী (স)-এর হাতের তালু অপেক্ষা অধিকতর কোমল পাই নাই” (বুখারী, পৃ. ১৭৩০ হা. ৩৫৬১)।
📄 শীতলতা ও সুগন্ধি
হযরত আবূ জুহায়ফা (রা) বলেন, একদা আমি মহানবী (স)-এর হাত ধরিয়া উহা আমার চেহারায় বুলাইতে লাগিলাম। তখন আমার মনে হইল:
فاذا هي أجرد من الثلب وأطيب رائحة من المسك "তাঁহার হাত মুবারক বরফ অপেক্ষা অধিক শীতল এবং মেশক অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিযুক্ত” (বুখারী, পৃ. ৭২৯, হা. ৩৫৫৩)।
হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার গণ্ডদ্বয় হাত দ্বারা মুছিয়া দিলেন। আমি তাঁহার হাতের শীতলতা অনুভব করিলাম এবং সুগন্ধি পাইলাম। মনে হইল, তিনি যেন তাহা আতর বিক্রেতার ভাণ্ডার হইতে এইমাত্র বাহির করিলেন (মুসলিম, ৮খ., পৃ. ৯০, হা. ২৩২৯)।
📄 বগলদ্বয়
রাসূলুল্লাহ (স)-এর বগলদ্বয় খুবই শুভ্র ছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইব্ন বুহায়না (রা) বলেন: إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا صَلَّى فَرَجَ بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْدُوَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ. "মহানবী (স) যখন সিজদা করিতেন, তখন উভয় হাতকে পার্শ্বদেশ হইতে ফাঁকা রাখিতেন। ফলে তাঁহার উভয় বগলের শুভ্রতা দেখা যাইত” (বুখারী, সালাত, বাব ২৭, হা. ৩৯০)।
হযরত আনাস (রা) বলেন: أَنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ ﷺ كَانَ لاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْئٍ مِنْ دُعَائِهِ إِلاَّ فِي الاسْتِسْقَاءِ فَإِنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ. "ইসতিসকার সালাতের দু'আয় রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার উভয় হাত এতটা ঊর্ধ্বে উঠাইতেন যে, তাঁহার বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হইত” (বুখারী, ইসতিসকা, বাব ২২, নং ১০৩১; মানাকিব, বাব ২৩, হা. ৩৫৬৫)।
📄 পদদ্বয়
রাসূলুল্লাহ (স)-এর পদদ্বয় ছিল মাংসল। হযরত আনাস (রা) বলেনঃ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ ضَخْمَ الْيَدَيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ. "রাসূলুল্লাহ (স)-এর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয় মাংসল ছিল। আমি তাঁহার পূর্বে বা পরে কাহাকেও তাঁহার অনুরূপ দেখি নাই" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯০৭)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ ضَخْمَ الْقَدَمَيْنِ حَسَنَ الْوَجْهِ لَمْ ارَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ. "মহানবী (স)-এর দুই পা ছিল মাংসল, চেহারা মুবারক ছিল সুন্দর। আমি তাঁহার পরে তাঁহার অনুরূপ আর কাহাকেও দেখি নাই" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯০৯)।
হযরত আলী (রা) বলেন: جاء النبى الله الينا وقد اخذنا مضاجعنا فذهبت لاقوم فقال على مكانكما فقعد بيننا حتى وجدت برد قدميه علي صدری.
"রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট আসিলেন, তখন আমরা বিছানায় শুইয়া পড়িয়াছিলাম। তাঁহাকে দেখিয়া আমি উঠিয়া বসিতে চাহিলাম। কিন্তু তিনি বলিলেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসিয়া পড়িলেন যে, আমি তাঁহার পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করিলাম” (বুখারী, পৃ. ৭৬২, হা. ৩৭০৭)।
হিন্দ ইব্ন আবূ হালাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের তালু خمصان الاخمصين "কিছুটা গভীর ছিল” (আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০; ইমাম তিরমিযী, অনু. শামাইল, পৃ. ৯)।
হযরত আনাস (রা) বলেনঃ
كان النبى ﷺ شثن القدمين والكفين
"মহানবী (স)-এর দুই পায়ের পাতা ও দুই হাতের তালু মাংসল ছিল" (বুখারী, পৃ. ১২৬২, হা. ৫৯১০)।
হযরত মায়মূনা বিন্ত কারদাম (রা) বলেন:
رأيت رسول الله ﷺ فما نسيت طوول اصبع قدميه السبابة على سائر أصابعه.
• "আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখিয়াছি। তাঁহার পদদ্বয়ের দ্বিতীয় আঙ্গুল সকল আঙ্গুলের মধ্যে লম্বা ছিল, আমি ইহা ভুলি নাই" (আল-মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়্যা, ২খ., পৃ. ২৯২)।
তাঁহার পায়ের উপরিভাগ সমতল ছিল। হিন্দ ইব্ন আবূ হালাহ (রা) বলেন:
مسيح القدمين ينو عنهما الماء اذا زال زال قلعا .
"তাঁহার পায়ের উপরিভাগ ছিল সমতল। পদদ্বয়ের উপর পানি পড়িতেই গড়াইয়া পড়িয়া যাইত, স্থির থাকিত না" (ইমাম তিরমিযী, অনু. শামায়েল, পৃ. ৯; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০)।
হিন্দ ইব্ন আবূ হালা বলেন, شائل الاطراف "তাঁহার হাত-পায়ের আঙ্গুল পরিমিত দীর্ঘ ছিল" (ইমাম তিরমিযী, অনু. পৃ. ৯; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের নলা ছিল খুবই উজ্জ্বল। হযরত আবূ জুহায়ফা (রা) বলেন:
خرج رسول الله ﷺكاني أنظر الى وبيص ساقيه.
"রাসূলুল্লাহ (স) তাঁবু হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। আমার মনে হইতেছে যেন আমি এখনও তাঁহার দুই পায়ের নলার ঔজ্জ্বল্য দেখিতে পাইতেছি” (বুখারী, পৃ. ৭৩১, হা. ৩৫৬৬)।
হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা)-এর বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের গোছা منهوس العقبين "হালকা মাংসল ছিল” (মুসলিম, ৮খ., পৃ. ১০২, হা. ২৩৩৯)।