📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীম শিশুর মীরাছ প্রাপ্তির ঘোষণা

📄 ইয়াতীম শিশুর মীরাছ প্রাপ্তির ঘোষণা


ইসলাম-পূর্ব যুগে আরব-অনারব সকল জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যেই ইয়াতীম ছেলে-মেয়েকে মীরাছ তথা উত্তরাধিকারের সম্পত্তিতে অংশীদার মনে করা হইত না। বিশেষত ইয়াতীম নারী ছিল চরম যুলুমের শিকার। রাসূলে কারীম (স)-ই সর্বপ্রথম ইয়াতীম ছেলে-মেয়ের মীরাছী অধিকারের বিধান প্রবর্তন করেন এবং তাহা বাস্তবায়ন করেন। মদীনায় হিজরতের পরবর্তী সময়ে তিনি এই আইন কার্যকর করিয়াছিলেন।
উহুদের যুদ্ধে আওস'ইব্‌ন ছাবিত (রা) নামক এক সাহাবী শহীদ হইলেন। তাঁহার দুইটি কন্যা সন্তান ও একটি পুত্র সন্তান ছিল। ইসলাম-পূর্ব রীতি অনুযায়ী আওস (রা)-এর ভ্রাতাগণ তাঁহার সমুদয় সম্পদ দখল করিয়া লইল। বিষয়টি রাসূলে কারীম (স)-এর অবগতিতে আসিলে তিনি আল্লাহ্ এই নির্দেশ জারী করিলেন: "পিতা-মাতার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুত্র সন্তান, কন্যা সন্তান উভয়ের-ই হক রহিয়াছে, তাহা অল্প হউক বা বেশী হউক। এই হক সুনির্ধারিত” (দ্র.৪ঃ ৭)। পরবর্তীতে এই হক ও অংশের পরিমাণও বর্ণনা করিয়া দেওয়া হয় (দ্র.৪: ১১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীমের হক বিনষ্টকারীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

📄 ইয়াতীমের হক বিনষ্টকারীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি


রাসূলে কারীম (স) ইয়াতীমের হক ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাহাদের হক বিনষ্টকারির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন। ইয়াতীমের হক বিনষ্টকারীর ইহ-পরকালীন শান্তি ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পেশ করিয়া তিনি যালিমদেরকে তাহাদের যুলুম হইতে নিবৃত্ত রাখিবার চেষ্টা করিয়াছেন। তিনি ইরশাদ করেন : ইয়াতীমের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারী কিয়ামত দিবসে এমনভাবে উত্থিত হইবে যে, তাহার পেটের ভিতর হইতে আগুনের লেলিহান শিখা মুখ, নাক ও চক্ষু দিয়া বাহির হইতে থাকিবে (তাফসীরুল কু'রআনিল 'আযীম, ৯খ., পৃ. ৪০৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সাহাবীদের মধ্যে রাসূলের শিক্ষার প্রভাব

📄 সাহাবীদের মধ্যে রাসূলের শিক্ষার প্রভাব


ইয়াতীম পিতৃহীনদের প্রতি রাসূলে কারীম (স)-এর অপরিসীম দয়া ও তাহাদের অধিকারের প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপের ফল এই হইয়াছিল যে, সাহাবীদের প্রতিটি গৃহ এক একটি ইয়াতীমখানায় পরিণত হইয়াছিল। স্বয়ং রাসূলের স্ত্রী 'আইশা (রা) মদীনার আনসার ও নিজ খান্দানের ইয়াতীম শিশুদেরকে তালাশ করিয়া নিজ গৃহে লালন-পালন করিতেন। আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা)-এর রীতিমত এই অভ্যাস হইয়া গিয়াছিল যে, তিনি কোন ইয়াতীমকে ছাড়া খাবার খাইতেন না (মাকালাতে সীরাত, পৃ. ১৫৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00