📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত আদম (আ)-এর সময়ে সংঘটিত মু'জিযা

📄 হযরত আদম (আ)-এর সময়ে সংঘটিত মু'জিযা


হযরত আদম (আ) পৃথিবীতে প্রথম মনব ও প্রথম নবী, মানবজাতির আদি পিতা। হযরত হাওয়া (আ) পৃথিবীর প্রথম মানবী। তাঁহারা যখন পৃথিবীতে আগমন করেন তখন হযরত হাওয়া (আ) প্রতিবার গর্ভধারণের পর দুইজন করিয়া সন্তান প্রসব করিতেন। উহাদের একজন পুত্র সন্তান হইত এবং অন্যজন হইত কন্যা সন্তান। আল্লাহ তা'আলা সমসাময়িক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে এই মর্মে আদেশ জারী করিলেন যে, একই গর্ভজাত যমজ ভাই-বোন পরস্পর সহোদর ভাই-বোন গণ্য হইবে এবং তাহাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হইবে, কিন্তু পরবর্তী গর্ভের পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভের কন্যা পরস্পর সহোদরা বিবেচিত হইবে না। অতএব তাহাদের পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হইবে।
হযরত হাওয়া প্রথমে হাবিল ও গাযা নামক যমজ পুত্র ও কন্যা সন্তান প্রসব করিলেন। এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিল ও আকলিমা নামক যমজ পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্ম দিলেন। শরী'আতের উল্লিখিত বিধান মতে হযরত আদম (আ) হাবিলের সহিত আকলিমার এবং কাবিলের সহিত গাযার বিবাহ সম্পাদনের বন্দোবস্ত করিলেন। কাবিলের সহোদরা বোন গাযা ছিল অতিশয় সুন্দরী। তাই সে এই বিধান মানিয়া লইতে অস্বীকার করিল এবং 'গাযা'-কে বিবাহ করিবে বলিয়া ঘোষণা করিল। ইহা ছিল প্রকারান্তরে হযরত আদম (আ)-এর আনিত শরীয়তের পরিপন্থী।
হযরত আদম (আ) একজন নবী। সুতরাং তাঁহার প্রত্যেকটি আদেশ ও নিষেধ মানিয়া চলা তাঁহার সকল সন্তানের জন্য একান্ত জরুরী। হযরত আদম (আ) বলিলেন: আমি যাহা বলিয়াছি তাহা আল্লাহ্ পাকের আদেশমতই বলিয়াছি। ইহার সত্যতা প্রমাণের জন্য তোমরা আল্লাহর নামে কুরবানী পেশ কর। যাহার কুরবানী আসমানী অগ্নি আসিয়া ভস্মিভূত করিয়া দিবে তাহার করবানী গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে বলিয়া প্রমাণিত হইবে। তাহারা উভয়ে কুরবানী পেশ করিলে তখন অলৌকিকভাবে আসমান হইতে এক জাতীয় অগ্নি নামিয়া আসিল এবং হাবিলের কুরবানী-কে ভস্মিভূত করিয়া দিল (তাবারী, তাফসীর, ৬খ., পৃ ১৯১)। পবিত্র কুরআনে বিষয়টি এইভাবে বিবৃত হইয়াছে:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَا ابْنَى أَدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخِرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ.
"আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাহাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও। যখন তাহারা উভয়ে কুরবানী করিয়াছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হইল এবং অন্যজনের কবুল হইল না। সে বলিল, আমি তোমাকে হত্যা করিবই। অপরজন বলিল, আল্লাহ অবশ্যই মুত্তাকীদের কুরবানী কবুল করেন" (৫: ২৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত শীছ (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত শীছ (আ)-এর মু'জিযা


হযরত আদম (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে শীছ (আ) অন্যতম। আদম (আ)-এর ইন্তিকালের পর হযরত শীছ নবী হন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ ৯১)
হযরত শীছ (আ)-এর মু'জিযাসমূহের মধ্যে প্রসিদ্ধ মু'জিযা হইল তাহার দু'আর মাধ্যমে দুনিয়াতেই জান্নাতের ফল প্রাপ্তি এবং জান্নাতী হুরের আগমন। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই যে, হযরত আদম (আ) তাঁহার অন্তিম শয্যায় ছেলেদের নিকট জান্নাতী ফল খাওয়ার আবদার করিলেন। পিতার আবদার বাস্তবায়নের জন্য সন্তানগণ দিক-বিদিক ছুটিতে লাগিলেন। কিন্তু জান্নাতী ফল লাভে ব্যর্থ হইয়া সকলেই ফিরিয়া আসিলেন। হযরত আদম (আ)-এর নির্দেশে 'শীছ' আল্লাহ্র নিকট জান্নাতী ফল চাহিয়া দু'আ করিলেন। দু'আ কবুল হইল। হযরত জিবরীল (আ) খাঞ্চাপূর্ণ বেহেশতী ফলমূল অপূর্ব সুন্দরী একজন বেহেশতী 'হুর'-এর মাথায় চাপাইয়া দিয়া হযরত আদম (আ)-এর সম্মুখে হাযির হইলেন। বস্তুত হযরত আদম (আ)-এর এই আবদার এবং তাহা পূরণের এই অলৌকিক ঘটনা ছিল তাঁহার পরবর্তী নবী 'শীছ' (আ)-এর নবৃওয়াতের অভিষেকস্বরূপ যাহাতে তাহার অন্যান্য সন্তানগণ তাঁহার মৃত্যুর পর 'শীছ'-কে বিনা দ্বিধায় নবী হিসাবে মানিয়া লইতে পারে (দ্র. গোলাম নবী কুমিল্লায়ী অনূদিত : উর্দু কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২০-২১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইদরীস (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত ইদরীস (আ)-এর মু'জিযা


হযরত ইদরীস (আ) হযরত শীছ-এর পর নবী হইলেন। আল-কুরআনের একাধিক স্থানে তাঁহার আলোচনা হইয়াছে (দ্র.. ১৯: ৫৬, ২১ঃ ৮৫)। আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে সর্বপ্রথম মু'জিযা হিসাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অংক শাস্ত্রের জ্ঞান দান করেন (ইবন কাছীর, মুখতাসার তাফসীর, ২খ., পৃ. ৪৫৬)।
তাঁহার আরও একটি মু'জিযা ছিল এই যে, তাঁহার সময়কালে পৃথিবীতে বাহাত্তরটি ভাষা প্রচলিত ছিল। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত মু'জিযাবলে সকল ভাষা বুঝিতেন এবং সকল ভাষায় অনর্গল কথা বলিতে পারিতেন। তিনি প্রত্যেক জাতিকে তাহাদের নিজস্ব ভাষায় দাওয়াত ও তালীম দিতেন (মুফতী মাসউদুল করীম, কাসাসুল কুরআন, ১খ., পৃ. ৯৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত নূহ (আ)-এর মু'জিযা

📄 হযরত নূহ (আ)-এর মু'জিযা


হযরত নূহ (আ) একজন বিশিষ্ট নবী ও রাসূল ছিলেন। হযরত আদম (আ)-এর দশ পুরুষ পর হযরত শীছ-এর বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার নবৃওয়াতী জীবনের ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রদ ঘটনাবলী পবিত্র কুরআনে বারবার বিবৃত হইয়াছে (দ্র. ১১: ২৫-৪৮, ১৭: ৩, ২৩, ৩১; ২৫: ৩৮; ৭১: ১-২৮০ কাসাসূল কুরআন, ১খ., পৃ. ৬৪)।
হযরত নূহ (আ)-এর যুগের ঐতিহাসিক বিশ্বব্যাপী প্রলয়ংকরী তুফান তাঁহার অন্যতম মু'জিযা ও নবৃওয়াতের সত্যতার মহানিদর্শন (দ্র. ১১: ২৫-৪৮; ৫৪: ৯-১৬)। হযরত নূহ (আ)-এর এই তুফান মু'জিযার মধ্যে আরও অনেকগুলি মু'জিযার সমাবেশ ঘটিয়াছে। যথাঃ
(এক) আল্লাহ্র নির্দেশে বিশাল এক নৌকা তৈরী করা। তাঁহার পূর্বে পৃথিবীতে নৌযান ব্যবহারের সূচনা হয় নাই। যখন তিনি আল্লাহর পক্ষ হইতে একটি নৌযান তৈরী করিবার জন্য আদিষ্ট হইলেন তখন আল্লাহর নিকট আরয করিলেন: হে আল্লাহ্। নৌযান কি? আল্লাহ বলিলেন, একটি কাঠ নির্মিত ঘর যাহা পানিতে ভাসিয়া চলে। নূহ বলিলেন, আল্লাহ্! কাঠ কোথায় পাইব? আল্লাহ বলিলেন, হে নূহ! আমি যাহা চাহি তাহা করিতে সক্ষম। তুমি আমার তত্ত্বাবধানে এবং আমার প্রত্যাদেশ মুতাবিক নৌযান নির্মাণ আরম্ভ কর (দ্র. ১১: ২৫-৪৮; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ. ১১০)।
(দুই) আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ (আ)-কে প্রাণীজগতের প্রত্যেক জাতের এক জোড়া করিয়া নৌযানে তুলিবার নির্দেশ দেন। যখন তুফানের সময় নিকটবর্তী হইল তখন জল-স্থল, পর্বত ও সমভূমির সকল জীব-জন্তু আল্লাহর কুদরতে নূহ (আ)-এর নিকটে আসিয়া জড়ো হইল। তিনি তাঁহার পছন্দমত প্রত্যেক জাত হইতে এক জোড়া করিয়া প্রাণী নৌযানে তুলিয়া লইলেন (ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৪১)।
(তিন) বিভিন্ন প্রজাতির জীব-জন্তু, কীট-পতঙ্গ একত্রে দীর্ঘ দিন নৌযানে বসবাস করিল। কেহ কাহারও উপর কোন রকম আক্রমণ করে নাই এবং শান্তি ভঙ্গ করে নাই। এমনকি সিংহ ও গাভীর মধ্যেও শান্তি ও সম্প্রীতির সম্পর্ক বিরাজমান ছিল (আল্লামা আলুসী, রূহুল মা'আনী, ২খ., পৃ. ৫৪)।
(চার) তাননূর তথা রুটি তৈয়ারীর উনুন হইতে সর্বপ্রথম পানি উথলিয়া উঠে, যাহা ছিল সর্বগ্রাসী মহাপ্লাবন শুরু হওয়ার পূর্ব নিদর্শন (দ্র. ১১:৪০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00