📄 (এক) কথা ও কাজে নিষ্পাপ
রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার কথা ও কাজে নিষ্পাপ ছিলেন। রিসালাত সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে তাঁহার দ্বারা কোন প্রকার বিচ্যুতি ঘটা ছিল অসম্ভব। ইজতিহাদগত কোন ত্রুটি হওয়ামাত্র তাহা শোধরানোর জন্য সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াহী নাযিল হইত। এই মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى. وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وحي يوحى. "শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত, তোমাদের সংগী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়, এবং সে মনগড়া কথাও বলে না" (৫৩: ১-৪)।
এই নিষ্পাপ ও নির্ভুল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সকল নবী-রাসূলই শরীক। ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত উম্মতের অবস্থা ইহার ব্যতিক্রম (অর্থাৎ যে কোন ব্যাপারে তাহাদের ত্রুটি হইতে পারে)। তবে সমষ্টিগতভাবে কোন বিষয়ে সকলে ঐকমত্যে উপনীত হইলে সেখানে ভুল হইতে পারে না।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতকে ভ্রষ্টতার উপর ঐকমত্য হওয়া হইতে নিষ্কৃতি প্রদান করিয়াছেন। কা'ব ইবন মালিক আল-আশ'আরী এবং আরেকটি স্বতন্ত্র বর্ণনায় আনাস ইবন মালিক (রা) ইবন আবূ আসিম "আস-সুন্নাহ” গ্রন্থে হাদীছটি উদ্বৃত করিয়াছেন (১খৃ., ২১, নং ৭৯)। একাধিক সনদ উল্লেখ করার পর আলবানী এই সম্পর্কে মন্তব্য করিয়া বলেন, সমষ্টিগতভাবে এই সমস্ত সনদগুলি হাসান পর্যায়ের আল আহাদীছিস-সিলসিলাতুস সাহীহ, নং ১৩৩১; জামে সাগীর, নং ১৭৮২)।
📄 (দুই) রাসূলুল্লাহ (স)-কে হেয় প্রতিপন্ন করা অথবা তাঁহাকে গালি দেয়া কুফরী
উম্মতের উপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর যে সকল অধিকার অবধারিত এবং তিনি যে মর্যাদা, সম্ভ্রম ও গৌরবের অধিকারী-কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা ইত্যাকার শরঈ দলীল দ্বারা তাহা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থে তাঁহাকে কষ্ট দেয়াকে হারাম ঘোষণা করিয়াছেন এবং উম্মত তাঁহার ছিদ্রান্বেষণকারী ও তাঁহার প্রতি অশ্লীল বাক্য উচ্চারণকারীর মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছে। এই মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন।
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولُهُ لَعَنَهُمُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا.
"যাহারা আল্লাহ ও রাসূলকে পীড়া দেয়, আল্লাহ তো তাহাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তিনি তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি” (৩৩ঃ ৫৭)। وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ.
“যাহারা আল্লাহ্র রাসূলকে ক্লেশ দেয় তাহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি” (৯:৬১)।
সুতরাং যে কেহ রাসূলুল্লাহ (স)-কে হেয় প্রতিপন্ন করে, তাঁহাকে গালি দেয়, তাঁহার দোষ চর্চা করে অথবা তাঁহার সত্তা, তাঁহার বংশধারা, তাঁহার দীন ও তাঁহার চরিত্রে কালিমা লেপন করে অথবা তিরস্কৃত ও নিন্দনীয় করিয়া তাঁহার মর্যাদা খাটো করে, তাঁহার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উত্থাপন করে এবং তাঁহার দোষ সাব্যস্ত করার জন্য কোন কিছুর সঙ্গে তাঁহাকে উপমা দেয়, এই ধরনের কুফরীর কারণে তাহাকে হত্যা করা হইবে। এই বিষয়ে একাধিক দলীল বিদ্যমান। নিম্নে ইহার কয়েকটি পেশ করা হইল।
আবূ দাউদ ও নাসাঈ (র) ইবন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, এক অন্ধ লোকের একটি উম্মু-ওয়ালাদ (সন্তানদায়িনী বাঁদী) ছিল। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে গালমন্দ করিত। অন্ধ লোকটি তাহাকে নিষেধ করিত এবং শাসাইত। এতদসত্ত্বেও সে তাহা হইতে নিবৃত্ত হইত না এবং তাহার শাসন মানিত না। ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, এক রাত্রে বাঁদীটি রাসূলুল্লাহ (স) সম্পর্কে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার ও তাঁহার শানে গাল-মন্দ করে। অন্ধ লোকটি একটি ছুরি দিয়া বাঁদীর পেটে চাপ দেয় এবং তাহাকে হত্যা করে। নিহত হওয়ার পর তাহার পায়ের কাছে একটি শিশু পতিত হইয়া সে রক্তাপুত হয়। সকালবেলা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ঘটনার কথা আলোচিত হইলে সেখানে লোকেরা সমবেত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে আল্লাহর শপথ দিতেছি যে, সে যাহা করিয়াছে তাহার উপর আমার অধিকার রহিয়াছে। সে আমার সম্মুখে আসুক। অন্ধ লোকটি দণ্ডায়মান হইয়া কাঁপিতে কাঁপিতে লোকদেরকে পিছনে ফেলিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে আসিয়া বসিয়া পড়ে এবং সে আরয করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাহার সঙ্গী ছিলাম। সে আপনাকে গালমন্দ করিত এবং আপনার সম্পর্কে অশ্লীল কথা বলিত। এজন্য আমি তাহাকে বারণ করিতাম এবং শাসাইতাম। কিন্তু সে আমার শাসন মানিত না এবং গালমন্দ করা হইতে নিবৃত্তও হইত না। তাহার গর্ভে আমার দুইটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করিয়াছে যেন দুইটি মোতির টুকরা। সে ছিল আমার অনুরক্তা। যাহা হউক, সন্ধ্যা নামিয়া আসিতেই সে আপনাকে গালমন্দ ও অশ্লীল কথা বলা শুরু করে। তখন আমি একটি ছুরি লইয়া তাহার পেটে স্থাপন করিয়া চাপ দেই। এভাবে আমি তাহাকে হত্যা করি। লোকটির বক্তব্য শোনার পর রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, লোকসকল! তোমরা সাক্ষী থাক, নিহতের রক্ত মূল্যহীন (আবূ দাউদ, হুদূদ, বাব ২, নং ৪৩৬১; নাসাঈ, ৭খ., পৃ. ১০৭-৮; আলবানী ইহাকে সহীহ বলিয়াছেন; সহীহ, নং ৩৬৬৬)।
ইমাম আবূ দাউদ ও নাসাঈ আবূ বারযা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আমি আবূ বকর (রা)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি জনৈক ব্যক্তির প্রতি ক্রুদ্ধ হন এবং তাহা চরম আকার ধারণ করে। আমি তাহাকে বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনি অনুমতি দিন, তাহার ঘাড় উড়াইয়া দেই। আবূ বারযা (রা) বলেন, আমার কথায় তাঁহার রাগ তিরোহিত হইয়া যায়। ইহার পর গৃহাভ্যন্তরে প্রস্থান করিয়া তিনি আমাকে ডাকিয়া পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করেন, একটু আগে কি যেন বলিয়াছিলে? আমি বলিলাম, “অনুমতি দিন তাহার গর্দান উড়াইয়া দেই”। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি অনুমতি দিলে তুমি কি তাহা করিতে পারিবে? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, না। আল্লাহ্র শপথ! মুহাম্মাদ (স)-এর পর অন্য কোন মানুষের জন্য তাহা বৈধ নয় (আবূ দাউদ, নং ৪৩৬৩; নাসাঈ, ৭খ., পৃ. ১০৯)।
ইমাম ইবন তায়মিয়া (র) বলেন, আবূ দাউদ (র) স্বীয় সুনানে বিশুদ্ধ সনদে হাদীছটি উল্লেখ করিয়াছেন (আস্-সারিমুল মাসলুল 'আলা শাতিমির রাসূল, পৃ. ৯২)।
ইজমা : আল্লামা আবূ বক্স ইবনুল মুনযির বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর গালমন্দকারীর মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে সমস্ত ফকীহ্ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (কাযী ইয়ায কৃত আশ-শিফা, ২ খৃ., পৃ. ৪৭৪)।
মুহাম্মাদ ইবন সাহনূন বলেন, আলিমগণ এই ব্যাপারে একমত হইয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর গালমন্দকারী ও তাঁহার ছিদ্রান্বেষণকারী কাফির। তাহার জন্য আল্লাহ্ শাস্তিবিধানের সতর্কবাণী অবধারিত এবং উম্মাতের নিকট তাহার শাস্তি হইল মৃত্যুদণ্ড (কাযী ইয়ায কৃত আশ্-শিফা ২ খৃ., পৃ. ৪৭৬)। ইহা ছাড়া আরও অনেক মনীষী প্রসঙ্গটি আলোচনা প্রসঙ্গে ইজমার কথা উল্লেখ করিয়াছেন।
📄 (তিন) রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ অন্যের প্রতি মিথ্যা আরোপতুল্য নয়
মিথ্যাচার একটি নিকৃষ্ট আচরণ ও-মন্দ অভ্যাস। ইহা একটি নিকৃষ্ট পাপ, গর্হিত দোষ ও ঘৃণিত চরিত্র। মিথ্যা যেখানেই প্রভাব বিস্তার করে সেখানেই উহা বস্তুর মাপকাঠি ওলট-পালট করিয়া সত্যকে মুছিয়া ফেলে এবং সুন্দরকে কুৎসিত করে। মিথ্যাচার ব্যক্তির মনে অনিষ্টের প্ররোচনা দেয় এবং মিথ্যাচারের ফলেই ব্যক্তি পাপ ও কপটতার দিকে ধাবিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, মিথ্যাচার পাপের পথ দেখায়, আর পাপ জাহান্নামে নিয়া যায় (বুখারী, ফাতহুল বারী, ১০ খ., নং ৬০৯৪; মুসলিম, বির/আদাব, বাব ২৯, নং ৬৬৩৭/১০৩/২৬০৭)।
রাসুলুল্লাহ (স) আরও বলিয়াছেন, যাহার মাঝে চারটি বিষয় পাওয়া যায় সে নির্ভেজাল মুনাফিক। আর যাহার মাঝে এইগুলির যে কোন একটি পাওয়া যায় তাহার মাঝে মুনাফিকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যতক্ষণ না সে তাহা পরিহার করে। বিষয়গুলি হইল, তাহার নিকট আমানত রাখা হইলে খিয়ানত করে, কথা বলিলে মিথ্যা বলে, অঙ্গীকার করিলে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং বিবাদ করিলে অপ্রাব্য কথা বলে (বুখারী, ফাতহুল বারী, ১/৩৪; মুসলিম, ৫৮)।
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্য কাহারও প্রতি মিথ্যা আরপ করার মত নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তাহার ঠিকানা প্রস্তুত করিল (বুখারী, ফাতহুল বারী, ৩ খ., নং ১২৯১; মুসলিম, নং ৪)।
রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলেন, একটি মাত্র বাণী হইলেও আমার পক্ষ হইতে তোমরা তাহা পৌঁছাইয়া দিবে। তোমরা ইসরাঈলীদের হইতে বর্ণনা করিতে পার, ইহাতে কোন আপত্তি নাই। আর যে লোক আমার প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তাহার ঠিকানা প্রস্তুত করিল (বুখারী, ফাতহুল বারী, ৭ খ., নং ৩৭৬৮, নং মুসলিম, ৯১/২৪৪৭)।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি মিথ্যারোপকারীর প্রতি জাহান্নামের সাবধান বাণী উচ্চারণ প্রসঙ্গে একাধিক ও অকাট্য সূত্রে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হইয়াছে। এই জঘণ্য অপরাধের নির্মম পরিণতি সম্পর্কে অনেকে, যেমন ইমাম আহমাদ (র), ইয়াহ্ইয়া ইব্ন মাঈন ও আবূ বকর, হুমায়দী প্রমুখ মনীষী ফাতওয়া দিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপকারীর তওবা গ্রহণযোগ্য নয় এবং একই কারণে তাহার রিওয়ায়াত গ্রহণ করা হইব না। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ ইহার বিপরীত মত পোষণ করেন।
পূর্বোক্ত আলোচনা হইতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ (স) ব্যতীত অন্য কাহারও প্রতি মিথ্যা আরোপ করা পাপ ও অপরাধ হইলেও সর্বসম্মতিক্রমে তাহার আন্তরিক তাওবা গ্রহণযোগ্য।
📄 (চার) রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিশেষ ধরনের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি
হযরত আইশা (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে আইশা! তিনি জিবরাঈল। তিনি তোমাকে সালাম বলিয়াছেন। উত্তরে আমি বলিলাম, তাহার প্রতিও শান্তি, আল্লাহ্র রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হউক। আমি যাহা দেখি না আপনি তাহা দেখিতে পান (বুখারী, ফাতহুল বারী, ৭ খ., নং ৩৭৬৮; মুসলিম, নং ৯১/২৪৪৭)।
হযরত আবূ যার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, আমি এমন কিছু দেখিতে পাই, যাহা তোমরা দেখিতে পাও না। আমি এমন কিছু শুনিয়া থাকি যাহা তোমরা শুনিতে পাও না। আকাশ চিৎকার করিতেছে এবং তাহার জন্য তাহা করাই বাঞ্ছনীয়। আকাশের কোথাও চার আঙ্গুলের মত জায়গাও খালি নাই যেখানে ফেরেশতাগণ অবনত মস্তকে আল্লাহকে সিজদা করিতেছে না। আল্লাহর শপথ! আমি যাহা জানি তোমরা যদি তাহা জানিতে পারিতে, তাহা হইলে তোমরা স্বল্পই হাসিতে এবং অধিক পরিমাণে কাঁদিতে; গৃহকোণে নারীদের সঙ্গে উপভোগে লিপ্ত হইতে না এবং সরবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করিতে করিতে রাস্তায় বাহির হইয়া পড়িতে (তিরমিযী, যুহদ, বাব ৯, নং ২৩১২; এবং তাঁহার মতে হাদীছটি হাসান ও গরীব; ইবন মাজা, যুহদ, বাব ১৯, নং ৪১৯০; আহমাদ, ৫/১৭;, হাকেম, ২/৫১০, তিনি হাদীছটির সনদ সহীহ বলিয়াছেন। আলবানী ইহাকে হাসান বলিয়াছেন; সহীহ জামে সাগীর, নং ২৪৪৫)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের সঙ্গে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি পিছনের দিকে ফিরিয়া বলেন, হে অমুক! তোমার কী হইয়াছে, ঠিকমত নামায পড় না কেন? মুসল্লীর কী হইল যে, কিভাবে নামায পড়ে সেদিকে লক্ষ্য করে না? সে তো নিজের উপকারের জন্যই নামায পড়ে। আল্লাহ্র শপথ! আমি পশ্চাতে এমনভাবে দেখিতে পাই যেভাবে আমার সম্মুখভাবে দেখিতে পাই (মুসলিম, সালাত, বাব ২৪, নং ৯৫৭/১০৮/৪২৩)।
"আমি আমার পশ্চাতে দেখিতে পাই" এই মর্মে আল্লামা নববী (র) আলিমদের উক্তি নকল করিয়া বলেন, ইহার অর্থ হইল: আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ (স)-এর পশ্চাৎদেশে এমন এক ইন্দ্রিয় সৃষ্টি করিয়াছেন যদ্দ্বারা তিনি দেখিতে পাইতেন। অনেক সময় ইহার ব্যতিক্রমও হইত। ইহা শরী'আতও বুদ্ধি-বিবেকের পরিপন্থী নয়, বরং বাহ্যত শরী'আত ইহার পক্ষে হওয়ায় তাহা স্বীকার করা আবশ্যক। কাযী ইয়ায বলেন, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এবং জমহুর উলামার মতে এই দর্শন বাস্তব চোখেই সংঘটিত হইত (শারহুন নাবাবী, ৪ খ., ১৪৯-১৫০)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: তোমরা কি এখানে আমার সম্মুখে দেখিতে পাও? আল্লাহর শপথ! আমার কাছে তোমাদের রুকু, তোমাদের সিজদা গোপন থাকে না। আমার পশ্চাত হইতেও আমি তোমাদেরকে অবশ্যই দেখিতে পাই, (বুখারী, ফাতহুল বারী, ২ খ., নং ৭৪১; মুসলিম, সালাত, বাব ২৪, নং ৯৫৮/১০৯/৪২৪)।