📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (পাঁচ) জান্নাতীদের অধিকাংশই হইবে মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মত

📄 (পাঁচ) জান্নাতীদের অধিকাংশই হইবে মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মত


এই উম্মতের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য হইল, জান্নাতীদের অধিকাংশই হইবে মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মত। ইহাতে রহিয়াছে রাসূলে কারীম (স) ও তাঁহার উম্মতের বিশেষ মর্যাদা। হাদীছেও এই বিষয়ে স্পষ্ট বিবরণ রহিয়াছে।

ইবন মাসউদ (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে বলিলেন, তোমরা কি ইহাতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হইবে? (রাবী বলেন) এই কথা শুনিয়া আমরা খুশিতে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিলাম। তিনি পুনরায় বলিলেন, তোমরা কি ইহাতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হইবে? সাহাবী বলেন; আমরা আবারও 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিলাম। তিনি আবার বলিলেন, তবে আমি আশাবাদী যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হইবে। ই সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে আরও বলিতেছি 'যে; কাফিরদের তুলনায় তোমাদের অবস্থা (জাহান্নামে) এমন হইবে, যেমন কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা সাদা ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশম (বুখারী, ফাতহুল বারী, ১১খ., হাদীছ নং ৬৫২৮, পৃ. ২২১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (ছয়) মুসলমানগণ সর্বশেষ উম্মত

📄 (ছয়) মুসলমানগণ সর্বশেষ উম্মত


হযরত বুরায়দা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: জান্নাতীবাসীদের এক শত বিশটি কাতার হইবে। তন্মধ্যে আশিটি হইবে এই উম্মতের এবং বাকী চল্লিশটি হইবে অন্যান্য উম্মতের কাতায়। তিরমিযী, হাদীছ নং ২৫৪৬; ইমাম তিরমিযীর মতে হাদীছটি হাসান। হাফিয ইব্‌ন হাজার (র)-ও তাহার সূত্রে ফাতহুল বারীতে ইহা বর্ণনা করিয়াছেন, ১১খ., পৃ. ৩৯৫; মুসনাদে আহমাদ ইবন হাম্বল, ৫খ., পৃ. ৩৪৭, ৩৫৫, ৩৬১; ইবন মাজা, হাদীছ নং ৪২৮৯; মুসতাদরাক হাকেম, ১খ., পৃ. ৮২; ইমাম হাকেম (র)-এর মতে হাদীছটি মুসলিমের শর্তে উত্তীর্ণ। তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) তাহাদের গ্রন্থে ইহা বর্ণনা করেন নাই। আল্লামা যাহবী (র)-ও অনুরূপ মত ব্যক্ত করিয়াছেন। আলবানীও ইহাকে সহীহ বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন। সাহীহ আল-জামিউস সাগীর, হাদীছ নং ২৫২৩)।।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কিন্তু জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী

📄 কিন্তু জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী


এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ হইল, তিনি তাহাদেরকে আখিরী যুগে সৃষ্টি করিয়াছেন কিন্তু মর্যাদার দিক হইতে অগ্রগামী করিয়াছেন। এই কারণেই তাহারা হাশরের ময়দানে প্রথমে উপস্থিত হইবে, তাহাদের হিসাব প্রথমে হইবে, তাহাদের বিচার প্রথমে হইবে এবং তাহারা জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করিবে।

আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আমরা দুনিয়ায় আগমনের দিক হইতে সর্বশেষ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হইব অগ্রবর্তী। পার্থক্য শুধু এই যে, তাহাদের কিতাব দেওয়া হইয়াছে আমাদের আগে। তাহার পর হইল তাহাদের সেই দিন, যেদিন তাহাদের জন্য ইবাদত ফরয করা হইয়াছিল। পরে তাহারা এই বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করিয়াছে। কিন্তু সেই বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের হিদায়াত দান করিয়াছেন। কাজেই এই ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাৎবর্তী। ইয়াহুদীদের সম্মানিত দিন হইল আগামী কাল (শনিবার) এবং খৃস্টানদের আগামী পরশু (রববার) (বুখারী, ফাতহুল বারী, ২খ., হাদীছ নং ৮৭৬, পৃ. ৮৫৫)।

আবূ হুরায়রা (রা) ও হুযায়ফা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে জুমু'আর ব্যাপারে বিভ্রান্ত করিয়া রাখিয়াছেন। ইয়াহুদীদের সম্মানিত দিন হইল শনিবার। আর খৃস্টানদের সম্মানিত দিন হইল রবিবার। ইহার পর আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং জুমু'আর দিনের ব্যাপারে সঠিক পথ প্রদর্শন করিয়াছেন। বস্তুত জুমু'আর দিন, শনিবার ও রবিবার তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিন তাহারা সকলেই হইবে আমাদের পশ্চাৎবর্তী। দুনিয়াতে আমরা সর্বশেষ উম্মত, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হইব অগ্রবর্তী। সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে এই উম্মতের হিসাব গ্রহণ করা হইবে এবং তাহাদের বিচার হইবে সবার আগে (মুসলিম, হাদীছ নং ১৯৮২/২২/৮৫৬)।

ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। নবী কারীম (স) বলিয়াছেন: আমরা সর্বশেষ উম্মত। তবে আমাদের হিসাব হইবে সর্বাগ্রে। বলা হইবে, কোথায় উম্মী নবী এবং কোথায় তাঁহার উম্মত? সুতরাং সৃষ্টির দিক হইতে আমরা সর্বশেষ; কিন্তু জান্নাতে প্রবেশের দিক হইতে অগ্রবর্তী (ইবন মাজা, হাদীছ নং ৪২৯০; আল্লামা বুসীরী (র) যাওয়াইদ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন, হাদীছটির সনদ সহীহ এবং রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আলবানীও হাদীছটি সহীহ বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন, সহীহ আল-জামিউস সাগীর, হাদীছ নং ৬৬২৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00