📄 (দশ) এই উম্মতের নামাযের কাতার ফেরেস্তাদের কাতারতুল্য
প্রচার কর, ইহাতে কোন অসুবিধা নাই। তুমি তোমার কওমের ব্যাপারে সাক্ষী এবং তুমি দু'আ কর তাহা কবুল হইবে। ঠিক তেমন আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মতের ব্যাপারেও বলিয়াছেন:
وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِّنْ حَرَجٍ "তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নাই" (২২:৭৮)।
লَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ. "যাহাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হইতে পার" (২:১৪৩)।
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ. "তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব" (৪০: ৬০)।
আল্লাহ্ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদীকে বহু মর্যাদা দান করিয়াছেন। তিনি তাহাদের নামাযের কাতারকে ফেরেশতাদের কাতারের তুল্য বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। হাদীছে এই সম্বন্ধে বিবরণ রহিয়াছে। হুযায়ফা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছেন: অন্যান্য লোকদের তুলনায় আমাদেরকে তিনটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হইয়াছে। আমাদের নামাযের কাতারকে ফেরেশতাদের কাতারের তুল্য সাব্যস্ত করা হইয়াছে। পৃথিবীকে আমাদের জন্য মসজিদ বানানো হইয়াছে। আর মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রকারী বস্তুরূপে গণ্য করা হইয়াছে— যদি আমরা পানি না পাই। এই ক্ষেত্রে তিনি আরেকটি বিষয়ের কথাও উল্লেখ করিয়াছিলেন (মুসলিম, নং ৫২২)।
জাবির ইবন সামুরা (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (স) ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিয়া বলিলেন, কি হইল, আমি তোমাদের উদ্ভ্রান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায় হস্ত উত্তোলনরত অবস্থায় দেখিতেছি? নামাযের অবস্থায় তোমরা নিজেদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখিবে। পরে তিনি আরেক দিন আমাদের সামনে আসিয়া আমাদেরকে গোলাকার অবস্থায় দেখিয়া বলিলেন, কি হইল, আমি যে তোমাদেরকে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখিতেছি? ইহার পর অপর একদিন নবী কারীম (স) আমাদের সামনে আসিয়া বলিলেন, ফেরেশতাগণ তাহাদের রবের সামনে যেভাবে কাতারবন্দী হইয়া থাকে তোমরা সেভাবে কাতারবন্দী হও না কেন? আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ফেরেশতারা তাহাদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হয়? তিনি বলিলেন, তাহারা প্রথমে সামনের কাতারগুলি পুরা করে এবং কাতারে পরস্পর মিলিয়া দাঁড়ায় (মুসলিম, নং ৪৩০)।
আমার উম্মতের নামাযের কাতারকে ফেরেস্তাদের কাতারের তুল্য সাব্যস্ত করা হইয়াছে। প্লাক মাটিকে আমার জন্য উযূর স্থলাভিষিক্ত করা হইয়াছে। মাটিকে মসজিদ ও পবিত্রকারী
📄 চতুর্থ প্রকার: আখিরাতে এই উম্মতের কতিপয় বৈশিষ্ট্য
৪৮৩ বস্তুরূপে গণ্য করা হইয়াছে। আর গনীমতের মাল আমার জন্য হালাল করা হইয়াছে (আল-কাবীর, ইমাম তাবারানী; আলবানীর মতে হাদীছটি সহীহ, সহীহ আল-জামে আস-সাগীর, নং ৪০৯৫)।
আখিরাতে আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মতকে এমন কতিপয় বিষয় দান করিবেন, যাহা পূর্ববর্তী উম্মতের আর কাহাকেও দেওয়া হইবে না। ইহাতে রহিয়াছে এই উম্মতের শিক্ষাগুরু, মুরব্বী, সায়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল-আখিরীন মুহাম্মাদ (স)-এর বিশেষ মর্যাদা, যিনি এই উম্মতের হিদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বপ্রকার ত্যাগস্বীকার করিয়াছেন এবং নিজের গোটা জীবন তাহাদের পিছনে ব্যয় করিয়াছেন। তাঁহার এই অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে তাহারা হইয়াছে শ্রেষ্ঠতম উম্মত। আখিরাতে এই উম্মত যেসব বৈশিষ্ট্য দ্বারা মণ্ডিত থাকিবে, ইহার অন্যতম হইল : নবীগণ তাহাদের উম্মতের নিকট যে দীনের পয়গাম যথাযথভাবে পৌঁছাইয়াছেন, এই ব্যপারে উম্মতে মুহাম্মাদী সাক্ষী হইবে।, জান্নাতীদের মধ্যে তাহাদের সংখ্যা হইবে সর্বাধিক, তাহারাই প্রথমে পুলসিরাত পার হইবে এবং সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবশে করিবে। তাহারা আগমনের দিক হইতে সর্বশেষ, কিন্তু সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ইত্যাদি। আখিরাতে তাহাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান থাকিবে।
📄 (এক) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল থাকিবে
কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মতের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ উযূর কারণে উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান থাকিবে। হাওযে কাওছারের নিকট রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় উম্মতের জন্য অপেক্ষমাণ থাকিবেন এবং উক্ত বিশেষ আলামত দ্বারাই তিনি তাঁহার উম্মতকে অন্যান্য উম্মতের মধ্য হইতে চিনিয়া নিবেন এবং পৃথক করিয়া নিবেন। আল্লামা ইব্ন হাজর আসকালানী (র) বলেন, উযূর প্রভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল হওয়া কেবল এই উম্মতেরই বৈশিষ্ট্য। হাদীছে এই সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমাণ রহিয়াছে।
নু'আয়ম ইব্ন আবদুল্লাহ্ আল-মুজমির (র) বলেন, আমি একবার আবূ হুরায়রা (রা)-কে উযু করিতে দেখিলাম। প্রথমে তিনি তাহার মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং পরিপূর্ণ ও উত্তমরূপে ধুইলেন, ইহার পর তিনি ডান হাত ধুইলেন, এমনকি বাহুর কিছু অংশও ধুইলেন। তাহার পর বাম হাতও বাহুর কিছু অংশসহ ধুইলেন। ইহার পর মাথা মাসেহ করিলেন। তাহার পর ডান পা ধুইলেন। এমনকি গোছার কিছু অংশও ধুইলেন। ইহার পর বাম পায়ের গোছার কিছু অংশসহ ধৌত করিলেন। তাহার পর বলিলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এভাবেই উযূ করিতে দেখিয়াছি।” তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছেন: উযু পরিপূর্ণ ও উত্তমরূপে করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় এবং হাত-পা উজ্জ্বল থাকিবে। অতএব তোমাদের যাহার ইচ্ছা হয়, সে যেন তাহার মুখমণ্ডলের নূর এবং হাত-পায়ের দীপ্তি বৃদ্ধি করে (বুখারী, ফাতহুল বারী, ১খ., পৃ. ১৩৬; মুসলিম, হাদীছ নং ৫৪৬/৩৪/২৪৬)।
আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আমার হাউয হইবে আদান (এডেন)। হইতে আয়লা পর্যন্ত যে দূরত্ব উহা হইতেও বেশি দীর্ঘ। আর তাহা হইবে বরফ হইতেও সাদা এবং দুধ মিশ্রিত মধু হইতেও মিষ্ট। আর ইহার পাত্রের সংখ্যা হইবে তারকারাজির চেয়েও অধিক। আমি কিছু সংখ্যক লোককে তথা হইতে তাড়াইয়া দিতে থাকিব, যেমনিভাবে লোকে নিজের হাউয হইতে অন্যের উট তাড়াইয়া দেয়। সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনিতে পারিবেন? তিনি বলিলেন, হাঁ, তোমাদের এমন চিহ্ন থাকিবে, যাহা অন্য কোন উম্মতের থাকিবে না। উযূর বদৌলতে তোমাদের মুখমণ্ডল নূরানী ও হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায় তোমরা আমার কাছে আসিবে (মুসলিম, হাদীছ নং ২৪৭)।
আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স) একটি কবরস্থানে আসিয়া দাঁড়াইলেন এবং বলিলেন:
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاحِقُونَ. "তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হউক হে মু'মিনদের ঘর বাসীরা। ইনশাআল্লাহ্ আমরাও তোমাদের সহিত মিলিত হইব"।
আমার বড় ইচ্ছা হয়, আমাদের ভাইদেরকে দেখিবার। সাহাবায়ে কিরাম বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বলিলেন, তোমরা তো আমার সাহাবী। আর যাহারা এখনও পৃথিবীতে আসে নাই তাহারা আমার ভাই। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উম্মতের মধ্যে যাহারা এখন পর্যন্ত দুনিয়াতে আসে নাই তাহাদেরকে আপনি কিভাবে চিনিবেন? তিনি বলিলেন, কেন, যদি কোন ব্যক্তির কপাল ও হাত-পা সাদাযুক্ত ঘোড়া কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশিয়া যায়, তবে সে কি তাহার ঘোড়াকে শনাক্ত করিতে পারিবে না? তাহারা বলেন, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলিলেন, তাহারা (আমার উম্মত) সেদিন এমন অবস্থায় আসিবে যে, উযূর প্রভাবে তাহাদের মুখমণ্ডল থাকিবে নূরানী এবং হাত-পা থাকিবে দীপ্তিমান। আর হাউযের পাড়ে আমি হইব তাহাদের অগ্রনায়ক। জানিয়া রাখ, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাউয হইতে তাড়াইয়া দেওয়া হইবে, যেমন পথহারা উটকে তাড়াইয়া দেওয়া হয়। আমি তাহাদেরকে ডাকিব : আসো, আসো। তখন বলা হইবে, ইহারা আপনার পরে (আপনার দীনকে) পরির্বতন করিয়াছিল। তখন আমি বলিব : দূর হও, দূর হও (মুসলিম, হাদীছ নং ৫৮৪/৩৯/২৪৯)।
📄 (দুই) এই উম্মত কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষী হইবে
সমস্ত উম্মতের মধ্যে উম্মতে মুহাম্মাদীই হইল শ্রেষ্ঠতম এবং সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ তা'আলা তাহাদেরকে পূর্ণাঙ্গ শরীআত ও জীবনব্যবস্থা প্রদান করিয়া বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করিয়াছেন। তাহারা অন্যান্য উম্মতের মধ্যে মধ্যপন্থী উম্মত। তাহাদের মধ্যে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের মত বাড়াবাড়ি ও প্রান্তিকতা (ইফরাত-তাফরীত) নাই। এই কারনেই আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাহাদেরকে অন্যান্য উম্মতের উপর সাক্ষী বানাইবেন। পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলের উম্মত কিয়ামতের ময়দানে তাহাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে যখন অস্বীকার করিবে, তখন উম্মতে মুহাম্মাদীই কেবল তাহাদের দায়িত্ব পালনের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে। ইহাতেও এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا . "এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মতরূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি, যাহাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হইবে" (২ : ১৪৩)।
শায়খ 'ইয্যুদ্দীন ইব্ন আবদুস সালাম নবী কারীম (স)-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত হাদীছের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর উম্মতকে ন্যায়পরায়ণ বিচারকের মর্যাদা দান করিয়াছেন। অর্থাৎ তিনি যখন বান্দাদের বিচার করিবেন তখন পূর্ববর্তী উম্মতগণ তাহাদের নিকট রিসালাতের বাণী পৌঁছাইবার বিষয়টি অস্বীকার করিবে। আর সেই মুহূর্তে তিনি উম্মতে মুহাম্মাদীকে হাযির করিবেন। তাহারা ঐ সমস্ত লোকদের সামনে সাক্ষ্য প্রদান করিবে যে, নবী-রাসূলগণ সকলেই তাঁহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করিয়াছেন। স্মর্তব্য যে, এই বৈশিষ্ট্য অন্য কোন নবী-রাসূলের উম্মতের মধ্যে পাওয়া যাইবে না। হাদীছে এই সম্বন্ধে সুস্পষ্ট বক্তব্য বিদ্যমান রহিয়াছে।
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছেন: কিয়ামতের দিন নূহ (আ)-কে ডাকা হইবে। তিনি উত্তর দিবেন, হে আমার রব! আমি আপনার দরবারে উপস্থিত। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন, তুমি কি তোমার কওমের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছাইয়া দিয়াছিলে? তিনি বলিবেন, হাঁ। তখন তাঁহার উম্মতকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করা হইরে, নূহ্ কি তোমাদের নিকট পয়গাম পৌঁছাইয়াছিল? তাহারা বলিবে, আমাদের নিকট কোন সতর্ককারী আগমন করেন নাই। তখন আল্লাহ্ তা'আলা নূহকে জিজ্ঞাসা করিবেন, তোমার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দিবে? তিনি বলিবেন, মুহাম্মাদ (স) ও তাঁহার উম্মতগণ। তাহারা সাক্ষ্য প্রদান করিবে যে, নূহ (আ) তাঁহার উম্মতের নিকট আল্লাহ্র পয়গাম প্রচার করিয়াছেন এবং রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের পক্ষে সাক্ষী হইবেন। ইহাই মহান আল্লাহর বাণীতে বিধৃত হইয়াছে:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا . "এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মতরূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি, যাহাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হইবে" (২ : ১৪৩; বুখারী, ফাতহুল বারী, ৮খ., হাদীছ নং ৪৪৮৭)।
আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছেন, কিয়ামতের ময়দানে নবী-রাসূলগণ উপস্থিত হইবেন। কোন নবী দুইজন, কোন নবী তিনজন উম্মতসহ উপস্থিত হইবেন, আবার কেহ ইহার চেয়ে কম বা বেশি উম্মতসহ উপস্থিত হইবেন। তখন আল্লাহ্র পক্ষ হইতে প্রত্যেক নবীকে জিজ্ঞাসা করা হইবে, তুমি কি তোমার কওমের নিকট আমার পয়গাম পৌঁছাইয়াছিলে? জবাবে নবীগণ প্রত্যেকেই বলিবেন, হাঁ, পৌঁছাইয়াছিলাম। তখন তাঁহার উম্মতকে ডাকা হইবে এবং জিজ্ঞাসা করা হইবে, তোমাদের নিকট সে আমার পয়গাম পৌঁছাইয়াছিল কি? তাহারা বলিবে, না। আল্লাহ্ তা'আলা নবীকে জিজ্ঞাসা করিবেন, তোমার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দিবে? তিনি বলিবেন, মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মত। তখন উম্মতে মুহাম্মাদীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করা হইবে, সে কি আমার পয়গাম পৌঁছাইয়াছিল? তাহারা বলিবে, হাঁ। আল্লাহ্ বলিবেন, তোমরা তাহা জানিলে কিভাবে? তাহারা বলিবে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স.) আমাদেরকে সংবাদ, দিয়াছেন যে, নবী-রাসূলগণ সকলেই আল্লাহর পয়গাম যথাযথভাবে পৌঁছাইয়াছেন। আর আমরা তাঁহার কথা বিশ্বাস করিয়াছি। তখন নবী কারীম (স) বলেন, মহান আল্লাহ্বর নিমোক্ত বাণীতে ইহাই-ঘোষিত হইয়াছে:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا . "এইভাবে: আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মতরূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি, যাহাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হইবে" (২ : ১৪৩; মুসনাদে আহমাদ, ৩খ., পৃ. ৫৮; ইবন মাজা, যুহদ, বাব ৩৪, নং ৪২৮৪; আলবানী হাদীছটিকে সহীহ বলিয়াছেন; সহীহ আল-জামেউস সাগীর, হাদীছ নং ৭৮৮৯)।
কা'ব আল-আহবার (র) বলেন, এই উম্মতকে এমন তিনটি বিষয় দান করা হইয়াছে, যাহা নবীগণ ব্যতীত অন্য কাহাকেও দান করা হয় নাই। নবীকে বলা হইত, প্রচার কর অসুবিধা নাই। তুমি তোমার কওমের ব্যাপারে সাক্ষী। আরও বলা হইত, দু'আ কর, কবুল করা হইবে। নবীগণের ন্যায় এই উম্মতের শানেও আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেন:
وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مَنْ حَرَج . "তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নাই" (২২ঃ ৭৮)।