📄 কবরে লাশ রখিবার দু'আ
ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কবরে লাশ রাখিবার সময় বলিতেন: بسم الله وعلى ملة رسول الله.
"(আমরা এই লাশ) আল্লাহ্ নামে এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর মিল্লাতের (ধর্মের) উপর রাখিতেছি” (আবূ দাউদ, কিতাবুল জানাইয, বাব ফিদ-দু'আ লিল-মায়ি্যত ইযা উদি'আ ফী কাবরিহী, হাদীছ নং ৩২১৩, ৩খ., পৃ. ২১১)।
📄 কবর যিয়ারতের দু'আ
আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কবরস্থানে গমন করিয়া এই দু'আ পড়িতেন: السلام عليكم دار قوم مؤمنين وانا ان شاء الله بكم لاحقون.
"হে কবরের অধিবাসী মু'মিনগণ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। আমরাও ইনশাআল্লাহ তোমাদের সহিত মিলিত হইব” (আবূ দাউদ, কিতাবুল জানাইয, বাবু মা ইয়াকূলু ইযা যারাল কুবুর হাদীছ নং ৩২৩৭, ৩খ., পৃ. ২১৬)।
📄 মৃত্যু এবং জীবনের জন্য দু'আ
আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন তোমাদের কেহ কোন বিপদের কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। আর কেহ যদি এমন অবস্থাতে পতিত হয় যে, তাহাকে মৃত্যু কামনা করিতেই হয়, তবে সে মৃত্যু কামনা না করিয়া এই দু'আ করিবে: اللهم احينى ما كانت الحياة خيرا لى وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي.
"ইয়া আল্লাহ! যত দিন পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকা আমার জন্য মঙ্গলজনক হয় ততদিন তুমি আমাকে জীবিত রাখ এবং যখন আমার জন্য মৃত্যুই মঙ্গলজনক হয় তখন আমাকে মৃত্যু দাও” (বুখারী, কিতাবুদ দা'ওয়াত, বাবুদ-দু'আ বিল-মাওতি ওয়াল-হায়াতি, হাদীছ নং ৬৫৫১, পৃ. ১৩৪৪)।
📄 ইস্তিখারার দু'আ
জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তিখারা (আল্লাহর নিকট কাজের কল্যাণ কামনামূলক দু'আ) এমনভাবে শিক্ষা দিতেন যেমনিভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেন, যখন তোমাদের কাহারও কোন বিশেষ কাজ করিবার ইচ্ছা হয় তখন সে যেন দুই রাক'আত নামায পড়িয়া এইরূপ দু'আ করে: اللهم اني استخيرك بعلمك واستغفرك بقدرتك واسألك من فضلك العظيم فانك تقدر ولا اقدر وتعلم ولا أعلم وانت علام الغيوب اللهم ان كنت تعلم ان هذا الامر - ويسمى حاجته - خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمرى فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه وان كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمرى فاصرفه عنى واصرفني عنه واقدره لي الخير حيث كان ثم ارضني به.
“হে আল্লাহ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করিতেছি। তোমার কুদরতের মাধ্যমে তোমার নিকট শক্তি কামনা করিতেছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহের প্রার্থনা করিতেছি। কেননা তুমি শক্তিধর; আমি শক্তিহীন; তুমি জ্ঞানী, আমি জ্ঞানহীন। তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্বন্ধে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি শব্দযোগে অথবা মনে মনে উল্লেখ করিবে) তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়া ইহলোক ও পরলোকের জন্য কল্যাণকর হয় তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত কর এবং উহাকে আমার জন্য সহজলভ্য করিয়া দাও, অতঃপর উহাতে আমার জন্য বরকত দাও। পক্ষান্তরে এই কাজটি তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দীন, আমার জীবিকা, আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়া ইহকালের ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তুমি উহা আমার নিকট হইতে দূরে সরাইয়া দাও এবং ‘যেখানেই কল্যাণ থাকুক, আমার জন্য সেই কল্যাণ নির্ধারিত করিয়া দাও, অতঃপর উহাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখ” (বুখারী, কিতাবুদ দা’ওয়াত, বাবুদ-দু’আ ইনদাল ইস্তিখারা, হাদীছ নং ৬৩৮২, পৃ. ১৩৪৯)।