📄 দু'আ কবুল হওয়ার সময়
মহানবী (স) তাঁহার হাদীছে বেশ কিছু সময়ের উল্লেখ রহিয়াছেন, যখন দু'আ করিলে তাহা কবুল হয়। উহা নিম্নরূপ:
প্রতিদিন রাত্রের শেষ প্রহরে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁহার নিকট দু'আ করিতে ও কিছু চাহিতে আহ্বান জানান। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ
ينزل ربنا تبارك وتعالى حين يبقى ثلث الليل الآخر كل ليلة فيقول من يسألني فاعطيه من يدعنى فاستجيب له من يستغفرني فاغفر له حتى تطلع الفجر.
"প্রতি রাত্রেই উহার শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকিতে আল্লাহ তা'আলা (প্রথম আকাশে) অবতরণ করিয়া বলিতে থাকেন, আমার নিকট কে চাহিবে? আমি তাহাকে দান করিব, আমার নিকট কে দু'আ করিবে? আমি তাহার দু'আ কবুল করিব, আমার নিকট কে ক্ষমা প্রার্থনা করিবে? আমি তাহাকে ক্ষমা করিব। এভাবে ভোর হওয়া পর্যন্ত তিনি বলিতে থাকেন" (সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাহাজ্জুদ; ইবুন মাজা, কিতাবুস-সালাত, হাদীছ নং ১৩৬৬)।
১. কদর রজনীতে; ২. আরাফাত দিবসে; ৩. রমযানুল মুবারকে; ৪. জুমু'আর রাত্রে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রে; ৫. জুমু'আর দিনে। এই ব্যাপারে কয়েক ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়, তন্মধ্যে আবূ হুরায়রা (রা)-এর বর্ণনা হইল: আসরের পর হইতে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত। এতদ্বতীত ইমাম মিম্বরে আরোহণ করা হইতে নামায শেষ করা পর্যন্ত সময়ের কথা হাদীছে উল্লিখিত আছে; ৬. অর্ধরাত্র অতিবাহিত হইবার পর; ৭. রাত্রের প্রথম তৃতীয়াংশে; ৮. রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে; ৯. প্রত্যেক রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশের মধ্যভাগে; ১০. সাহরীর সময়।
📄 যেসব অবস্থায় দু'আ কবুল হয়
দু'আকারী নিম্নলিখিত অবস্থায় দু'আ করিলে তাহা কবুল হওয়ার আশা করা যায়: ১. নামাযের আযান হওয়ার সময় আযানের উত্তরদান ও আযানের দু'আ পড়ার পর; ২. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে; ৩. বিপদাপদে নিপতিত ব্যক্তি মুআযযিনের (حى على الصلوة) হায়্যা 'আলাস-সালাহ) ও (حى على الفلاح) হায়্য আলাল-ফালাহ) বলার পর দু'আ করিলে; ৪. যুদ্ধের ময়দানে কাতার সোজা করার সময়; ৫. যুদ্ধের ময়দানে আক্রমনোদ্যত অবস্থায়; ৬. ফরয নামাযের পরে; ৭. সিজদারত অবস্থায়; ৮. কুরআন কারীম তিলাওয়াত শেষে; ৯. কুরআন কারীম খতম করার পর; ১০. যমযমের পানি পানরত অবস্থায়; ১১. কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হইলে; মৃত্যুপথযাত্রী এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ সকলেই দু'আ করিবে। ১২. মোরগের আওয়ায শুনিবার সময়; ১৩. মুসলমানদের সমাবেশে একাকী বা সম্মিলিতভাবে দু'আ করিলে। অনুরূপভাবে যিকিরের মজলিসে ও কুরআন হাদীছ-এর মজলিসে। ১৪. ইমাম (ولا الضالين) ওয়ালাদ্দুয়াল্লীন) বলার পরপর সকলে আমীন বলিলে; ১৫. মৃত ব্যক্তির চক্ষু বন্ধ করা অবস্থায়; ১৬ নামাযের ইকামত দেওয়ার সময়; ১৭. বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার সময়। ইমাম শাফি'ঈ (র) তাঁহার কিতাবুল উম্ম গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন, বৃষ্টি বর্ষণের সময় দু'আ কবুল হয় ইহা আমি বহু আলিমের মুখে শ্রবণ করিয়া মুখস্থ করিয়াছি এবং ১৮. কা'বা শরীফ দর্শনের সময়। উপরিউক্ত মুহূর্তগুলিতে দু'আ করিলে তাহা কবুল হওয়ার আশা করা যায় (আল-জাযারী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬১-৬২)।
📄 দু'আ কবুল হওয়ার স্থান
পবিত্র স্থানসমূহে দু'আ করিলে তাহা কবুল হয়। উক্ত পবিত্র স্থানসমূহের বর্ণনা প্রদান করত হযরত হাসান বাসরী (র) মক্কাবাসীদের নিকট একখানি পত্র লিখেন যাহা আল-জাযারী (র) তাঁহার হিসনে হাসীন গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। উক্ত পত্রে হাসান বসরী পবিত্র মক্কার পনেরটি স্থানের নাম উল্লেখ করিয়াছেন যেখানে দু'আ কবুল হয়। তবে দু'আ কবুল হওয়ার জন্য উক্ত স্থানগুলিই সীমাবদ্ধ নহে। হাসান বসরী (R) কর্তৃক উল্লিখিত স্থানগুলি নিম্নরূপ:
১. মাতাফ অর্থাৎ কা'বা শরীফের চতুষ্পার্শ্ব যাহা ঘুরিয়া ঘুরিয়া লোকে তাওয়াফ করে; ২. মুলতাযাম, কা'বা শরীফের দরজা ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী জায়গা যেখানে লোকজন দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে; ৩. মীযাব-এর নিচে অর্থাৎ কা'বা শরীফের ছাদের পানি পতিত হওয়ার নলের নিচে; ৪. কা'বা শরীফের ভিতরে; ৫. যমযম কূপের নিকট; ৬-৭. সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের উপর; ৮. সাফা ও মারওয়া পর্বতদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করার সময়; ৯. মাকামে ইবরাহীম-এর পিছনে; ১০. 'আরাফাতের ময়দানে; ১১. মুযদালিফায়; ১২. মিনায়; ১৩-১৪-১৫. মিনার তিনটি স্তম্ভের নিকট, যেখানে হাজ্জীগণ কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। আল-জাযারীর মতে মদীনায় নবী কারীম (স)-এর রওযা মুবারকের কাছেও দু'আ কবুল হয় (হিসনে হাসীন, পৃ. ৬৪-৬৫)।