📄 পবিত্র ও বরকতময় পানি
عن عبد الله قال كنا نعد الايات بركة وانتم تعدونها تخويفا كنا مع رسول الله ﷺ في سفر فقل الماء فقال اطلبوا فضلة من ماء فجاوا باناء فيه ماء قليل فادخل يده في الاناء ثم قال حى على الطهور المبارك والبركة من الله فلقد رأيت الماء ينبع من بين اصابع رسول الله ﷺ ولقد كنا نسمع تبسيح الطعام وهو يوكل .
"হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা অলৌকিক ঘটনাবলীকে বরকতের ব্যাপার মনে করিতাম। কিন্তু তোমরা ঐগুলিকে কেবল ভীতি প্রদর্শনের ব্যাপার বলিয়া মনে কর। একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এক সফরে ছিলাম। হঠাৎ পানির অভাব দেখা দিল। তিনি বলিলেন, কোথাও কিছু পানি থাকিয়া থাকিলে উহার সন্ধান কর। তাঁহার সঙ্গীগণ সামান্য পানি সমেত একটি পাত্র নিয়া আসিলেন। তিনি নিজ হাতখানা পাত্রটিতে প্রবেশ করাইলেন, তারপর বলিলেন, পবিত্র ও বরকতময় পানি নিতে আগাইয়া আস। এই বরকত আল্লাহ্র পক্ষ হইতে। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আঙ্গুলের ফাঁক দিয়া পানি উপচাইয়া পড়িতে দেখিয়াছি। আল্লাহ্র কসম! তিনি খাদ্য গ্রহণ করিয়াছেন, আমরা তাঁহার খাদ্যের তাসবীহ পাঠ শুনিতে পাইতাম" (আদ- দারিমী, আস-সুনান, ১খ., পৃ. ১৫; আল-বুখারী, হাদীছ নং ৩৫৭৯, পৃ. ৭৩৪; কিতাবুল মানাকিব)।
📄 আয-যাওয়া নামক স্থানের ঘটনা
عن أنس بن مالك قال اتى النبى الله باناء وهو بالزوراء فوضع يده في الاناء فجعل الماء يتبع من بين اصابعه فتوضا القوم قال قتادة فلت لانس كم كنتم قال ثلاث مائة او زهاء ثلاث مائة .
"হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট একটি পানির পাত্র আনা হইল। তখন তিনি আয-যাওরা নামক স্থানে অবস্থান করিতেছিলেন। তিনি ঐ পাত্রে স্বীয় হাত মোবারক রাখিলেন। তাঁহার আঙ্গুলগুলির ফাঁক হইতে পানি উত্থিত হইতে লাগিল এবং লোকজন ঐ পানি দ্বারা উযূ করিল। হযরত কাতাদা (রা) বলেন, আমি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বলিলেন, প্রায় তিন শতজন" (আল-বুখারী, হাদীছ নং ৩৫৭২, পৃ. ৭৩২; কিতাবুল মানাকিব)।
📄 খালি কলসে পানির প্রবাহ
عن ابن عباس قال دعا النبي ﷺ بلالا فطلب بلال الماء ثم جاء فقال لا والله ما وجدت الماء فقال النبي ﷺ فهل من شن فاتاه بشن فبسط كفيه فيه فابنبعث تحت يديه عين قال فكان ابن مسعود يشرب وغيره يتوضأ .
"হযরত ইবন 'আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে পানির জন্য ডাকিলেন। বিলাল (রা) পানির খোঁজ করিয়া ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! পানি পাইলাম না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, চামড়ার তৈরি কোন মশক আছে কি? অতএব একটি মশক তাঁহার নিকট লইয়া আসা হইলে তিনি উহার মধ্যে তাঁহার হাত বিছাইয়া দিলেন। ফলে তাঁহার হাতের নীচ হইতে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হইতে লাগিল। বর্ণনাকারী বলেন, ইবন মাস'উদ (রা) পানি পান করিলেন এবং অন্যরা উযূ করিলেন" (আদ-দারিমী, ১খ., পৃ. ১৩)।
📄 মদীনায় অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ঘটনা
عن انس قال اصاب اهل المدينة قحط على عهد رسول الله ﷺ فبينا هو يخطب يوم جمعة اذ قام رجل فقال يا رسول الله هلكت الكراع هلكت الشاء فادع الله يسقينا فمد يديه ودعا قال انس ان السماء كمثل الزجاجة فهاجت ريح انشأت سحابا ثم اجتمع ثم ارسلت السماء عزاليها فخرجنا نخوض الماء حتى اتينا منازلنا فلم نزل نمطر الى الجمعة الأخرى فقام اليه ذلك الرجل او غيره فقال يا رسول الله تهربت البيوت فادع الله يحسبه تبسم ثم قال حوالينا ولا علينا فنظرت إلى السحاب تصدع حول المدينة كانه اكليل . وفي رواية اخرى قال اللهم حوالينا ولا علينا اللهم على الانعام والظراب وبطون الاودية ومنابت الشجر فاقلعت وخرجنا نمشي في الشمس .
“হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে মদীনাবাসিগণ অনাবৃষ্টির দরুন খরা কবলিত হইয়াছিলেন। কোন এক জুমু'আ বারে রাসূলুল্লাহ (স) খুতবা দিতেছিলেন। এমন সময় একব্যক্তি দাঁড়াইয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ঘোড়াগুলি মারা গেল, বকরীগুলো ধ্বংস হইয়া গেল। আমাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ করুন তিনি যেন আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করেন। মহানবী (স) দুই হাত তুলিয়া আল্লাহ্র নিকট দু'আ করিলেন। আনাস (রা) বলেন, আকাশ ছিল তখন কাঁচের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিষ্কার (কোন মেঘ ছিল না)। হঠাৎ বাতাস বহিতে আরম্ভ করিল এবং মেঘের আবির্ভাব ঘটিল। অতঃপর মেঘগুলি একত্র হইয়া গেল। তারপর আকাশ তাহার মুখ খুলিয়া দিল। বর্ষণ শুরু হইল। এত বৃষ্টি হইল যে, আমরা মসজিদ হইতে বাহির হইয়া সাতরাইয়া বাড়ি আসিয়া পৌঁছিলাম। এইভাবে পরবর্তী জুমু'আ পর্যন্ত বৃষ্টি হইল। পরবর্তী শুক্রবার আবার সেই ব্যক্তি অথবা অন্য কেহ দাঁড়াইয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! অতি বৃষ্টিতে বাড়ি-ঘরসমূহ ধ্বংস হইয়া গেল। এইবার আল্লাহ্র নিকট বৃষ্টি বন্ধের জন্য দু'আ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) মুচকি হাসিলেন এবং বলিলেন : আমাদের উপর নয়, আমাদের চারিপাশে বর্ষণ করুন। আনাস (রা) বলেন, আমি লক্ষ্য করিয়া দেখিলাম যে, মেঘগুলি তৎক্ষণাত মদীনার আশেপাশে সরিয়া গেল। মদীনাকে মনে হইল যেন এক মুকুট। অপর একটি বর্ণনায় আসিয়াছে: তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের চারিপাশে বর্ষণ হউক, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ্! টিলা, পাহাড়, ময়দান এবং বনাঞ্চলের উপর বর্ষণ করুন। অতঃপর ইহাতে বৃষ্টি বন্ধ হইয়া গেল। আমরা রৌদ্রে চলাফেরা করিতে লাগিলাম” (আল-বুখারী, হাদীছ নং ৩৫৮২, পৃ. ৭৩৫; কিতাবুল মানাকিব এবং কিতাবুল ইস্তিসকা, বাব-আল ইস্তিসকা, হাদীছ নং ১০১৩; ইমাম আহমাদ ইব্ন হাম্বল, মুসনাদ, হাদীছ নং ১২৬০৪, ৪খ., পৃ. ৪৭)।
حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ اشْتَكَّى أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِلَى رَسُولِ ﷺ العطش فدعا بعس فصب فيه ماء ووضع رسول الله ﷺ يده فيه قال فجعلت انظر الي الماء ينبع عيونا من بين اصابع رسول الله ﷺ والناس يستقون حتى استقى الناس كلهم .
“হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ (রা) বলেন, সাহাবা-ই কিরাম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পিপাসার অভিযোগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) একটি বড় পেয়ালা আনিতে আদেশ করিলেন। তিনি উহাতে পানি ঢালিয়া দিলেন এবং স্বীয় হস্ত তাহাতে রাখিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখিতে লাগিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (س)-এর আঙ্গুলসমূহ হইতে পানির ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হইতেছে। আর লোকজন পানি পান করিতেছে, এমনকি সকলে পান করিল" (সুনান আদ-দারিমী, ১খ., পৃ. ১৪)।
عن انس ان النبي ﷺ دعا بماء قاتي بقدح رحراح فجعل القوم يتوضاون فحزرت ما بين الستين الى الثمانين قال فجعلت انظر الى الماء ينبع من بين اصابعه .
"হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে বর্ণিত। নবী কারীম (স) পানি আনিতে আদেশ করিলেন। অপ্রশস্ত তলাবিশিষ্ট অগভীর একটি পেয়ালা আনা হইলে তিনি তাহাতে হাত রাখিয়া বরকতের জন্য দু'আ করিলেন। লোকেরা উহা হইতে উযূ করিতে লাগিল। আমি অনুমান করিলাম যে, তাহাদের সংখ্যা ষাট হইতে আশির মধ্যে হইবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি পানির দিকে তাকাইয়া দেখিলাম, তাঁহার আঙ্গুলসমূহের মধ্য হইতে পানি উথলিয়া বাহির হইয়া আসিতেছে” (মুসলিম, আস-সাহীহ ৭খ., পৃ. ৫৯; কিতাবুল ফাদাইল, বাব ফী মু'জিযাতিন- নাবী; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল, মুسناদ, হাদীছ নং ১২০৮৮, ৩খ., পৃ. ১৫)।