📄 দৃষ্টান্ত-৩ : কুরআনের অলৌকিক সংরক্ষণ
কুরআনের পূর্বে মাযিলকৃত আসমানী কিতাবসমূহ এখন অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান নাই। উহাতে বহুবিধ বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে। স্বয়ং আহলুল-কিতাব ইয়াহুদী- নাসারাও এই কথা স্বীকার করে। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ আল-কুরআন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছেন:
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
"আমিই কুরআন নাযিল করিয়াছি এবং আমিই উহার হিফাজতকারী" (১৪:৯)।
আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী ও প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণিত হইয়াছে। সুদীর্ঘ চৌদ্দ শত বৎসর অতিবাহিত হইয়াছে। কিন্তু আল-কুরআনের একটি নুক্তা ও বিন্দু পর্যন্ত বিনষ্ট হয় নাই, বিকৃত হয় নাই উহার একটি যের, যবর ও পেশ।
ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে বিনষ্ট করিবার জন্য সকল প্রকারের অপচেষ্টা ও কৌশল চালাইয়াছে। এতদসত্ত্বেও আল-কুরআন বিকৃত করার শত প্রচেষ্টা প্রয়োগেও উহারা সফল হইতে পারে নাই, এরং কস্মিনকালেও সফল হইতে পারিবে না।
পৃথিবীতে কোন গ্রন্থ আদ্যোপান্ত নির্ভুল মুখস্ত করিবার নজীর নাই। কুরআন কারীমই একমাত্র ব্যতিক্রম। হাজার বা লাখ নহে, বরং কোটি কোটি মুসলিমের বক্ষে এই কুরআন নির্ভুলভাবে মুখস্থ রহিয়াছে। আরও বিয়য়কর ব্যাপার এই যে, চার থেকে সাত বৎসরের মুসলিম শিশুরাও সম্পূর্ণ কুরআনকে নির্ভুল ও সহীহ-শুদ্ধভাবে মুখস্থ করিয়া রাখিতেছে।
লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, আল-কুরআনের এই অলৌকিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুধু উহার শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহে, বরং উহার অর্থ, মর্ম, তাফসীর ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিও অবিকল সংরক্ষিত আছে এবং সূত্র-পরম্পরায় সংকলিত হইয়া আসিতেছে।
কুরআন কারীমের অলৌকিক সংরক্ষণের আরও বিস্ময়কর দিক এই যে, কালের বিবর্তনে প্রত্যেক ভাষাই পরিবর্তিত হয় এবং এক যুগে একটি শব্দ যেই অর্থে প্রয়োগ হইয়াছে পরবর্তী কালে উহাতে বিবিধ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন শব্দটির অর্থের ব্যাপকতা সীমিত হইয়া যাওয়া অথবা সীমিত পরিসরের অর্থবাহী শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হওয়া ইত্যাদি। কখনও এমন হয় যে, কালের বিবর্তনে ভাষাটিই বিলুপ্ত হইয়া যায়। যেমন 'ইবরানী, সুরয়ানী, কালদানী ইত্যাদি ভাষাসমূহ। অতীতে এই সমস্ত ভাষায় আসমানী কিতাব নাযিলও হইয়াছিল। তথাপি এই ভাষাগুলি ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। আজ উহা কেবল ইতিহাস হইয়া রহিয়াছে। কিন্তু কুরআন কারীমের প্রতিটি শব্দও ভাষার এই গতানুগতিক বহুল পরিবর্তন সত্ত্বেও আজও পূর্ণ স্বকীয়তাসহ সংরক্ষিত রহিয়াছে। আজও যদি কোন ব্যক্তি জানিতে চাহে যে, আল-কুরআনের অমুক শব্দটি কুরআন নাযিলকালে কী অর্থে ব্যবহৃত হইত, তাহা হইলে অতি সহজেই তাহা জানিবার সুযোগ রহিয়াছে।
ফলকথা, কুরআন কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী চৌদ্দ শত শতাব্দী অতিক্রান্ত 'হওয়ায় পরও আল-কুরআন 'সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত রহিয়াছে এবং উপরিউক্ত ঘোষণার সত্যতা দিন দিন যথার্থ ও সঠিক প্রমাণিত হইতেছে।