📄 মস্তক মুবারকের বর্ণনা
মহানবী (স)-এর মস্তক মুবারকের আকার ছিল কিছুটা বড়। হযরত আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর মস্তক ছিল ضخم الرأس (কিছুটা বড়) (শামাইল, ইমাম তিরমিযী, অনু. আবদুল জলীল, পৃ. ৬)।
হযরত হিন্দ ইব্ন আবু হালা (রা) বলেন, كان عظيم الهامة "রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র মস্তক একটু বড় ছিল” (মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্য, পৃ. ১৮; ইমাম তিরমিযী, শামায়েল, পৃ. ৮)।
📄 চুল মুবারকের বর্ণনা
মহানবী (স)-এর চুল মুbarক ছিল খুবই সুন্দর। তাঁহার চুল অত্যধিক কুঞ্চিতও ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর চুল ছিল সামান্য কুঞ্চিত (সিলসিলাতুল আহাদীছ আস-সাহীহাহ্, ৫খ., পৃ. ৮২, হা. ২০৫৩; ইমাম তিরমিযী, শামায়েল, পৃ. ১২)।
কাতাদা (র) বলেন, আমি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম : كيف كان شعر رسول الله ﷺ قال كان شعرا رجلا ليس بالجعد ولا السبط بين اذنيه وعاتقه.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর চুল মুবারক কেমন ছিল? তিনি বলিলেন, তাঁহার কেশ মুবারক না খুব বক্র ছিল আর না খুব সরল। তাঁহার মাথার চুল দুই কানের মধ্য পর্যন্ত লম্বা ছিল” (মুসলিম, ফাদাইল, ৮খ., পৃ. ১০১, হা. ৬০৬৭/৯৪/২৩৩৮)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) রাসূল (স)-এর চুলের বর্ণনা বলেন: شديد سواد الشعر.
"তাঁহার চুল ছিল খুবই কালেন” (সাহীহ আল-জামে আস-সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, ৪খ.. পৃ. ১৯৯, হা. ৪৫০৯)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর তিন ধরনের চুল রাখার বর্ণনা হাদীছ শরীফে পাওয়া যায়। হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেনঃ
كان شعر رسول الله الى نصف اذنيه. "রাসূলুল্লাহ (স)-এর কেশগুচ্ছ কানের অর্ধেক পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল" (ইমাম তিরমিযী, শামায়েল, পৃ. ২৮)।
হযরত আনাস (রা) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথার চুল তাঁহার দুই কানের মাঝখান পর্যন্ত লম্বা ছিল” (মুসলিম, ৮ খ., পৃ. ১০১, হা. ৬০৬৭/৯৪/২৩৩৮)।
হযরত বারাআ (রা) বলেন: له شعر يبلغ شحمة اذنيه. "তাঁহার চুল তাঁহার দুই কানের লতি পর্যন্ত পৌছিত" (বুখালী, পৃ. ৭২-৯ হা. ৩৫৫১)।
হযরত বারা'আ (রা) আরও বলেন: ما رأيت من ذى لمة احسن في حلة حمراء من رسول الله له شعر يضرب منكبيه. "লাল ডোরাবিশিষ্ট লুঙ্গি পরিহিত 'লিম্মাহ' তথা ঘাড় পর্যন্ত প্রলম্বিত চুলওয়ালা কোন ব্যক্তিকেই আমি রাসূলুল্লাহ (স) অপেক্ষা সুন্দর দেখি নাই” (আবূ দাউদ, কিতাবুত-তারাজ্জল, ৪খ., পৃ. ৭৯, হা. ৪১৮৩)।
আল-বারা'আ (রা) বলেনঃ إن جمته لتضرب قريبا من منكبه. "তাঁহার মাথার চুল প্রায় তাঁহার কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছিত” (বুখারী, লিবাস, বাব আল-জা'দ, পৃ. ১২৬১, বা. ৫৯০১)।
হযরত 'আইশা (রা) বলেন: كان شعر رسول الله ﷺ فوق الوفرة ودون الجمة. "রাসূলুল্লাহ (স)-এর চুল মুবারক ছিল ওয়াফরাহ হইতে কম এবং জুম্মাহ হইতে বেশী” (আবূ দাউদ, ৪খ., পৃ. ৭৯, হা. ৪১৮৭)।
হযরত উম্মে হানী (রা) বলেনঃ قدم النبي ﷺ مكة وله أربع غدائر تعتى عقائص. "রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের কাছে মক্কায় আগমন করিলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁহার মাথার চুল চার গুচ্ছে বিভক্ত ছিল” (আবূ দাউদ, ৪খ., পৃ. ৮০, হা. ৪১৯১)।
উল্লিখিত হাদীছসমূহের আলোকে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ (স)-এর তিন ধরনের চুল ছিল। জুম্মাহ, লিম্মাহ ও ওয়াফরাহ। মাথার চুল লম্বা হইয়া কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাইলে ইহাকে 'জুম্মাহ' বলা হয়; আর ঘাড়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌছাইলে ইহাকে 'লিম্মাহ' বলা হয় এবং কর্ণমূল বা কর্ণের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছাইলে ইহাকে 'ওয়াফরাহ' বলা হয়।
📄 চুল আঁচড়ানো
রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার মাথার চুল সুন্দর করিয়া আঁচড়াইয়া রাখিতেন। হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) বলেনঃ
إن رسول الله ﷺ كان يسدل شعره وكان المشركون يفرقون رءوسهم فكان اهل الكتاب يسدلون رؤسهم وكان رسول الله ﷺ يحب موافقة اهل الكتاب فيما لم يؤمى فيه بشيئ ثم فرق رسول الله ﷺ رأسه.
“যেই সমস্ত ব্যাপারে কোন ওহী নাযিল হয় নাই সেইসব বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স) আহলে কিতাবের সহিত সামঞ্জস্য রাখাকে পছন্দ করিতেন। তৎকালে আহলে কিতাবগণ তাহাদের মাথার চুল সোজা ছাড়িয়া রাখিত। আর মুশরিকরা সিঁথি কাটিয়া চুলগুলিকে দুই ভাগ করিত। মহানবী (স) সিঁথি না কাটিয়া শুধু পিছনের দিকে ঝুলাইয়া রাখিতেন। অবশ্য পরে তিনি সিঁথি কাটিয়াছেন” (বুখারী, মানাকিব, বাব ২৩, পৃ. ৭৩০, হা. ৩৫৫৮)।
হযরত 'আইশা (রা) বলেনঃ
كنت اذا اردت ان افرق رأس رسول الله ﷺ صدعت الفرق من يافوخه وارسل ناصيته بين عينيه.
"আমি যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথায় সিঁথি কাটিতে ইচ্ছা করিতাম, তখন আমি উহার মধ্যস্থল হইতে সিঁথি কাটিয়া সম্মুখের চুল উভয় চক্ষুর মাঝামাঝি স্থান বরাবর হইতে ছাড়িয়া দিতাম" (আবূ দাউদ, ৪খ., পৃ. ৮০, হা. ৪১৮৯)।
তিনি আরও বলেন:
كنت ارجل رأس رسول الله ﷺ وانا حائض.
"আমি ঋতুবতী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথা আঁচড়াইয়া দিতাম” (ইমাম তিরমিযী, শামায়েল, অনু. পৃ. ৩১)।
📄 দাড়ি মুবারক
তাঁহার দাড়ি মুবারক ছিল অত্যন্ত কালো ও ঘন। হিন্দ ইব্ন আবূ হালাহ-এর বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দাড়ি মুবারক ছিল كت اللحية বা ঘন এবং পরিপূর্ণ (আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়্যা, পৃ. ১৯)।