📄 খাসাইস বা বৈশিষ্ট্যের প্রকারভেদ
মৌলিকভাবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ দুই প্রকার: (১) এমন বৈশিষ্ট্যসমূহ যাহা কেবল রাসূলুল্লাহ (স)-এর মধ্যে পাওয়া যায় বা কেবল তাঁহার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অন্য কোন নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। (২) এমন বৈশষ্ট্যসমূহ যাহা কেবল রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, উম্মতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তবে পূর্ববর্তী নবীগণের কাহারও মধ্যে উহা বিদ্যমান থাকিতে পারে।
📄 অন্য কোন নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
এই অধ্যায়ের কোনো টেক্সট এই ফাইলের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
📄 যেসব বৈশিষ্ট্য দুনিয়াতে কেবল রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়াতে হযরত মুহাম্মদ (স)-কে কতিপয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা অভিষিক্ত করিয়াছেন- যাহা অন্য কোন নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিম্নে তাহা প্রদত্ত হইল:
📄 (এক) নবী-রাসূলগণের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ
আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আ) হইতে হযরত ঈসা (আ) পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এই পৃথিবীতে প্রেরণ করিয়াছেন তাহাদের সকলের নিকট হইতেই তিনি এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন: তোমাদের কাহারও যমানায় যদি হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাব হয় তবে অবশ্যই তোমরা তাঁহার উপর ঈমান আনিবে এবং তাঁহাকে সাহায্য-সহযোগিতা করিবে, নিজেদের ইলম ও নবুওয়াতের কারণে তাঁহার আনুগত্য ও সাহায্য করা হইতে বিরত থাকিবে না। এমনিভাবে আল্লাহ্ তা'আলা নবী-রাসূলগণকে তাহাদের নিজ নিজ উম্মত হইতেও অনুরূপ অঙ্গীকার গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়াছিলেন (তাফসীর ইব্ন কাছীর, ১খ., পৃ. ৩৮৬; (আল-ওয়াফা বি আহওয়ালিল মুসতাফা, ২খ., পৃ. ৬; শামাইলুর রাসূল, পৃ. ৫৪৫; খাসাইসুল কুবরা, ১খ., পৃ. ১৬)। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِّنْ كتب وحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَ كُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لَّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرَنَّهُ قَالَ أَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ اِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشَّهِدِينَ. "স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ নবীদের অংগীকার লইয়াছিলেন, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যাহা কিছু দিয়াছি অতঃপর তোমাদের কাছে যাহা আছে তাহার সমর্থকরূপে যখন একজন রাসূল আসিবে তখন তোমরা অবশ্যই তাহার প্রতি ঈমান আনিবে এবং তাহাকে সাহায্য করিবে। তিনি বলিলেন, তোমরা কি স্বীকার করিলে? এবং এই সম্পর্কে আমার অংগীকার কি তোমরা গ্রহণ করিলে? তাহারা বলিল, আমরা স্বীকার করিলাম। তিনি বলিলেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সহিত সাক্ষী রহিলাম” (৩ঃ ৮১)।
হযরত আলী ও ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা সমস্ত নবী-রাসূল হইতেই এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন যে, তাঁহার জীবদ্দশায় যদি আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ (স)-কে প্রেরণ করেন তবে অবশ্যই যেন তিনি তাঁহার উপর ঈমান আনেন এবং তাঁহাকে সাহায্য করেন। তিনি নবী-রাসূলগণকে এই মর্মেও হুকুম দিয়াছেন যে, তাঁহারা যেন নিজ নিজ উম্মত হইতেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে, যদি তাহাদের জীবদ্দশায় হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর আবির্ভাব হয় তবে তাহারা তাঁহার উপর ঈমান আনিবে এবং তাঁহাকে সাহায্য করিবে। একাধিক তাফসীর বিশারদ হইতে এই ব্যাখ্যা উদ্বৃত রহিয়াছে (তাফসীর ইবন জারীর তাবারী, ২খ., পৃ. ২৩৬; তাফসীর ইব্ন কাছীর ১খ., পৃষ্ঠা ৩৮৬; তাফসীর বাগাবী, ১খ., পৃ. ৩২২)।
হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, একদা হযরত উমর (রা) তাওরাতের একটি পৃষ্ঠা হইতে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সামনে পাঠ করেন। ইহাতে রাসূলুল্লাহ্ (স) অসন্তুষ্ট হইয়া বলেন, হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি উদ্ভ্রান্ত হইয়া গিয়াছ? যাঁহার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ তাঁহার শপথ! আমি তোমাদের নিকট এক স্পষ্ট দান লইয়া আসিয়াছি। তোমরা যদি তাহাদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর এবং তাহারা তোমাদেরকে যথার্থ সংবাদ প্রদান করে তাহা হইলে এই কারণে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হইবে। আর যদি তাহারা তোমাদেরকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তবে তোমাদেরকে সত্যবাদী বলিয়া জ্ঞান করা হইবে। আল্লাহ্র শপথ! হযরত মূসা (আ) জীবিত থাকিলে তাঁহার জন্যও আমার অনুসরণ ব্যতীত গত্যন্তর ছিল না (মুসনাদ আহমাদ ৩খ., পৃ. ৩৮৭; দারিমী, মুকাদ্দিমা, বাব ৪০, নং ৪০৫১; নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর মতে হাদীছটি হাসান; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১খ., পৃ. ৬৩)।
হাফিয ইব্ন কাছীর (র) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (স) খাতামুল আম্বিয়া, আখিরী নবী এবং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানবজাতির জন্য নবী। তিনি ইমামে আজম— সকলের মহান ইমাম। সর্বকালের মানুষের উপর অপরিহার্য কর্তব্য হইল তাঁহার আনুগত্য করা। তিনি নবী-রাসূলগণেরও ইমাম। এই কারণেই মি'রাজ রজনীতে নবী-রাসূলগণ সকলেই বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্র হইলে তিনি তাহাদের নামাযের ইমামতি করেন (তাফসীর ইব্ন কাছীর, ১খ., পৃ. ৩৮৬)।