📄 সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
আবু হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) সকাল বেলা এই দু'আ পড়িতেন: اللهم بك أصبحنا وبك أمسينا وبك نحى وبك نموت واليك النشور "হে আল্লাহ! আমরা তোমারই অনুগ্রহে প্রত্যুষে উপনীত হইয়াছি এবং তোমারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় পদার্পণ করিব, তোমারই মর্জিতে আমরা জীবিত রহিয়াছি এবং তোমারই ইচ্ছায় আমরা ইনতিকাল করিব। আর তোমারই দিকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত হইয়া সমবেত হইব"। আর সন্ধ্যার সময় রাসূলুল্লাহ (স) এই দু'আ করিতেন: اللهم بك أمسينا وبك نحى وبك نموت واليك النشور "হে আল্লাহ! তোমারই অনুগ্রহে আমরা সন্ধ্যায় পদার্পণ করিয়াছি, তোমারই মর্জিতে জীবিত রহিয়াছি, তোমারই ইচ্ছায় ইনতিকাল করিব আর তোমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করিব” (আবূ দাউদ, কিতাবুল আদাব, আবওয়াবুন নাওম, বাব মা ইয়াকূলু ইযা আসবাহা, হাদীছ নং ৫০৬৮, ৪খ., পৃ. ৩১৯)।
امسينا وأمسينا الملك لله والحمد لله لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شئ قدير رب اسالك خير ما في هذه الليلة وخير ما بعدها واعوذ بك من شر ما في هذه الليلة وشر ما بعدها واعوذ بك من الكسل ومن سوء الكبر رب اعوذ بك من عذاب في النار وعذاب في القبر.
"আমরা এবং সমগ্র জগত আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হইয়াছি, সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্ জন্য, রাজত্ব তাঁহারই, সমস্ত প্রশংসা তাঁহারই, তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! এই রাত্রিতে এবং ইহার পরে যে কল্যাণ রহিয়াছে আমি তাহা আপনার কাছে প্রার্থনা করি। আর এই রাত্রিতে এবং ইহার পরে যে অনিষ্ট রহিয়াছে, আমি তাহা হইতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি অলসতা ও বার্ধক্যের অকল্যাণ হইতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি এবং কবরের আযাব হইতে আপনার নিকট আশ্রয় কামনা করি” (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭১, ৪খ., পৃ. ৩১৯-৩২০)।
একদা রাসূলুল্লাহ (স) আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-কে বলিয়াছেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় এই দু'আ পাঠ করিবে:
اللهم فاطر السموات والارض عالم الغيب والشهادة رب كل شئ ومليكه اشهد أن لا اله الا انت اعوذ بك من شر نفسي ومن شر الشيطان وشركه.
"হে আল্লাহ, আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা, সব কিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নাই। আমি আমার নফসের ক্ষতি হইতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি, শয়তান ও তাহার সাথীদের ক্ষতি হইতে আপনার নিকট আশ্রয় চাহিতেছি” (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৬৭, ৪খ., পৃ. ৩১৮-৩১৯)।
আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি একবার পাঠ করিবে আল্লাহ তা'আলা তাহাকে জাহান্নামের এক-চতুর্থাংশ আযাব হইতে নিষ্কৃতি দিবেন। আর যে ব্যক্তি দুইবার পাঠ করিবে, আল্লাহ্ তাহাকে জাহান্নামের অর্ধেক শাস্তি হইতে নাজাত দিবেন। আর যে ব্যক্তি তিনবার পাঠ করিবে, আল্লাহ তা'আলা তাহাকে জাহান্নামের তিন-চতুর্থাংশ আযাব হইতে মুক্তি দান করিবেন। আর যে ব্যক্তি চারবার পাঠ করিবে, মহান আল্লাহ্ তাহাকে জাহান্নামের পূর্ণ আযাব হইতে মুক্তিদান করিবেন :
اللهم اني اصبحت أشهدك وأشهد حملة عرشك وملئكتك وجميع خلقك انك انت الله لا اله الا انت وأن محمدا عبدك ورسولك.
"হে আল্লাহ! আমি প্রত্যুষে উপনীত হইয়াছি। আমি সাক্ষ্য দিতেছি তোমার 'আরশ বহনকারীদের এবং তোমার সকল ফেরেশতার ও তোমার সকল সৃষ্টির—নিশ্চয় তুমি আল্লাহ, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তুমি এক, তোমার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মাদ (স). তোমার বান্দা এবং রাসূল" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৬৯, ৪খ., পৃ.৩১৯)।
ইব্ন বুরায়দা (র) তাঁহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দু'আ পাঠ করিবে, সে যদি ঐ দিবসে বা ঐ রাত্রিতে মারা যায় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।
اللهم انت ربي لا اله الا انت خلقتني وانا عبدك وانا على عهدك ووعدك ما استطعت أعوذ بك من شر ما صنعت أبوء لك بنعمتك على وأبوء بذنبي فاغفر لي فانه لا يغفر الذنوب الا انت.
"হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি আমার সাধ্যমত আপনার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গিকারাবদ্ধ রহিয়াছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হইতে আপনার আশ্রয় কামনা করিতেছি। আমার প্রতি আপনার নি'আমতের স্বীকৃতি প্রদান করিতেছি। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করিতেছি। অতএব আপনি আমাকে মাফ করিয়া দিন। নিশ্চয় আপনি ব্যতীত গুনাহসমূহের মার্জনাকারী আর কেহই নাই” (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭২, ৪খ., পৃ. ৩১৯)।
আবূ সালামা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এই দু'আ পাঠ করিবে, মহান আল্লাহ্ তাহার উপর অবশ্যই সন্তুষ্ট হইবেন।
رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد رسولا.
"আমি আল্লাহকে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দীন, হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (স)-কে রাসূল হিসাবে লাভ করিয়া পরিতুষ্ট" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭২, ৪খ., পৃ. ৩২০)।
ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সকাল-সন্ধ্যায় এই দু'আ কখনও ত্যাগ করিতেন না :
اللهم انى اسئلك العافية في الدنيا والأخرة اللهم اني اسألك العفو والعافية في ديني وفي دنياي وأهلي ومالي اللهم استر عوراتي وأمن روعاتي اللهم احفظني من بين يدى ومن خلفي وعن يميني وعن شمالي ومن فوقي واعوذ بعظمتك ان اغتال من تحتي.
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করিতেছি। হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাহিতেছি এবং স্বীয় দীন ও দুনিয়ার নিরাপত্তা কামনা করিতেছি। হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট মার্জনা কামনা করিতেছি। আর দীন ও দুনিয়ায় আমার পরিবার-পরিজনের এবং আমার সম্পদের নিরাপত্তা প্রার্থনা করিতেছি। 'হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন দোষত্রুটিসমূহ ঢাকিয়া রাখুন, চিন্তা ও উদ্বেগকে শান্তি ও নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করিয়া দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাতের বিপদ হইতে, আমার ডানে-বাঁয়ের ও ঊর্ধ্বদেশের গযব হইতে হেফাজত করুন এবং আপনার মহত্ত্বের দোহাই দিয়া আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি আমার নিম্নদেশ হইতে আগত বিপদ হইতে তথা মাটি ধ্বসে আকস্মিক মৃত্যু হইতে" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭৪, ৪খ., ৩২১)।
আবূ 'আয়্যাশ (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দু'আ পাঠ করিবে, সে ইসমা'ঈল (আ)-এর বংশের একটা গোলাম আযাদ করিবার সমতুল্য ছওয়াব পাইবে। আর তাহার জন্য দশটি নেকী লিখা হইবে, তাহার দশটি গুনাহ মাফ করা হইবে এবং তাহার মর্যাদা দশ গুণ বৃদ্ধি করা হইবে, সে শয়তানের ক্ষতি হইতে নিরাপদ থাকিবে:
لا اله الا الله وحده لاشريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شئ قدير. "আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁহার কোন অংশীদার নাই, রাজত্ব তাঁহারই, সকল প্রশংসা তাঁহারই। তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭৭, ৪খ., পৃ. ৩২২)।
একদা রাসূলুল্লাহ (স) জনৈক সাহাবীকে বলিলেন, যখন তুমি মাগরিবের সালাত শেষ করিবে তখন সাতবার নিম্নের দু'আ পাঠ করিবে। কেননা তুমি যদি এই দু'আ পাঠ কর এবং সেই রাত্রিতে মৃত্যুবরণ কর তবে তুমি জাহান্নাম হইতে মুক্তি পাইবে। আর যদি ফজরের সালাত আদায়ের পর এইরূপ বল এবং সেই দিন মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নাম হইতে মুক্তি পাইবে। দু'আটি এই : اللهم اجرنى من النار "হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম হইতে মুক্তি দিন" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৭৯, ৪খ., পৃ. ৩২২)।
রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করিবে, সে সব ধরনের বিপদাপদ হইতে রক্ষা পাইবে (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৮২, ৪খ., পৃ. ৩২৪)।
উছমান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এই দু'আ তিনবার পাঠ করিবে, সকাল পর্যন্ত তাহার উপর আকস্মিক কোন বিপদ পতিত হইবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে এই দু'আ তিনবার পাঠ করিবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তাহার উপর কোন আকস্মিক বিপদ আপতিত হইবে না:
بسم الله الذى لا يضر مع اسمه شئ في الارض ولا في السماء وهو السميع العليم.
"আমি আল্লাহ্ নামে আরম্ভ করিতেছি যাঁহার নাম লইলে আসমান ও যমীনের কোন কিছুই ক্ষতি করিতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৮৮, ৪খ., পৃ. ৩২৫)।
আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দু'আটি এক শতবার পাঠ করিবে, সকল মাখলুকের মধ্যে তাহার সমমর্যাদার অধিকারী আর কেহ হইতে পারিবে না। দু'আটি এই : سبحان الله العظيم وبحمده "আমি মহান আল্লাহ্র পবিত্রতা এবং প্রশংসা বর্ণনা করিতেছি” (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৯১, ৪খ., পৃ. ৩২৬)।
📄 শয্যা গ্রহণের সময়ে দু'আ
হুযায়ফা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) শয্যা গ্রহণের সময় এই দু'আ পাঠ করিতেন : اللهم باسمك اموت وأحى "হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মৃত্যুবরণ করি ও জীবিত থাকি” (বুখারী, কিতাবুদ দা'ওয়াত, বাব ওয়াদ'ইল ইয়াদায়ন 'আলাল-খাদ্দায়ন, হাদীছ নং ৬৩১৪, পৃ. ১৩৩৬)।
হাফসা (রা)-এর উক্তি অনুসারে তিনি নিম্নোক্ত দু'আও তিনবার পাঠ করিতেন : اللهم قنى عذابك يوم تبعث عبادك "হে আল্লাহ্! যেই দিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরায় জীবিত করিয়া উঠাইবেন, সেই দিন আপনার আযাব হইতে আমাকে রক্ষা করিবেন” (আবূ দাউদ, কিতাবুল আদাব, আবওয়াবুন নাওম, বাব মা ইউকালু 'ইনদান নাওম, হাদীছ নং ৫০৪৫, ৪খ., পৃ. ৩১২)।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, শয্যায় আশ্রয় গ্রহণের সময় যদি কেহ নিম্নের দু'আটি তিনবার পাঠ করে, তবে গুনাহর সংখ্যা যদিও হয় সমুদ্রের ফেনার মত, গাছের পাতার মত, মরুভূমির ঘন বালুকারাশির মত, দুনিয়ার দিবসগুলোর মত, তবুও আল্লাহ্ তা'আলা তাহার সেই গুনাহ মাফ করিয়া দিবেন। استغفر الله الذي لا اله الا هو الحى القيوم واتوب اليه "আমি ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি আল্লাহ্র নিকট যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, যিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী, আর আমি তাঁহার নিকট তওবা করিতেছি (তিরমিযী, দা'ওয়াত, বাব, ১৭, হাদীছ নং ৩৩৯৭, ৫খ., পৃ. ৪৭০)।
📄 নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইবার দু'আ
রাসূলুল্লাহ (স) নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইয়া এই দু'আ পাঠ করিতেন: الحمد الله الذي أحيانا بعد ما أماتنا واليه النشور "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র যিনি আমাকে (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর জীবিত করিয়াছেন আর তাঁহারই নিকট প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে” (বুখারী, কিতাবুদ দা'ওয়াত, বাবু মা ইয়াকূলু ইযা নামা, হাদীছ নং ৬৩১২, পৃ. ১৩৩৬)।
'আইশা (রা)-এর উক্তি অনুসারে রাসূলুল্লাহ (স) দশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার), দশবার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), দশবার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), দশবার তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং দশবার ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) পাঠ করিতেন। অতঃপর এই দু'আ পড়িতেন : اللهم اغفر لي واهدني وارزقني وعافنی "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করিয়া দিন, আমাকে হিদায়াত দান করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং সুস্থতা দান করুন” (আবূ দাউদ, কিতাবুস সালাত, বাব মা ইয়াসতাফতিহু বিহিস-সালাত, হাদীছ নং ৭৬৬, ১খ., পৃ. ২০২)।
কাহারও যদি হঠাৎ করিয়া রাত্রে নিদ্রার সময়ে চক্ষু খুলিয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে এই দু'আ পাঠের উপদেশ দিতেন : لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شئ قدير سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر ولا حول ولا قوة الا بالله.
"আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁহার কোন শরীক নাই। বাদশাহী তাঁহারই, সমস্ত প্রশংসা তাঁহারই, তিনি সব কিছুর উপর শক্তিমান। পবিত্র মহান আল্লাহ্, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎ কাজ করার ও মন্দ কাজ হইতে বাঁচিয়া থাকার কাহারও ক্ষমতা নাই"।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, "ইহার পর যদি কোন দু'আ করা হয় তবে উহা অবশ্যই কবূল হইবে” (আবূ দাউদ, কিতাবুল আদাব, আবওয়াবুন নাওম, বাব মা ইয়াকূলু ইয্য তা'আররা মিনাল লায়ল, হাদীছ নং ৫০৬০, ৪খ., পৃ. ৩১৬)।
বিছানায় শোয়াবস্থায় জাগ্রত হইবার পর দু'আ: 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন ঘুম হইতে জাগ্রহ হইতেন তখন এই দু'আ পড়িতেন: لا اله الا انت سبحانك اللهم استغفرك لذنبى واسألك رحمتك اللهم زدني علما ولا تزغ قلبي بعد اذ هديتني وهب لي من لدنك رحمة انك انت الوهاب.
"হে আল্লাহ! আপনি মহান, পবিত্র। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আমার গুনাহর জন্য আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি। আমি আপনার রহমত কামনা করিতেছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অধিক জ্ঞান দান করুন। আর হিদায়াতের পর আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করিবেন না। আপনার বিশেষ রহমত আমাকে দান করুন। কেননা আপনিই একমাত্র দানকারী" (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ৫০৬১, ৪খ., পৃ. ৩১৬)।
📄 কেহ স্বপ্নে অপসন্দনীয় কিছু দেখিলে যাহা বলিবে
আবু কাতাদা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্ পক্ষ হইতে, আর দুঃস্বপ্ন শয়তানের পক্ষ হইতে। কেহ যদি স্বপ্নে অপসন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তাহার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলিয়া বিতাড়িত শয়তান হইতে আল্লাহ্ তা'আলার আশ্রয় প্রার্থনা করে (তিরমিযী, কিতাবুর রু'ইয়া, বাব ইযা রা'আ ফিল-মানামে মা ইউকরাহু মা ইউসনাউ, হাদীছ নং ২২৭৭, ৪খ., পৃ. ৫৩৫-৫৩৬)।