📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর পর্বতারোহণে উহার কম্পমান অবস্থা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর পর্বতারোহণে উহার কম্পমান অবস্থা


রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত ও রিসালাত শুধু প্রাণীজগত কর্তৃক নয়, বরং উদ্ভিদ ও জড়জগত দ্বারাও স্বীকৃত ছিল। ইহাদের প্রত্যেকেই তাঁহার মান-মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল। ইহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে সম্মান করিত এবং তাঁহার যে কোন নির্দেশ অবনত মস্তকে মানিয়া লইত। এমন দৃষ্টান্ত রহিয়াছে ভুরিভুরি। একবার তিনি উহুদ অথবা হেরা পর্বতের উপর আরোহণ করিলেন এবং পর্বত প্রকম্পিত হইতে লাগিল। অবশেষে তাঁহার নির্দেশে শান্ত হইল। যেমন হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:

عن انس بن مالك قال صعد النبي ﷺ الى احد ومعه ابو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فضربه برجله وقال الثبت احد فانما عليك نبی و صدیق و شهیدان .

"হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করিলেন। তাঁহার সঙ্গে ছিলেন হযরত আবু বকর (রা), হযরত 'উমার (রা) ও হযরত 'উছমান (রা)। অতঃপর পাহাড় প্রকম্পিত হইতে লাগিল। তখন রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় পা দ্বারা পাহাড়ে মৃদু আঘাত করিয়া বলিলেন, স্থির হও। কেননা তোমার উপর রহিয়াছেন একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দুইজন শহীদ” (বুখারী, হাদীছ নং ৩৬৭৫ ও ৩৬৮৬, পৃ. ৭৫০ এবং ৭৫৩; তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৬৯৭, ৫খ., পৃ. ৬২৪)।

অপর একটি হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে:
عن ابي هريرة أن رسول الله ﷺ كان علي حراء هو و ابو بكر وعمر وعلى وعثمان وطلحة والزبير فتحركت الصخرة فقال النبى ﷺ اهداء انما عليك نبي او صديق او شهیدان .

"হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) হেরা পর্বতের উপর ছিলেন। তাঁহার সাথে আরো ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা), হযরত 'উমার (রা), হযরত 'আলী (রা), হযরত 'উছমান (রা), হযরত তালহা (রা) ও হযরত যুবায়র (রা)। তখন পাহাড় কাঁপিয়া উঠিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, শান্ত হও। কারণ তোমার উপর রহিয়াছে একজন নবী অথবা একজন সিদ্দীক অথবা দুইজন শহীদ” (তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৬৯৭, ৫খ., পৃ. ৬২৪)।

৩০১ وفي حديث سعيد بن زيد مثله لكن عدهم رسول الله ﷺ وابو بكر وعمر وعثمان وعلى وطلحة والزبير و سعد وابن عوف وسعيد ابن زيد .

"আর সাঈদ ইব্‌ন যায়দ (রা)-এর হাদীছেও অনুরূপ বর্ণিত হইয়াছে। তবে তাঁহাদের সংখ্যা দশ জন গণনা করা হইয়াছে। তাঁহারা হইলেন: রাসূলুল্লাহ (স), আবূ বকর (রা), 'উমার (রা), 'উছমান (রা), 'আলী (রা), তালহা (রা), যুবায়র (রা), সা'দ (রা), ইন্ন 'আওফ (রা) ও সা'ঈদ ইব্‌ন যায়দ (রা)” (সুনান ইবন মাজা', হাদীছ নং ১৩৪, ১খ., পৃ. ৪৮)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে কে কে ছিলেন এই ব্যাপারে বিভিন্ন মত রহিয়াছে। কোন কোন রিওয়ায়াতে "," (অথবা) শব্দের প্রয়োগ করা হইয়াছে। অনুরূপভাবে কতজন ছিলেন সেই সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। ইবন মাজা শরীফে সর্বোচ্চ দশজনের কথা বলা হইয়াছে।

বুখারী শরীফে বর্ণিত হইয়াছে, এই পাহাড় ছিল উহুদ আর মুসনাদে আহমাদ ও সুনান ইব্‌ন মাজাতে হেরা পর্বতের কথা বলা হইয়াছে, তবে তিরমিযীতে উভয় পর্বতের কথা উল্লেখ রহিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 চতুষ্পদ জন্তুর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কথোপকথন

📄 চতুষ্পদ জন্তুর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কথোপকথন


রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবনে অসংখ্য মু'জিযা সংঘটিত হইয়াছিল। আল্লাহ তা'আলা প্রাণীকুলকেও রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুগত করিয়া দিয়াছিলেন। তাহাদের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি ঈমান ও আনুগত্য ব্যতীত শরীয়ত পালনের আর কোন নিদর্শন দেখিতে পাওয়া যায় না। চতুষ্পদ জন্তুরাও তাহাদের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করিত।

হযরত হাসান (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, একদা রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় একটি উট ছুটিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে মাথা নত করিল এবং বিড় বিড় করিয়া কি যেন বলিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই উট বলিতেছে যে, ইহার মালিক ইহাকে পিতার জন্য ভোজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যবেহ করিতে চাহে। অতঃপর তিনি উটের মালিকের নিকট গিয়া জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিল, হাঁ, আমি ইহাকে যবেহ করিতে চাহিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইহাকে যবেহ করিও না। সেমতে মালিক উহাকে যবেহ করিল না (আল-খাসাইসুল-কুবরা, ২খ., পৃ. ৫৭)।

ইয়া'লা ইবন মুররা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স) একদিন বাহিরে গেলেন। দেখিলেন, একটি উট চীৎকার করিতেছে। উট তাঁহাকে দেখিবামাত্র সিজদা করিল। সাহাবায়ে কিরাম বলিলেন, আমরাও আপনাকে সিজদা করার অধিকার রাখি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তবে নারীকে আদেশ দিতাম তাহার স্বামীকে সিজদা করিতে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই উট কি বলিতেছে জান? সে বলিতেছে, আমি আমার মালিকদের চল্লিশ বৎসর সেবা করিয়াছি। এখন আমি বৃদ্ধ হইয়া পড়িয়াছি। তাহারা আমার ঘাসপানি কমাইয়া দিয়াছে এবং কাজ বেশী লইতে শুরু করিয়াছে, আর বিবাহ উপলক্ষে আমাকে যবেহ করিতে চাহে। রাসূলুল্লাহ (স) উটের মালিকের নিকট লোক পাঠাইয়া তাহাকে ডাকাইয়া আনিয়া উটের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। সে বলিল, সত্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, উটটি আমার নিকট বিক্রয় করিয়া দাও (আল-খাসাইসুল-কুবরা, ২ খ., পৃ. ৫৭)।

হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেন, আনসার গোত্রের প্রত্যেকেই উট পালন করিত। এক বাড়ীওয়ালা নবী কারীম (স)-এর নিকট আরয করিল, আমার একটি উট রহিয়াছে যাহার পিঠে করিয়া আমি পানি বহন করিয়া থাকি। উটটি বড় বেয়াড়া হইয়া গিয়াছে, বোঝা বহন করিতে চাহে না। আর আমার খেজুর বাগান পানির অভাবে শুকাইয়া যাইতেছে। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবায়ে কিরামকে সঙ্গে লইয়া উটটির নিকট গেলেন। তিনি বাগানে পৌঁছিয়া এক স্থানে দাঁড়াইলেন। বাগানের এক কোণে ছিল উটটি। আনসারী লোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। ইহাই সেই উট। যে কুকুরের মতো মানুষকে কামড়াইতে চায়। আমার ভয় হইতেছে, না জানি আপনাকেও সে কামড় দেয়। তিনি বলিলেন, আমার ব্যাপারে ভয় করিও না। রাসূলুল্লাহ (স) উটটির সামনে গেলেন। উটটি তাঁহাকে দেখিবামাত্র মাথা উঠাইল এবং তাঁহার সম্মুখে গিয়া কদম মুবারকের নিকট মাথা নত করিয়া সিজদা করিল। রাসূলুল্লাহ (স) উটটির মাথার পশম ধরিয়া টান দিয়া কাজে লাগাইয়া দিলেন।

অন্য হাদীছে আসিয়াছে, উটটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে আসিয়া গর্দান নত করিয়া উহার নিজের ভাষায় ফরিয়াদ করিয়াছিল। তাহা দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) উহার মাথার চুল ধরিয়া টানিয়া দাঁড় করাইলেন এবং তাহার মালিককে বলিলেন, উটটি আমার নিকট বিক্রয় করিয়া দাও। লোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খিদমতে হাজির। কিন্তু উটটি আমার পরিবারের প্রয়োজন মিটায়। জীবিকার জন্য এই উটটি ছাড়া আমার আর কিছু নাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, উটটি অভিযোগ করিতেছে যে, তুমি উহার দ্বারা বেশী কাজ করাও আর খাইতে দাও কম। তুমি উহার অধিকারের দিকে খেয়াল রাখ না। সুতরাং এখন হইতে উহার অধিকারের প্রতি খেয়াল রাখিও (আল-খাসাইসুল-কুবরা, ২খ., পৃ. ৫৬; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ১খ., পৃ. ৩৪২-৪৩)।

হযরত যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা) বলেন, এক যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি দেখিতে পাইলাম, জনৈক বেদুঈন একটি উটের রশি ধরিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। উটটি রাসূলুল্লাহ (স)-কে সালাম করিল। তিনি সালামের জওয়াব দিলেন। এমতাবস্থায় এক ব‍্যক্তি আসিয়া বলিল, এই লোকটি আমার উট চুরি করিয়া নিয়া আসিয়াছে। এই কথা শুনিবার পর উটটি চিৎকার করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রতিবাদ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) উটটির অভিযোগ শুনিয়া দাবিদারকে বলিলেন, উটটি আমার নিকট অভিযোগ করিতেছে যে, তুমি মিথ্যাবাদী (আশ-শিফা, পৃ. ৬০৫; নাসীমুর রিয়াদ, ৩খ., পৃ. ৮৭)।

'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবী আওফা (রা) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, অমুক গোত্রের পানিবাহী উট অবাধ্য হইয়া পালাইয়া গিয়াছে। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) উঠিয়া দাঁড়াইলেন। তাঁহার সহিত আমরাও দাঁড়াইলাম। আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এই উটের নিকট যাইবেন না। কিন্তু তিনি উটের নিকট গেলেন। উট তাহাকে দেখিয়া সিজদা করিল। তিনি উহার মাথায় হাত রাখিয়া বলিলেন, লাগাম আন। লাগাম আনা হইলে তিনি উটের মাথায় রাখিয়া বলিলেন, উটের মালিককে ডাক। মালিক আসিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইহাকে উত্তমরূপে ঘাসপানি দিবে এবং কঠোর আচরণ করিবে না (আল-খাসাইসুল-কুবরা, ২ খ., পৃ. ৫৬)।

হযরত ইবন 'আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমাদের উট বাগান দখল করিয়া লইয়াছে, সেখান হইতে কোন অবস্থাতে বাহির হইতেছে না। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে গেলেন এবং উটকে আওয়ায দিলেন। উট মাথা নত করিয়া তাঁহার নিকট চলিয়া আসিল। তিনি উটের লাগাম বাঁধিয়া মালিকের হাতে দিলেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বলিলেন, এই উট জানে যে, আপনি আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, কাফের জিন ও কাফের মানব ছাড়া আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে এমন কোন বস্তু নাই, যে জানে না যে, আমি আল্লাহ্ নবী (প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৬-৫৭)।

একদা একটি উট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া তাহার কওমের লোকদের সম্পর্কে অভিযোগ করিল যে, তাহারা ইশার সালাত আদায় না করিয়াই ঘুমাইয়া পড়ে। আমার ভয় হইতেছে যে, না জানি আল্লাহ তা'আলা তাহাদের উপর আযাব নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ (স) ঐ সম্প্রদায়ের লোকদেরকে ডাকিয়া বলিলেন, তাহারা যেন ইশার সালাত আদায়ের পূর্বে শয্যা গ্রহণ না করে (মাদারিজুন নুযূওয়াত, ১খ., পৃ. ৩)।

হযরত আইশা সিদ্দীকা (রা) বর্ণনা করেন, আমাদের ঘরে একটি বকরী ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) যখন ঘরে থাকিতেন তখন উহা চুপচাপ শুইয়া থাকিত। আর তিনি ঘর হইতে বাহির হইলে পেরেশান হইয়া এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করিত (প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৩)।

হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আবু বকর ও হযরত 'উমার (রা)-কে সঙ্গে লইয়া জনৈক আনসারীর বাগানে গেলেন। সেখানে একটি বকরী ছিল। বকরীটি রাসূলুল্লাহ (স)-কে সিজদা করিল। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরাও তো আপনাকে সিজদা করার অধিকার রাখি। তিনি বলিলেন, এক মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয় (প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৩)।

এক বর্ণনায় রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ (স) যখন উট কুরবানী করিতে উদ্যত হইলেন, তখন উটগুলি একে অপরকে সরাইয়া দিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে দাঁড়াইয়া যাইত (প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৪)।

উম্মে সালামা (রা) বর্ণনা করেন, একদা রাসুলুল্লাহ (স) মরুভূমি অতিক্রম করিতেছিলেন। অকস্মাৎ তিনি "ইয়া রাসূলাল্লাহ” এই রকম তিনটি আওয়ায শুনিতে পাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) সেই আওয়াযের দিকে অগ্রসর হইলেন। দেখিলেন, একটি হরিণী বাঁধা অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। কাছেই এক বেদুঈন চাদর মুড়ি দিয়া শুইয়া আছে। তিনি হরিণীকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, বল, কি প্রয়োজন তোমার? হরিণী বলিল, আমাকে এই লোক শিকার করিয়া বাঁধিয়া রাখিয়াছে। আমার দুইটি বাচ্চা এই পাহাড়ের গর্তের ভিতর রহিয়াছে। আপনি যদি আমাকে মুক্ত করিয়া দেন তাহা হইলে বাচ্চা দুইটিকে দুধ পান করাইয়া আমি আবার ফিরিয়া আসিব। তিনি বলিলেন; তুমি কি আবার ফিরিয়া আসিবে? হরিণী বলিল, ফিরিয়া না আসিলে আল্লাহ তা'আলা আমাকে যেন ঐ শাস্তি প্রদান করেন যে শাস্তি তিনি যাকাত আত্মসাৎকারীর জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন।

রাসূলুল্লাহ (স) উহাকে মুক্ত করিয়া দিলে উহা চলিয়া গেল, অল্পক্ষণ পরেই আবার ফিরিয়া আসিল। রাসূলুল্লাহ (স) উহাকে আগের মত বাঁধিয়া রাখিলেন। বেদুঈন লোকটি জাগিয়া উঠিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কি কোন উদ্দেশ্য আছে? তিনি বলিলেন, আমার ইচ্ছা তুমি হরিণীকে মুক্তি দাও। লোকটি হরিণীকে ছাড়িয়া দিল। উহা মনের আনন্দে চক্কর দিয়া দৌড়িয়া পাহাড়ের দিকে চলিয়া গেল। যাওয়ার সময় উহা-সাক্ষ্য দিতেছিল, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আল-খাসাইসুল কুবরা, ২খ., পৃ. ৬০; মাদারিজুন-নুবৃওয়াত, ১ খ., পৃ. ৩৪৬)।

আরেকটি ঘটনা, রাসূলুল্লাহ (স) এক সেনাবাহিনীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। সেনাদল ছিল তৃষ্ণার্ত। এক সময় দেখা গেল একটি জলাশয়। এমন সময় একটি হরিণী নবী কারীম (স)-এর নিকটে আসিল। তিনি হরিণের দুধ দোহন করিলেন এবং বাহিনীর সমস্ত সৈন্যকে দুধ পান করাইলেন। সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় তিন শত। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার মুক্তদাস রাফে' (রা)-কে বলিলেন, তুমি হরিণীর প্রতি লক্ষ্য রাখিও। তিনি হরিণীকে বাঁধিয়া রাখিলেন। কিছুক্ষণ পর দেখিলেন; হরিণীটি নাই। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যিনি উহাকে পাঠাইয়াছিলেন তিনিই উহাকে লইয়া গিয়াছেন (মাদারিজুন নুযূওয়াত, ১খ, পৃঃ ৩৪৬)।

যায়দ ইক্স আরকাম (রা) বর্ণনা করেন, আমি নবী করীম (স)-এর সঙ্গে মদীনার গলিপথ দিয়া যাইতেছিলাম। জনৈক বেদুঈনের তাঁবুতে পৌঁছিয়া আমরা একটি হরিণীকে বাঁধা অবস্থায় দেখিলাম। হরিণী বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বেদুঈন আমাকে শিকার করিয়াছে। জঙ্গলে আমার দুইটি বাচ্চা ক্ষুধায় কষ্ট পাইতেছে। আর স্তনে দুধ জমা হওয়ার কারণে আমিও নিদারুণ যাতনা অনুভষ করিতেছি। বেদুঈন আমাকে যবেহ করিলে আমি এই যাতনা হইতে রৈহাই পাইতাম, আর ছাড়িয়া দিলে বাচ্চাদের নিকট চলিয়া যাইতাম। কিন্তু সে কিছুই করিতেছে না। রাসূলুল্লাহ (স) হরিণীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, যদি আমি তোমাকে ছাড়িয়া দেই তাহা হইলে তুমি কি ফিরিয়া-ক্যাস্টিকে যে বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ (স) উহাকে ছাড়িয়া দিলেন। যে কিছুক্ষণের মধ্যে জিহ্বা চাটিতে চাটিতে ফিরিয়া আসিল। রাসূলুল্লাহ (স), উহাকে রাঁধিয়া রাখিলেন। ইতোমধ্যেই বেদুঈন আসিয়া পড়িল। তাহার সহিত ছিল পানির একটি মশক। রাসুলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি হরিণীটি বিক্রয় করিবে কি? সে বলিল, হরিণীটি আপনারই। তখন রাসূলুল্লাহ (স) উহাকে মুক্ত করিয়া দিলেন। যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা) বলেন, হরিণীটি কলেমা তায়্যিবা উচ্চারণ করিতে করিতে জঙ্গলের দিকে চলিয়া গেল (প্রাগুক্ত, পৃ. ৬১)।

মুত্তালিব ইবন 'আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় এক বাঘ আসিয়া তাঁহার সামনে দাঁড়াইয়া কথা বলিতে শুরু স্কায়েন। 'রাসূলুল্লাই (স) বলিলেন, তোমাদের নিকট বাঘদের এই দূত আসিয়াছে। তোমরা ইচ্ছা করিলে তাহার জন্য কিছু ভাতা নির্দিষ্ট করিয়া দাও। সে ইহার বেশী লইবে না। আর তাহা না হইলে এমনিতেই ছাড়িয়া দাও। সে যাহা পাইবে নিয়া যাইবে। এমতাবস্থায় তোমাদের ভয় থাকিয়া যাইবে। সে যাহা কিছু নিবে তাহা তাহার রিযিক হইবে। সাহাবায়ে কিরাম আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা ইহার জন্য কিছু নির্দিষ্ট করিয়া দিতে সম্মত না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তিন আঙ্গুল দিয়া বাঘের দিকে ইশারা করিয়া বুঝাইয়া দিলেন, তুই তাহাদের ছাগল ছোঁ মারিয়া লইয়া যা। ইহাতে বাঘটি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া মাথা নাড়িয়া দৌড়াইয়া চলিয়া গেল (প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৩)।

ইব্‌ন মানযূর বর্ণনা করেন, খায়বার বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ (স) একটি কালো গাধা পাইলেন। তিনি ঐ গাধার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন; তোর নাম কি? সে বলিল, ইয়া'দীদ ইব্‌ন শিহাব। আমার দাদার বংশ হইতে আল্লাহ্‌ তা'আলা ষাটটি গাধা সৃষ্টি করিয়াছেন। সেইগুলির সকলের পিঠে পয়গাম্বরগণ সওয়ার হইয়াছেন। আমার বিশ্বাস, আপনি আমার পিঠে সওয়ার হইবেন। কেননা এখন আমার দাদার বংশে আমি ছাড়া কেহ বাঁচিয়া নাই। আর পয়গাম্বরগণের মধ্যে আপনি ছাড়া কেহ অবশিষ্ঠ নাই। ইহা আরও বলিল, আপনার নিকট আসার পূর্বে আমি এক ইয়াহুদীর অধীনে ছিলাম। সে আমার পিঠে উঠিতে চাহিলে আমি ইচ্ছা করিয়া লাফালাফি করিয়া তাহাকে ফেলিয়া দিতাম। আমার পিঠে তাহাকে উঠিতেই দিতাম না। এজন্য সে আমার পেটে ও পিঠে আঘাত করিত, আমাকে অনাহারে রাখিত। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আজ হইতে তোমার নাম ইয়া গাফুর। এই ইয়া গাফুর নামক গাধাটি সর্বদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাযির থাকিত। তিনি কাহাকেও ডাকিয়া আনার জন্য ইহাকে পাঠাইলে সে সেই লোকের বাড়ির দরজায় উপস্থিত হইয়া মাথা ঠুকিতে থাকিত। গৃহকর্তা বাহির হইয়া আসিলে তাহাকে ইশারায় বুঝাইয়া দিত যে, রাসূলুল্লাহ (স)-তাহাকে ডাকিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওফাতের পর ইয়া গাফুর নামক গাধাটি তাঁহার বিরহব্যথা সহ্য করিতে না পারিয়া আবুল হায়ছাম ইব্‌ন নাহিয়ানের কূপের মধ্যে ঝাঁপ দিয়া শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়াছিল (আল-খাসাইসুল কুবরা, ২৯, পৃ. ৬৪; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ১ খ., পৃ. ৩৪৬-৪৭)।

প্রাণীকূল ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট তাহাদের দুঃখ-কষ্টের কথা ব্যক্ত করিয়া বিভিন্ন জনের উপর অভিযোগ উত্থাপন করিয়াছে। আর আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) সেইগুলির অভিযোগ শুনিতেন এবং উহাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কাফিরদের প্রতি এক মুষ্ঠি মাটি নিক্ষেপ এবং তাহাদের সকলের চোখে পতিত হওয়া

📄 কাফিরদের প্রতি এক মুষ্ঠি মাটি নিক্ষেপ এবং তাহাদের সকলের চোখে পতিত হওয়া


রাসূলুল্লাহ (স)-এর মু'জিযাসমূহের মধ্যে ইহাও অন্যতম যে, তিনি এক মুষ্ঠি মাটি লইয়া কাফিরদের প্রতি তাহা নিক্ষেপ করেন। ফলে তাহাদের সকলের চোখে তাহা পতিত হয়। একজন কাফিরও ইহা হইতে নিস্তার পায় নাই। মাটি নিক্ষেপের এই ঘটনাটি দুইটি ক্ষেত্রে ঘটিয়াছিল-এক. দ্বিতীয় হিজরী বদর যুদ্ধের সময় এবং দুই. ৮ম হিজরী হুনায়ন যুদ্ধের সময়।

বদর যুদ্ধের ঘটনা: কাফির ও মুসলমানদের মধ্যে হক ও বাতিলের ফয়সালাকারী যুদ্ধ হইল বদর যুদ্ধ। তাই এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মহান আল্লাহর নিকট খুবই কাকুতি-মিনতি সহকারে দু'আ করেন যাহাতে মুসলমানগণ বিজয়ী হয়। ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (স) উভয় হাত উত্তোলন করিয়া খুবই কাকুতি মিনতি সহকারে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আ করিতেছিলেন। আর বলিতেছিলেন: يا رب ان تهلك هذه العصابة فلن تعبد في الارض ابدا . "হে আমার প্রতিপালক! এই দলটি যদি ধ্বংস হইয়া যায় তবে পৃথিবীতে আর কখনও তোমার ইবাদত করা হইবে না।” তখন জিবরীল (আ) তাঁহাকে বলিলেন, একমুষ্ঠি: মাটি লইয়া তাহাদের মুখমণ্ডলে নিক্ষেপ করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার কথা অনুযায়ী এক মুষ্ঠি মাটি লইয়া কাফিরদের দিকে নিক্ষেপ করিলেন। তখন কাফির মুশরিকদের এমন একজন লোকও অবশিষ্ট রহিলনা যাহার চক্ষুতে, নাকে ও মুখে উক্ত মাটি গিয়া না পৌছিল। অতঃপর তাহারা পলায়ন করিতে লাগিল (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীর, ২খ., পৃ. ৩৯৫; আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৩; ছানাউল্লাহ পানিপতি, আত-তাফসীরুল মাজহারী, ৪খ., পৃ. ৩৮)।

সুদ্দীর বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স) বদর যুদ্ধের দিন 'আলী (রা)-কে 'বলিলেন, আমাকে এক মুষ্ঠি কঙ্কর দাও। 'আলী (রা) তাঁহাকে একমুষ্ঠি কঙ্কর আনিয়া দিলেন যাহাতে মাটি মিশ্রিত ছিল। অতঃপর তিনি উক্ত মাটি মিশ্রিত কঙ্কর কাফিরদের দিকে নিক্ষেপ করিলেন। ফলে মুশরিকদের প্রত্যেকের চক্ষুতে, মুখে ও নাকে গিয়া উহা পতিত হয়। অতঃপর মুসলমানগণ তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করিয়া তাহাদিগকে হত্যা ও বন্দী করিতে লাগিলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করিলেন:

৩০৮ سورة السيرة العظيمة فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ قَتَلَهُمْ وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى.

"তোমরা তাহাদেরকে হত্যা কর নাই, আল্লাহই তাহাদেরকে হত্যা করিয়াছেন এবং তুমি যখন নিক্ষেপ করিয়াছিলে তখন তুমি নিক্ষেপ কর নাই, আল্লাহই নিক্ষেপ করিয়াছেন" (৮ : ১৭, প্রাগুক্ত)।

মুহাম্মাদ ইব্‌ন কা'ব আল-কুরাজীর বর্ণনামতে, উভয়দল যখন পরস্পর পরস্পরের মুখামুখি হইল তখন রাসূলুল্লাহ (স) এক মুষ্ঠি মাটি লইয়া কাফিরদের প্রতি নিক্ষেপ করিলেন এবং বলিলেন, شاهت الوجوه "মুখমণ্ডলসমূহ কদাকার হউক্" ফলে কাফিরদের প্রত্যেকের ক্ষতে তাহা লাগিল আর রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহাবীগণ সম্মুখে অগ্রসর হইয়া তাহাদিগকে হত্যা ও বন্দী করিতে লাগিলেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর এই মাটি নিক্ষেপের ফলে তাহাদের পরাজয় হইয়াছিল। তাই লোকের এই ভ্রান্তি অপনোদনের জন্য আয়াত নায়িল করিয়া বুঝাইয়াছেন যে, প্রকৃতপক্ষে তাহাদের চক্ষুতে আল্লাহই এই মাটি পৌঁছাইয়া দেন। আয়াতটি হইল:

وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى..

(ইবন কাছীর, তাফসীর, ২খ., পৃ. ২৯৫)।

এক বর্ণনা মতে রাসূলুল্লাহ (স) তিনটি 'কঙ্কর 'লইয়া একটি শত্রু সৈন্যের দিকে একটি বাম দিকে এবং একটি তাহাদের সম্মুখ ভাগে নিক্ষেপ করেন এবং বলেন, شاهت الوجوه (প্রাগুক্ত; আল-কাসতাল্লানী, আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১খ., পৃ. ৩৬৪; আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল- উনুফ, ৫খ., পৃ. ২০৬)।

হুর্নায়ন যুদ্ধের ঘটনা
কাফিরদের প্রতি মাটি নিক্ষেপের অপর 'ঘটনাটি ঘটিয়াছিল ৮ম হিঃ হুনায়ন 'যুদ্ধের সময়। যুদ্ধ যখন চরম আকার ধারণ করিয়াছিল তখন রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় খচ্চর হইতে অবতরণ করত জমীন হইতে এক মুষ্ঠি মাটি লইলেন এবং شاهت الوجوه বলিয়া কাফিরদের প্রতি নিক্ষেপ করিলেন। আল্লাহ তা'আলার অসীম কুদরতে মুশরিকদের প্রত্যেকের চক্ষুতেই তাহা পতিত হইল। ফলে তাহাদের শক্তিতে ভাটা পড়িল এবং অবস্থার পরিবর্তন হইয়া গেল। তাহারা যুদ্ধ ক্ষেত্র হইতে পলায়ন করিতে বাধ্য হইল (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৩০; সাফিয়্যুর রামান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৪১৬)।

ইবনুল আছীরের বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (সংস্তাঁহার দুলদুল নামক সাদা খচ্চরের উপর আরোহণ করিয়াছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি তাঁহার খচ্চরকে মাটিতে বসিতে ইঙ্গিত করিলেন। খচ্চরটি তাহার পেট মাটির সহিত লাগাইলে তিনি এক মুষ্ঠি মাটি' লইয়া কাফিরদের প্রতি নিক্ষেপ করিলেন (ইবনুল আঁছীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ২খ., পৃ. ২৬৪)। আত-তাবারীর বর্ণনামতে মাটি নিক্ষেপকালে তিনি বলিয়াছিলেন لا ينظرون حم "হা-মীম, তাহারা সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না।” অতঃপর মুশরিকরা পলায়ন করিতে লাগিল। তাহাদের প্রতি তীর-তরবারি ও বল্লমের দ্বারা তেমন আঘাত করিতে হইল না (আত-তাবারী, তারীখুল-উমাম ওয়াল-মূলক, ৩খ., পৃ. ৭৮; ইবনুল-জাওযী, আল-ওয়াদা, ১খ., পৃ. ৩০৪; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ৩৩০-৩১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হুনায়ন যুদ্ধের ঘটনা

📄 হুনায়ন যুদ্ধের ঘটনা


কাফিরদের প্রতি মাটি নিক্ষেপের অপর 'ঘটনাটি ঘটিয়াছিল ৮ম হিঃ হুনায়ন 'যুদ্ধের সময়। যুদ্ধ যখন চরম আকার ধারণ করিয়াছিল তখন রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় খচ্চর হইতে অবতরণ করত জমীন হইতে এক মুষ্ঠি মাটি লইলেন এবং شاهت الوجوه বলিয়া কাফিরদের প্রতি নিক্ষেপ করিলেন। আল্লাহ তা'আলার অসীম কুদরতে মুশরিকদের প্রত্যেকের চক্ষুতেই তাহা পতিত হইল। ফলে তাহাদের শক্তিতে ভাটা পড়িল এবং অবস্থার পরিবর্তন হইয়া গেল। তাহারা যুদ্ধ ক্ষেত্র হইতে পলায়ন করিতে বাধ্য হইল (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৩০; সাফিয়্যুর রামান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৪১৬)।
ইবনুল আছীরের বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (সংস্তাঁহার দুলদুল নামক সাদা খচ্চরের উপর আরোহণ করিয়াছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি তাঁহার খচ্চরকে মাটিতে বসিতে ইঙ্গিত করিলেন। খচ্চরটি তাহার পেট মাটির সহিত লাগাইলে তিনি এক মুষ্ঠি মাটি' লইয়া কাফিরদের প্রতি নিক্ষেপ করিলেন (ইবনুল আঁছীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ২খ., পৃ. ২৬৪)। আত-তাবারীর বর্ণনামতে মাটি নিক্ষেপকালে তিনি বলিয়াছিলেন لا ينظرون حم "হা-মীম, তাহারা সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না।” অতঃপর মুশরিকরা পলায়ন করিতে লাগিল। তাহাদের প্রতি তীর-তরবারি ও বল্লমের দ্বারা তেমন আঘাত করিতে হইল না (আত-তাবারী, তারীখুল-উমাম ওয়াল-মূলক, ৩খ., পৃ. ৭৮; ইবনুল-জাওযী, আল-ওয়াদা, ১খ., পৃ. ৩০৪; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ৩৩০-৩১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00