📄 (ছয়) মুসলমানগণ সর্বশেষ উম্মত
আহমাদ ইবন হাম্বল, ৫খ., পৃ. ৩৪৭, ৩৫৫, ৩৬১; ইবন মাজা, হাদীছ নং ৪২৮৯; মুসতাদরাক হাকেম, ১খ., পৃ. ৮২; ইমাম হাকেম (র)-এর মতে হাদীছটি মুসলিমের শর্তে উত্তীর্ণ। তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) তাহাদের গ্রন্থে ইহা বর্ণনা করেন নাই। আল্লামা যাহবী (র)-ও অনুরূপ মত ব্যক্ত করিয়াছেন। আলবানীও ইহাকে সহীহ বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন। সাহীহ আল-জামিউস সাগীর, হাদীছ নং ২৫২৩)।।
📄 কিন্তু জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী
এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ হইল, তিনি তাহাদেরকে আখিরী যুগে সৃষ্টি করিয়াছেন কিন্তু মর্যাদার দিক হইতে অগ্রগামী করিয়াছেন। এই কারণেই তাহারা হাশরের ময়দানে প্রথমে উপস্থিত হইবে, তাহাদের হিসাব প্রথমে হইবে, তাহাদের বিচার প্রথমে হইবে এবং তাহারা জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করিবে।
আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আমরা দুনিয়ায় আগমনের দিক হইতে সর্বশেষ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হইব অগ্রবর্তী। পার্থক্য শুধু এই যে, তাহাদের কিতাব দেওয়া হইয়াছে আমাদের আগে। তাহার পর হইল তাহাদের সেই দিন, যেদিন তাহাদের জন্য ইবাদত ফরয করা হইয়াছিল। পরে তাহারা এই বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করিয়াছে। কিন্তু সেই বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের হিদায়াত দান করিয়াছেন। কাজেই এই ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাৎবর্তী। ইয়াহুদীদের সম্মানিত দিন হইল আগামী কাল (শনিবার) এবং খৃস্টানদের আগামী পরশু (রববার) (বুখারী, ফাতহুল বারী, ২খ., হাদীছ নং ৮৭৬, পৃ. ৮৫৫)।
আবূ হুরায়রা (রা) ও হুযায়ফা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে জুমু'আর ব্যাপারে বিভ্রান্ত করিয়া রাখিয়াছেন। ইয়াহুদীদের সম্মানিত দিন হইল শনিবার। আর খৃস্টানদের সম্মানিত দিন হইল রবিবার। ইহার পর আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং জুমু'আর দিনের ব্যাপারে সঠিক পথ প্রদর্শন করিয়াছেন। বস্তুত জুমু'আর দিন, শনিবার ও রবিবার তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিন তাহারা সকলেই হইবে আমাদের পশ্চাৎবর্তী। দুনিয়াতে আমরা সর্বশেষ উম্মত, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হইব অগ্রবর্তী। সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে এই উম্মতের হিসাব গ্রহণ করা হইবে এবং তাহাদের বিচার হইবে সবার আগে (মুসলিম, হাদীছ নং ১৯৮২/২২/৮৫৬)।
ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। নবী কারীম (স) বলিয়াছেন: আমরা সর্বশেষ উম্মত। তবে আমাদের হিসাব হইবে সর্বাগ্রে। বলা হইবে, কোথায় উম্মী নবী এবং কোথায় তাঁহার উম্মত? সুতরাং সৃষ্টির দিক হইতে আমরা সর্বশেষ; কিন্তু জান্নাতে প্রবেশের দিক হইতে অগ্রবর্তী (ইবন মাজা, হাদীছ নং ৪২৯০; আল্লামা বুসীরী (র) যাওয়াইদ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন, হাদীছটির সনদ সহীহ এবং রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আলবানীও হাদীছটি সহীহ বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন, সহীহ আল-জামিউস সাগীর, হাদীছ নং ৬৬২৫)।
📄 দ্বিতীয় ভাগ
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বহু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন, যাহা কেবল মাত্র তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, ইহাতে উম্মতের কোন অংশীদারিত্ব নাই। অবশ্য অন্য কোন নবী-রাসূলের মধ্যে এই জাতীয় বিষয়াদি পাওয়া অসমীচীন নয়। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হইল কবিতা শিক্ষা করা ও যাকাতের মাল ভোগ করা। এইগুলি তাঁহার জন্য হারাম। নবী কারীম (স)-এর জন্য সওমে বিসাল জায়েয ছিল। এমনিভাবে চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করাও তাঁহার জন্য জায়েয ছিল। তাঁহার স্ত্রীগণ উম্মতের জন্য মাতৃতুল্য। আর তাঁহার স্বপ্ন সত্য। আলিমগণ এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে চারভাগে বিন্যাস করিয়াছেন।
১. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা একমাত্র তাঁহার জন্য হারাম, অন্য কাহারও জন্য হারাম নয়। বস্তুত নবী (স)-এর সম্মানার্থেই এই বিধান প্রদান করা হইয়াছে।
২. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা কেবল তাঁহার জন্য জায়েয, অন্য কাহারও জন্য জায়েয নয়।
৩. এমন কতিপয় কাজ, যাহা কেবল তাঁহার উপর ওয়াজিব, অন্য কাহারও উপর নয়। ইহার দ্বারা উদ্দেশ্য, তাঁহার মর্যাদা বাড়াইয়া দেওয়া।
৪. এমন ফযীলাত ও মর্যাদা, যাহা কেবল তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, অন্য কাহারও নয়। নিম্নে অত্যন্ত সংক্ষেপে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হইল।
📄 এমন সব বিষয়াদি যাহা একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর বৈশিষ্ট্য; তাহাতে উম্মতের অংশীদারিত্ব নাই এমন কতিপয় বিষয়
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বহু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন, যাহা কেবল মাত্র তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, ইহাতে উম্মতের কোন অংশীদারিত্ব নাই। অবশ্য অন্য কোন নবী-রাসূলের মধ্যে এই জাতীয় বিষয়াদি পাওয়া অসমীচীন নয়। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হইল কবিতা শিক্ষা করা ও যাকাতের মাল ভোগ করা। এইগুলি তাঁহার জন্য হারাম। নবী কারীম (স)-এর জন্য সওমে বিসাল জায়েয ছিল। এমনিভাবে চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করাও তাঁহার জন্য জায়েয ছিল। তাঁহার স্ত্রীগণ উম্মতের জন্য মাতৃতুল্য। আর তাঁহার স্বপ্ন সত্য। আলিমগণ এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে চারভাগে বিন্যাস করিয়াছেন।
১. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা একমাত্র তাঁহার জন্য হারাম, অন্য কাহারও জন্য হারাম নয়। বস্তুত নবী (স)-এর সম্মানার্থেই এই বিধান প্রদান করা হইয়াছে।
২. এমন কতিপয় বিষয়, যাহা কেবল তাঁহার জন্য জায়েয, অন্য কাহারও জন্য জায়েয নয়।
৩. এমন কতিপয় কাজ, যাহা কেবল তাঁহার উপর ওয়াজিব, অন্য কাহারও উপর নয়। ইহার দ্বারা উদ্দেশ্য, তাঁহার মর্যাদা বাড়াইয়া দেওয়া।
৪. এমন ফযীলাত ও মর্যাদা, যাহা কেবল তাঁহারই বৈশিষ্ট্য, অন্য কাহারও নয়। নিম্নে অত্যন্ত সংক্ষেপে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হইল।