📄 সূফী মনস্তত্ত্ব কর্তৃক স্বীকৃত
ওলীগণের কারামাত সূফী দার্শনিকগণ কর্তৃক স্বীকৃত হইয়াছে। সুন্নী সূফী বিদ্যায় পারদর্শিগণ কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা সাধারণভাবে আশ'আরী মতবাদের খুবই নিকটবর্তী। এই মতবাদে কারামাত ও মু'জিযার পার্থক্যের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হইয়াছে। কোন ওলী-দরবেশ বিস্ময়কর কার্যাবলী সম্পাদন করিলে তিনি সেই কারণে নবী হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করিতে পারেন না। তিনি তদানীন্তন রাসূল (আ) কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মীয় আইনের অনুশাসন মানিতে বাধ্য থাকেন।
কারামাত কখনও মু'জিযার প্রতিদ্বন্দী হইতে পারে না, বরং মু'জিযার পৃষ্ঠপোষকতা করে। স্মরণ রাখিতে হইবে যে, ওলীগণের কারামাত সেই নবীর মু'জিযার প্রমাণ যে নবীর তিনি উম্মত। সেইহেতু মু'জিযা নবীর সত্যতার প্রতীক। আমরা দেখিতে পাই, হযরত খুবায়ব (রা)-কে অবিশ্বাসীরা যখন মক্কাতে শূলীতে দেয়, তখন মহানবী (স) অনেক দূরে মদীনার মসজিদে তাঁহার সহচরবৃন্দ পরিবেষ্টিত অবস্থায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি অন্তরদৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করিলেন, হযরত খুবায়বের উপর জুলুম-অত্যাচারের করুণ অবস্থা। সহচরবৃন্দকে তাহ। সবিস্তারে অবহিত করেন। অপরদিকে আল্লাহ পাক হযরত খুবায়বের 'অন্তরায় দূরীভূত করেন। তিনি মহানবী (স)-এর পবিত্র দর্শন লাভ করেন, সালাম পেশ করেন তাঁহাকে। তিনিও সালামের জবাব দেন। হযরত খুবায়বও সালামের জবাব শুনিতে পান। মহানবী (স) তাহার জন্য দো'আ করেন। মক্কা-মদীনার মধ্যে দূরত্ব ছিল বিস্তর। তবুও তাঁহাদের মধ্যে সাক্ষাত, সালাম আদান-প্রদান সুনিশ্চিতরূপে অস্বাভাবিক ব্যাপার। ইহা হযরত খুবায়বের জন্য ছিল কারামাত আর মহানবী (স)-এর জন্য ছিল মু'জিযা (দাতা গনজে বখশ, কাশফুল মাহজুব, পৃ. ২৭২)।