📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীম শিশুদের সম্মানজনক জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা বিধান

📄 ইয়াতীম শিশুদের সম্মানজনক জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা বিধান


রাসূলে কারীম (স) তাঁহার প্রচারিত বাণী ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে চির-অবহেলার শিকার ইয়াতীম-অনাথ শিশুদের সম্মানজনক জীবন যাপন নিশ্চিত করেন। তিনি ইয়াতীম শিশুদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে ঈমানের লক্ষণ বলিয়া চিহ্নিত করেন এবং তাহাদের অধিকারের প্রতি অসম্মান ও তাহাদের সহিত রূঢ় আচরণ করাকে বিধর্মীদের স্বভাবরূপে আখ্যায়িত করেন। আল-কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে:
كَلَا بَلْ لَا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ ، وَلَا تَحْضُونَ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ.
"না, কখনও নহে। বস্তুত তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না এবং তোমরা অভাব- গ্রস্তদেরকে খাদ্য দানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না" (৮৯: ১৭-১৮)।
ارَمَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ، فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُ الْيَتِيمَ، وَلَا يَحُضُّ عَلَى طعام المسكين.
"তুমি কি দেখিয়াছ তাহাকে, যে দীনকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছে? সে তো সে-ই যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়াইয়া দেয় এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না" (১০৬ : ১-৩)।
فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ "সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হইও না” (৯৩ : ৯)।
রাসূলে কারীম (স) ইরশাদ করেন: মুসলিমদের মধ্যে সেই গৃহটি সর্বোত্তম, যেইখানে একজন ইয়াতীম শিশু বাস করে, যাহার প্রতি সদ্ব্যবহার করা হয়। আর মুসলিমদের মধ্যে সেই গৃহটি সর্বনিকৃষ্ট, যেইখানে একজন ইয়াতীম শিশু বাস করে, যাহার প্রতি দুর্ব্যবহার করা হয় (মিশকাত, ২খ., পৃ. ৪২৩)।
وابْتَلُوا اليَتْمَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ أَنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَدَفَعَغُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبَدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بالله حَسِيبًا

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীম শিশুদের অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ

📄 ইয়াতীম শিশুদের অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ


বর্বর যুগে ইয়াতীম শিশুদেরকে অর্থ-সম্পদ হইতে বঞ্চিত রাখা হইত। তাহাদের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং নানান অজুহাতে উহা গ্রাস করা ছিল অতি সাধারণ ব্যাপার। রাসূলে কারীম (স) এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাইয়া ইয়াতীম শিশুদের অর্থ-সম্পদ সংরক্ষণের নীতি প্রবর্তন করেন। তিনি এই বিধি-বিধান আরোপ করেন যে, ইয়াতীম শিশু বালেগ না হওয়া পর্যন্ত তাহার সম্পদ সংরক্ষণ করিতে হইবে। তৎপর যখন বালেগ হইবে তখন তাহার সম্পদ তাহাকে সোপর্দ করিয়া দিবে। (দ্র. ৪:৬)
নানান অজুহাত ও বাহানার মাধ্যমে ইয়াতীমের ধন-সম্পদ গ্রাস করা নিষিদ্ধ করিয়া আল-কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে:
وَأتُوا الْيَتْمَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا
"তোমাদের খারাপ সম্পদের সহিত ইয়াতীমের ভাল সম্পদ অদল-বদল করিও না এবং ইয়াতীমের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সহিত সংমিশ্রণ করিও না। নিশ্চয় ইহা বড় মন্দ কাজ" (৪: ২)।
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتْمَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً
"যাহারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে তাহারা তো তাহাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে; তাহারা অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলিবে" (৪: ১০)।
ইয়াতীমের ধন-সম্পদ তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ব্যক্তি ইয়াতীমের সম্পদ হইতে তাহার পারিশ্রমিক বাবদ কিছু অর্থ গ্রহণ করিতে পারে, যদি সে তাহার প্রয়োজনীয় খরচ অন্য কোন উপায়ে সংস্থান করিতে সক্ষম না হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও তাহাকে অতিশয় সতর্কতা ও আমানতদারীর সহিত খরচ করিতে হইবে। ইয়াতীমের সম্পদ যথেচ্ছা ভোগ করার প্রবণতা নিষিদ্ধ করিয়া আল-কুরআনে ইরশাদ হইয়াছে:
وَابْتَلُوا الْيَتْمَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ أَنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَاكُلُوْهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَا كُلَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا .
"তোমরা ইয়াতীমদেরকে যাচাই করিবে যে পর্যন্ত না তাহারা বিবাহযোগ্য হয় এবং তাহাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখিলে তাহাদের সম্পদ তাহাদেরকে ফিরাইয়া দিবে। তাহারা বড় হইয়া যাইবে বলিয়া অপচয় করিয়া তাড়াতাড়ি খাইয়া ফেলিও না। যে অভাবমুক্ত, সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাহাদেরকে তাহাদের সম্পদ সমর্পণ করিবে তখন সাক্ষী রাখিও। হিসাব গ্রহণে আল্লাহ্ই যথেষ্ট” (৪:৬)।
রাসূলে কারমি (স) ইয়াতীম শিশুদের সম্পদ আত্মসাতকারীদের প্রতি কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করিয়াছেন এবং ইয়াতীম শিশুদের সম্পদ আত্মসাৎ করা উদরে আগুন পূর্তির সাথে তুলনা করিয়াছেন। আল-কুরআনে এই প্রসঙ্গে ইরশাদ হইয়াছে:
وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَ أَوْفُوا الكَيْلَ وَ الْمِيزَانَ بالقسط لا نُكَلِّفُ نَفْسًا الأَوْسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَ بِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা তাহার সম্পত্তির নিকটবর্তীও হইবে না এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যভাবে পুরাপুরি দিবে। আমি কাহাকেও তাহার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না। যখন তোমরা কথা বলিবে তখন ন্যায্য বলিবে স্বজনের সম্পর্কে হইলেও এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করিবে। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর" (৬ঃ ৫২)।
وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولاً
"ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তাহার সম্পত্তির নিকটবর্তী হইও না' এবং প্রতিশ্রুতি পালন করিও; নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হইবে" (১৭:৩৪)।
রাসূলে কারীম (স) ইয়াতীম শিশুর অভিভাবককে নির্দেশ দিয়াছেন, তাহারা যেন ইয়াতীম শিশুর লেখাপড়া ও জীবন গঠনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করে এবং তাহাদের মধ্যে যে পর্যন্ত না বুদ্ধি-বিবেচনার বিকাশ ঘটে বা লক্ষ্য করা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত তাহাদের সহায়-সম্পদ তাহাদের নিকট হস্তান্তর না করে। কারণ ইহার অন্যথা হইলে তাহাদের অর্থ-সম্পদ তাহারা সংরক্ষণ করিতে সক্ষম হইবে না। ফলে তাহা কুচক্রীদের দ্বারা গ্রাস হওয়ার আশংকা রহিয়াছে। (দ্র. ৪:৬ আয়াত)।
বর্বর যুগে সমাজপতিরা এবং আত্মীয়-স্বজন সুকৌশলে ইয়াতীমের সম্পদ গ্রাস করার মানসে নানাবিধ অসাধু পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করিত। রাসূলে কারীম (স) নানা বিধি-বিধান ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে উহার মূলোৎপাটন করেন এবং ইয়াতীমের ধন-সম্পদ সংরক্ষণের সুষ্ঠু বন্দোবস্ত করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীম কন্যার অধিকার

📄 ইয়াতীম কন্যার অধিকার


বর্বর যুগে ইয়াতীম কন্যাদের মানবাধিকার চরমভাবে হরণ করা হইত। ইয়াতীম কন্যা সুন্দরী হইলে অথবা তাহাদের কিছু ধন-সম্পদ থাকিলে অভিভাবকগণ নামমাত্র মহর উল্লেখ করিয়া তাহাদেরকে তাহাদের অসম্মতিতে জোরপূর্বক বিবাহ করিত অথবা নিজেদের সন্তান বা আত্মীয়ের সহিত বিবাহ দিত। ইহাতে তাহাদের উদ্দেশ্য হইত কেবল ইয়াতীম কন্যার সম্পদ গ্রাস করা। রাসূলে কারীম (স) ইয়াতীম কন্যাদের প্রতি এই অবিচার ও যুলুমের মূলোৎপাটন করিয়া তাহাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করিলেন।
'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে ঠিক এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হইয়াছিল। জনৈক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একটি ইয়াতীম কন্যা ছিল। লোকটির একটি বাগান ছিল। উক্ত বাগানে ইয়াতীম কন্যাটিরও অংশ ছিল। লোকটি মেয়েটির বাগানের অংশ গ্রাস করার হীন উদ্দেশ্যে মেয়েটিকে যবরদস্তি বিবাহ করিল। সে মেয়েটিকে তাহার বিবাহের মহর তো প্রদান করেই নাই, বরং তাহার বাগানের অংশটিও দখল করিয়া লইল। রাসূলে কারীম (স) বিষয়টি অবগত হইয়া এই সমস্ত কূট-কৌশল নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলেন এবং এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বিধান জারি করিলেন :
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلُثَ وَرُبَعَ .
"তোমরা যদি আশংকা কর, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করিতে পারিবে না, তবে বিবাহ করিবে নারীদের মধ্যে যাহাকে তোমাদের ভাল লাগে দুই, তিন অথবা চার" (৪:৩)।
وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتٰبِ فِي يَتْمَى النِّسَاءِ الَّتِي لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الوِلْدَانِ وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَمَى بِالْقِسْطِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِهِ عَلِيمًا
"এবং লোকে তোমাকে বিধান জিজ্ঞাসা করে নারীদের বিষয়ে। বল, আল্লাহ তোমাদেরকে তাহাদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানাইয়াছেন এবং ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে, যাহাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না, অথচ তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে এবং ইয়াতীমদের প্রতি ন্যায়বিচার সম্পর্কের যাহা কিতাবে তোমাদেরকে শুনান হয়। তোমরা যাহা কিছু সৎকর্ম কর, আল্লাহ্ তাহা সবিশেষ অবহিত" (৪: ১২৭)।
উপরিউক্ত আয়াত দুইটিতে ইয়াতীম কন্যাদের বৈবাহিক জীবনের যাবতীয় অধিকারের স্বীকৃতি এবং উহার সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াতীম শিশুদের মানবীয় অধিকার সংরক্ষণ

📄 ইয়াতীম শিশুদের মানবীয় অধিকার সংরক্ষণ


রাসূলে কারীম (স)-এর দৃষ্টিতে মৌলিক মানবাধিকার তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি প্রাপ্তিতে প্রত্যেক শিশুর যে অধিকার রহিয়াছে, একজন ইয়াতীম শিশুরও সেই সকল অধিকার রহিয়াছে; বরং তাহারা পিতৃহীন অনাথ বিধায় অধিকতর যত্ন ও সহানুভূতির অধিকার রাখে। তাঁহার বক্তব্যে এই কথা বারবার উচ্চারিত হইয়াছে যে, ইয়াতীমকে লালন- পালন এবং তাহার ব্যয়ভার বহন করাই তাহার প্রাপ্ত হক আদায়ের জন্য যথেষ্ট নহে বরং তাহাদেরকে আদর-স্নেহ এবং সম্মানও করিতে হইবে। এমনকি নিজেদের সন্তানের মুকাবিলায় ইয়াতীমকে কোন অংশে হেয় প্রতিপন্ন করা যাইবে না। তাহাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে ঠিক ততটুকু তৎপর থাকিতে হইবে নিজ সন্তানের জন্য যতটুকু করা হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعْفًا خَافُوا عَلَيْهِمْ
"তাহারা যেন ভয় করে যে, অসহায় সন্তান পিছনে ছাড়িয়া গেলে তাহারাও তাহাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হইত" (৪:৯)। অর্থাৎ তোমাদের মৃত্যুর পর তোমাদের সন্তান অসহায় অবস্থায় পড়িলে তোমরা কেমন উদ্বিগ্ন হইতে, সেই কথা চিন্তা করিয়া তোমাদের তত্ত্বাবধানে পালিত ইয়াতীম শিশুদের প্রতি যত্নবান হও।
অসহায় ইয়াতীমদের লালন-পালন এবং তাহাদের সার্বিক অভিভাবকত্ব গ্রহণের জন্য রাসূলে কারীম (স) তাঁহার অনেক বাণীতে উৎসাহ প্রদান করিয়াছেন। তিনি বলেনঃ
১. "ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী ব্যক্তি যেন সর্বদা রোযা পালনকারী রোযাদার" (আত-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, ৩খ., পৃ. ২৩৫)।
২. "যে ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্য হইতে কোন ইয়াতীমের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং তাহাকে নিজের সহিত খাবার ও পানাহার করায় আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন। হাঁ, যদি সে ক্ষমার অযোগ্য কোন পাপ না করিয়া থাকে" (মিশকাত, ২খ., পৃ. ৪২৩)।
৩. "আমি এবং ইয়াতীমের ভরণ-পোষণকারী জান্নাতে এই দুইটি আঙ্গুলের মত একত্রে অবস্থান করিব। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন" (আল-আদাবুল মুফরাদ, ১খ., পৃ. ১৩৮)।
৪. "যদি কেহ একটি ইয়াতীম শিশুর মাথায় হাত বুলায় এবং সে উহা কেবল মহান আল্লাহ্ জন্যই করিয়া থাকে তবে তাহার হাত শিশুর মাথার যতগুলি চুলের উপর পড়িবে, উহার প্রতিটির জন্য সে রহমত লাভ করিবে। আর কেহ যদি তাহার আশ্রিত ইয়াতীম বালক-বালিকার প্রতি সদয় আচরণ করে তবে সে এবং আমি জান্নাতে হাতের দুই আঙ্গুলের অনুরূপ নিকটবর্তী হইয়া অবস্থান করিব" (আত্-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩খ., পৃ. ২৩৭)।
৫. "একবার জনৈক ব্যক্তি তাহার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করিল। তিনি লোকটিকে বলিলেন, ইয়াতীমদের মাথায় হাত বুলাও এবং গরীবদেরকে খাবার দাও” (মিশকাত, ২খ., পৃ. ৪২৫)।
৬. "মহান আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামত দিবসে ঐ ব্যক্তিকে আযাব দিবেন না যে ইয়াতীমকে দয়া করিয়াছে" (আত্-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩খ., পৃ. ২৩৭)।
৭. "ইয়াতীমের ফরিয়াদ হইতে তোমরা নিজেদেরকে বাঁচাও। ইয়াতীম গভীর রাতে তাহার অসহায়ত্বের জন্য কাঁদিয়া থাকে। মানুষ তখন নিশ্চিন্তে ঘুমায়" (আত্-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩খ., পৃ. ২৩৭)।
৮. "আমি এবং ঐ বিধবা নারী কিয়ামত দিবসে পরস্পর অতি নিকটে অবস্থান করিব যে ইয়াতীম শিশুদের লালন-পালনে নিজেকে আবদ্ধ রাখিয়াছে, অথচ সে ছিল রূপ-সৌন্দর্যে ও মান-মর্যাদায় সম্ভ্রান্তা" (মিশকাত ২খ., পৃ. ৪২৩)।
৯. "আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খুলিব। তখন একজন নারী আমার পশ্চাত অনুসরণ করিবে। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিব, কে তুমি? সে উত্তরে বলিবে, আমি একজন নারী। আমি আমার ইয়াতীম শিশুদের লালনের জন্য নিজেকে আবদ্ধ রাখিয়াছিলাম" (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ৩খ., পৃ. ২৩৬)।
১০. "ইয়াতীমকে বঞ্চিত রাখিয়া যখন আহার করা হয়, শয়তান তখন সেখানে উপস্থিত হয়" (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩খ., পৃ. ২৩৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00