📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইউশা' ইব্‌ন নূন (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত ইউশা' ইব্‌ন নূন (আ)-এর মু'জিযা


হযরত মূসা (আ) ও হারুন (আ)-এর মৃত্যুর পর ইউশা ইব্‌ নূন (আ) নবী হন। হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় তিনি তাঁহার সহচর ছিলেন। হযরত মূসা (আ)-এর ন্যায় তাঁহার জীবনেও অনেক মু'জিযা সংঘটিত হইয়াছে। যথা:
(এক) তিনি যখন বানু ইসরাঈলকে লইয়া আরীহা নগর জয় করেন, তখন প্রচুর গনীমতের সম্পদ তাঁহার হস্তগত হয়। সেকালে গনীমতের সম্পদ ভোগ করার অনুমতি ছিল না। গনীমতের সম্পদ একত্র করিয়া আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা হইত। অতঃপর আসমান হইতে অগ্নি আসিয়া উহা ভস্মীভূত করিয়া ফেলিত। নবী তাহাই করিলেন। কিন্তু আসমান হইতে অগ্নি নামিয়া আসিল না। নবী বলিলেন, নিশ্চয় কেহ গনীমতের সম্পদ আত্মসাৎ করিয়াছে। পরিশেষে তিনি সকলের হাত স্পর্শ করিতে আরম্ভ করিলেন এবং ইয়াহুদা গোত্রের এক ব্যক্তির হাত ধরিয়া তাহাকে আত্মসাতকারী চিহ্নিত করিলেন। বাস্তবে তাহাই প্রমাণিত হইল। আত্মসাতকৃত সম্পদ উদ্ধারের পর আসমানী অগ্নি আসিয়া সব ভস্মীভূত করিয়া দিল (কুরতুবী, ৬খ., পৃ. ১৩০)।
(দুই) আরীহা অভিযানকালে তিনি যখন জর্ডান নদীর তীরে পৌঁছেন, তখন নদী পার হইবার কোন উপায় খুঁজিয়া পাইলেন না। আল্লাহ্ কুদরতে নদীবক্ষে তাহার সৈন্যদের জন্য রাস্তা তৈরী হইয়া গেল (সীরাত বিশ্বকোষ, ইফাবা, ২খ., পৃ. ৫৩০)।
(তিন) একবার তিনি বায়তুল মাকদিস এলাকা মুক্ত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ হইতে আদিষ্ট হন। সৈন্য-সামন্তসহ তিনি রওয়ানা হইলেন। যুদ্ধ আরম্ভ হইল। দিনটি ছিল জুমু'আ বার। বানু ইসরাঈলের ধর্মমতে শনিবার যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। 'তাই যেইভাবেই হউক সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই যুদ্ধ সমাপ্ত করিতে হইবে এবং বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করিতে হইবে। তিনি দু'আ করিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রু সৈন্য পরাস্ত না হয় এবং ঈমানদারদের বিজয় অর্জিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যেন সূর্য অস্ত না যায়। আল্লাহ্ কুদরতে তাহাই ঘটিল (মুসলিম, ২খ., পৃ. ৮৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত শামূঈল (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত শামূঈল (আ)-এর মু'জিযা


হযরত শামূঈল (আ) বানু ইসরাঈলী নবীদের একজন। পবিত্র কুরআনে তাঁহার নাম উল্লেখ হয় নাই। তবে তাফসীরকারকগণ সূরা বাকারার ২৪৬ ও ২৪৭ নং আয়াতের বর্ণনা তাঁহার সহিত সংশ্লিষ্ট বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন (কুরতুবী, ৬খ., পৃ. ১৭১)।
তাঁহার নবুওয়াতকালে স্বৈরাচারী বাদশাহ জালুতের শাসন ছিল। সে বানু ইসরাঈলীদের দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ করিয়া লয়। বানু ইসরাঈলীগণ নবী শামূঈলের নিকট এমন একজন বাদশাহ দাবি করে, যিনি জালুতের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়া তাহাদিগকে জালূতের দাসত্বের শৃংখল হইতে মুক্ত করিবে। নবী দু'আ করিলেন। আল্লাহ তা'আলা তালুত নামক একজন সুঠাম বীর পুরুষ ও গুণী ব্যক্তিকে বাদশাহ মনোনীত করিলেন এবং তাহার নেতৃত্বে জালুত বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিলেন। তালুত জ্ঞানে এবং গড়নে-পঠনে সমৃদ্ধ হইলেও বংশগত মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক দিক হইতে দুর্বল ছিলেন। এই কারণে বানু ইসরাঈলীগণ তাঁহাকে বাদশাহ মানিয়া লইতে অস্বীকার করিল। নবী শামূঈল তখন তাঁহার নিযুক্তির প্রমাণস্বরূপ একটি মু'জিযা প্রদর্শন করিলেন। মু'জিযাখানা ছিল এই যে, বানু ইসরাঈলীদের নিকট একটি ঐতিহাসিক বরকতময় সিন্ধুক ছিল। এই সিন্ধুকটি জালুত হস্তগত করিয়া লইয়া গিয়াছিল। নবী বলিলেন, তোমাদের নিকট সেই বরকতময় সিন্ধুকটি ফেরেশতাগণ লইয়া আসিবেন। তাহারা বাস্তবিক দেখিতে পাইল যে, সিন্ধুকটি জালুতের ভূখণ্ডের দিক হইতে তাহাদের ভূখণ্ডের দিকে চলিয়া আসিতেছে। এই মু'জিযা প্রত্যক্ষ করিয়া তাহারা তালুতের বাদশাহী মানিয়া লইল (কাসাসুল-কুরআন, ২খ., পৃ. ৪৩)

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত দাউদ (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত দাউদ (আ)-এর মু'জিযা


হযরত ইয়াকূব (আ)-এর অধস্তন নবম পুরুষের বংশে তাঁহার জন্ম। তিনি বানু ইসরাঈলী নবীদের অন্যতম। তাঁহার জাতির বসবাস ছিল লোহিত সাগরের তীরে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়তুল মাকদিস নির্মাণ এবং তাঁহার মৃত্যুর বিস্ময়কর মু'জিযা

📄 বায়তুল মাকদিস নির্মাণ এবং তাঁহার মৃত্যুর বিস্ময়কর মু'জিযা


হযরত সুলায়মান (আ) আল্লাহ্ হুকুমে জিন্ন জাতিকে বশীভূত করিয়া বায়তুল মাকদিস মসজিদের নির্মাণকার্য আরম্ভ করেন। জিন্নরা দিনরাত অনবরত কাজ করিতে লাগিল। মসজিদের নির্মাণ কাজ কিছু বাকী থাকিতে তিনি আল্লাহ্ পক্ষ হইতে অবগত হইলেন যে, তাঁহার জীবনকাল শেষ। কিন্তু তাঁহার মৃত্যু হইয়া গেলে জিন্নেরা অবশিষ্ট কাজ ছাড়িয়া দিবে। সুলায়মান (আ) আল্লাহ্র নির্দেশে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করত তাঁহার মেহরাবে প্রবেশ করিলেন। মেহবারটি ছিল স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত। বাহির হইতে উহার অভ্যন্তর ভাগ দেখা যাইত। তিনি উহার ভিতরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠিতে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া গেলেন। যথাসময়ে তাঁহার রূহ কবয হইয়া গেল। আল্লাহ্র নির্দেশে তাঁহার দেহ মৃত্যুর পরও লাঠির উপর ঐভাবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। অবাধ্য জিন্নেরা "তিনি তাকাইয়া আছেন" ভাবিয়া তাঁহার ভয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করিতে লাগিল। দীর্ঘ সময় পর তাহাদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হইল। অপরদিকে উইপোকা লাঠির অভ্যন্তর ভাগ খাইয়া ফেলিল। ফলে লাঠি ভাঙ্গিয়া পড়িল এবং নবীর লাশ মাটিতে পড়িয়া গেল। তখন জিন্নেরা বুঝিতে পারিল যে, তাঁহাঁর মৃত্যু হইয়াছে (দ্র. ৩৪:১৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00