📄 দ্বিতীয় ভাগ
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বহু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন, যাহা কেবল মাত্র তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, ইহাতে উম্মতের কোন অংশীদারিত্ব নাই। অবশ্য অন্য কোন নবী-রাসূলের মধ্যে এই জাতীয় বিষয়াদি পাওয়া অসমীচীন নয়। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হইল কবিতা শিক্ষা করা ও যাকাতের মাল ভোগ করা। এইগুলি তাঁহার জন্য হারাম। নবী কারীম (স)-এর জন্য সওমে বিসাল জায়েয ছিল। এমনিভাবে চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করাও তাঁহার জন্য জায়েয ছিল। তাঁহার স্ত্রীগণ উম্মতের জন্য মাতৃতুল্য। আর তাঁহার স্বপ্ন সত্য। আলিমগণ এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে চারভাগে বিন্যাস করিয়াছেন।
১. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা একমাত্র তাঁহার জন্য হারাম, অন্য কাহারও জন্য হারাম নয়। বস্তুত নবী (স)-এর সম্মানার্থেই এই বিধান প্রদান করা হইয়াছে।
২. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা কেবল তাঁহার জন্য জায়েয, অন্য কাহারও জন্য জায়েয নয়।
৩. এমন কতিপয় কাজ, যাহা কেবল তাঁহার উপর ওয়াজিব, অন্য কাহারও উপর নয়। ইহার দ্বারা উদ্দেশ্য, তাঁহার মর্যাদা বাড়াইয়া দেওয়া।
৪. এমন ফযীলাত ও মর্যাদা, যাহা কেবল তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, অন্য কাহারও নয়। নিম্নে অত্যন্ত সংক্ষেপে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হইল।
📄 এমন সব বিষয়াদি যাহা একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর বৈশিষ্ট্য; তাহাতে উম্মতের অংশীদারিত্ব নাই এমন কতিপয় বিষয়
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বহু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন, যাহা কেবল মাত্র তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, ইহাতে উম্মতের কোন অংশীদারিত্ব নাই। অবশ্য অন্য কোন নবী-রাসূলের মধ্যে এই জাতীয় বিষয়াদি পাওয়া অসমীচীন নয়। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হইল কবিতা শিক্ষা করা ও যাকাতের মাল ভোগ করা। এইগুলি তাঁহার জন্য হারাম। নবী কারীম (স)-এর জন্য সওমে বিসাল জায়েয ছিল। এমনিভাবে চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করাও তাঁহার জন্য জায়েয ছিল। তাঁহার স্ত্রীগণ উম্মতের জন্য মাতৃতুল্য। আর তাঁহার স্বপ্ন সত্য। আলিমগণ এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে চারভাগে বিন্যাস করিয়াছেন।
১. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা একমাত্র তাঁহার জন্য হারাম, অন্য কাহারও জন্য হারাম নয়। বস্তুত নবী (স)-এর সম্মানার্থেই এই বিধান প্রদান করা হইয়াছে।
২. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা কেবল তাঁহার জন্য জায়েয, অন্য কাহারও জন্য জায়েয নয়।
৩. এমন কতিপয় কাজ, যাহা কেবল তাঁহার উপর ওয়াজিব, অন্য কাহারও উপর নয়। ইহার দ্বারা উদ্দেশ্য, তাঁহার মর্যাদা বাড়াইয়া দেওয়া।
৪. এমন ফযীলাত ও মর্যাদা, যাহা কেবল তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, অন্য কাহারও নয়। নিম্নে অত্যন্ত সংক্ষেপে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হইল।
📄 যাহা কেবল নবী (স)-এর জন্য হারাম; অন্যের জন্য হারাম নয়
১. সাদাকা (যাকাত ও মানত): সাদাকা ভোগ ব্যবহার করা নবী কারীম (স)-এর জন্য হারাম। এই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ
ان الصدقة لا تحل لمحمد ولا لال محمد انما هي اوساخ الناس. "সাদাকা ভোগ-ব্যবহার করা মুহাম্মাদ (স) ও তাঁহার পরিবারবর্গের জন্য হালাল নয়। ইহা তো মানুষের সম্পদের ময়লা” (মুসলিম, হাদীছ নং ২৪৭৩/১৬১/১০৬৯-২৪৮১/১৬৭/১০৭২)। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হাদিয়া গ্রহণ করিতেন; কিন্তু সাদাকা গ্রহণ করিতেন না (মুসলিম, হাদীছ নং ২৪৯১/১৭৫/১০৭৭)।
উপরিউক্ত হাদীছসমূহ ব্যাপক অর্থে বিবৃত হইয়াছে। ইহাতে ফরয ও নফল সাদাকার মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করা হয় নাই। ইহাতে বুঝা যায়, উভয় প্রকার সাদাকাই রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য হারাম ছিল।
📄 (দুই) রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে যে মহিলা আগ্রহী নয়
হাফিয ইব্ন হাজার আসকালানী (র) বলেন, একাধিক আলিম এই বিষয়ে ইজমা নকল করিয়াছেন। তাঁহাদের মধ্যে আল্লামা খাত্তাবীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য (ফাতহুল বারী, ৩খ., পৃ. ৪১৫)।
আল্লামা নববী (র) বলেন, নফল সাদাকা গ্রহণ করার ব্যাপারে ইমাম শাফিঈ (র) হইতে তিন ধরনের মত বর্ণিত হইয়াছে। বিশুদ্ধতম মতে, এই জাতীয় সাদাকাও নবী কারীম (স)-এর জন্য হারাম (শারহুন নাবাবী আলা সাহীহ মুসলিম, ৭খ., পৃ. ১৭৬)।
আলিমগণের মতে সাদাকা ভক্ষণ হারাম হওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য সাদাকা হারাম হওয়ার পিছনে তাৎপর্য হইল, মানুষের মালের ময়লা হইতে নবী (স) ও তাঁহার পদমর্যাদাকে পাক-পবিত্র রাখা। আর পরিবারবর্গের নিসবত বা সম্পর্ক যেহেতু তাঁহারই দিকে হয়, তাই তাঁহাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে তাঁহাদেরকেও তাঁহার অনুগামী হিসাবে এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে (ফুসূল, আল্লামা ইব্ন কাছীর, পৃ. ৩১৫; গায়াতুস সুউল, ইবনুল মুলাক্কিন, পৃ. ১৮৭; ফাতহুল বারী, ৩খ., পৃ. ৪১৫; খাসাইসুল কুবরা, আল্লামা সুয়ূতী, ৩খ., ৪০৪ ইত্যাদি)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হইল, কোন মহিলা যদি রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করে এবং বিচ্ছেদ অবলম্বন করা পসন্দ করে, তবে তাহাকে আটক রাখা তাঁহার জন্য হারাম।