📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত লূত (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত লূত (আ)-এর মু'জিযা


হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর সহোদর হারানের পুত্র লূত (আ)। তিনি সাদৃম (জর্দান)-এ নবী হিসাবে প্রেরিত হন। তিনি হযরত ইব্রাহীম-এর সমসাময়িক। তাঁহার জাতি মূর্তিপূজা ও সমকামিতার ঘৃণ্য পাপাচারে লিপ্ত ছিল (দ্র. ৬: ৮৩; ৭: ৮০; ১১: ৬৯; ১৫: ৫১; ২১: ৭১)। হযরত লূত (আ) তাঁহার জাতির নিকট সত্যের দাওয়াত লইয়া আগমন করিলে জাতি তাঁহাকে অস্বীকার করিল। জাতি চ্যালেঞ্জ করিয়া বলিল, তুমি সত্যবাদী হইলে আল্লাহর শাস্তি আনয়ন কর। আমরা তোমাকে সত্যবাদী বলিয়া মনে করি না (দ্র. ২৯: ২৯)।
আল্লাহ তা'আলা তাহাদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করিয়া তাহাদের উপর চরম আযাব নাযিল করিলেন। তাহাদের জনপদকে শূন্যে উঠাইয়া অতঃপর তাহাদেরসহ উল্টাইয়া দিলেন। ইহাতে তাহারা নিশ্চিহ্ন হইয়া গেল। লূত জাতির ধ্বংসাবশেষ আজও মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শনরূপে লুত সাগরের আশেপাশে বিদ্যমান রহিয়াছে (দ্র. ১১: ৮৩, তাফসীরে উসমানী, পৃ. ৬০১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইয়াকূব (আ) এবং হযরত ইউসুফ (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত ইয়াকূব (আ) এবং হযরত ইউসুফ (আ)-এর মু'জিযা


হযরত ইসহাক ইব্‌ন ইবরাহীম (আ)-এর পুত্র হযরত ইয়া'কূব (আ) তিনি কিন'আনে (ফিলিস্তীনে) প্রেরিত হন। তাঁহার বারজন পুত্র সন্তান এবং একজন কন্যা সন্তান ছিল। সন্তানদের মধ্যে হযরত ইউসুফ (আ)-কে তিনি খুব বেশী ভালবাসিতেন। কারণ তিনিই পরবতীর্তে তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হইবেন- এই মর্মে তিনি আল্লাহর ইচ্ছা জানিতে পারিয়াছিলেন। অন্যান্য সন্তান বিষয়টি মানিয়া লইতে পারিলেন না। তাই তাহারা হযরত ইউসুফ (আ)-কে তাঁহার নিকট হইতে দূরে সরাইয়া ফন্দি করিলেন। ইহার ফলে হযরত ইউসুফ (আ) মিসরে নীত হইলেন। এই দিকে পুত্রশোকে হযরত ইয়া'কূব (আ) কাঁদিতে কাঁদিতে অন্ধ হইয়া গেলেন। অপর দিকে হযরত ইউসুফ (আ) আল্লাহর রহমতে মিসরের শাসন কর্তৃত্ব প্রাপ্ত হইলেন। এক সময়ে কিনআনে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য তাহারা মিসরে গেলেন এবং সেখানে হযরত ইউসুফ (আ)-এর সহিত তাহাদের পূর্ণ পরিচয় ঘটিল।
হ হযরত ইউসুফ (আ) পিতার অন্ধত্বের কথা জানিয়া তাঁহার নিজের জামা ভাইদের হাতে তুলিয়া দিলেন এবং বলিলেন, জামাটি পিতার চোখে স্পর্শ করাও, দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া আসিবে। বাস্তবে তাহাই হইল (দ্র. ১২:৪)।
অপরদিকে ভাইয়েরা যখন ইউসুফের জামা লইয়া মিসর হইতে কিনআনের পথে রওয়ানা হইল তখন শত শত মাইল দূর হইতে হযরত ইয়া'কূব (আ) হযরত ইউসুফের ঘ্রাণ পাইতেছিলেন। ইহা ছিল তাঁহার দ্বিতীয় মু'জিযা (দ্র. ১২:৮৫)।
হযরত ইউসুফ (আ)-এর মু'জিযা ছিল অসংখ্য। স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও বিদ্যা- তাঁহার মু'জিযাসমূহের অন্যতম (দ্র. ১২: ১০১; ১২: ৪৬-৫০)। তাঁহার অন্যতম মু'জিযা হইল, দোলনার দুগ্ধপোষ্য শিশুর তাঁহার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা। এই শিশু বলিল, ইউসুফের ছেঁড়া জামা দেখিয়া অপরাধী নির্ণয়ের সূত্র বাহির করা যাইতে পারে। যদি জামাটি সম্মুখ দিয়া ছিঁড়িয়া থাকে তবে মহিলার অভিযোগ সত্য এবং পুরুষ অপরাধী। আর যদি জামা পশ্চাদদিক হইতে ছিঁড়িয়া থাকে তবে মহিলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হইবে এবং পুরুষ নির্দোষ সাব্যস্ত হইবে (দ্র. ১২: ২৬-২৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ. ২০৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত শু'আয়ব (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত শু'আয়ব (আ)-এর মু'জিযা


হযরত শু'আয়ব (আ) হযরত ইবরাহীম (আ)-এর অধস্তন পুরুষ ছিলেন। তাঁহার নবৃওয়াতকাল হযরত লূত (আ)-এর পরে এবং হযরত মূসা (আ)-এর পূর্বে তিনি আয়কা ও মাদয়ানবাসীর নিকট প্রেরিত হইয়াছিলেন (দ্র. ৭: ৮৫)। তাহারা পেশায় ছিল ব্যবসায়ী, তাহাদের মধ্যে শঠতা ও ওজনে কম দেওয়ার অভ্যাস চরম আকার ধারণ করিয়াছিল। হযরত শু'আয়ব (আ) তাহাদেরকে সত্যের বাণী শুনাইলেন এবং এই বদঅভ্যাস পরিত্যাগ করার আহবান জানাইলেন (দ্র. ৭:৮৫; ১১:৮৪-৮৫)।
তাহারা নবীকে অস্বীকার করিল। তিনি তাহাদেরকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাইলেন। জাতি বলিল, তুমি সত্যবাদী হইলে শান্তি আনয়ন কর (দ্র. ৭:৮৮, ৮৯; ২৯: ৩৬; ২৬: ২৮৭)। আল্লাহ তা'আলা নবীর দাবির সত্যতা প্রমাণার্থে তাহাদের উপর ভীষণ আযাব নাযিল করিলেন (দ্র. ১৫: ১৭৯)।
হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করিয়াছেন, জাহান্নামের উত্তপ্ত বাতাস তাহাদের উপর প্রবাহিত হয়। সাতদিন তাহারা এই উত্তপ্ত বাতাসের মধ্যে রহিল। যখন তাহাদের ঘর-বাড়ি এমনকি পানির কূপ পর্যন্ত উত্তপ্ত হইয়া উঠিল, তখন তাহারা উহা হইতে বাঁচিবার জন্য ঘর-বাড়ি ছাড়িয়া খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করিল। কিন্তু সূর্যের তাপদাহ প্রচণ্ড বাড়িয়া গেল, এমনকি পায়ের নীচ হইতেও গরম লাভা নির্গত হইতে লাগিল। ফলে তাহাদের পায়ের নীচের গোশত খসিয়া পড়িবার উপক্রম হইল। একদা তাহারা দেখিল, আকাশে কালো মেঘ জমিতেছে। যমীনে ছায়া নামিয়া আসিয়াছে। আর তখনই কালো মেঘ হইতে অগ্নি-বৃষ্টি বর্ষিত হইল এবং তাহারা সমূলে ধ্বংস হইয়া গেল (দ্র. ২৫: ৩৭; ৭: ৯১-৯২, ১১: ৯৪-৯৫; আল-কামিল, ১খ., পৃ. ৮৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত আয়্যব (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত আয়্যব (আ)-এর মু'জিযা


হযরত আয়্যব (আ) ছিলেন বনী ইসরাঈলের নবী এবং হযরত লূত (আ)-এর দৌহিত্র। তিনি "আদূম” জাতির নিকট প্রেরিত হন (দ্র. রূহুল-মা'আনী, ১২খ., পৃ. ২০৫)।
তাঁহার জীবনে সংঘটিত মু'জিযাসমূহের মধ্যে ছিল অলৌকিকভাবে তাঁহার রোগ মুক্তি এবং সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ পুন ফিরিয়া পাওয়া। তিনি এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। অপরদিকে তাঁহার সকল ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততিও হাতছাড়া হইয়া যায়। তিনি লোকালয়ের বাহিরে এক বিরাণ ভূমিতে দীর্ঘ কয়েক বৎসর পড়িয়া থাকেন। ইহা ছিল তাঁহার প্রতি আল্লাহর পক্ষ হইতে ধৈর্যের পরীক্ষা। অবশেষে তিনি এই সবরের পরীক্ষায় সাফল্যের সহিত উত্তীর্ণ হন (দ্র. ৩৮ : ৪১, ২১৪ ৪৪)। তাঁহার দু'আ আল্লাহ কবুল করিলেন, তাঁহাকে সুস্থতা দান করিলেন এবং তাঁহার সকল ধন-সম্পদ ফিরাইয়া দিলেন (২১:৮৪)। আল্লাহ তা'আলা তাহাকে বলিলেন, হে আয়্যুব! তুমি তোমার পা দ্বারা যমীনে আঘাত কর। এই তো গোসলের সুশীতল পানি ও পানীয়' (৩৮ : ৪১-৪২)। তিনি পা দ্বারা আঘাত করিলেন। তৎক্ষণাৎ একটি সুমিষ্ট পানির ফোয়ারা জারি হইল। তিনি এ ফোয়ারার পানি দ্বারা গোসল করার সাথে সাথে পূর্ণ সুস্থ হইয়া উঠিলেন। এমনকি সুঠাম সুন্দর যুবকে পরিণত হইয়া গেলেন (ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ৪২০; ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, ২খ., পৃ. ১৯০)।
হযরত আয়্যুব (আ)-এর নিকট দৈনন্দিন আহারের জন্য সামান্য পরিমাণ গম ও যব থাকিত। আল্লাহ তা'আলা তাঁহার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করিয়া দেওয়ার জন্য গমগুলিকে স্বর্ণ এবং যবগুলিকে রৌপ্যে রূপান্তরিত করিয়া দিলেন (ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ৪২১; আল-বিদায়া, ১খ., পৃ. ২৫৬)।
হযরত আয়্যুব (আ)-এর সাত কন্যা ও সাত পুত্র সন্তান ছিল। পরীক্ষার দিনগুলিতে তাহারা সকলেই ইন্তিকাল করিয়াছিল। আল্লাহ তা'আলা তাহাদের সকলকেই পুনরায় জীবিত করিয়া দিলেন। অতঃপর নবীর স্ত্রীর গর্ভে নূতন সন্তানও উক্ত পরিমাণ দান করিলেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে : وَأَتَيْنُهُ أَهْلَهُ وَمَثْلَهُ مَعَهُمُ “এবং আমি তাহাকে তাঁহার পরিবার-পরিজন ফিরাইয়া দিলাম এবং তাহাদের সঙ্গে তাহাদের মত আরও দান করিলাম” (২১: ৮৪; রূহুল মায়ানী, ২৩খ., পৃ. ২০৯)।
তাঁহারা আরও একটি মু'জিযা ছিল এই যে, তিনি যখন গোসল করিয়া সুস্থ হইয়া উঠিলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে জান্নাতী পোশাক পরিধান করাইলেন এবং তাঁহার শারীরিক গঠনও সৌন্দর্য বহু গুণে বৃদ্ধি করিয়া দিলেন। ফলে তাঁহার স্ত্রী রহীমা তাঁহাকে চিনিতে পারিতেছিলেন না (রূহুল মা'আনী, ২৩ খ., পৃ. ২০৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00