📄 দৃষ্টান্ত-৩: হযরত নূহ (আ)-এর জাতির পরিণতি
হযরত নূহ (আ)-এর জাতি তাঁহার দাওয়াত অস্বীকার করিলে আল্লাহ্ তা'আলা তাহাদেরকে মহাপ্লাবনের আযাব দ্বারা ধ্বংস করিয়াছেন। ঈমানদারগণকে রক্ষার জন্য আল্লাহ পাক হযরত নূহ (আ)-কে বিশালাকৃতির একটি নৌযান তৈরীর নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে প্লাবন আরম্ভ হয়। হযরত নূহ (আ) ঈমানদারগণকে লইয়া নৌযানে আরোহণ করেন। মহাপ্লাবনের অথৈ পানিতে নৌযান ভাসিয়া চলিল। অবশেষে প্লাবন অপসৃত হইলে তাঁহার নৌযানটি জুদী পর্বতের শীর্ষচূড়ায় গিয়া থামিল (সূরা হৃদঃ ৪৪)।
কুরআন কারীমে হযরত নূহ (আ)-এর জাতির ধ্বংস এবং তাঁহার ও তাঁহার ঈমানদার সহচরবৃন্দের নৌযানে নিরাপদ থাকার এই ইতিহাস বর্ণিত হইয়াছে। আধুনিক কালে আল-কুরআনের এই ঐতিহাসিক তথ্য বাস্তবে প্রমাণিত হইয়াছে। ১৯৫০ সালে নাসার বিজ্ঞানীগণ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তুরস্কের একটি পর্বত শৃঙ্গের নিকটবর্তী ভূতলে মানব চক্ষু সদৃশ্য একটি চিত্রের সন্ধান পান। তৎপর বিজ্ঞানিগণ উহার রহস্য উদঘাটনে আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের পর তাহারা আল-কুরআনে বর্ণিত জুদী পর্বতের নিকটবর্তী ভূতলে একটি বিশালাকৃতির নৌযানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেন। এই দীর্ঘ গবেষণা ও অনুসন্ধান কর্মে প্রধান ভূমিকা পালন করেন ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী মি. জোন্স। মি. জোন্স তাহার মন্তব্যে বলিয়াছেন, 'তাহার শতভাগ বিশ্বাস, ইহা সেই নূহ (আ)-এর নৌযানেরই অংশবিশেষ। আল-কুরআনে বর্ণিত বিষয়াবলীর সহিত এই ধ্বংসাবশেষের অবিকল মিল রহিয়াছে (সূত্র: বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে সাপ্তাহিক মেঘনা, ২০ জুলাই, ১৯৯৪ খৃ. সংখ্যা)।