📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দৃষ্টান্ত-১: রোমকদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 দৃষ্টান্ত-১: রোমকদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী


রোমকরের রিদয়ের ভরিয়্যন্তাগীতে তোর ক্যাব চার্যাবাচ ভাব মোক শিল্পাচচীত
রাসূলুল্লাহ (স)-এর মক্কী জীবনের প্রাথমিক কালোস্তইফালীদী বিশ্বের দুহা বৃহৎ পরাশক্তি ােসকও পারসিকদের মক্ষে এব্যাকয়ংকর সুন্দর সত্তান্তক প্রটিয়ারাই যুদ্ধে রোমায়াল্টু এময়ভাবে ড়া প্রক্ষে পাল্টা আক্রামণী প্ররিাক্তনচ তো দূরের কথা। আমাগ্যতা র‍্যার্থতা, পরাজয়। এবং জীবনরাজ্যাৎস্পত্রের চরকিগুলা সীয়ক্ষতির কারণে নিজে, পায়ে দাঁড়াইর ছিয়া ইওয়ার্ড সম্ভর ছিল না। এই নিযুদ্ধে রোমকদের প্রশ্নাকুলার পারপাড়াবস্ক্রাজ্যের রিজাজে। পনিডবেরাস্ট্রীগুত্তিীর কুরায়শল্পপ্ত আত্যধিক আলচিত হইয়োপিয়াসীতারাম্যান। অশ্রনাসের কাজটীকাইল ফোমিলারগাণা হাইর আাহরে কিচার খৃষ্টীল। প্রশান্তায়ভুক্তরীরিকায়সে পারর‍্যাগুলি গায়ে জাইরা অগ্নিপুজারীওগীতশিকর পৌত্তলিক কুরায়শগণ রোমকদের উপর পারস্যের বিজয়কে মুসলমানদের উপর ক্রাইসেন বিজয়ের শুভ নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করিতেছিল। এমনকি তাহারা এই কথাও বলিতেছিল, 'আজ রোমকরা যেমন পারসিকদের মুকাবিলায় পরাজিত হইয়াছে তেমনি আমাদের মুকাবিলায় মুক তৈমিরাও একদিন পরাজিত দুইবে ইধন জারীর ডাধারী, সুরা আর-জম-এর তাফসীর দ্র.)। এমনি এক অবস্থায় রোমকদের বিজয়ী হওয়ার ভবিষ্যদ্বানী অস্বাদও দেখিনা আখির ছড়ানিলিয়
(আরবি টেক্সট)
। (৯৮: ১৫) "্যাত তাতীলক্ষী ভাপ কা এচায় র্যাাইনल করাচিশে কোন চ্যাাবরী চাল দরগায়ার ভূচীকু গাত কোন ব্যাপকা১৮ (স) হাড়কালচ কিন গামকগণ পরাজিত হইয়াছে কিছুরই অঞ্চলে কি অময় প্রয়দের এই রাজয়ের নিকটবর্তী পর শিগগিরই বিজয়ী হইবে। কয়েক বৎসরের মধ্যেই দুপুরের টিপুরের সিক্ষন, অবা এর সেই দিন মু'মিনগণ হর্ষোৎফুল্ল হইবে, আল্লাহর সাহায্যে ৮ কিনি মারাতে বাস্ত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। ইহা আল্লাহ্'ই প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ তাঁহার প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জাজেন্দীিিত্তত দ্বাদসভ্যদক: ৩-ভাইন কলামারারার লোক এলাহী প্রারশিক্রয়ের। যুদ্ধকীরণাদিকায়নাপর্শেরূপানীয় ছিলাৎ আাহাফের সিকট এই জরিষ্যামতী ছির সর্বোরেকাকে অবিশ্বাস্যীর অল্টার পীর। তাই সুরায়শ্রীলোম বিশিষ্ট সর্বার উবায়্য ইব্‌ন খালাফ আবু বকর (রা)-এর সহিত বাজি ধরিল যে, তিন হইতে নয় বৎসরের মধ্যে যদি রোমকগণ বিজয়ী হইতে সক্ষম হয়, তবে আমি তোমাকে এক শত উট দিব। পক্ষান্তরে রোমকগণ বিজয়ী হইতে না পারিলে তুমি আমাকে এক শত উট দিতে বাধ্য থাকিবে। হযরত আবু বকর (রা) উবায়্য-এর বাজি গ্রহণ করিলেন। তখন পর্যন্ত ইসলামে বাজি ধরা নিষিদ্ধ ছিল না। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গীবন কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণীর উপর আলোচনা প্রসঙ্গে লিখেন, কুরআনে যখন এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, তখন ইহার চাইতে বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য অপর কোন ভবিষ্যদ্বাণীই হইতে পারে না। কেননা হিরাক্লিয়াসের বার বৎসরের রাষ্ট্র পরিচালনা রোম সাম্রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করিতেছিল ('উলূমুল কুরআন, পৃ. ২৬৯)। কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী মাত্র সাত বৎসরের মধ্যে সত্যে প্রমাণিত হইল এবং রোমক বাহিনী সর্বত্র তাহাদের বিজয়ের পতাকা উড্ডীন করিতে লাগিল।
আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণীর ভিতরে আরও একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। তাহা এই যে, যে সময় রোমকগণ বিজয়ী হইবে তখন মুসলিমগণও মহান আল্লাহর সাহায্যে কাফিরদের উপর বিজয়ী হওয়ার আনন্দে উৎফুল্ল থাকিবে। ভবিষ্যদ্বাণীর এই অংশেরও সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়াছিল। ভবিষ্যদ্বাণীর সাত বৎসর পর রাসূলুল্লাহ (স) যখন মদীনার বদর প্রান্তরে কুরায়শ বাহিনীকে পরাজিত করিয়া ইসলামের বিজয় ঝাণ্ডা উড্ডীন করিলেন, ঠিক তখন মুসলিমগণের নিকট রোমকদের বিজয়ের সংবাদ পৌছিল (রূহুল মা'আনী, সূরা রূম-এর তাফসীর দ্র.)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দৃষ্টান্ত-২: মক্কা বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 দৃষ্টান্ত-২: মক্কা বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী


রাসূলুল্লাহ (স) যখন মক্কাবাসীর নির্যাতন, নিপীড়ন ও অন্যায়-অত্যাচারে অতিষ্ট হইয়া মদীনাভিমুখে হিজরত করেন, তখন আল্লাহ তা'আলা ভবিষ্যদ্বাণী করিলেন:
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادِكَ إِلَى مَعَادٍ قُلْ رَبِّي أَعْلَمُ مَنْ جَاءَ بِالْهُدَى وَمَنْ هُوَ فِي ضَلَلٍ مُّبِينٍ .
"যিনি আপনার জন্য কুরআনকে বিধান করিয়াছেন, তিনি আপনাকে অবশ্যই ফিরাইয়া আনিবেন প্রত্যাবর্তন স্থানে (মক্কা শরীফে)। বলুন, আমার প্রতিপালক ভাল জানেন, কে সৎপথের নির্দেশ আনিয়াছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে” (২৮ঃ ৮৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) যে প্রেক্ষাপটে মক্কা ত্যাগ করিয়া গিয়াছেন, সেই হিসাবে মক্কা শরীফে প্রত্যাবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী অপূর্ণ থাকাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্র আট বৎসরের মাথায় মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা প্রকাশিত হয় (দ্র. ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল-কুরআনিল 'আযীম, ৩খ., পৃ. ৩৭৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দৃষ্টান্ত-৩ : কুরআনের অলৌকিক সংরক্ষণ

📄 দৃষ্টান্ত-৩ : কুরআনের অলৌকিক সংরক্ষণ


কুরআনের পূর্বে মাযিলকৃত আসমানী কিতাবসমূহ এখন অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান নাই। উহাতে বহুবিধ বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে। স্বয়ং আহলুল-কিতাব ইয়াহুদী- নাসারাও এই কথা স্বীকার করে। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ আল-কুরআন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছেন:
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
"আমিই কুরআন নাযিল করিয়াছি এবং আমিই উহার হিফাজতকারী" (১৪:৯)।
আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী ও প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণিত হইয়াছে। সুদীর্ঘ চৌদ্দ শত বৎসর অতিবাহিত হইয়াছে। কিন্তু আল-কুরআনের একটি নুক্তা ও বিন্দু পর্যন্ত বিনষ্ট হয় নাই, বিকৃত হয় নাই উহার একটি যের, যবর ও পেশ।
ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে বিনষ্ট করিবার জন্য সকল প্রকারের অপচেষ্টা ও কৌশল চালাইয়াছে। এতদসত্ত্বেও আল-কুরআন বিকৃত করার শত প্রচেষ্টা প্রয়োগেও উহারা সফল হইতে পারে নাই, এরং কস্মিনকালেও সফল হইতে পারিবে না।
পৃথিবীতে কোন গ্রন্থ আদ্যোপান্ত নির্ভুল মুখস্ত করিবার নজীর নাই। কুরআন কারীমই একমাত্র ব্যতিক্রম। হাজার বা লাখ নহে, বরং কোটি কোটি মুসলিমের বক্ষে এই কুরআন নির্ভুলভাবে মুখস্থ রহিয়াছে। আরও বিয়য়কর ব্যাপার এই যে, চার থেকে সাত বৎসরের মুসলিম শিশুরাও সম্পূর্ণ কুরআনকে নির্ভুল ও সহীহ-শুদ্ধভাবে মুখস্থ করিয়া রাখিতেছে।
লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, আল-কুরআনের এই অলৌকিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুধু উহার শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহে, বরং উহার অর্থ, মর্ম, তাফসীর ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিও অবিকল সংরক্ষিত আছে এবং সূত্র-পরম্পরায় সংকলিত হইয়া আসিতেছে।
কুরআন কারীমের অলৌকিক সংরক্ষণের আরও বিস্ময়কর দিক এই যে, কালের বিবর্তনে প্রত্যেক ভাষাই পরিবর্তিত হয় এবং এক যুগে একটি শব্দ যেই অর্থে প্রয়োগ হইয়াছে পরবর্তী কালে উহাতে বিবিধ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন শব্দটির অর্থের ব্যাপকতা সীমিত হইয়া যাওয়া অথবা সীমিত পরিসরের অর্থবাহী শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হওয়া ইত্যাদি। কখনও এমন হয় যে, কালের বিবর্তনে ভাষাটিই বিলুপ্ত হইয়া যায়। যেমন 'ইবরানী, সুরয়ানী, কালদানী ইত্যাদি ভাষাসমূহ। অতীতে এই সমস্ত ভাষায় আসমানী কিতাব নাযিলও হইয়াছিল। তথাপি এই ভাষাগুলি ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। আজ উহা কেবল ইতিহাস হইয়া রহিয়াছে। কিন্তু কুরআন কারীমের প্রতিটি শব্দও ভাষার এই গতানুগতিক বহুল পরিবর্তন সত্ত্বেও আজও পূর্ণ স্বকীয়তাসহ সংরক্ষিত রহিয়াছে। আজও যদি কোন ব্যক্তি জানিতে চাহে যে, আল-কুরআনের অমুক শব্দটি কুরআন নাযিলকালে কী অর্থে ব্যবহৃত হইত, তাহা হইলে অতি সহজেই তাহা জানিবার সুযোগ রহিয়াছে।
ফলকথা, কুরআন কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী চৌদ্দ শত শতাব্দী অতিক্রান্ত 'হওয়ায় পরও আল-কুরআন 'সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত রহিয়াছে এবং উপরিউক্ত ঘোষণার সত্যতা দিন দিন যথার্থ ও সঠিক প্রমাণিত হইতেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00