📄 আল-হাদীছ ও সীরাত গ্রন্থাবলীতে চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা
প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য হাদীছ ও সীরাত গ্রন্থাবলীর পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য হইতে জানা যায়, যাঁহাদের রিওয়ায়াত হইতে আমরা 'ইনশিকাকুল কামার' অর্থাৎ চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার বর্ণনাগুলি পাই তাঁহাদের মধ্যে অনন্য হইলেন, 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ, 'আবদুল্লাহ ইব্ন 'উমার, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, যুবায়র ইবন মুত'ইম, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান ও আনাস ইবন মালিক (রা)। হাদীছের গ্রন্থাবলীতে 'ইনশিকাকুল কামার' প্রসঙ্গীয় যাঁহাদের রিওয়ায়াত বর্ণিত হইয়াছে তাহার এক চমৎকার তথ্যনির্যাস তুলিয়া ধরা হইয়াছে "সুবুলুল হুদা ওয়ার- রাশাদ” গ্রন্থে। 'ইনশিকাকুল কামার' বা চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম তিনি সহীহুল বুখারীতে উল্লিখিত 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা)-এর রিওয়ায়ত উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি বলেন:
خمس قد مضين اللزام والروم والبطشة والقمر والدخان .
"পাঁটি বিষয় অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। আল-লিয়াম বা অনিবার্য শান্তি, রোম বিজয়, আল-বাশা বা প্রবল পাকড়াও যাহা বদর যুদ্ধে হইয়া গিয়াছে, আল-কামার বা চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং আদ-দুখান বা মক্কার ভীষণ ধুম্র" (বুখারী, ৪খ., হাদীছ নং ও বাব ৪৫৪৮, পৃ. ১৮২৫)।
অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সন পরম্পরায় কখনও ইমাম আহমাদ, শায়খায়ন, বায়হাকী এবং আবূ নু'আয়ম প্রমুখ স্বীয় কিতাবসমূহে 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা)-এর এ সম্পর্কীয় রিওয়ায়াতে বর্ণনা করেন। আবার কখনও বা শায়খায়ন ও ইমাম বায়হাকী (রা) উভয়েই চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে যুবায়র ইবন মুত'ইম (রা) হইতেও রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। ইহা ছাড়া হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা)-এর রিওয়ায়াত হইতেও 'ইনশিকাকুল কামার' প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রকার তথ্য জানা যায়, যাহা ইমাম আহমাদ, বায়হাকী, ইমাম তিরমিযী, ইবন জারীর, তাবারী এবং হাকেম প্রমুখ স্বীয় কিতাবসমূহে বিভিন্ন সনদ-পরম্পরায় হুযায়ফা (রা) হইতে উদ্ধৃত করিয়াছেন। ইমাম ইবন আবী শায়বা, 'আবদ ইব্ন হুমায়দ, ইবন জারীর তাবারী ও আবূ নু'আয়ম প্রমুখ উল্লেখিত মু'জিযা বা অলৌকিক ঘটনা প্রসঙ্গে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে রিওয়ায়াত উল্লেখ করিয়াছেন। ইহা ছাড়া ইমাম আহমাদ, শায়খায়ন ও আবু নু'আয়ম স্বীয় কিতাবসমূহে বিভিন্ন সনদ-পরম্পরায় আনাস ইবন মালিক (রা)-এর রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করিয়াছেন।
মোটকথা, বিভিন্ন রাবীর রিওয়ায়াতগুলি গভীরভাবে পর্যালোচনা করিলে দেখা যায়, অধিকাংশ রিওয়ায়াত একটি অপরটির কাছাকাছি, শব্দাবলী ও মর্মার্থও প্রায় এক ও অভিন্ন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৯খ., পৃ. ৪৩০)। ইমাম তাহাবী ও ইন কাছীর এই মু'জিযা সম্পর্কিত সকল রিওয়ায়াতকে মুতাওয়াতির বলিয়াছেন। তাই এই মু'জিযার বাস্তবতা অকাট্যরূপে প্রমাণিত ('তাফসীর মা'আরেফুল কুরআন, সংক্ষিপ্ত সং., সম্পাদনা পৃ. ১৩১১)। অবশ্য নাদরাতুন না'ঈমে ইব্ন কাছীরের অতিমত এভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে: "আল্লামা ইন্ন কাছীর (র) এই মর্মে ইজমা' নকল করিয়াছেন যে, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগেই সংঘটিত হইয়াছে এবং ইহা একটি সুস্পষ্ট মু'জিযা ও এতদসম্পর্কে যে সকল হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে সেগুলি অকাট্য ও দ্ব্যর্থহীন" (নাদরাতুন না'ঈম, বঙ্গানু., ১খ., পৃ. ৬৬০)।
📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট কাহারা মু'জিযা দাবি করিয়াছিল
রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে যাহারা এসে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ বিষয়ক মু'জিযা প্রদর্শনের দাবী করিয়াছিল তাহাদের পরিচয় প্রসঙ্গে আল-কুরআনুল কারীমের কোথাও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়নি বলে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কুরআন গবেষকগণ মতামত ব্যক্ত করিয়াছেন। তবে সূরা আল-কামারে বর্ণিত "ইনশিকাকুল কামার" বা চন্দ্র বিদীর্ণ বিষয়ক বর্ণনা সম্বলিত আয়াতগুলিতে তাহাদের যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলীর পরিচয় ব্যক্ত করা হইয়াছে সেগুলির তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণে এই কথা জানা যায় যে, তাহারা আর কেই নন-তাহারা হলেন ঐ সকল মক্কাবাসী কাফির-মুশরিক যাহারা রাসূলে কারীম (স)-এর সত্য দীন ও হিদায়াতের কলেমাকে অস্বীকার করিয়াছিল, মিথ্যা মনে করিয়াছিল তাঁহার আনীত বাণীসমূহকে, অহংকারের বশবর্তী হইয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন ও উপেক্ষা করিয়াছিল রাসূলুল্লাহ (স) প্রদর্শিত সকল মু'জিযাকে। এই প্রসঙ্গে আল-কুরআনের ভাষ্য হইল:
وَأَنْ يَرَوْا أَيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِر.
"তাহারা যদি কোন মু'জিযা দেখে তবে মুখ ফিরাইয়া নেয় এবং বলে, ইহা তো চিরায়ত যাদু” (৫৪: ২)।
নির্ভরযোগ্য আল-কুরআনের ভাষ্য গ্রন্থাবলী, সীরাত ও হাদীছ গ্রন্থাবলীর প্রাপ্ত উৎসসমূহে রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে যাহারা মু'জিযার দাবি করিয়াছিল তাহাদের পরিচয় সম্পর্কে আরও কিছু মতামত লক্ষ্য করা যায়। এই প্রসঙ্গে ইবন কাছীর স্বীয় সীরাত গ্রন্থ "আল-বিদায়া ওয়ান- নিহায়া"-তে উল্লেখ করিয়াছেন যে, ঈমান আনয়ন করিবার শর্তে রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে যাহারা মু'জিযা প্রদর্শনের দাবি উত্থাপন করিয়াছিল তাহারা ছিল মুশরিক সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ১১৮)। আবূ নু'আয়ম-এর উদ্ধৃতিতে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর আরও একটি রিওয়ায়াত ইবন কাছীর বর্ণনা করেন যাহাতে রাসূল কারীম (স)-এর কাছে মুশরিকদের আগমন ও মু'জিযা প্রদর্শনের প্রসঙ্গটি সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত হইয়াছে (আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ১১৭)।
ইমাম কুরতুবী স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে ইবন 'আব্বাস (রা)-এর উদ্ধৃতিতে মুশরিকদের আগমন ও মু'জিযা প্রদর্শনের দাবির অনুরূপ প্রসঙ্গটি ব্যক্ত করিয়াছেন (কুরতুবী, ১৭খ., পৃ. ১২৭)। ইবন জারীর স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন, যাহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট মু'জিযা প্রদর্শনের দাবি করিয়াছিল তাহারা "কুফফ্ফার আহলে মাক্কা” (তাফসীর তাবারী, ২৮খ., পৃ. ৮৪)।
এই প্রসঙ্গে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আনাস (রা)-এর রিওয়ায়াত হইতে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট যাহারা মু'জিযা প্রদর্শনের দাবি করিয়াছিল, তাহারা ছিল মক্কাবাসী (সহীহ বুখারী, কিতাবুত-তাফসীর, পৃ. ১০৪৪)। অনুরূপ বর্ণনার জন্য আরও দ্রষ্টব্য আন-নাসাঈ, তাফসীর ইবন কাছীর, পৃ. ২৬২; তাফসীর তাবারী, ২৭খ., পৃ. ৮৫ ও ৮৮; কুরতুবী, তাফসীর, ১৭খ., পৃ. ১২৬, হাদীছ নং ৩২৮৬, ৫খ., পৃ. ৩৯৭)।
📄 চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কাল
রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক দ্বিখণ্ডিত চাঁদ প্রদর্শন সম্পর্কীয় মু'জিযার সময় প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সীরাত গবেষকদের মাঝে যৎসামান্য মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায়, এই সম্পর্কীয় বর্ণনাগুলির মাঝে তেমন কোন পার্থক্য নাই। কেননা অধিকাংশ বর্ণনাই পরস্পর বিরোধী নয়, বরং সম্পূরক। আল-কুরআনুল কারীমে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণের সময় সম্পর্কে তেমন কিছুই উল্লেখ করা হয় নাই। যেহেতু সূরা আল-কামার নাযিলের সময়পর্ব ছিল মাক্কী যুগেই অর্থাৎ হিজরতের পূর্বেই, সেইহেতু ধরিয়া নেওয়া যায় যে, এ যুগেই রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক উল্লিখিত মু'জিযা প্রদর্শিত হইয়াছিল। সুতরাং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কুরআন গবেষকদের দাবি অনুযায়ী চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণের সময়পর্ব ছিল মক্কী যুগেই অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে।
প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য হাদীছ, সীরাত ও আল-কুরআনের ভাষ্য গ্রন্থাবলীতে রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক উক্ত মু'জিযা প্রদর্শনের সময়পর্ব সম্পর্কে যাহা কিছু পাওয়া যায় তাহা নিম্নরূপ: তাবারী স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন যে, হিজরতের পূর্বেই চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হইয়াছিল (তাবারী, তাফসীর, ২৭খ., পৃ. ৮৬)। দ্বিখণ্ডিত চাঁদ প্রদর্শন সম্পর্কিত মু'জিযাটি যে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হিজরত-পূর্ব যুগেই সংঘটিত হইয়াছিল—এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের হাদীছ ও সীরাত গবেষকেরা অভিন্ন মত ব্যক্ত করিয়াছেন (তু. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ১১৬)।
সহীহুল বুখারীতে এই প্রসঙ্গটি 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা), সুনান আত-তিরমিযীতে 'আবদুল্লাহ ইব্ন মাস'উদসহ 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, যুবায়র ইবন মুত'ইম (রা) প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম হইতে উল্লিখিত হইয়াছে (সহীহুল বুখরী, কিতাবুত তাফসীরিল কুরআন, হাদীছ নং ৪৮৬৪, ৪৮৬৫, ৪৮৬৬ এবং ৪৮৬৭, পৃ. ১০৪৩-৪৪; সুনান আত-তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২৮৭, ৩২৮৮, ৩২৮৯, ৫খ., পৃ৩৯৮.)। চন্দ্র খণ্ডিত হওয়ার যে মু'জিযাটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরত-পূর্ব যুগেই সংঘটিত হইয়াছিল এ প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত জানার জন্য দ্র. আবুল হাসান 'আলী ইব্ন আহমাদ আল-ওয়াহিদী আন-নিশাপূরী, আসবাবুন নুযূল, কুরতুবী, তাফসীর, ১৭খ., পৃ. ১২৭; তাবারী, তাফসীর, ২৭খ., পৃ. ৮৫; ইব্ন কাছীর, তাফসীর, ৪খ., পৃ. ২৬২-২৬৩; আন-নাসাঈ, হাদীছ নং ১১৫৫৩, ৬খ., পৃ. ৪৭৬)।
চাঁদ কখন দ্বিখণ্ডিত হইয়াছিল এবং কতক্ষণ তাহা দৃশ্যমান ছিল এই প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে তেমন কোন বর্ণনা লক্ষ্য করা যায় না। তবে নির্ভরযোগ্য সীরাত ও হাদীছ গ্রন্থাবলীতে এই প্রসঙ্গে কিছু তথ্য লক্ষ্য করা যায়। আবু নু'আয়ম ইস্পাহানী স্বীয় দালাইলুন নুবৃওয়াহ্ গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন যাহাতে উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক চাঁদ দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় যখন প্রদর্শিত হইয়াছিল তখন ছিল পূর্ণিমার রজনী (আবূ নু'আয়ম ইসপাহানী, দালাইলুন নুবৃওয়া, পৃ. ২৩৪-২৩৫)। এই প্রসঙ্গে ইবন কাছীর স্বীয় সীরাতে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর আরও একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন যাহাতে কখন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হইয়াছিল তাহা চমৎকারভাবে ব্যক্ত হইয়াছে। উহা ছিল চাঁদের ১৪ রজনী (আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ১১৮)।
রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক দ্বিখণ্ডিত চাঁদ আসমানে কতক্ষণ দৃশ্যমান ছিল এই প্রসঙ্গে দালাইলুন নুবৃওয়া গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর রিওয়ায়াতটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ইহাতে উল্লিখিত হইয়াছে, ইহা 'আসর হইতে রাত্র পর্যন্ত সময়ব্যাপী দৃশ্যমান ছিল (তু. আবু নু'আয়ম ইসপাহানী, দালাইলুন নুবৃওয়া, পৃ. ২৩৫)। অনুরূপ বর্ণনার জন্য আরও দ্রষ্টব্য ইবন কাছীর, আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ১১৮; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ গ্রন্থে প্রথম দিকে চাঁদের কথা উল্লেখ আছে (৯খ., পৃ. ৪৩২)।
📄 মু'জিযা সংঘটিত হওয়ার স্থান
দ্বিখণ্ডিত চাঁদ প্রদর্শনের স্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য হাদীছ এবং সীরাত গ্রন্থাবলীর প্রাপ্ত তথ্যে বিভিন্ন স্থানের উল্লেখ করা হইয়াছে। এইগুলির মধ্যে একটি স্থান হইল "মিনা"।
সুনান আত-তিরমিযীতে 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) -এর রিওয়ায়াতে ইহা উল্লিখিত হইয়াছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক চাঁদ যখন বিদীর্ণ হইয়াছিল তখন আমরা তাঁহার সঙ্গে মিনাতেই অবস্থান করিয়াছিলাম। অতঃপর চন্দ্র বিদীর্ণ হইয়া দুই খণ্ড হইয়া গেল। একখণ্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলিয়া গেল এবং অন্য খণ্ড অপর দিকে চলিয়া গেল। এই সময় তিনি আমাদেরকে বলিলেন, তোমরা সাক্ষ্য দাও (সুনান আত-তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২৮৫, ৫খ., পৃ. ৩৯৭)। কোন কোন বর্ণনায় মক্কাভূমিতেই এ মু'জিযা সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লিখিত হইয়াছে (সুনান আত-তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২৮৬, ৫খ., পৃ. ৩৯৭)।
দ্বিখণ্ডিত চাঁদ কোথায় প্রদর্শিত হইয়াছিল এ প্রসঙ্গে হাদীছের গ্রন্থাবলীতে যে সকল রিওয়ায়াত পাওয়া যায় তন্মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা)-এর রিওয়ায়াতে কিছুটা বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ কোন কোন রিওয়ায়াতে তিনি মক্কাভূমিতেই এই মু'জিযা সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করিয়াছেন (ইব্ন কাছীর, তাফসীর, ৪খ., পৃ. ২৬৩)। আবার কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনা যে মিনাতেই সংঘটিত হইয়াছিল এই মর্মে তিনি মতামত ব্যক্ত করিয়াছেন।
এই প্রসঙ্গে "সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ" গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) কর্তৃক বর্ণিত উভয় রিওয়ায়াতের এক চমৎকার সমন্বয় সাধন করা হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক চাঁদ যখন দ্বিখণ্ডিত হইয়া প্রদর্শিত হইয়াছিল তখন তিনি মিনাতেই অবস্থান করিতেছিলেন। তিনি এই সময় মিনা-এর কোন সুউচ্চ পাহাড় হইতে দ্বিখণ্ডিত চাঁদকে অবলোকন করিয়াছিলেন। আর সেখান হইতে মিনার অনতিদূরে মক্কায় অবস্থিত আবু কুৰায়স (ابو قبیس) পাহাড়ের চূড়াও ভালভাবে প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন। অথবা রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক যখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হইয়া প্রদর্শিত হইতেছিল তখন তিনি মিনাতেই অবস্থান করিতেছিলেন, ইহার পর উক্ত মু'জিযা দেখামাত্র সম্ভবত তিনি মিনা হইতে মক্কায় চলিয়া আসেন এবং অনুরূপ দ্বিখণ্ডিত চাঁদ দেখিতে পান। সুতরাং উভয় বর্ণনার মাঝে তেমন কোন বৈপরিত্য লক্ষ্য করা যায় না (৯খ., পৃ. ৪৩২)।