📄 হযরত শামূঈল (আ)-এর মু'জিযা
হযরত শামূঈল (আ) বানু ইসরাঈলী নবীদের একজন। পবিত্র কুরআনে তাঁহার নাম উল্লেখ হয় নাই। তবে তাফসীরকারকগণ সূরা বাকারার ২৪৬ ও ২৪৭ নং আয়াতের বর্ণনা তাঁহার সহিত সংশ্লিষ্ট বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন (কুরতুবী, ৬খ., পৃ. ১৭১)।
তাঁহার নবুওয়াতকালে স্বৈরাচারী বাদশাহ জালুতের শাসন ছিল। সে বানু ইসরাঈলীদের দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ করিয়া লয়। বানু ইসরাঈলীগণ নবী শামূঈলের নিকট এমন একজন বাদশাহ দাবি করে, যিনি জালুতের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়া তাহাদিগকে জালূতের দাসত্বের শৃংখল হইতে মুক্ত করিবে। নবী দু'আ করিলেন। আল্লাহ তা'আলা তালুত নামক একজন সুঠাম বীর পুরুষ ও গুণী ব্যক্তিকে বাদশাহ মনোনীত করিলেন এবং তাহার নেতৃত্বে জালুত বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিলেন। তালুত জ্ঞানে এবং গড়নে-পঠনে সমৃদ্ধ হইলেও বংশগত মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক দিক হইতে দুর্বল ছিলেন। এই কারণে বানু ইসরাঈলীগণ তাঁহাকে বাদশাহ মানিয়া লইতে অস্বীকার করিল। নবী শামূঈল তখন তাঁহার নিযুক্তির প্রমাণস্বরূপ একটি মু'জিযা প্রদর্শন করিলেন। মু'জিযাখানা ছিল এই যে, বানু ইসরাঈলীদের নিকট একটি ঐতিহাসিক বরকতময় সিন্ধুক ছিল। এই সিন্ধুকটি জালুত হস্তগত করিয়া লইয়া গিয়াছিল। নবী বলিলেন, তোমাদের নিকট সেই বরকতময় সিন্ধুকটি ফেরেশতাগণ লইয়া আসিবেন। তাহারা বাস্তবিক দেখিতে পাইল যে, সিন্ধুকটি জালুতের ভূখণ্ডের দিক হইতে তাহাদের ভূখণ্ডের দিকে চলিয়া আসিতেছে। এই মু'জিযা প্রত্যক্ষ করিয়া তাহারা তালুতের বাদশাহী মানিয়া লইল (কাসাসুল-কুরআন, ২খ., পৃ. ৪৩)
📄 হযরত দাউদ (আ)-এর মু'জিযা
হযরত ইয়াকূব (আ)-এর অধস্তন নবম পুরুষের বংশে তাঁহার জন্ম। তিনি বানু ইসরাঈলী নবীদের অন্যতম। তাঁহার জাতির বসবাস ছিল লোহিত সাগরের তীরে।
📄 বায়তুল মাকদিস নির্মাণ এবং তাঁহার মৃত্যুর বিস্ময়কর মু'জিযা
হযরত সুলায়মান (আ) আল্লাহ্ হুকুমে জিন্ন জাতিকে বশীভূত করিয়া বায়তুল মাকদিস মসজিদের নির্মাণকার্য আরম্ভ করেন। জিন্নরা দিনরাত অনবরত কাজ করিতে লাগিল। মসজিদের নির্মাণ কাজ কিছু বাকী থাকিতে তিনি আল্লাহ্ পক্ষ হইতে অবগত হইলেন যে, তাঁহার জীবনকাল শেষ। কিন্তু তাঁহার মৃত্যু হইয়া গেলে জিন্নেরা অবশিষ্ট কাজ ছাড়িয়া দিবে। সুলায়মান (আ) আল্লাহ্র নির্দেশে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করত তাঁহার মেহরাবে প্রবেশ করিলেন। মেহবারটি ছিল স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত। বাহির হইতে উহার অভ্যন্তর ভাগ দেখা যাইত। তিনি উহার ভিতরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠিতে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া গেলেন। যথাসময়ে তাঁহার রূহ কবয হইয়া গেল। আল্লাহ্র নির্দেশে তাঁহার দেহ মৃত্যুর পরও লাঠির উপর ঐভাবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। অবাধ্য জিন্নেরা "তিনি তাকাইয়া আছেন" ভাবিয়া তাঁহার ভয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করিতে লাগিল। দীর্ঘ সময় পর তাহাদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হইল। অপরদিকে উইপোকা লাঠির অভ্যন্তর ভাগ খাইয়া ফেলিল। ফলে লাঠি ভাঙ্গিয়া পড়িল এবং নবীর লাশ মাটিতে পড়িয়া গেল। তখন জিন্নেরা বুঝিতে পারিল যে, তাঁহাঁর মৃত্যু হইয়াছে (দ্র. ৩৪:১৪)।
📄 হযরত যাকারিয়্যা (আ)-এর মু'জিযা
হযরত যাকারিয়া (আ) বানু ইসরাঈলী নবীদের একজন। তিনি বায়তুল মাকদিস এলাকায় নবৃওয়াতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বায়তুল মাকদিসের ইমাম এবং তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। হযরত মারয়াম (আ) তাঁহার তত্ত্বাবধানে বায়তুল মাকদিসের একটি প্রকোষ্ঠে লালিত-পালিত হন। তিনি তাঁহার দেখাশুনা করিতেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান এবং তাঁহার স্ত্রীও ছিল বন্ধ্যা। তাঁহারা উভয়ে তখন চরম বার্ধক্যে পৌছিয়া গিয়াছিলেন। একদা যাকারিয়্যা (আ) মারয়ামের প্রকোষ্ঠে যাইয়া দেখিলেন, তাঁহার সামানে অ-মৌসুমী ফল-মূল বিদ্যমান। যাকারিয়্যা (আ) উহা কোথা হইতে আসিয়াছে জানিতে চাহিলেন। মারয়াম বলিলেন, ইহা আল্লাহ্ পক্ষ হইতে আসিয়াছে। হযরত যাকারিয়্যা (আ) মনে মনে চিন্তা করিলেন, যেই আল্লাহ্র অ-মৌসুমে ফল দিতে সক্ষম তিনি তো আমাদের এই চরম বার্ধক্যে এবং আমার স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব দূর করিয়া সন্তান দিতে পারেন। তিনি দু'আ করিলেন এবং দু'আ কবুল হইল। তিনি ইয়াহইয়া নামক পুত্র সন্তান লাভে ধন্য হইলেন (দ্র. ৩ঃ ৩৭-৪১; ১৯:১-১১)।