📄 আরাফাতের খুতবা
বিদায় হজ্জ ছিল রাসূলুল্লাহ-এর জীবনের শেষ হজ্জ। ইহার পর তিনি আর হজ্জ করিতে পারেন নাই। তাই বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ প্রচারের ইহাই ছিল সর্বশেষ সুবর্ণ সুযোগ। সুতরাং বিদায় হজ্জের এই বিদায়ী ভাষণ সঙ্গত কারণে একটু দীর্ঘ ছিল, সন্দেহ নাই। সেইজন্য হয়ত সকল শ্রোতা এই ভাষণের আদ্যোপান্ত মনে রাখিতে সক্ষম হন নাই। সিহাহ سিত্তাHসহ প্রায় সকল হাদীছ গ্রন্থেই এই ভাষণের বিভিন্ন অংশ বিক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে। বিক্ষিপ্ত এই সকল বর্ণনা একত্র করিয়া দেখিলে মনে হয় বিদায় হজ্জ উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ তিনটি
৫১০ স্থানে পৃথক পৃথক ভাষণ দান করিয়াছিলেন। প্রথমটি ۹ যিলহজ্জ আরাফাত প্রান্তরে। দ্বিতীয়টি ১০ যিলহজ্জ মিনাতে। তৃতীয়টি ১১ অথবা ১২ যিলহজ্জ গাদীর-ই খুম নামক স্থানে। এই সকল ভাষণে তিনি ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ তুলিয়া ধরেন। তাই আমরা এই ভাষণ তাফসীর, হাদীছ ও সীরাত গ্রন্থসমূহ হইতে সংগ্রহ করত যথাসম্ভব বিন্যস্তভাবে বর্ণনা করিব (ইনশالله) (ماوঃ محمد تফাজ্জل হোسায়েন, হযرت محمد মুস্তফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৯০۶; শিবলী নু'মানী, সীরাতুন-নবী, ২খ., পৃ. ৪৪৭)।
আরাফাতের অদূরে 'নামিরায়' ۹ যিলহজ্জ শুক্রবার বেলা দ্বিপ্রহরের সময় রাসূলুল্লাহ তাঁবুতেই অবস্থান করিতেছিলেন। তিনি যখন তাঁবু হইতে বাহির হইয়া আসেন তখন সূর্য ঠিক মাথার উপর হইতে অনেকটা পশ্চিমাকাশে ঢলিয়া পড়িয়াছে। এইবার তিনি কাসওয়া নামক উটনীকে প্রস্তুত করিতে হুকুম দিলেন। কথামত উটনীকে সাজাইয়া তাঁহার সামনে হাযির করা হইল এবং তিনি তাহাতে আরোহণ করিলেন। উটনী তাঁহাকে লইয়া ধীরে ধীরে "باتনুল ওয়াদী" অর্থাৎ আরাফাত ময়দানের কেন্দ্রস্থলে উপনীত হয়। সেখানে তিনি উটের উপর অবস্থানপূর্বক উপস্থিত জনতার সামনে নীতি নির্ধারণী এক চিরন্তন ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন যাহা ইসলামী জীবনাদর্শের এক অমূল্য ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ। উচু কণ্ঠে তিনি এই ভাষণ প্রদান করেন। প্রতিটি বাক্য তিনি বিরতি দিয়া বলেন। এই সময় রাবীআ ইبّن উমায়্যা ইبّন খালাف মহানব -এর উচ্চারিত বাক্যগুলি সজোরে পুনরাবৃত্তি করিতেছিলেন (মাوঃ محمد তফাজ্জل হোসায়েন, হযرت محمد মুস্তফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৯০۷; আসাহْhuس سیار, পৃ. ৫۲۱)।
ইয়াওمو আরাফা বা আরাফাত দিবস ছিল ইসলামের গৌরব ও মর্যাদা বিকাশের দিন। কারণ রাসূলুল্লাহ ঐ দিন জাহিলিয়াতের সকল বিধি-বিধানকে বাতিল ঘোষণা করেন এবং ইসলামের বিধানসমূহকে সুসংহত ও সুনির্ধারিত করিয়া দেন এই ভাষণে। বিদায় হজ্জের এই ভাষণ কোথাও এককভাবে বর্ণিত হয় নাই। কারণ ইহা ছিল এক দীর্ঘ ভাষণ। শ্রোতারা যিনি যে অংশ স্মরণ রাখিতে পরারিয়াছেন তিনি সেই অংশই বর্ণনা করিয়াছেন। তাই এই ভাষণ বিভিন্ন স্থান হইতে চয়ন করা হইয়াছে।
ভাষণের শুরুতে রাসূলুল্লাহ মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন-এর প্রশংসা করিলেন, তারপর উপস্থিত জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া ইরশাদ করিলেন:
ايها الناس اسمعوا قولى فانى لادرى لعلى لا القاكم بعد عامي هذا بهذا الموقف ابدا ايها الناس ان دماءكم وأموالكم عليكم حرام الى ان تلقوا ربكم كحرمة يومكم هذا وكحرمة شهركم هذا. وانكم ستلقون ربكم فيسالكم عن اعمالكم. وقد بلغت فمن كانت عنده امانة فليؤدها الى من ائتمنه عليها وان كل ربا موضوع ولكن لكم رؤس اموالكم لا تظلمون ولا تظلمون قضى الله انه لا ربا وان ربا عباس بن عبد المطلب موضوع كله وان كل دم كان في الجاهلية موضوع وان اول دماءكم اضع دم ابن ربيعة بن
৫১১ الحارث بن عبد المطلب وكان مسترضعا فى بنى ليث فقتله هذيل فهو اول ما ابد به من دماء الجاهلية.
اما بعد ايها الناس فان الشيطان قديئس من ان يعبد بارضكم هذه ابدا لكنه ان يطع فيما سوى ذلك فقد رضی به مما تحقرون من اعمالكم فاحذروه على دينكم.
ايها الناس ان النسى زيادة في الكفر يضل به الذين كفروا يحلونه عاما ويحرمونه عاما ليواطئواعدة ما حرم الله فيحلوا ما حرم الله ويحرم ما احل الله.
وان الزمان قد استدار كهئيته يوم خلق الله السموات والارض وان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا في كتاب الله يوم خلق السماوات والارض منها اربعة حرم ثلاثة متوالية ورجب مضر الذي بين جمادى وشعبان.
اما بعض ايها الناس فان لكم على نساءكم حقا ولهن عليكم حقا لكم عليهن ان لا يوطئه فرشكم احدا تكرهونه وعليهن ان لا يأتين بفاحشة مبينة فان فعلن فان الله قد اذن لكم ان تهجروهن في المضاجع وتضربوهن ضربا غير مبرح فان انتهين فلهن رزقهن وكسوتهن بالمعروف واستوصوا بالنساء خيرا فانهن عندكم عوان لا يملكون لانفسهن شيئا وانكم انما اخذتموهن بامانات الله واستحللتم فروجهن بكلمات الله فاعقلوا ايها الناس قولى فاني قد بلغت قد تركت فيكم ما ان اعصمتم به فلن تضلوا ابدا امرا بينا كتاب الله وسنة نبيه.
ايها الناس اسمعوا قولى واعقلوه تعلمن ان كل مسلم اخ للسلم وان المسلمين اخوة فلا يحل لامرىء من أخيه الا ما اعطاه عن طيب نفس منه فلا تظلمن انفسكم اللهم هل بلغت فذكر لى ان الناس قالوا اللهم نعم فقال رسول الله ﷺ اللهم اشهد.
“হে লোকসকল! আমার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। সম্ভবত আমি এই স্থানে এই বৎসরের পর আর কখনও তোমাদের সহিত মিলিত হইতে পারিব না। হে লোকজন! আজিকার এই দিনে ও এই মাসে যেমন অন্যের জান-মালের ক্ষতি সাধন করা তোমাদের উপর হারাম, তেমনি কিয়ামত পর্যন্ত তাহা হারাম হইয়া গেল। তোমরা অতি শীঘ্রই আল্লাহ্র নিকট হাযির হইবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য জিজ্ঞাসিত হইবে। আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর বাণী
৫১২ পৌঁছাইয়া দেওয়ার দায়িত্ব পালন করিয়াছি। যাহার নিকট কাহারও গচ্ছিত জিনিস আছে সে তাহা যেন মালিকের নিকট ফেরত দেয়। সকল সূد রহিত করা হইল। এখন হইতে তোমরা কেবল মূলধন ফেরত পাইবে। তোমরা অন্যের উপর জুলুম করিবে না, আর নিজেরাও জুলুমের শিকার হইবে না। আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা, কোন সূد চলিবে না। আব্বাস ইبّن আবদুল মুত্তালিবের সমস্ত সূد রহিত করা হইল। জাহেলী যুগের সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণ রহিত করা হইল। সর্বপ্রথম আমি হারিছ ইবّن আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র ইবّন রাবী'আর হত্যার প্রতিশোধ রহিত করিলাম। ইন্ন রাবী'আ বানু লায়ছ গোত্রে দুগ্ধপোষ্য ছিল। বানু হুযায়ل তাহাকে হত্যা করিয়াছিল। সেই হত্যাকাণ্ড দিয়াই আমি জাহিলী যুগের সকল হত্যাকাণ্ডের ক্ষমা করার কাজ শুরু করিলাম।"
"অতঃপর বলিলেন, হে লোকজন! তোমাদের এই ভুখণ্ডে শয়তানের আর কখনো পুজা-অর্চনা করা হইবে না। এই ব্যাপারে সে নিরাশ হইয়া গিয়াছে। তবে ভোমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজে যাহাকে তোমরা অতি তুচ্ছ ও নগণ্য মনে করিয়া থাক, শয়তানের আনুগত্য করিলে তাতেই সে খুশি হইবে। অতএব তোমাদের দীনের ব্যপারে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক থাকিও।
"হে লোকসকল! নিষিদ্ধ মাসগুলকে পরবর্তী বসরের জন্য মূলতবী করিয়া রাখা আরও নিকৃষ্টতম অন্যায় ও কুফরী কর্ম। کاফিররা এই প্রথা-পদ্ধতির দ্বারা গোমরাহীর পথে পরিচালিত হয়। ইহার মাধ্যমে তাহারা রক্তপাতকে এক বৎসরের জন্য বৈধ, আবার অপর বৎসরের জন্য অবৈধ করিয়া লয়। এইভাবে তাহারা আল্লাহর নিষিদ্ধ দিনগুলিকে ফাঁকি দিবার চক্রান্ত করিয়া থাকে। এইভাবে তাহারা আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজকে বৈধ এবং আল্লাহর পক্ষ হইতে বৈধ কাজকে অবৈধ করিয়া লয়। আকাশ ও পৃথিবী প্রথম সৃষ্টির লগ্ন হইতেই ইহার নিজস্ব নিয়মে চলিয়া আসিতেছে। আল্লাহর নিকট মাস হইল বারটি। ইহার মধ্যে চারটি হইল নিষিদ্ধ মাস, পরপর তিনটি। আর অপরটি হইল মুদאר গোত্রের রজব মাস, যাহা শা'بان ও জমাদিউছ ছানীর মাঝখানে বিদ্যমান।
"তোমাদের নারীদের প্রতি তোমাদের কিছু কর্তব্য ও অধিকার রহিয়াছে এবং তোমাদের প্রতিও তাহাদের কিছু কর্তব্য ও অধিকার রহিয়াছে। নারীরা তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে শোয়াইবে না তোমরা যাহাদেরকে অপছন্দ কর; আর অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হইবে না। ইহা তাহাদের কর্তব্য। কিন্তু যদি তাহারা অশ্লীল জাতীয় কিছু করিয়া থাকে তবে তোমরা তাহাদেরকে পৃথক বিছানায় শোয়াইবে এবং মৃদু প্রহার করিবে। এই অধিকার তোমাদের রহিয়াছে। আর যদি তাহারা পরিশুদ্ধ হয় তাহা হইলে তোমরা তাহাদেরকে স্বাভাবিকভাবে খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করিবে। নারীদের প্রতি শুভাকাঙক্ষী থাকিও। কেননা তাহারা তোমাদের নিকট বন্দিনীস্বরূপ। আল্লাহর আমানت হিসাবে তোমরা তাহাদেরকে গ্রহণ করিয়াছ এবং আল্লাহর বিধানানুসারে তাহাদেরকে বৈধ করিয়া লইয়াছ।
"হে লোকসকল! তোমরা আমার কথা হৃদয়ঙ্গم কর। আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌছাইয়া দেওয়ার কাজ আমি সম্পন্ন করিয়াছি। আর আমি তোমাদের নিকট এমন জিনিস রাখিয়া যাইতেছি,
৫১৩ যদি তোমরা তাহা দৃঢ়ভাবে ধারণ করিয়া থাক তবে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হইবে না: প্রকাশ্য সুস্পষ্ট কিতাব, আল্লাহর কালাম ও তাঁহার রাসূলের সুন্নাহ।
হে লোকসকল! আমার কথা শোন এবং হৃদয়ঙ্গম কর। জানিয়া রাখ, প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই নিজের ভাইয়ের কোন জিনিস তাহার খুশীমনে দান ব্যতীত গ্রহণ করা অবৈধ। তোমরা মানুষের উপর জুলم করিও না।
“হে আল্লাহ! আমি কি তোমার দীন মানুষের নিকট পৌঁছাইয়া দিয়াছি? লোকজন বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আপনি পৌঁছাইয়াছেন। তারপর তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী ও থাকিও” (ইبّن হিশام, সীরাতে ইبّن হিশام, ৪খ., পৃ. ১৯০-৯۱; ইبّن ইসহাক, সীরাতে রাসূলুল্লাহ, ৩খ., পৃ. ৬৪৮; আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৫۱۳; আল্লামা শিবলী নু'মানী, সীরাতুন-নবী, ২খ., পৃ. ৪৪৭)।
তদানিন্তن পৃথিবীতে জাতিভেদ ছিল একটা বড় সমস্যা। উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র, ইতর-ভদ্র, সভ্য-অসভ্য প্রভৃতি জাত্যাভিমান বিদ্যমান ছিল যাহা ইসলামী সাম্যনীতির প্রধান অন্তরায় ছিল। রাজার নিকট প্রজা, ধর্মযাজকের নিকট সর্বসাধারণ, কুলীনদের নিকট অকুলীনরা ছিল উপেক্ষিত। বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ সকল বিভেদ, বৈষম্য ও কল্পিত মর্যাদার মানদণ্ড এবং অসাম্যের মাথায় কুঠারাঘাত করিয়া বজ্র গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা করিলেন: يايها الناس الا ان ربكم واحد وان اباكم واحد الا لا فضل لعربي على عجمى ولا لعجمي على عربى ولا لاحمر على أسود ولا لاسود على احمر الا بالتقوى.
"হে মানবসকল! নিশ্চয় তোমাদের প্রভু এক, তোমাদের পিতা এক। সাবধান! অনারবের উপর আরবের কিংবা আরবের উপর অনারবের, কৃষ্ণাঙ্গের উপর শ্বেতাঙ্গের কিংবা শ্বেতাঙ্গের উপর কৃষ্ণাঙ্গের কোন শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য নাই, তাকওয়া ব্যতীত।”
অর্থাৎ জাতি বা বর্ণভেদ শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয় বরং শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত মাপকাঠি হইল তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। সুতরাং যে যত বেশী আল্লাহভীরু সে তত বেশী শ্রেষ্ঠ (আল্লামা শিবলী নু'মানী, সীরাতুন-নবী, ২খ., পৃ. ৪৪৯; হযرت محمد মুستফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৯০۷)।
"জোর যার মুল্লুক তার" আরবগণ তখন এই নীতি অনুস্মরণ করিত। যখন যাহাকে ইচ্ছা হত্যা করিত, ধন-সম্পদ ছিনাইয়া লইত। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি সর্বত্রই চলিত অবাধে। তাই রাসূলুল্লাহ সকলের জন্য শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করিয়া ঘোষণা করিলেনঃ ان دماء كم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا الا كل شيئ من امر الجاهلية تحت قدمي موضوع.
৫১৪ "তোমাদের রক্ত (জীবন) ও তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য হারাম (পবিত্র), যেমন পবিত্র তোমাদের আজিকার এই দিন, তোমাদের এই মাসে, তোমাদের এই শহরে। জানিয়া রাখ! জাহিলিয়াতের সমস্ত নিয়ম-কানুন আমার পদতলে পদদলিত" (ইবّন مাজা, ২খ., হা. ৩০۷৪, ১০২৪-২৫; মুসলিম, ৪খ., পৃ. ৪১; আল্লামা শিবলী নু'মানী, سীরাতুন- নবী, ২খ., ৪৪৯; আর-রাহীকুল মাখতুম, আররী, পৃ. ৪৮৪; আস-সীরাহ আল হালাবিয়्या, ৩খ., পৃ. ২৬۵)।
আরবদের মাঝে প্রতিশোধ-স্পৃহা ছিল অত্যন্ত প্রবল। কোন গোত্র কর্তৃক কোন গোত্রের লোক নিহত হইলে ইহার প্রতিশোধ গ্রহণ করাকে অপরিহার্য বলিয়া বিবেচনা করিত। ফলে সমগ্র আরবে মারামারি কাটাকাটি, যুদ্ধবিগ্রহ অনবরত লাগিয়াই থাকিত। এই সকল জঘন্য প্রথা ও আভিজাত্যবোধ রহিত করিয়া বিশ্বজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠাকল্পে রাসূলুল্লাহ ঘোষণা করেন:
دماء الجاهلية موضوع وان اول دم اضع من دماءنا دم ابن ربيعة بن الحارث كان مسترضعا في بني سعد فقتله هذيل.
"জাহিলিয়াতের রক্তের (হত্যার) প্রতিশোধ রহিত করা হইল। আমি সর্বপ্রথম আমার বংশের রক্ত তথা রাবীআ ইبّن হারিছ-এর রক্তপণ বাতিল করিলাম। রাবী'আর পুত্র بনী সা'د গোত্রে দুধ পানরত অবস্থায় হুযায়ل তাহাকে হত্যা করে" (সুনান ইبّন مাজা, ২খ., হা. ৩০۷৪, ১০২৫; মুসলিম, ৪খ., পৃ. ৪۱-৪২; শিবলী নু'মানী, সীরাতুন-নবী, ২খ., ৪৪৮; হযরত محمد মুستফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৯০۸)।
তৎকালে আরবের সর্বত্রই সূدের রমরমা ব্যবসায় ছিল। চক্রবৃদ্ধি সূدের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হইত দরিদ্র জনগণ। অনেক সময় সূدের টাকা পরিশোধ করিতে না পারিয়া দরিদ্র জনগণ মহাজনদের ক্রীতদাসে পরিণত হইয়া প্রভুর সুখ, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ জীবন যাপনে নিজের জীবন জলা لی দিতে বাধ্য হইত। মানবতার মুক্তির কান্ডারী বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সূدের জাল ছিন্ন করিয়া মানবতার মুক্তির ব্যবস্থা করিলেন। তাই তিনি ঘোষণা করিলেন:
ربا الجاهلية موضوع واول ربا اضع ربا العباس بن عبد المطلب فانه موضوع كله.
"জাহিলী যুগের সকল সূد বাতিল করা হইল। সর্বপ্রথম আমি আব্বাস ইبّن আবদুল মুত্তালিব-এর পাওনা সূد রহিত করিলাম। তাহা সম্পূর্ণই রহিত করা হইল" (سুনان ইبّন مাজা, ২খ., হা. ৩০۷۴, ১০২৫; মুসলিম, ৪খ., পৃ. ۴۱-৪২; শিবলী নু'মানী, সীরাতুন-نبی, ২খ., পৃ. ۴۴۵-۴۴۹; হযرت محمد মুستফা (س) সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৯০۹)।
উল্লেখ থাকে যে, আব্বাস (را) হইলেন রাসূলুল্লাহ-এর আপন চাচা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি সূدের ব্যবসায় করিতেন। সেই সময় অনেক লোকের নিকট তাঁহার সূدের টাকা পাওনা ছিল। রাসূলুল্লাহ সর্বপ্রথম তাঁহার সূد বাতিল বলিয়া ঘোষণা করেন (শিবলী নু'مانী, প্রাগুক্ত,
তৎকালে আরবে নারীরা ভোগের সামগ্রী বলিয়া বিবেচিত হইত। পুরুষরা তাহাদেরকে যথেচ্ছ ব্যবহার করিত। কন্যাসন্তান জীবন্ত কবর দিয়া তাহাদের জীবনাবসান করিত। প্রয়োজনে তাহাদেরকে মহাজনদের নিকট বন্ধক রাখিত। এক কথায় নারীরা ছিল সর্বাপেক্ষা লাঞ্ছিত বঞ্চিত ঘৃণিত ও নিষ্পেষিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদেরকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করিলেন। তিনি ইরশাদ করেন:
فاتقوا الله في النساء فانكم اخذتموهن بامان الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله ولكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم احدا تكرهونه فان فعلن فان الله قد اذن لكم ان تهجروهن في المضاجع وتضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف.
"মহিলাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। কেননা তোমরা তাহাদেরকে আল্লাহ্র আমানতরূপে গ্রহণ করিয়াছ এবং তাহাদের গুপ্তাঙ্গকে আল্লাহর নামে হালাল করিয়াছ। তাহাদের উপর তোমাদের অধিকার হইল, তাহারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন লোককে না আসিতে দেয় তোমরা যাহাকে অপছন্দ কর; আর অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হইবে না। ইহা তাহাদের কর্তব্য। কিন্তু যদি তাহারা অশ্লীল জাতীয় কিছু করিয়া থাকে তবে তোমরা তাঁহাদেরকে মৃদু প্রহার করিবে। আর তোমাদের উপর তাহাদের অধিকার হইল, তোমরা তাহাদের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করিবে” (ইبّন مাজা, ২খ., হা. ৩০۷۴, ১০২৫; আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৪۷۴; ইبّন ইসহাক, সীরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ৩খ., পৃ. ৬৪৮-৬৪৯; সীরাতে ইبّن হিশাম, পৃ. ৩৩১)।
ইসলাম-পূর্ব দুনিয়াতে অনেক ধর্মমত প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু ঐ সকল ধর্মমতের বুনিয়াদ শরীয়ত প্রদানকারীর কোন লিখিত বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না বিধায় এক সময় তাহা বিকৃত হইয়া বিলোপ হইতে লাগিল। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের মূলনীতিসমূহ লক্ষাধিক উম্মতের স্যুয়নে ঘোষণা করিয়াছেন এবং তাহা অনুস্মরণ করিয়া চলিবার জন্য গুরুত্বারোপ করিয়াছেন। তিনি বলেন:
اني تركت فيكم ما لن تضلوا بعده ان اعتصتم به کتاب الله.
"আমি তোমাদের নিকট এমন জিনিস রাখিয়া যাইতেছি, যদি তোমরা তাহা দৃঢ়ভাবে আঁকড়াইয়া থাক তবে কখনও পথভ্রষ্ট হইবে না। তাহা হইল আল্লাহর কিতاب" (ইবّন مাজা, ২খ., হা. ৩০۷۴, ১০২৫; মুসলিম, ৪খ., পৃ. ۴۱-৪২)।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক সকল হকদারকে তাহার ন্যায্য হক প্রদান করিয়াছেন। সুতরাং এখন হইতে কোন উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত করিবার প্রয়োজন নাই।
"আর যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি হইল প্রস্তরাঘাতে তাহাকে হত্যা করা। আর যে ছেলে নিজের পিতার বদলে অন্য কাঁহারৌ ঔরসে জন্ম হইয়াছে বলিয়া দাবি করিল এবং কোন গোলাম আপন মনিব ব্যতীত অন্য কাহারো মালিকানার প্রতি নিজেকে সংযুক্ত করিল, তাহার উপর আল্লাহর লানত ও অভিসম্পাত অবধারিত। মহিলাদের স্বামীর সম্পদ হইতে অনুমতি ছাড়া দান করা
৫১৬ জায়েয নয়। ধার করা বস্তু অবশ্যই ফেরৎ দিবে। কোন বস্তুর যিম্মাদার হইলে তাহা অবশ্য পূরণ করিবে। উপহারের পরিবর্তে উপহার প্রদান করিবে” (আল্লামা শিবলী নোমানী, সীরাতুন-নবী, ২খ., পৃ. ৪৫০)।
তিনি আরো বলেন, "হে লোকসকল! জানিয়া রাখো, আমার পরে আর কোন নবী নাই। আমিই শেষ নবী। তোমাদের পর কোন উম্মت নাই। তোমরাই সর্বশেষ উম্মত। সুতরাং তোমরা আপন প্রতিপালকের ইবাদত করিবে، پانچ ওয়াক্ত নামায আদায় করিবে، رمضان মাসে রোযা রাখিবে। আর তোমরা ধন-সম্পদের যাকাত সানন্দচিত্তে প্রদান করিবে। আপন প্রভুর ঘরের হজ্জ আদায় করিবে। নিজের শাসকের আনুগত্য করিবে। যদি তোমরা এইরূপ কর তবে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারিবে" (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৫۱۳)।
তিনি আরো বলিলেন، মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। এক ভাই স্বেচ্ছায় অন্য ভাইকে যাহা দান করিবে তাহাই গ্রহণ করা তাহার জন্য বৈধ। কাজেই তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করিবে না" (ইبّন ইসহাক، سীরাতে রাসূলুল্লাহ، ৩খ.، পৃ. ৬৪৯)।
• তারপর রাসূলুল্লাহ (স) উপস্থিত জনতার প্রতি লক্ষ্য করিয়া প্রশ্ন করেন: وانتم تسئالون عنى فما انتم قائلون قالوا نشهد انك قد بلغت واريت ونصحت فقال باصبعه السبابة يرفعها الى السماء وينكتها الى الناس اللهم اشهد اللهم اشهد اللهم اشهد.
"তোমরা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইবে، তখন কি বলিবে؟ সাহাবাগণ বলিলেন، আমরা সাক্ষ্য দিব যে، আপনি আল্লাহর নির্দেশসমূহ সকলের নিকট পৌঁছাইয়া দিয়াছেন، দেখাইয়া দিয়াছেন এবং উত্তম উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ আপন শাহাদات অঙ্গুলী আকাশের দিকে তুলিয়া এবং তাহা জনগণের প্রতি ঝুকাইয়া বলিলেন، হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।” (ইبّن مাজা، ২খ.، হা. ৩০۷۴، ১০২৫; মুসলিম، ৪খ.، পৃ. ۴۱; আল্লামা শিবলী নু'মানী، سীরাতুন-نবী، ২খ.، পৃ. ۴۵۰; আসাহْhuس سیار، ۵۲۲; سীরাতে ইبّن হিশام، ৩৩১; ইبّن ইসহাক، سীরাতে রাসূলুল্লাহ، ৩খ.، ৬৪৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۸۹)।
আরাফাত ময়দানে ভাষণ সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ হযرت بیلال (را)-কে আযান দিতে নির্দেশ দেন। হযরত বিলাল (রা) আযান দিলেন। অতঃপর তিনি প্রথমে দুই রাআত যুহরের নামায আদায় করেন। যুহরের নামায আদায়ের পর পুনরায় ইকামত দিয়া তিনি দুই রাকআত আসরের নামায আদায় করেন। নামাযে তিনি নিঃশব্দেই কিরআত পাঠ করেন। দিনটি ছিল শুক্রবার، তবে তিনি জুমু'আর নামায আদায় করেন নাই، ইহার পরিবর্তে যুহরের নামায আদায় করিলেন। তবে উভয় নামাযের মাঝে তিনি অন্য কোন কিছুই পড়িলেন না (আসাহুস সিয়ার، ৫۲۲-۵۲۳; ইبّن مাজা، ২খ.، হা. ৩০۷۴، ১০২৫; মুসলিম، ৪খ.، পৃ. ۴۱-৪২)।
৫১৭ নামায শেষ করিয়া রাসূলুল্লাহ سওয়ারীতে আরোহণ করিলেন এবং ওکوফের স্থানে আগমন করিলেন। আরাফাতে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ বলিলেন، আমি এই স্থানে অবস্থান করিলেও মূলত আরাফাতের পুরা এলাকাই অবস্থানস্থল। ইহার কোন অংশে অবস্থান করিলেই হজ্জের রোকন আদায় হইয়া যাইবে। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
ان رسول الله ﷺ قال وقفت ههنا وعرفة كلها موقف وفي رواية اخرى كل عرفة موقف.
"রাসূলুল্লাহ বলিলেন، আমি এইখানে অবস্থান করিলাম। তবে আরাফাতের পুরাটাই অবস্থানস্থল। অন্য একটি বর্ণনায় রহিয়াছে، আরাফাত সম্পূর্ণটাই অবস্থানস্থল" (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৫۹۳، পৃ. ۷۹۶)।
ওکوফের স্থানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ দ্বিপ্রহরের পর হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিবলামুখি হইয়া মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দু'আ করিতে থাকেন। দু'আয় তিনি তাঁহার হস্ত মুবারক তাঁহার বুক পর্যন্ত উঠাইয়াছিলেন ঠিক তেমনিভাবে যেমন কোন ভিক্ষুক، প্রার্থী ও অসহায় مسکین কিছু যাজ্ঞা কালে হাত তুলিয়া থাকে। দু'আয় তিনি নিজের এবং সকল উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আরাফাত প্রান্তরে তিনি দীর্ঘ সময় দু'آয় রত ছিলেন। এইখানে তিনি কি দুآ করিয়াছিলেন তাহা বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে সহীح ریwaayat বর্ণনা হইয়াছে।
আরাফাত দিবসের দু'আ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ নিজেই বলিয়াছেন، আরাফাত দিবসের দু'آئی শ্রেষ্ঠ দু'آ যাহা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূল করিয়াছিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
ان النبي ﷺ خير الدعاء دعاء يوم عرفة وخير ما قلت انا والنبيون من قبلى لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير.
"রাসূলুল্লাহ বলিয়াছেন، সকল দু'আআর শ্রেষ্ট দু'آ আরাফাত দিবসের দু'আ যাহা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী সকল নবীগণ পাঠ করিয়াছেন। সেই উত্তম দু'آ হইল، আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি এক، তাঁহার কোন শরীক নাই। রাজত্ব কেবল তাঁহারই। সকল প্রশংসা তাঁহার জন্যই। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান" (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৫۹۸، পৃ. ۷۹۷; আস-سীরাহ আল-হালাبیय्या، ۳খ.، ২৬۷; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۳; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۳)।
হযرت যুবায়ر ইबनুল আওامی (را) বলিয়াছেন، আমি রাসূলুল্লাহ-কে আরাফাত প্রান্তরে এই আয়াত পড়িতে শুনিয়াছি:
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلهَ إِلا هُوَ وَالمَلائِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.
৫১৮ "আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয় তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও আল্লাহর ন্যায়নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত; তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (৩ঃ ১৮)।
তারপর তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ! আমিও ইহার উপর সাক্ষী থাকিলাম' (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ۱۹۳)।
হযرت علی (রা) বর্ণনা করিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ আরাফাত প্রান্তরে দু'আয় বলিয়াছিলেন:
لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير اللهم اجعل في بصرى نورا وفي سمعي هذا وفي قلبي هذا اللهم اشرح لى صدري ويسر لي أمرى اللهم انى اعوذ بك من وسواس الصدر وشتات الامر وشر فتنة القبر وشر ما يلج في الليل وشر ما يلج في النهار وشرما تهب به الرياح وشر بوائق الدهر.
"এক আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তাঁহার কোন শরীক নাই। রাজত্ব কেবল তাঁহারই। প্রশংসাও তাঁহারই প্রাপ্য। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! নূর দার করুন আমার দৃষ্টিতে، আমার শ্রবণেন্দ্রীয়ে এবং আমার কলবেও নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমার বক্ষকে প্রশস্ত করিয়া দিন، আমার কাজকে সহজ করিয়া দিন। হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই অন্তরের কুমন্ত্রণা হইতে، মতবিরোধের কাজ হইতে، কবরের ফিতনা হইতে، ঐ সকল মন্দ হইতে যাহা দিনের বেলায় সংঘটিত হইয়া থাকে এবং যাহা রাতের বেলায় সংঘটিত হইয়া থাকে। আরও পানاه চাই ঐ সকল মন্দ হইতে যাহা বাতাস বহন করিয়া নিয়া আসে এবং ঐ সকল মন্দ হইতে যাহা সকল সময় বিদ্যমান থাকে” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۳-৯৪)।
হযرت ইবّن আব্বাস (রা) বলিয়াছেন، বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ-এর আরাফাত প্রান্তরের দু'আ ছিল নিম্নরূপ:
اللهم انك تسمع كلامى وترى مكاني و تعلم سرى وعلانيتي ولا يخفى عليك شيئ من أمرى أنا البائس الفقير المستغيث المستجير الرجل المشفق المعترف بذبنه اسألك مسألة المسكين وابتهل اليك ابتهال الفاليل وادعوك دعاء الخائف الضرير من خضعت لك رقبة وفاضت لك عبرته وذلك لك جسده ورغم انفه اللهم لا تجعلني بدعائك رب شقيا وكن بي رعوفا رحيما يا خير المسئو ليي وياخير المعطين.
৫১৯ "হে আল্লাহ! আপনি আমার কথা শুনিতেছেন، আমার অবস্থাও দেখিতেছেন। আমার গোপন ও প্রকাশ্য সকল কিছুই আপনি জানেন। আমার কোন কিছুই আপনার নিকট গোপন নয়। আমি বিপদগ্রস্ত، মুখাপেক্ষী، ফরিয়াদী، আশ্রয়প্রার্থী، অসহায় এবং আপন গুনাহের স্বীকারোক্তিকারী। অসহায় ভিক্ষুকের মত আপনার নিকট প্রার্থনা করিতেছি আর কাতরভাবে চাহিতেছি، যেমন চাহিতে থাকে ভীত-শংকিত ও বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তি। আর তেমনিভাবে চাহিতেছি যেমনিভাবে চায় অবনত মস্তকে অশ্রুসিক্ত নয়নে، কেহ যাহার গর্دان অবনত থাকে তোমার সামনে، নয়ন থাকে অশ্রুসিক্ত، দেহ থাকে লাঞ্ছিত আর নাক থাকে ধুলামলিন। হে আল্লাহ! তোমার নিকট দু'আয় আমাকে ব্যর্থকাম করিও না। আর আমার প্রতি তুমি দয়ালু ও মেহেরবান হও ওহে সর্বোত্তম প্রার্থনা কবুলকারী ও সর্বোত্তম দাতা" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۴; আস-سীরাহ আল-হালাবিয়্যা، ۳খ.، পৃ. ২৬۷; আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা، ৪খ.، পৃ. ৪৩৮)!
আরাফাত প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ দু'আরত ছিলেন، উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছিলেন। হঠাৎ দু'আর মাঝে হাসিয়া উঠিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে :
قال تسبم فقال له ابو بكر وعمر بابی انت وامى ان هذه الساعة ما كنت تضحك فيها فما اضحك اضحك الله سنك قال ان عدو الله ابليس لما علم ان الله عز وجل قد استجاب دعاتی وغفر لامتى اخذ التراب فجعل يحثوه على راسه ويدعوا بالوجل والثبور فاضحكني ما رايت من جزعه.
"রাবী (আব্বাস) বলেন، রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি দিলেন। ابی باك্ (را) ও উমার (রা) বলিলেন، আমাদের পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান হউক! ইহা এমন একটি সময় যখন আপনি কখনও হাসেন না। কিসে আপনাকে হাসাইল؟ আল্লাহ আপনাকে আরও হাসান। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন، আল্লাহর শত্রু ইبليس যখন জানিতে পারিল، আল্লাহ আমার প্রার্থনা কবুল করিয়াছেন এবং আমার উম্মতকে ক্ষমা করিয়াছেন তখন সে মাটি লইয়া নিজের মাথায় মারিতে লাগিল এবং নিজের ধ্বংস ও দুর্ভাগ্যকে ডাকিতে লাগিল، আর বলিতে লাগিল، হায় আমার পোড়া কপাল! হায় দুর্ভাগ্য! সুতরাং তাহার সেই অস্থিরতা দেখিয়াছি، তাহাই আমাকে হাসাইয়াছে" (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৫৬۳، পৃ. ۷۹۹; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۴)।
রাসুলুল্লাহ (স) আরাফাত প্রান্তরে অবস্থান করিতেছিলেন، তখন পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا.
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণ করিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করিলাম" (৫:৩)।
৫২০ উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর হযরত উমার (را) কাঁদিতে লাগিলেন। কারণ তিনি ঈমানী দূরদর্শিতা দ্বারা বুঝিতে পারিয়াছিলেন যে، হয়ত রাসূলুল্লাহ অচিরেই দুনিয়া হইতে বিদায় গ্রহণ করিবেন। তিনি হযرت উমার (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন، হে উমার। তুমি কাঁদিতেছ কেন؟ তিনি বলিলেন، আমি এইজন্য কাঁদিতেছি যে، পূর্ণতার পর তো কেবল অপূর্ণতাই বাকী থাকে। উল্লেখ্য যে، উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ মাত্র تین মাস জীবিত ছিলেন। তবে এই সময় আর কোন শারী'আতের বিধি-বিধান নাযিল হয় নাই (আসাহْhuس سیار، ৫۲۳; আর-রাহীকুল ماخტომ، পৃ. ৫۱۴; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۵; আস-سীরাه আল-হালাبیय्या، ۳খ.، পৃ. ২৬۷; আল্লামা শিবলী নু'মানী، سীরাতুন-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۰; আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা، ۴খ.، পৃ. ৪৩৮)।
আরাফাত প্রান্তরে এক লোক سওয়ারী হইতে অবতরণকালে পড়িয়া গিয়া ইনতিকাল করেন। রাসূলুল্লাহ তাহাকে গোসল দিতে নির্দেশ দেন। ইহরামের দুই টুকরা কাপড় দ্বারাই তাহাকে দাফন করা হয়। রাসূলুল্লাহ তাহাকে দাফنকালে কোনরূপ সুগন্ধি ব্যবহার করিতে এবং তাহার মুখمন্ডল ঢাকিতে নিষেধ করিয়া দেন। তিনি বলেন، ক্বিয়ামত দিবসে ঐ ব্যক্তি কবর হইতে তালবিয়া পাঠ করিতে করিতে উঠিবে (আসাহْhuس سیار، ۵۲۳; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۱-۱۹۲)।
সূর্যাست পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ আরাফাত প্রান্তরেই অবস্থান করেন এবং এখানকার সকল کار্যাবলী সম্পন্ন করেন। সূর্য অস্তমিত হইল، এমনকি সূর্যের আভাটুকুও বিদূরিত হইয়া গেল তখন তিনি সদلবলে আরাফাত প্রান্তর ত্যাগ করিয়া মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলেন। এইবার তিনি আরাফাত হইতে প্রত্যাবর্তনকালে হযরত اسامہ ইبّن যায়د (را)-কে سওয়اری উটের উপর উঠাইয়া নিলেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে:
ان اسامة بن زيد كان ردف النبي ﷺ من عرفة الى المذود لفة.
"اسامہ ইبّن যায়د (را) আরাফাত হইতে মুযদালিফা পর্যন্ত سওয়ারীতে রাসূলুল্লাহ -এর পিছনে বসা ছিলেন" (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৬۰۶، পৃ. ۸۰۱; বুখারী، হা. ১৬۶۹، পৃ. ۳۳۲; আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা، ۴খ.، পৃ. ৪৩৯)।
পথে চলার গতি ছিল স্বাভাবিক। খুব দ্রুতও নহে، আবার খুব ধীরেও নহে। اسامہ ইبّن যায়د (را)، যিনি রাসূলুল্লাহ-এর পিছনে سওয়ারীতে আরোহী ছিলেন، তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল، রাসূলুল্লাহ-এর চলার গতি কেমন ছিল؟ উত্তরে তিনি বলিলেন، রাসূলুল্লাহ স্বাভাবিক গতিতে চলিতেন। তবে যখন খোলা জায়গা পাইতেন তখন দৌড়াইয়া চলিতেন (মুসলিম، ۴খ.، পৃ. ۷۴; বুখারী، হা. ১৬۶۶، পৃ. ۳۳۱، کتابul حज्ज، بابوs سائر ایزا دافا'আ মিন 'আরাফাতা)।
রাসূলুল্লাহ স্বাভাবিক গতিতে চলিবার জন্য সাহابا-ই کیرامদেরকে নির্দেশ দেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে:
قال يايها الناس عليكم بالسكينة فان البر ليس بالايضاع.
৫২১ "তিনি বলিলেন، হে লোকসকল! তোমরা শান্তভাবে চল। কেননা তাড়াহুড়ায় কোন কল্যাণ নাই” (বুখারী، হা.. ১৬۷۱، পৃ. ۳۳۲; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۱۲-۵۲۴، আল-کاستالানী، প্রাগুক্ত، ৪খ.، পৃ. ۴۰۹)।
আরাফাত হইতে মুযদালিফায় প্রত্যাবর্তনকালে রাসূলুল্লাহ রাস্তায় তালবিয়া পাঠ করিতেছিলেন، কখনো তালবিয়া পাঠ বন্ধ করেন নাই। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
عن الفضل أن رسول الله ﷺ لم يزل يلبي حتى بلغ الجمرة.
"ফাদل ইبّن আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ জামরায় পৌঁছا পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করিতেছিলেন” (বুখারী، হা. ১৬۷۰، পৃ. ۳۳۲)।
রাস্তার এক জায়গায় রাসূলুল্লাহ سওয়ারী হইতে অবতরণ করিয়া পেশাব করিলেন। পেশাবান্তে হালকাভাবে পবিত্রতা অর্জন করিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
دفع رسول الله ﷺ من عرفة فنزل الشعب فبال ثم توضا ولم يسبغ الوضوء.
"রাসূলুল্লাহ আরাফাত হইতে প্রত্যাবর্তনকালে উপত্যকায় অবতরণ করিলেন এবং পেশাব করিলেন، অতঃপর হালকাভাবে উযূ করিলেন” (বুখারী، হা. ১৬۷۲، পৃ. ۳۳۲; মুসলিম، ৪খ.، পৃ. ۷۳)।
"রাসূলুল্লাহ উযূ করিতেছেন দেখিয়া হযرت اسامہ ইبّن যায়د (را) তাঁহাকে نامাযের কথা স্মরণ করাইয়া দিলেন। তিনি বলিলেন: الصلاة امامك "নামায আরও সামনে আগাইয়া পড়িব” (বুখারী، হা. ১৬۷۲، পৃ. ۳۳۲; মুসলিম، ۴খ.، পৃ. ۷۳; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۴; শিবলী নু'মানী، سীরাতুন-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۱)।
মুযدالیفায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ ভালভাবে نامাযের জন্য উযূ করিলেন। মুیاযযینকে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। তারপর মাগরিব ও ইشا এক সাথে আদায় করিলেন। মুসলিম শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
جمع رسول الله ﷺ بين المغرب والعشاء بجمع ليس بينهما سجدة وصلى المغرب ثلاث ركعات وصلى العشاء ركعتين.
"রাসূলুল্লাহ মুযدالیفায় মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করিয়াছেন، তবে উভয় نامাযের মাঝে অন্য কোন নفل আদায় করেন নাই। তিনি মাগরিব তিন রাکاআত এবং ইشا দুই راکاআত আদায় করেন" (মুসলিম، ۴খ.، পৃ. ۷۵)।
অন্য এক বর্ণনায় রহিয়াছে، মাগরিব ও ইشا তিনি এক ইকামাতে আদায় করিয়াছেন। বলা হইয়াছে:
افضنا مع ابن عمر حتى اتينا جمعا فصلى بنا المغرب والعشاء باقامة واحدة ثم انصرف فقال هكذا صلى بنا رسول الله ﷺ في هذا المكان.
۵۲۲ “সাঈদ ইبّن মুবایير (র) বলেন، আমরা হযرت ইبّن উমার (রা)-এর সাথে প্রত্যাবর্তন করিয়া মুযدالیফায় আসিলাম। তিনি আমাদেরকে লইয়া মাগরিব ও ইশার নামায এক ইকামতে আদায় করিলেন। نامাযশেষে তিনি বলিলেন، এইভাবে রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে লইয়া এই স্থানে نامায পড়িয়াছেন” (মুসলিম، ۴خ، ۷۳-۷۶)।
কিন্তু বুখারী শরীফে বর্ণিত হইয়াছে، মুযদালিفায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ প্রথমে মাগরিবের نامায আদায় করিলেন، অতঃপর ইশা আদায় করেন। বর্ণিত হইয়াছে :
فجاء المؤذلفة فتوضأ فاسبغ ثم اقيمت الصلاة فصلى المغرب ثم اناخ كل انسان
بصيره فى منزله ثم اقيمت الصلاة فصلى ولم يصل بينهما.
“তিনি মুযدالیفায় আসিয়া ভালভাবে উযু করিলেন، তারপর نامাযের ইকامت দেওয়া হইলে মাগরিবের نامায আদায় করিলেন। نامাযশেষে লোকজন سس উটকে নিজেদের منزلے বসাইলেন। অতঃপর আবার ইকامت দেওয়া হইলে তিনি ইশার نامায পড়িলেন، উভয়ের মাঝে অন্য কোন نامায আদায় করিলেন না” (বুখারী، হা. ১৬۷۲، পৃ. ۳۰۲)।
তবে বিশুদ্ধ কথা হইল، آযান একটিই হইয়াছিল। আর ইকامت দুইটি হইয়াছিল। প্রথমে মাগরিবের نامায আদায় করেন، তারপর অল্প সময় বিরতি দিয়া ইশার نامায আদায় করেন (শিবলী নু’مانী، سীরাتون-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۱; আসاحْhuس سیار، পৃ. ۵۲۴; আল-বিদায়ا وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۱۵۶)。
মুযদالیفায় ইশার نامায সমাপ্ত করিয়া রাসূলুল্লাহ ঘুমাইয়া পড়িলেন। سارا রাত তিনি নিদ্রায় কাটাইলেন। চিراচরিত অভ্যাস অনুযায়ী রাত্রে তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীর জন্য উঠিলেন না، একেবারে ফজরের সময় উঠিলেন। এমনিতেই দুই ঈদের রাত্রিতেও তাঁহার তাহাজ্জুদ نامায আদায় করিবার ব্যাপারে নির্ভর যোগ্য কোন প্রমাণ নাই। মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেন যে، এই একটি মাত্র রাত্রেই রাসূলুল্লাহ তাহাজ্জুদ ত্যাগ করিয়াছিলেন (আসাহْhuس سیار، ۵۲۴; শিবলী নু’مانী، سীরাتون-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۱; আল-বিদায়ا وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۱۵۶; আল-ماواحیbulluduন্নিیا، ৪خ.، পৃ. ۴۴۰-۴۴۱)।
মুযদالیফা হইতে রাসূলুল্লাহ পরিবারের দুর্বলদেরকে রাত্রের বেলাই মিনায় পাঠাইয়া দেন। তবে তাঁহাদেরকে রাতের বেলায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করিতে নিষেধ করিয়াছিলেন। হাদীس শরীফে বর্ণিত হইয়াছে، হযرت আয়েشا (را) বলিয়াছেন :
نزلنا المزدلفة فاستاذنت النبى ﷺ سودة ان تدفع قبل حطمة الناس وكانت امراة بطيئة قال لها فادفعت قبل حطمة الناس.
“আমরা মুযদালিفায় আসিয়া উপনীত হইলাম। তখন হযرت ساوদা (را) রাসূলুল্লাহ -এর নিকট রাস্তায় লোকজনের ভিড় শুরু হওয়ার পূর্বেই মুযদالیফা ত্যাগ করিবার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনি ছিলেন স্থূলদেহী মহিলা। রাসূলুল্লাহ তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড় শুরু হওয়ার পূর্বেই মিনায় চলিয়া যান” (বুখারী، হা. ১৬۸۰، পৃ. ۳۰۴; سஹீح مسلم، ۴خ.، পৃ. ۷۵)।
۵۲۳ হযرت মুহাম্মদ
রাসূলুল্লাহ-এর সহধর্মিনীদের মধ্যে কেবল হযرت ساوদা (را)-ই পূর্বে প্রেরিত দুর্বলদের সাথে গিয়াছিলেন، আর বাকী সকলেই রাসূলুল্লাহ-এর সহিত রহিয়া গেলেন। তবে سஹீح مسلمের ریwaayatে উممu حبیba (রা)-এর কথাও উল্লেখ রহিয়াছে। সম্ভবত তিনি দুর্বলদের মধ্যেই ছিলেন। তাই তিনিও গিয়াছিলেন। ساہیحายนএর রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়، রাসূলুল্লাহ بনী মুত্তালিব গোত্রের বালকদেরকেও রাতের বেলায় মীনায় পাঠাইয়া দেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে، হযرت ইبّن আব্বাস (রা) বলিয়াছেন:
قدمنا رسول الله ﷺ ليلة المزدلفة اغيلمة بنى عبد المطلب فجعل يلطم افخاذنا ويقول ابنى لا ترموا الجمرة حتى تطلع الشمس.
"রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে عبد المطلب বংশের বালকদের সাথে মুযدالیفার রাত্রিতেই মীনায় পাঠাইয়া দেন। রাসূলুল্লাহ আমাদের রান চাপড়াইয়া বলিলেন، হে আমার ছোট সন্তানেরা। সূর্যোদয়ের পূর্বে জামরায় কংকর নিক্ষেপ করিবে না” (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৬۱۳، ۸۰۳; আসাহ্huس سیار، ۵۲۴-২৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۱۹۹-۲۰۰)।
মুযدالیفا হইতে যাহারা রাত্রি বেলায়ই মিনায় আসিয়াছিলেন তাঁহাদের সহিত হযرت আবদুল্লাহ ইبّন আব্বাস (রা)-ও ছিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
قال انا ممن قدم النبي ﷺ ليلة المزدلفة في ضعفة اهله.
তিনি বলিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ আপন পরিবারের যে সকল দুর্বলদেরকে রাত্রিতেই মিনায় পাঠাইয়া দিয়াছিলেন আমিও তাহাদের সহিত ছিলাম” (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৬۰۹، ۸۰۲; مسلم، ৪খ.، পৃ. ۷۷)।
মোটকথা রাসূলুল্লাহ কেবল দুর্বল، বালক এবং মহিলাদেরকেই রাস্তায় ভিড়ের পূর্বেই মিনায় পাঠাইয়া দেন। কারণ অন্যান্য হাজ্জীগণ যখন মুযদالیফা হইতে মিনায় প্রত্যাবর্তন করেন তখন রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় হয়। এই ভিড়ের মধ্যে যাহাদের পক্ষে চলা অসম্ভব তিনি তাহাদেরকেই রাত্রি বেলায় মিনার যাইবার অনুমতি প্রদান করেন। তবে রাত্রি বেলায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করিতে বারণ করেন। পরের দিন আযান ও ইকامتসহ ফজরের نامায তিনি ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথেই আদায় করিলেন (বুখারী، হা. ১৬۸۳; মুসলিম، ۴خ.، পৃ.۷۶)。
نامায শেষ করিয়া রাসূলুল্লাহ سওয়ারীতে আরোহণ করিলেন এবং ওকূফের স্থানে আগমন করিলেন। ওکوফ স্থল তথা মাش'আরুল হারাম-এর নিকট আসিয়া সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত দু'আ-درود، تکبیر-তাহলীলে মশগুল থাকেন। আর এইখানে যিকিরে মশগুল থাকিবার জন্য আল্লাহ তা'আলা سس पवित्र কুরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। ইরশাদ হইতেছে:
فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ.
"যখন তোমরা আরাফাত হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে তখন মাশ'আরুল হারামের নিকট পৌছিয়া আল্লাহকে স্মরণ করিবে” (২: ۱۹۸)।
**۵۲۴** ওয়াক্বফ সম্পর্কে তিনি বলিলেন، আমি এইখানে অবস্থান করিলেও মুযدالیফা পুরোটাই অবস্থান স্থল (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۶; আস-سীরাহ আল-হালাبیय्या، ۳য়، পৃ. ২৬۸)।
মুযدالیফায় অবস্থান ও মাش'আরুল হারামে আল্লাহর স্মরণ সম্পন্ন করিয়া পরের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনামুখী رওয়ানা হইলেন। এইবার তিনি তাঁহার سওয়ারীতে فادل ইبّن আব্বাস (را)-কে উঠাইয়া লইলেন। اسامہ (রা) তখন পায়ে হাঁটিয়া চলিলেন (বুখারী، হা. ১৬۶۶، পৃ. ۳۰۴; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۶; আস-سীরাহ আল-হালাبیय्या، ۳য়.، পৃ. ২৬۸)।
মুযদالیفا হইতে প্রত্যাবর্তনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিলেন، আমাদের রীতি-নীতি পৌত্তলিক কুরায়শদের রীতি-নীতির বিপরীত। কারণ তাহারা এইখান হইতে সূর্যোদয়ের পর প্রত্যাবর্তন করিত، এমনকি সূর্যের আলোতে আশপাশের পাহাড়গুলি ঝলمل করিতে থাকিত। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছেঃ
إِنَّ المُشْرِكِيْنَ كَانُوا لَا يَفِيْضُوْنَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَيَقُوْلُوْنَ أَشْرِقْ ثَبِيْرُ وَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَالَفَهُمْ ثُمَّ أَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ
“সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত মুশরিকরা মুযدالیফা হইতে প্রত্যাবর্তন করিত না، সূর্যোদয়ের পর প্রত্যাবর্তন করিত। তাহারা বলিত، হে ছাবীর পাহাড়! রোদে ঝলমল করিতে থাক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাদের বিপরীত করিয়া সূর্যোদয়ের পূর্বেই মুযদালিফা হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন।” (বুখারী، হা. ১৬۶۴، পৃ. ۳۰۴; মিশকাতুল মাসাবীহ، হা. ২৬۱۲، পৃ. ২৫২، পৃ. ৩০০; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۶; শিবলী নু’মানী، سীরাতুন-نبی، ২য়.، পৃ. ۴۵۱)।
পথে চলার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখতেন। তবে জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর আর তালবিয়া পাঠ করেন নাই। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে :
لَمْ يَزَلِ النَّبِيُّ ﷺ يُلَبِّيْ حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ
“কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার কংকর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখেন” (বুখারী، হা. ۱۵۸۳، পৃ. ۳۰۴; مسلم، ৪খ.، পৃ. ۷۱; আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা، ৪খ.، পৃ. ۴۴۷)।
فادل ইবّن আব্বাস (را) বলিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব শান্তভাবে চলিতেছিলেন، লোকজনকেও শান্তভাবে চলিতে বলিতেছিলেন। এইভাবে চলিতে চলিতে এক সময় তাহারা ওয়াদী মুহাসসার নামক স্থানে আসিয়া উপনীত হন। ওয়াদী মুহাসসার হইল সেই স্থান যেখানে ইয়ামানী সম্রাট ابراher হস্তি বাহিনীকে ধ্বংস করা হইয়াছিল। ابراher পবিত্র কা’বা ঘরকে ধ্বংস করিবার মানসে একদল হস্তিবাহিনী প্রেরণ করিয়াছিল। উক্ত প্রান্তরে আসার পর আল্লাহ তা’আলা সেই বাহিনীকে অতি ক্ষুদ্রকায় এক ঝাঁক পাখি প্রেরণ করিয়া ধ্বংস করিয়াছিলেন। سورة فیل-এ এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রহিয়াছে। এই স্থানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটকে দ্রুত হাঁকাইলেন। তাঁহার অভ্যাস ছিল، যখন কোন ধ্বংসপ্রাপ্ত কওমের ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়া রাস্তা
৫২৫ অতিক্রম করিতেন তখন খুব দ্রুতবেগে চলিতেন। যেমন তাবুক যুদ্ধের সময় তিনি ছامোদ জাতির ধ্বংসস্থল খুব দ্রুত গতিতে অতিক্রম করিয়াছিলেন، আর সেই সময় তিনি নিজ মুখমণ্ডলও ঢাকিয়া রাখিয়াছিলেন।
ওয়াদী মুহাসসার আসিয়া রাসূলুল্লাহ সকলকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন، তোমরা কংকর সংগ্রহ করিয়া لও، জামরায় নিক্ষেপ করিবে। তিনি নিজেও কংকর সংগ্রহ করাইয়া লইলেন। হযرت ইبّن আব্বাস (را)-কে বলিলেন، আমার জন্য পাথর সংগ্রহ করিয়া দাও। সেই সময় ইبّن আব্বাস (را) অল্প বয়স্ক ছিলেন। তিনি পাথর সংগ্রহ করিলেন। রাসূলুল্লাহ তাহা হাতে লইয়া কীভাবে নিক্ষেপ করিতে হয় তাহা দেখাইয়া দিলেন। আর বলিলেন، ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না। ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ছিল পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসের অন্যতম কারণ। সুতরাং তোমরা বাড়াবাড়ি হইতে বিরত থাকিও (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵২৫-২৬; আল্লামা শিবলী নু'মানী، سীরাتون-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۱; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۰۲; হযرت محمد মুস্তফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন، পৃ. ۹۱۲; نبیے رحمت، বঙ্গানুবাদ، পৃ. ۴۰۷; আস-سীরাه আল-হালাبیय्या، ۳خ.، পৃ. ২৬۸-৬۹)।
📄 মিনার খুতবা
যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখকে ইয়াওমুন নাহর، ইয়াওমুল আদাহী، আবার ইয়াওমুল হাজ্জ আল-আকবারও বলা হয়। ঐদিন মিনায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ কংকর নিক্ষেপের জন্য প্রথমেই জামরাতুল কুবরার দিকে রওয়ানা হইলেন। এইখানে তিনি মাঝের রাস্তা ধরিয়া অগ্রসর হইলেন، যাহা জামরাতুল আকাবায় গিয়া শেষ হইয়াছে। مিনা তখন তাঁহার ডান দিকে আর বায়তুল্লাহ বাম দিকে রহিল। জামরার দিকে মুখ করিয়া তিনি উটের উপর থাকিয়াই কংকর নিক্ষেপ করেন। হযرت جابر (را) বর্ণনা করিয়াছেন:
رأيت النبي ﷺ يرمى على راحلته يوم النحر ويقول لتاخذوا مناسككم فاني لا ادرى لعلى لا احج بعد حجتي هذا .
"আমি কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ -কে উটের উপর سওয়ার অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করিতে দেখিয়াছি। তিনি বলিলেন: তোমরা হজ্জের বিধি-বিধান শিখিয়া لও। কেননা সম্ভবত আমার এই হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করিতে পারিব না” (মুসলিম، ۴খ.، ۷۹; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۰۶)।
জামرا মোট তিনت۔ এই সকল জামরার মধ্যে যাহা مسجدul খায়ফ-এর নিকটবর্তী ইহাকে جامراتول الا বা প্রথম জামরা বলা হয়। ইহার পরবর্তী جامراকে جامراتول اsata বা মধ্যم جامرا বলা হয়। আর ইহার পরবর্তী جامراকে جامراتول کبرا বা جامراتول Akaba বলা হয়। موزدالیفا হইতে মিনায় আসিয়া প্রথমেই جامراتول Akabaয় কংکر নিক্ষেپ করিতে হয়। রাসূলুল্লাহ মিনায় আসিয়া প্রথমেই جامراتول Akabaয় কংکر নিক্ষেپ করেন، ساتটি কংکر। প্রতিটি কংکر নিক্ষেپের সঙ্গে সঙ্গে تکبیر বলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
رمى بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة.
৫২৬ “তিনি ساتটি কংকর নিক্ষেپ করিলেন। প্রতিটি কংکر নিক্ষেپের সময় তিনি تکبیر বলিলেন” (মুসলিম، ۴خ.، পৃ. ۷۸-۷۹; বুখারী، হা. ۱۷۵۳، পৃ. ۳۴۷)।
প্রতি দিন কংکر নিক্ষেپের সময় সাধারণত সূর্যোদয়ের পরবর্তী سوبحه صادق-এর পূর্ব পর্যন্ত। তবে রাসূলুল্লাহ কুরবানীর দিন দ্বিপ্রহরের সময় এবং পরবর্তী দিনসমূহে দ্বিপ্রহরের পর কংকর নিক্ষেپ করেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
عن جابر قال رمى رسول الله الله الجمرة يوم النحر ضحى واما بعد ذلك فاذا زالت الشمس.
“হযرت جابر (রা) বলিয়াছেন، কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ দ্বিপ্রহরের পূর্বে কংকর নিক্ষেপ করিয়াছেন। আর অন্যান্য দিন দ্বিপ্রহরের পর কংকর নিক্ষেپ করিয়াছেন” (মুসলিম، ۴খ.، পৃ. ۸۰; ইبّن مাজা، ۲খ.، হা. ۳۰۵۳، ۱۰۱۴; مشkatul-مسাবীح، ۲খ.، হা. ২৬۲۰، পৃ. ۸۰۵)।
কংকর নিক্ষেপ করিবার সময় হযরত بیلال (রা) ও হযرت اسامہ (را) রাসূলুল্লাহ-এর পাশেই ছিলেন। তাঁহাদের একজন রাসূলুল্লাহ-এর উটের লাগام ধরিয়াছিলেন، আর অন্য জন কাপড় দিয়া তাঁহাকে ছায়া প্রদান করিতেছিলেন। কেননা রোদের তীব্রতা তখন খুব বেশী ছিল (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۶; আস-سীরাه আল-হালাبیയ्या، ۳খ.، পৃ. ২৬۹; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۲۰۶)।
মিনার ختবা
جامراتول Akabaয় কংکر নিক্ষেپ সমাপ্ত করিয়া রাসূলুল্লাহ মিনা প্রান্তরে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি مسجدul খায়ف-এর নিকট আসিয়া سওয়ারী থামাইলেন। মুসলমানগণও আসিয়া সেখানে সমবেত হইলেন। অগণিত লোক। সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা মুশকিল। তাঁহার ডান দিকে মুহাজিরগণ এবং বাম পাশে আনصارগণ অবস্থান করিয়াছিলেন। আর উভয়ের মাঝখানে ছিল সাধারণ জনগণ। রাসূলুল্লাহ উটের উপর আরোহী ছিলেন। হযরত بیلال (রা) উটের রশি হাতে লইয়া দাঁড়াইয়াছিলেন। হযرت اسامہ (রা) কাপড় টাঙ্গাইয়া রাসূলুল্লাহ-কে ছায়া প্রদান করিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ এই বৃহৎ জনসমুদ্রের প্রতি তাকাইলেন। কি অপূর্ব দৃশ্য! যেন মানবতার ঢল। ইহা আর কিছু নহে، نبوةর তেইশ বৎসরের শুভফল এখন তাঁহারই চোখের সামনে ভাসিতেছে। জীবনে কঠোর সাধনার এই শুভফল سس প্রত্যক্ষ করিয়া তাঁহার হৃদয় আবেগে আপ্লুত হইয়া উঠিল। নয়ন যুগল শীতল হইয়া উঠিল। সর্বোপরি পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়া কৃতজ্ঞতায় তাঁহার মস্তق অবনত হইয়া আসিল। তিনি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। সেই সময় তিনি আরও প্রত্যক্ষ করিলেন যে، سس গ্রহণ ও سس স্বীকৃতির নূর যমীন হইতে আকাশ পর্যন্ত সর্বত্রই আলোকিত। نبوةর পূর্ণতার ও পরিসমাপ্তির سীল-موهر জগতের বুকে অংকিত হইতেছে। ইসলাম ধর্মের পরিপূর্ণতার বিজয়গাথা বিশ্ব জগতের প্রতিটি অনু-পরমাণুর কণ্ঠ হইতে নিঃসৃত হইতেছে। এক কথায় আজ سسএর জয় হইল। সকল অধর্ম، অন্যায়، অসس পদদলিত হইল। আরাফাত প্রান্তরের ন্যায়
৫২৭ মিনাতেও তিনি একটি খতবা প্রদান করেন। এই খتবা (ভাষণ) ও ছিল গুরুগম্ভীর، চিত্তাকর্ষক ও হৃদয়গ্রাহী। এই ختবাতেও তিনি দীন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা দিয়াছেন، বিশেষ করিয়া কুরবানীর দিনের মর্যাদা، সম্মান، فزیلت و مکهর পবিত্রতা-এর কথা বিশেষভাবে বর্ণনা করেন। ইহা ছাড়া আগের দিনের ভাষণের অনেক বিষয় তিনি পুনরাবৃত্তি করেন، বিশেষ করিয়া যে সকল বিষয় একান্ত গুরুত্বপূর্ণ (শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ۲خ.، পৃ. ۴۵۱-۴۵; আসاحْhuس سیار، পৃ. ۵۲۶; আর-রাহীকুল ماخტომ، পৃ. ۵۱۵; হযرت محمد মুستفا সমকালীন পরিবেশ ও জীবন، পৃ.-۹۱۲-۹۱۳)।
কুরবানীর দিনের ভাষণ-এর বর্ণনা বুখারী-মুসলিমসহ সকল হাদীছগ্রন্থে বিভিন্ন রিওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে। তিনি ختবার প্রথমেই উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করিয়া ভাষণ আরম্ভ করেন। বর্ণিত হইয়াছে:
يايها الناس الا اى يوم هذا ثلاث مرات قالوا يوم الحج الأكبر قال فان دماءكم وأموالكم واعراضكم بينكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا الا لا يجنى جان الا على نفسه ولا يجزى والد على ولده ولا مولود عن والده الا ان الشيطان قد ايس ان يعبد في بلدكم هذا ابدا ولكن سيكون له طاعة في بعض ما تحتقرون من اعمالكم فيرضى بها الا كل دم من دماء الجاهلية موضوع واول ما اضع منها دم الحارث بن عبد المطلب (كان مرضعا في بني ليث فقتلته هذيل الا وان كل ربا من ربا الجاهلية موضوع لكم رعوس اموالكم لا تظلمون ولا تظلمون الا يا امتاه هل بلغت ثلاث مرات قالوا نعم قال اللهم اشهد ثلاث مرات.
“হে মানবমণ্ডলী! ইহা কোন দিন؟ এই কথা তিনি تینবার জিজ্ঞাসা করেন। তাহারা বলিল، হজ্জের বড় দিন। তিনি বলিলেন، তোমাদের রক্ত، তোমাদের সম্পদ، তোমাদের মান-সম্মান পরস্পরের নিকট হারাম- যেমন হারাম তোমাদের এই দিনে، তোমাদের এই মাসে، তোমাদের এই শহরে। সাবধান! একজনের অপরাধে অন্যজন দায়ী হইবে না। পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধে তাহার পিতাকে দায়ী করা যাইবে না। সাবধান! শয়তান নিরাশ হইয়া গিয়াছে এইজন্য যে، তোমাদের এই ভূমিতে আর কখনও তাহার ইবাদত করা হইবে না। তবে অচিরেই তাহার আনুগত্য করা হইরে এমন সব کار্যাবলীর মাধ্যমে যাহাকে তোমরা তুচ্ছ মনে করিয়া থাক। আর তাহাতেই সে খুশি হইবে। সাবধান! জাহিলিয়াতের সকল রক্তপাতকে রহিত করা হইল। আর প্রথম যে রক্ত রহিত করিলাম তাহা হইল হারিছ ইبّন عبد المطلب-এর রক্ত (بনী লায়ছ গোত্রে দুধপানরত অবস্থায় তাহাকে হুযায়ل গোত্র হত্যা করে)। সাবধান! জাহিলিয়াতের সকল সূd রহিত করা হইল। তোমরা কেবল মূলধন ফেরত পাইবে। তোমরা জুলم করিও না، তাহা হইলে তোমাদের উপরও জুলم করা হইবে না। ওহে লোকসকল! আমি কি তোমাদের নিকট আল্লাহর বাণী পৌছাইয়াছি؟ এই কথা তিনি تینবার
৫২৮ জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা উত্তরে বলিলেন، হাঁ। তিনি বলিলেন، হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। এই কথাও তিনি তিনবার বলিলেন" (ইبّن مাজা، ۲খ.، হা. ৩০۵۵، ১০১৫; তু. বুখারী، পৃ. ২৩۴-৩৫)।
অপর একটি বর্ণনায় আসিয়াছে، কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন :
قال ان الزمان قد استدار کهیئته يوم خلق الله السموات والارض السنة اثنى عشر شهرا منها اربعة حرم ثلاث متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم ورجب مضر الذي بين جمادى و شعبان وقال ای شهر هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سیمیه بغير اسمه فقال اليس ذا الحجة قلنا بلى قال اى بلد هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سیمیه بغير اسمه قال اليس البلدة قلنا بلى قال فانى يوم هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سيميه بغير اسمه قال اليس يوم النحر قلنا بلى قال فان دماءكم وأموالكم حرام كحرمة يومكم هذا في بلدكم هذا في شهركم هذا وستلقون ربكم فيسألكم عن اعمالكم الا فلا ترجعوا ضلالا لا يضرب بعضكم رقاب بعض.
"আবর্তনের ফলে সময় আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া আসিয়াছে। যেই দিন আল্লাহ তা'আলা যমীন ও আসমানসমূহ সৃষ্টি করিয়াছেন তখন হইতেই বৎসরে বার মাস। তাহার মাঝে চার মাস হারাম। তিনটি মাস একসাথে যিলকা'د، যিলহজ্জ ও মুহররম। আর চতুর্থটি হইল মুদאר গোত্রের রজব মাস، যাহা জমাদিউس سانی ও শা'بان মাসের মধ্যবর্তী। তারপর তিনি বলিলেন، ইহা কোন মাস؟ আমরা বলিলাম، আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন। তাহার পর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকেন। আমরা ভাবিলাম، তিনি হয়ত ইহার পুরাতন নামের পরিবর্তে নূতন নামকরণ করিবেন। তারপর তিনি বলিলেন، ইহা যিলহজ্জ মাস নহে কি؟ আমরা বলিলাম، হাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করিলেন، ইহা কোন শহর؟ আমরা বলিলাম، আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন। তারপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকেন। আমরা ভাবিলাম، হয়ত তিনি ইহার পুরাতন নামের বদলে নূতন নাম রাখিবেন। তারপর বলিলেন، ইহা কি (মক্কা) শহর নয়؟ আমরা বলিলাম، হাঁ। তারপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন، ইহা কোন দিন؟ আমরা বলিলাম، আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল ভাল জানেন। তারপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকেন। আমরা ভাবিলাম، হয়ত তিনি ইহার পুরাতন নামের বদলে নূতন নামকরণ করিবেন। তারপর বলিলেন، ইহা কুরবানীর দিন নহে কি؟ আমরা বলিলাম، হাঁ। তিনি বলিলেন، তোমাদের রক্ত، তোমাদের সম্পদ، তোমাদের ইয্যত-সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম، যেমন তোমাদের নিকট এই মাস، এই দিন ও এই শহর পবিত্র বা হারাম। তারপর বলিলেন، তোমরা অতি সত্বর তোমাদের প্রতিপালকের সহিত মিলিত হইবে। তিনি তোমাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিবেন। সাবধান! আমার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট
৫২৯ হইয়া যাাইও না। একজন অন্য জনকে হত্যা করিও না" (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ২৬۵۹، ۸۱۶; আর-রাহীকুল ماخтом، পৃ. ۵۱۵-১৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۲۲۰-۲۲۱; ইبّن কাছীর، আস-سীরাه আন-نাবابیয়্যা، ۴خ.، পৃ. ۴۰۰-۴۰۱; আল-ماواحیbulluduন্নিیا، ۴খ.، পৃ. ۴۵۵)।
অপর বর্ণনায় রহিয়াছে، তিনি পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করিয়াছিলেন: إِنَّمَا النَّسِيُّ زِيَادَةٌ فِي الكُفْرِ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لَيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ.
"এই যে মাসকে পিছাইয়া দেওয়া কেবল কুফুরী বৃদ্ধি করা যাহা দ্বারা কাফিরগণকে বিভ্রান্ত করা হয়। তাহারা উহাকে কোন বৎসর বৈধ করে এবং কোন বৎসর অবৈধ করে যাহাতে তাহারা আল্লাহ যেইগুলি নিষিদ্ধ করিয়াছেন সেইগুলির গণনা পূর্ণ করিতে পারে। অনন্তর আল্লাহ যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা তাহারা যেন হালাল করিতে পারে" (۹:۳۷)।
কেননা کاফিররা سفر মাসকে কোন বৎসর হারাম ঘোষণা করিত। আবার কোন বৎসর মুহাররাম মাসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিত। আবার কোন বৎসর سفر মাসকে নিষিদ্ধ করিত، আবার মুহারرام মাসকে হালাল করিত। আর ইহাই হইল মাস বদল (আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۲۲)。
তিনি আরও ইরশাদ করিয়াছেন، “হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয় মহিলাগণ তোমাদের নিকট বন্দিনী। তোমরা তাহাদেরকে আল্লাহর আমানত গ্রহণ করিয়াছ। আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তাহাদের গুপ্তাঙ্গকে হালাল করিয়াছ। তাহাদের উপর তোমাদের অধিকার রহিয়াছে، ঠিক তেমনি তোমাদের উপরও তাহাদের অধিকার রহিয়াছে। মহিলাদের উপর তোমাদের অধিকার হইল، তাহারা তোমরা ভিন্ন অন্য কাহাকে বিছানায় আনিবে না، ন্যায়সঙ্গত কাজে তোমাদের অবাধ্য হইবে না। যদি তাহারা তাহা পালন করে তবে তোমরা তাহাদের বিরুদ্ধে ছিদ্রান্বেষণ করিবে না। তোমাদের উপর তাহাদের অধিকার হইল، তোমরা স্বাভাবিকভাবে তাহাদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করিবে। যদি তোমরা তাহাদেরকে প্রহার কর তবে হালকাভাবে প্রহার করিবে। কোন মানুষ তাহার ভাহ-এর সম্পদ বিনা অনুমতিতে গ্রহণ করিতে পারিবে না। তবে যদি সে খুশি হইয়া কিছু দান করে তবে তাহা গ্রহণ করা যাইবে।
"হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের নিকট এমন জিনিস রাখিয়া যাইতেছি، যদি তোমরা উহা ভাল করিয়া ধরিয়া রাখ তবে কোন দিন পথভ্রষ্ট হইবে না। তাহা হইল আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন। তোমরা ইহার উপর আমل করিবে"। তিনি আরও বলেন: اعبدوا ربكم وصلوا خمسكم وصوموا شهركم واطيعوا ذا امركم تدخل جنة ربكم.
"তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করিবে، তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করিবে، তোমাদের رمजान মাসটির রোযা রাখিবে এবং তোমাদের শাসকদের আনুগত্য করিবে، তাহা হইলে তোমরা তোমাদের প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ করিবে।"
৫৩০ পরিশেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন :
الا هل بلغت قالوا نعم قال اللهم اشهد فيبلغ الشاهد الغائب رب مبلغ اوعى من سامع.
“আমি কি আল্লাহর বাণী পৌঁছাইয়া দিয়াছি؟ উপস্থিত জনতা সমস্বরে জবাব দিল، হাঁ، পৌঁছাইয়াছেন। তিনি বলিলেন، হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর বলিলেন، প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গের নিকট এই নির্দেশ পৌঁছাইয়া দিবে। কেননা অনেক সময় বাহকের তুলনায় শ্রোতা অধিক স্মৃতিধর হইয়া থাকে।” অতঃপর তিনি তাহাদেরকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. ۲۶۶; আসاحْhuس سیار، ۵۲۷; ইبّن কাছীর، আস-سীরাه আন-نابابیয়্যা، ۴খ.، পৃ. ۴۰۳-۴۰۴; শিবলী নু'مانী، سীরাতুন-نبی، ۲خ.، পৃ. ۴۵۴; سীরাته ইبّن হিশام، পৃ. ۱۹۱)।
خutbaর পর রাসূলুল্লাহ ঐ স্থানেই কিছুক্ষণ অবস্থান করিলেন। তখন লোকজন আসিয়া হজ্জ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন। কেননা তিনি বলিয়াছিলেন:
خذوا عني مناسككم لعلى لا اراكم بعد عامي هذا .
“তোমরা তোমাদের হজ্জের বিধি-বিধান আমার নিকট হইতে শিখিয়া لও। সম্ভবত এই বৎসরের পর তোমাদের সাথে আমার আর দেখা হইবে না।"
তাই তিনি ঐ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করিতেছিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
ان رسول الله ﷺ وقف في حجة الوداع فجعلوا يسالونه فقال رجل لم اشعر فحلقت قبل ان اذبح قال اذبح ولا حرج فجاء اخر فقال لم اشعر فنحرت قبل ان ارمى قالم ارم ولا حرج فما سئل النبي ﷺ عن شيء قدم ولا اخر الا قال افعل ولا حرج.
“বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ মিনা প্রান্তরে خutbaর পর অপেক্ষা করিতেছিলেন। তখন লোকজন আসিয়া তাঁহাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। একজন আসিয়া বলিলেন، আমি বুঝিতে পারি নাই، এই যবেح করিবার পূর্বেই মাথা মুণ্ডন করিয়াছি। তিনি বলিলেন، এখন যবেح করিয়া لও، কোন অসুবিধা নাই। একজন আসিয়া বলিলেন، আমি বুঝিতে পারি নাই، তাই পাথর নিক্ষেপের পূর্বেই কুরবানী করিয়াছি। তিনি বলিলেন، কোন অসুবিধা নাই، এখন কংকর নিক্ষেপ করিয়া لও। সেই দিন তাঁহাকে পূর্বে করা হইয়াছে অথবা পরে করা হইয়াছে এমন যত প্রশ্ন করা হইয়াছিল উত্তরে তিনি বলিয়াছিলেন، কোন অসুবিধা নাই، এখন করিয়া لও” (মুসলিম، ۴خ.، পৃ. ۸۴; আসاحْhuس سیار، পৃ. ۵۲۷; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵خ.، পৃ. ۲۰۳; আস-سীরাه আল-হালাبیय्या، ۳খ.، পৃ. ২৬۹)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ خutbaর স্থান ত্যাগ করিয়া কুরবানীর স্থানে আসিলেন। কুরবানীর জন্য মূলত নির্দিষ্ট কোন স্থান নাই، বরং পুরা مিনা প্রান্তরই কুরবানীর স্থান। যে কোন স্থানেই কুরবানী করা যায়، তাহাতে কোন অসুবিধা নাই। কেননা হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
৫৩১ منى كلها منحر وكل مجاج مكة طريق ومنحر.
"মিনা পুরাটাই কুরবানীর স্থান। মক্কার সমস্ত گالیই কুরবানীর স্থান" (ইبّن مাজা، ۲خ.، হা. ۳۰۴۹، ۱۰۱۳)।
কুরবানীর স্থানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ কুরবানী করিলেন। تেসট্রিটি উট তিনি নিজ হাতে যবেহ করিলেন। এই উটগুলি তিনি মদীনা হইতেই লইয়া আসিয়াছিলেন। তবে হযرت ইبّن আব্বাস (را) বলিয়াছেন، বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ-কে এক শত উট উপহার প্রদান করা হয়। ইহা হইতে তিনি তেসট্রিটি উট নিজহাতে কুরবানী করেন، বাকীগুলি হযرت علی (را)-কে نحر করিতে নির্দেশ দেন। হযরত علی (را)-কে আরও নির্দেশ দেন যেন এইগুলির চামড়া، রশি، گوشت প্রভৃতি মানুষের মাঝে سداقا করিয়া দেওয়া হয়। সাথে সাথে বলিয়া দিলেন চামড়া খসানো এবং گوشت বানানোর পারিশ্রমিক যেন ইহা হইতে প্রদান করা না হয়، বরং পারিশ্রমিক ভিন্নভাবে দেওয়া হয়। প্রতিটি উট হইতে কিছু কিছু گوشت নিয়া রান্না করিতেও নির্দেশ দেন। নির্দেশানুসারে হযرت علی (را) প্রতিটি কুরবানী হইতে কিছু কিছু گوشت নিয়া একটি পাত্রে রান্না করিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ পাকানো گوشت ও ইহার ঝোল খাইয়াছিলেন।
হযرت আনاس (را) বর্ণনা করিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ নিজ হাতে ساتটি উট نحر (যবেহ) করিয়াছিলেন। আর হযরত علی (را) বর্ণনা করিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ নিজ হাতে ত্রীশটি উট نحر করিয়াছিলেন। তবে এই ریwaayatটি সমস্ত ساہیح ریwaayatএর পরিপন্থী। এই সকল বর্ণনার মাঝে সমন্বয় করিয়া বলা যায়، সম্ভবত রাসূলুল্লাহ প্রথমে ساتটি উট একাই নিজ হাতে نحر করিয়াছেন। তারপর হযرت علی (را)-এর সহযোগিতায় অতিরিক্ত তেসট্রিটি উট نحر করিয়াছেন। তারপর এক শত পূর্ণ হইতে বাকী ত্রীশটি উট যাহা তিনি হযرت علی (را)-কে نحر করিতে নির্দেশ প্রদান করেন-ইহাকেই সম্ভবত রাবী উল্টাইয়া বর্ণনা করিয়াছেন যে، রাসূলুল্লাহ্ ত্রীশটি উট نحর করিয়াছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۷-۵۲۸; আস-سীরাه আল-হালাبیয়্যা، ۳খ.، পৃ. ২৬۹; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ۵খ.، পৃ. পৃ. ২০۶-۲۰۷; শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ২খ.، পৃ. ۴۵۴; আর-রাহীকুল ماخтом، পৃ. ۵۱۴)。
রাসূলুল্লাহ নিজ হাতে তেসট্রিটি উট نحر করিয়াছেন। এই নির্দিষ্ট সংখ্যক উট নিজ হাতে نحر করিবার রহস্য সম্পর্কে ইন্ন হাযم، ইبّن হিবّان প্রমুখ বর্ণনা করিয়াছেন، ইহা তাঁহার বয়স অনুপাতে ছিল। তখন তাঁহার বয়সও ছিল ৬৩ বৎসর। প্রতি বৎসর একটি হিসাবে এই ৬৩টি উট نحر করিয়াছিলেন (ইন্ন কাছীর، প্রাগুক্ত، ২০۷)।
রাসূলুল্লাহ তাঁহার সহধর্মিনীদের পক্ষ হইতেও কুরবানী করিয়াছিলেন। তবে তাঁহাদের পক্ষে উট নয় বরং গরু কুরবানী করিয়াছিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে: হযرت جابر (را) বর্ণনা করিয়াছেন:
ذبح رسول الله ﷺ عن عائشة بقرة يوم النحر.
৫৩২ "রাসূলুল্লাহ কুরবানীর দিন হযرت আইশা (রা)-এর পক্ষ হইতে একটি গরু কুরবানী করিয়াছিলেন" (مشkatul مسাবীح، ২খ.، হা. ২৬۲۹، পৃ. ৮০۷; مسلم، ۴খ.، পৃ. ۸۸)।
তবে অপরাপর বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে، তিনি কেবল হযرت আইশা (রা)-এর পক্ষ হইতেই নহে، বরং সকল স্ত্রীর পক্ষ হইতে একটি গরু কুরবানী করিয়াছিলেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
نحر النبي ﷺ عن نسائه بقرة في حجته.
"নবী কারীম তাঁহার স্ত্রীদের পক্ষ হইতে একটি গরু কুরবানী করিয়াছিলেন"। কুরবানীর সকল কার্যাবলী সম্পাদন করিয়া রাসূলুল্লাহ হাজ্জাম (নাপিত) ডাকাইলেন এবং মাথা মুণ্ডন করিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
ان رسول الله ﷺ حلق راسه في حجة الوداع.
"বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ তাঁহার মাতা মুণ্ডন করিয়াছিলেন” (মুসলিম، ৪খ.، পৃ. ৮২)। রাসূলুল্লাহ-এর নির্দেশক্রমে নাপিত প্রথমে তাঁহার মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশের চুল মুণ্ডন করেন। বর্ণিত হইয়াছে:
تحلق شقه الايمن فقسمه فيمن يليه ثم قال احلق الشق الآخر فقال ابن ابو طلحة فاعطاه اياه.
"প্রথমে তাঁহার মাথার ডান পাশের চুল মুণ্ডন করা হয়। তাহা তিনি তাঁহার নিকটস্থ লোকদের মাঝে বণ্টন করিয়া দেন। তারপর বলিলেন، বাম পাশের চুল মুণ্ডন কর। তারপর তিনি বলিলেন، কোথায় ابی তালহা؟ তিনি এই চুল ابی তালহা (রা)-কে দান করেন" (সাহীح مسلم، ৪.খ.، পৃ. ৮۲; আসাহ্huس سیار، পৃ. ۵۲۸; আল-ماواحیbulluduন্নিیا، ৪খ.، পৃ. ۴۴۹)。
তবে হযرت আনاس (را) বলিয়াছেন، উভয় দিকের চুলই হযرت তালহা (রা) পাইয়াছিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
ثم دعا الحلاق وناول الحالق شقه الايمن فحلقه ثم دعا ابا طلحة الانصاری فاعطاه اياه ثم ناول الشق الايسر فقال احلق فحلقه فاعطاه ابا طلحة فقال اقسمه بين الناس.
"তারপর তিনি নাপিত ডাকাইলেন। নাপিতকে তিনি নিজ মাথার ডানদিক বাড়াইয়া দিলেন। সে উহা মুণ্ডন করিল। অতঃপর তিনি হযرت ابی তালহা আনসারীকে ডাকিয়া উহা তাঁহাকে দিলেন। তারপর মাথার বাম পাশ বাড়াইয়া দিলেন। বলিলেন، মুণ্ডন কর। সে তাহাও মুণ্ডন করিল। ইহাও তিনি ابی তালহা (রা)-কে দিয়া বলিলেন، এইগুলি মানুষের
৫৩৩ মাঝে বন্টন করিয়া দাও” (আসাহ্huس سیار، পৃ. ۵۲۹; আস-سীরাه আল-হালাبیय्या، ۳খ.، পৃ. ২৬۹-৭০)।
ইমাম বুখারী (র) বলিয়াছেন، ما'مار ইبّن আবদুল্লাহ ইবّن হানযালা ইبّن আওف (را) রাসূলুল্লাহ-এর মাথা মুণ্ডন করিয়াছিলেন। আর ساہیحاینের বর্ণনানুসারে ইبّن আব্বাস (রা) বর্ণনা করিয়াছেন، হযرت مو'آبیہ (রা) রাসূলুল্লাহ-এর মাথার চুল خাট করিয়াছিলেন। مو'آبیہ (রা) বলিয়াছেন : انا قصرت من راس النبي عند المروة بمشقص. "আমি ماروا'র নিকট রাসূলুল্লাহ-এর মাথার চুল کاঁচি দ্বারা কাটিয়াছিলাম" (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ২৬۴۷، পৃ. ۸۱۲)。
উভয় বর্ণনায় বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। সমাধানকল্পে বলা যায়، চুল ছাটার ঘটনা হজ্জের সময় نا অন্য সময়ে তাহা স্পষ্ট করিয়া বলা হয় নাই। হজ্জের সময় চুল ছাটার বর্ণনা সঠিক নয়। কারণ হজ্জের সময় চুল কাটা হয় মিনাতে، مارواতে কখনো চুল কাটা হয় না। তাহা ছাড়া হজ্জের সময় তিনি মাথা মুণ্ডন করিয়াছিলেন তাহা অনেক বর্ণনায় রহিয়াছে। এতগুলি বর্ণনার বিপরীতে একটিমাত্র ریwaayat গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং চুল ছاটার ঘটনা অন্য কোন সময় হইবে، নয়তো কোন উমরার সময় হইয়া থাকিবে (تنویرال مشکات، বঙ্গানুবাদ ৪খ.، পৃ. ۷۶.।
হলک (মুণ্ডন) ও کسر (ছাটা) উভয়টাই জায়েয। তবে کسرএর চাইতে হলک করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ سس হলک করিয়াছিলেন। আর সাহাবীদের কেহ কেহ হলک (মুণ্ডন) করিয়াছিলেন، আবার কেহ কেহ کسر (চুল খাটো) করিয়াছিলেন। তবে রাসূলুল্লাহ হলکকারীদেরকে কسرকারীদের উপর প্রাধান্য দিয়াছিলেন। বর্ণিত হইয়াছে :
"হে আল্লাহ! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদিগকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ আরয করিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! کسرকারীকেও। তিনি বলিলেন، হে আল্লাহ! হলককারীদেরকে ক্ষমা করুন। এই কথা তিনি تینবার বলিলেন। সাহাবীগণ বলিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! کسرকারীদেরকেও। তখন তিনি বলিলেন، کسرকারীদেরকেও” (ইبّن مাজা، ۲খ.، হা. ۳۰۴۳، ১০۱۲; مسلم، ৪খ.، পৃ. ۸۱; আস-سীরাه আল-হালাبیయ्या ۳খ.، পৃ. ۲۷۰; مشkatul مسাবীح، ۲খ.، হা. ২৬۴۹، পৃ. ۸۱۲; আল-ماواحیbulluduন্নিیا، ৪খ.، পৃ. ৪৪১)।
মাথা হলک শেষ করিয়া রাসূলুল্লাহ সওয়ারীর পিঠে আরোহণ করিলেন এবং مিনা প্রান্তর হইতে মক্কায় আগমন করিলেন। মক্কায় আসিয়া তিনি তাওয়াফে ইফাযা সমাপ্ত করেন। এই তাওয়াفকে تاوافه যিয়ারت، تاوافه صدر، تاوافه رکن এবং تاوافه ইয়াওমুন نحرও বলা হয়। এই তাওয়াف তিনি বাহনের পিঠে আরোহিত অবস্থায় করিয়াছিলেন। سஹீح মুসলিম শরীফে হযরত جابر (را) হইতে বর্ণিত আছে :
طاف رسول الله ﷺ بالبيت من حجة الوداع على راحلته يستلم الحجر بالمحجن.
৫০۴ "বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ سওয়ারীতে আরোহণ করিয়া বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিয়াছিলেন এবং লাঠি দ্বারা হাজার আসওয়াদকে চুম্বন করিয়াছিলেন" (মুসলিম، ۴খ.، পৃ. ۶۳)। ساہیحاینে হযرت ইبّن আব্বাস (রা) হইতেও অনুরূপ বর্ণনা রহিয়াছে।
طاف النبي ﷺ في حجة الوداع على بعير يستلم الركن بالمحجن.
"বিদায় হজ্জে নবী উটের উপর আরোহণ করিয়া বায়তুল্লাহ তাওয়াف করিয়াছিলেন এবং লাঠি দ্বারা হাজারে আসওয়াদকে স্পর্শ করিয়াছিলেন" (ওয়ালিয়্যুদ্দীন، প্রাগুক্ত، ২খ.، হা. ২৫۷۰، পৃ. ۷۹۱)।
উক্ত দুইটি রিওয়ায়াতে বর্ণিত তাওয়াفই ছিল তাওয়াফে ইফাযা، تاوافه కుदूম হইতে পারে না। কেননা উহাতে رمل ছিল। আর বিদায়ী تاوافهও হইতে পারে না। কেননা উহা তিনি রাতের বেলায় করিয়াছিলেন (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۹; আস-سীরাه আল-হালাبیয়্যা، ۳খ.، পৃ. ۲۷۰)।
তাওয়াফে যিয়ারত রাসূলুল্লাহ দিনের বেলা করিয়াছিলেন। হযرت جابر (রা) ریwaayat করিয়াছেন، হযرت শুفای' (র) হযرت ইبّن উمار (রা) হইতে এবং হযرت ابی سلیمہ (را) হযرت আইশা (রা) হইতেও অনুরূপ রিওয়ায়াত করিয়াছেন। এই তিনت ریwaayatই বিশুদ্ধ। তবে সুনان ইبّن مাজা ও সুনان ابی داود-এ হযরত ابی زوبایر (را)، হযرت আইشا (রা) ও হযرت ইبّن আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ تاوافه যিয়ারত রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করিয়াছিলেন। বর্ণিত হইয়াছে :
عن عائشة وابن عباس أن النبى ﷺ اخر طواف الزيارة الى الليل.
"হযرت আইশা (রা) ও ইبّن আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। নবী تاوافه যিয়ারত রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করিয়াছিলেন" (সুনان ইبّن مাজা، ۲খ.، হা. ۳۰۵۹)।
উভয় বর্ণনায় বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হইতেছে। ইহাদের মাঝে সমন্বয়কল্পে মুহাদ্দিসগণ শেষোক্ত বর্ণনাকে অনির্ভরযোগ্য বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন। কারণ উহা বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতের পরিপন্থী। রাবী ابی زوبایر مکی নির্ভরযোগ্য হইলেও তাহার মাঝে تادلیسی করিবার প্রবণতা ছিল। ইহা ছাড়া ইমাম বুখারী (র) বলিয়াছেন، হযرت আইশা (রা)-এর সঙ্গে তাহার সাক্ষাৎ হয় নাই। তবে ইبّن আব্বাস (রা)-এর সঙ্গে তাঁহার সাক্ষাৎ হইয়াছিল বলিয়া প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁহার এই ریwaayatটি مو'ان'ان শ্রেণীভূক্ত। আর مداulis রাবীর مو'ان'ان ریwaayat সমসাময়িকদের বেলায় নির্ভরযোগ্য না হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন। ইমাম মুসলিম বলিয়াছেন، সমসাময়িকদের مو'ান'ان ریwaayat বর্ণনার ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রমাণ বহনকারী বলিয়া বিবেচিত হইবে। কিন্তু ইبّন کاییম বলিয়াছেন، যাহারা مداulisদের নয় কেবল তাহাদের বেলায় প্রযোজ্য। যদিও সাক্ষাৎ হইয়াছে বলিয়া প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে এমন ধারাবাহিকতা তখনই প্রমাণযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে যখন তাহার বিপরীতে কোন سஹீح হাদীছ বিদ্যমান থাকিবে না (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۰)।
তাওয়াফে ইফাযা সমাপ্ত করিয়া রাসূলুল্লাহ যম्यম্ কূপের দিকে অগ্রসর হইলেন। তখন যম्यম্ কূপের পানি পান করানোর দায়িত্ব ছিল عبد المطلب গোত্রের উপর। তাহারা
৫০۵ কূপ হইতে পানি তুলিয়া লোকজনকে পান করাইতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-ও পান করিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
ان رسول الله ﷺ جاء الى السقاية فاستسقى فقال العباس يا فضل اذهب الى امك فات رسول الله ﷺ بشراب من عندها فقال اسقنى فقال يا رسول الله انهم يجعلون ايديهم فيه فقال اسقني فشرب منه.
“রাসূলুল্লাহ (স) পানি পান করানোর স্থানে আসিলেন এবং পানি পান করিতে চাহিলেন। হযরত আব্বাস (রা) বলিলেন، হে فضل! তোমার মায়ের নিকট হইতে পানি লইয়া আস، রাসূলুল্লাহ পানি পান করিবেন। রাসূলুল্লাহ বলিলেন، আমাকে এইখান হইতেই পান করান। আব্বাস (রা) বলিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা ইহাতে হাত দিয়াছে। তিনি বলিলেন، তবুও পান করান। অতএব তিনি উহা হইতেই পান করিলেন” (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ২৬۶۳، পৃ. ۸۱۷)।
হযرت ইবّن আব্বাস (রা) বালতি দ্বারা পানি তুলিয়া তাঁহার সামনে হাযির করিলেন। তবে ইبّن زوراج (র)-এর বর্ণনায় আছে، রাসূলুল্লাহ নিজেই বালতি দ্বারা পানি তুলিয়া লইয়াছিলেন। এই বর্ণনা অসমর্থিত। তারপর তিনি কিবلامুখী হইয়া দাঁড়াইয়া পানি পান করিলেন। আবার কোন কোন বর্ণনায় রহিয়াছে، তিনি উটের পিঠে بসিয়া পান করিয়াছিলেন। পানি পান করিয়া কিছু পানি তিনি নিজ মাথায় ঢালিয়া দেন (আস-سীরাه আল-হালাبیয়्या، ۳খ.، পৃ. ۲۷۰; শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۵; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۲; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۱۱-۲۱۲)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ যم્યম্ কূপের নিকট আসিলেন، যেখানে লোকজন পানি পান করিতেছিল। তিনি পানি পান করানোর দায়িত্বে নিয়োজিত লোকজনকে উৎসাহ দিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
فقال اعملوا فانكم على عمل صالح ثم قال لولا ان تغلبوا لنزلت حتى اصنع الحبل على هذه واشار الى عاتقه.
“তিনি বলিলেন، কাজ করিয়া যাও। তোমরা نیک কাজ করিতেছ। অতঃপর বলিলেন، যদি আশংকা نا থাকিত যে، তোমরা লোকজনের চাপে পরাভূত হইবে، তাহা হইলে আমি سওয়ারী হইতে অবতরণ করিতাম এবং ইহার উপর رشی লইতাম। এই বলিয়া তিনি নিজ কাঁধের দিকে ইঙ্গিত করিলেন” (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ২৬۶۳، পৃ. ۸۱۸; শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۵; আস-سীরাه আল-হালাبیయ्या، ۳খ.، পৃ. ۲۷۰)।
ساهیحاینে হযরত আবদুল্লাহ ইبّن উমার (را) বর্ণনা করিয়াছেন، تاوافه ইফাযা সমাপ্ত করিয়া রাসূলুল্লাহ মক্কা হইতে মিনায় চলিয়া আসেন। میناتے আসিয়াই তিনি যুহরের نامায আদায় করিলেন। কিন্তু سஹீح মুসলিমে হযরত جابر (را) বর্ণনা করিয়াছেন، যুহরের نامায তিনি মক্কায় আদায় করিয়াছিলেন। হযرت আইشا (را)-ও অনুরূপ ریwaayat করিয়াছেন। سس
۵۳۶ বৈপরীত্য সত্ত্বেও ریwaayat দুইটিই ساہیح۔ সেইজন্য উভয় বর্ণনার মাঝে সমন্বয় সাধন করিয়া বলা যায় যে، تاواف শেষ করিয়া রাসূলুল্লাহ মক্কাতেই ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুহরের نامায আদায় করিয়াছিলেন। তারপর মিনায় ফিরিয়া যান، অতঃপর যাহারা মিনায় রহিয়া গিয়াছিলেন তাহাদের সাথে পুনরায় যুহরের نامায আদায় করেন।
তবে উক্ত অভিমتকে অনেকে অসম্ভব বলিয়া মনে করেন। কারণ সেই দিন রাসূলুল্লাহ جامراتول Akabaয় কংکر নিক্ষেপ করেন، নিজ হাতে ۶۳টি উট نحر করেন، বাকীগুলি نحر করিতে হযরত علی (را)-কে নির্দেশ দেন। হযرت علی (را) বাকীগুলি نحر করিয়া প্রত্যেকটি হইতে কিছু কিছু گوشت নিয়া রান্না করিলেন। রাসূলুল্লাহ তাহা ভক্ষণ করেন، তারপর মাথা মুণ্ডন করেন ইত্যাদি। এতগুলি কাজ সমাপ্ত করিয়া যুহরের ওয়াক্তেই ফিরিয়া আসা অসম্ভব কিছু নয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۲۹; আস-سীরাه আল-হালাبیయ्या، ۳খ.، পৃ. ۲۷۰-۷۱; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۰۹; শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۵)。
যাহা হউক রাসূলুল্লাহ تاوافশেষে ঐ দিনই মিনায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং এইখানেই রাত অতিবাহিত করেন। পরের দিন দ্বিপ্রহরের পর তিনি পদব্রজে مسجدul খায়ফ-এর দিকে অবস্থিত جامراসহ সকল جامরায় কংکر নিক্ষেপ করিলেন। বর্ণিত হইয়াছে :
ان رسول الله ﷺ كان اذا رمى الجمرة التي تلي مسجد منى يرميها بسبع حصيات يكبر كلما رمى بحصاة ثم تقدم امامها فوقف مستقبل القبلة رافعا يديه يدعو وكان يطيل الوقوف.
"রাসূলুল্লাহ মিনার مسجدul খায়ف سંગلગ جامরায় ساتটি কংکر নিক্ষেপ করিলেন। প্রতিটি কংکر নিক্ষেপের সময় 'আল্লাহু اکبر' বলিলেন। অতঃপর س সামনে অগ্রসর হইয়া এবং কিবলামুখী হইয়া উভয় হাত উঠাইয়া দীর্ঘ সময় দুآ করিলেন।"
তারপর দ্বিতীয় جامরায় কংকর নিক্ষেপ করিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
ثم ياتي الجمرة الثانية فيرميها بسبع حصيات يكبر كلما رمى بحصاة ثم ينحدر ذات اليسار مما يلى الوادى فيقف مستقبل القبلة رافعا يديه يدعو.
"অতঃপর তিনি দ্বিতীয় جامরার নিকট আসেন। এইখানেও ساتটি কংকর নিক্ষেপ করেন। প্রতিটি কংکر নিক্ষেপের সময় تکبیر ধ্বনি দেন। তারপর বাম দিকের নিম্নভূমিতে، যাহা جامرا সંગلگ، একটু সরিয়া যান। তারপর সেখানে কিবলামুখী হইয়া উভয় হাত উঠাইয়া দুآ করেন।"
۵۳۷ মহানবী সর্বশেষ جامরার নিকটে আসিয়া কংکر নিক্ষেপ করিলেন। এই সম্পর্কে বর্ণিত হইয়াছে:
ثم ياتي الجمرة التي عند العقبة فيرميها بسبع حصيات يكبر عند كل حصاة ثم ينصرف ولا يقف عندها .
"অতঃপর তিনি আকাবাস্থ جامরার নিকট আগমন করিলেন। سথায় ساتটি কংকর নিক্ষেপ করিলেন এবং প্রতিটি কংکر নিক্ষেপের সময় تکبیر ধ্বনি দেন। তারপর সেখানে অবস্থান না করিয়াই ফিরিয়া আসেন” (বুখারী، হা. ۱۷۵۳، পৃ. ۱۷۵۳; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۲; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵খ.، পৃ. ۲۱۲)।
১২ যিলহজ্জ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ میناتے অবস্থান করেন। মিনায় অবস্থানকালে তিনি প্রতি দিন দ্বিপ্রহরের পরে جامراসমূহে কংکر নিক্ষেপের জন্য গমন করিতেন। বর্ণিত হইয়াছে:
عن جابر قال رمى رسول الله ﷺ الجمرة يوم النحر ضحى اما بعد ذلك فاذا زالت الشمس.
"হযرت جابر (را) বলিয়াছেন، কেবল ইয়াওمুন نحرے রাসূলুল্লাহ পূর্বাহ্নে جامরায় কংکر নিক্ষেپ করিয়াছিলেন। ইহার পর দ্বিপ্রহরের পর কংকর নিক্ষেپ করিতেন” (সাহীح مسلم، ۴خ.، পৃ. ۸۰)।
কংকর নিক্ষেপ সমাপ্ত করিয়া তিনি আবার অবস্থান سথলে ফিরিয়া আসেন। এইভাবে প্রতিদিন দ্বিপ্রহরের পর جامرهসমূহে কংکر নিক্ষেپ করেন। ইহাও প্রমাণিত যে، রাসূলুল্লাহ مینায় অবস্থানকালে দুইটি ختبا প্রদান করিয়াছিলেন। প্রথমটি ۱۰ যিলহজ্জ ইয়াওمুন نحر বা কুরবানীর দিন। দ্বিতীয়টি ইয়াওمور رউس-এ। ইয়াওمور رউس বলা হয় কুরবানীর পরের দিনকে। কেননা ঐ দিন তাহারা কুরবানীর পশুসমূহের মাথা বা گوشت খাইয়া থাকে (শিবলী নু'مانী، سীরাتون-نبی، ۲خ.، পৃ. ۴۵۵; আসاحْhuس سیار، পৃ. ۵۳۲; আল-বিদায়া و وان-نیهیا، ۵خ.، পৃ. ۲۲۳)।
১০ যিলহজ্জ হইতে ۱۳ যিলহজ্জ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ مینায় অবস্থান করিয়াছিলেন। তবে এত সময় অবস্থান করা বাধ্যতামূলক নয়। কেহ যদি এখানকার کار্যাবলী سmponn করিয়া দুই দিনের মধ্যেই ফিরিয়া যায় তবে তাহার কোন পাপ হইবে না। আবার বিলম্ব করিলেও কোন পাপ হইবে না। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ.
"যদি কেহ তাড়াতাড়ি করিয়া দুই দিনে চলিয়া আসে তবে তাহার কোন পাপ নাই। আর যদি কেহ বিলম্ব করে তবে তাহারও কোন পাপ নাই" (২ঃ ۲۰۳)।
সেইজন্য রাসূলুল্লাহ আব্বাস ইبّن عبد المطلب (را)-কে মক্কায় রাত্রি যাপনের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। কেননা তাঁহার উপর হাজ্জীদিগকে পানি পান করানোর দায়িত্ব ছিল। তাই তিনি অনুমতি পাইয়া আগেই মক্কায় চলিয়া আসেন। বর্ণিত হইয়াছে:
۵۳۸ استفاد العباس بن عبد المطلب رسول الله ﷺ ان يبيت بمكة ايام من منى اجل سقايته فاذن له.
"পানি পান করানোর নিমিত্তে মিনার দিনসমূহে হযরত আব্বাস ইبّن عبد المطلب (را) مক্কায় রাত্রি যাপনের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনি তাঁহাকে মক্কায় রাত্রি যাপনের অনুমতি দিলেন" (سুনان ইبّن مাজা، ۲خ.، হা. ۳۰۶۵; سஹீح مسلم، ۴خ.، পৃ. ۸۶; আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۳)。
অতঃপর ۱۳ যিলহজ্জ মঙ্গলবার রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্বিপ্রহরের পর مিনা হইতে رওয়ানা হইয়া মুহাসساب প্রান্তরে আসিয়া অবস্থান করেন। মুহাসسابকে ابতাহ এবং খায়ف بনী কিনানাও বলা হয়। ইহা হইল সেই প্রান্তর যেইখানে نبوةর প্রথমদিকে بনী কিনানা و কুরায়شএর লোকেরা بনী হাশم و بনী عبد المطلبএর বিরুদ্ধে এই মর্মে শপথ করিয়া চুক্তিবদ্ধ হইয়াছিল যে، রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাহাদের হাতে তুলিয়া نا দেওয়া পর্যন্ত তাহাদের সহিত سس প্রকার লেনদেন، বিবাহ-شادی প্রভৃতি বন্ধ থাকিবে।
হযرت ابی رافی' (را) সর্বপ্রথম মুহাসসারে আসিয়া তাঁবু স্থাপন করিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ আসিয়া সেই তাঁবুতে প্রবেশ করিলেন এবং সেইখানেই আসر، ماগরিব و ইশার نامায আদায় করেন এবং سارا রাত সেইখানেই অতিবাহিত করেন (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۳; শিবলী নু'মানী، سীরাতুন-نبی، ۲خ.، পৃ. ۴۵۵; আস-سীরাه আল-হালাبیی্যা، ۳خ.، পৃ. ۲۷۲)।
মুহাসসারের এ অবস্থান হজ্জের কোন অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইহা একটি যাত্রাবিরতি سথান মাত্র। রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্য কোথাও যাওয়ার সুবিধার্থে এইখানে অবস্থান করিয়াছিলেন (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ۲۶۶۶، পৃ. ۸۱۸)।
মুহাসসার-এ থাকাকালে হযرت سفیہ (را)-এর ঋতুস্রাব শুরু হয়। সংবাদ শুনিয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বলিলেন، তাহা হইলে سفیہই কি আমাদেরকে থামাইয়া দিল؟ বর্ণিত হইয়াছে:
حاضت صفية بنت حي بعد ما أفاضت قالت عائشة فذكرت ذلك الرسول الله ﷺ فقال احابستانا هي فقلت انها قد افاضت ثم حاضت بعد ذلك قال رسول الله ﷺ فلتنفر.
“হযرت আইশা (را) বলিয়াছেন، হযرت سفیہর ঋতুস্রাব শুরু হইল। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাহা জানাইলাম। তিনি বলিলেন، সে কি আমাদেরকে আটকাইয়া দিল؟ আইشا (রা) বলেন، আমি বলিলাম، সে تاوافه Ifadahর পর ঋতুবতী হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলিলেন، তাহা হইলে رওয়ানা কর" (سুনান ইبّন مাজা، ۲خ.، হা. ۳۰۷۲، পৃ. ১০۲۱; مشkatul مسাবীح ۲خ.، হা. ۲۶۶۹، পৃ. ۸۱۹)।
সেই রাতেই হযরত আইশা (را) উমরা আদায় করিবার ইচ্ছা ব্যক্ত করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত عبد الرحمان ইبّن ابی باك্ (را)-কে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন
৫৩৯ তাঁহাকে তানঈম হইতে উমরা করাইয়া নিয়া আসেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
قالت احرمت من التنعيم بعمرة فدخلت فقضيت عمرتي وانتظرني رسول الله ﷺ بالابطح حتى فرغت فامر الناس بالرحيل.
"হযرت আইশা (রা) বলিয়াছেন، আমি তানঈم হইতে উমরার ইহরাম বাঁধিয়া উমরা সম্পন্ন করিলাম। এইদিকে রাসূলুল্লাহ আমার জন্য ابتاہے অপেক্ষা করিতেছিলেন। যখন উমরা শেষ করিয়া আসিলাম তখন তিনি লোকজনকে رওয়انا করিবার নির্দেশ দেন" (مشkatul مسাবীح، ۲خ.، হা. ۲۶۶۷، পৃ. ۸۱۸)。
অন্য একটি বর্ণনায় রহিয়াছে، হযرت আইশা (را) বলেন، আমরা যখন উমরা সম্পন্ন করিয়া ফিরিয়া আসিলাম তখন রাসূলুল্লাহ-এর সঙ্গে রাস্তায় আমাদের সাক্ষাৎ হইল। তবে সম্ভবত দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তিনি যখন رওয়انا হওয়ার انتظار করিতেছিলেন এমন সময় হযرت আইشا আসিয়া পৌঁছিলেন। আর এই সবই বিদায়ী تاوافهর পূর্বের ঘটনা (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۳-۳۴)।
উমরা সম্পন্ন করিয়া হযرت আইشا (را) রাতেই ফিরিয়া আসেন। তাঁহার আসার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ তাঁবু উঠাইয়া যাত্রা শুরুর নির্দেশ দিলেন। রাতের বেলাই মক্কা রওয়ানা হইলেন। হযرت ইبّن اب্বাস (র) বর্ণনা করিয়াছেন، লোকজন বিদায়ী تاوافه نا করিয়াই চতুর্দিকে চলিয়া যাইতে লাগিল। তখন রাসূলুল্লাহ বলিলেন:
لا ينفرن احدكم حتى يكون اخر عهده بالبيت الا انه خفف عن الحائض.
"বায়তুল্লাহ تاوافه نا করিয়া তোমাদের কেহ প্রস্থান করিতে পারিবে না। তবে ইহা হইতে ঋতুবতীকে বাদ দেওয়া হইয়াছে” (سুনان ইبّن مাজা، ۲خ.، হা. ۳۰۷۰، ۱۰۲۰; مشkatul مسাবীح)।
مکہ মুআজ্জামায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ রাতের বেলাই تاوافول بِدا (বিদায়ী تاواف) সম্পন্ন করেন। বর্ণিত হইয়াছে:
فمر بالبيت فطاف به قبل الصبح.
"বায়তুল্লাহ আসিয়া তিনি ফজরের نامাযের পূর্বেই تاوافول بِدا সম্পন্ন করেন"। تاوافান্তে کا'با শরীফেই ফজরের نامায আদায় করিলেন। তবে এই تاواف হইতে ঋতুবতীদিগকে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে।
বিদায়ী تاواف সম্পন্ন করিয়া রাসূলুল্লাহ মক্কা হইতে সরাসরি مدینای رওয়انا হইলেন، মুহাসসারে ফিরিয়া আসিলেন না। এই ব্যাপারে ইহাই বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য অভিমت। তবে কেহ কেহ বলিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ تاوافه بِدا সম্পন্ন করিয়া পুনরায় মুহাসসারে ফিরিয়া আসেন। তবে ইহা বিশুদ্ধ অভিমت নহে (ওয়ালী উদ্দীন আল-খাতীব، প্রাগুক্ত আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۴; শিবলী নু'মানী، سীরাتون-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۵; আস-سীরাه আল-হালাبیయ्या،
৫۴۰ গাদীরে খুম-এর ভাষণ : হজ্জের যাবতীয় কার্যাবলী سسসম্পন্ন করিয়া রাসূলুল্লাহ مدینামুখে رওয়ানা হইলেন। সঙ্গে আনصار ও মুহাজিরদের এক বিরাট কাফেলা। সকলেই নিজ নিজ গৃহে ফিরিতেছেন। রাস্তায় আল-जुহফা হইতে تین মাইল দূরে খوم নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করিলেন। سথানটি ছিল মক্কা و مدینାର মাঝখানে। سখানে একটি পুকুর ছিল। আরবী ভাষায় পুকুরকে বলা হয় گادیر। পরবর্তী কালে سথানটি “گادیر-ই خوم” نامেই সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে। سখানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ সাহাবীগণকে সমবেত করিয়া একটি خতবা প্রদান করেন। এই ختবা (ভাষণ) সম্পর্কেও বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা রহিয়াছে। ساہیح মুসলিম শরীফে হযرت যায়د ইبّن ارقم (را) বর্ণনা করিয়াছেন، س খতবায় প্রথমেই রাসূলুল্লাহ চিরাচরিত পন্থায় আল্লাহর হামদ و ছানা বর্ণনা করেন। তারপর ভাষণ প্রদান করেন :
اما بعد الا ايها الناس انما انا بشر يوشك ان ياتيني رسول ربي فاجيب وانا تارك فيكم الثقلين اولهما كتاب الله فيه الهدى والنور فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به فحث على كتاب الله ورغب فيه ثم قال واهل بيتي اذكر الله في اهل بيتي.
“হামদ ও ছানার পর বলিলেন، হে লোকসকল ! নিঃসন্দেহে আমিও মানুষ। সম্ভবত আমার প্রতিপালকের বার্তাবহ ফেরেশতা আসিয়া উপস্থিত হইতে পারেন এবং আমিও উহা কবুল করিতে পারি। আমি তোমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বস্তু রাখিয়া যাইতেছি। ইহাদের প্রথমটি হইল আল্লাহর কিতاب পবিত্র কুরআন। ইহাতে রহিয়াছে হিদায়াত ও নূর। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাব শক্তভাবে আকড়াইয়া ধর। তিনি এই ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করিলেন। আর অপরটি হইল আমার পরিবারবর্গ। আমি আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করাইয়া দিতেছি” (শিবলী নু'মানী، سীরাتون নবী، ২খ.، পৃ. ৪৫৫-৪۵۶)।
অপর একটি বর্ণনায় রহিয়াছে، যায়দ ইবّن ارقم (را) বর্ণনা করিয়াছেন، রাসূলুল্লাহ گادیر-ই خوم-এ হযرت علی (را)-এর হাত ধরিয়া বলিলেন :
الستم تعلمون انى اولى بالمؤمنين من انفسهم قالوا بلى قال الستم تعلمون اني اولى بكل مؤمن من نفسه قالوا بلى فقال اللهم من كنت مولاه فعلی مولاه اللهم وال من والانه وعاده من عاداه فلقيه عمر بعد ذلك فقال له هنياء يا ابن ابی طالب اصبحت وامسیت مولى كل مؤمن ومؤمنة.
“তোমরা কি জান না যে، আমি مو'minদের নিকট তাহাদের নিজেদের অপেক্ষাও বেশী আপন؟ তাহারা বলিলেন، হাঁ। তিনি আবার বলিলেন، তোমরা কি জান না যে، আমি প্রতিটি مو'minএর নিকট তাহার নিজের অপেক্ষাও বেশী আপন؟ তাহারা বলিলেন، হাঁ। ইহার পর তিনি
۵۴۱ বলিলেন، হে আল্লাহ! আমি যাহার অভিভাবক علیও তাহার অভিভাবক। হে আল্লাহ! যে তাহার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হইবে তুমিও তাহার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হও। আর যে তাহার প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হইবে তুমিও তাহার প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হও। অতঃপর হযرت উমার (রা) তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া বলিলেন، موبارکباد হে علی ইবّن ابی طالب! আপনি সকল مو'min নর-নারীর অভিভাবক হইয়া গেলেন” (শিবলী নু'مانী، سীরাতুন-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۶۳; আসাহ্huس سیار، পৃ. ۵۳۵)。
গادীরে খুম-এর ভাষণ সম্পর্কে বর্ণিত প্রায় সকল ریwaayatে একটি বিষয়ই প্রাধান্য পাইয়াছে، তাহা হইল :
اِيْهَا النَّاسُ اِنَّ اللّٰهَ مَوْلَئ وَاَنَا مَوْلٰى الْمُوْمِنِيْنَ وَاَنَا اَوْلٰى بِهِمْ مِنْ اَنْفُسِهِمْ فَمَنْ كُنْتُ مَوْلٰهُ فَهٰذَا مَوْلٰهُ يَعْنِيْ عَلِيًّا اَللّٰهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ.
“হে লোকসকল! নিঃসন্দেহে আল্লাহ আমার، মাওলা، প্রভু। আর আমি مو'minদের মাওলা، বন্ধু। আমি مو'minদের নিকট তাহাদের প্রাণের অপেক্ষাও বেশী আপন। আমি যাহার বন্ধু علیও তাহার বন্ধু। হে আল্লাহ! যে তাহার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হইবে তুমিও তাহার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হও। আর যে তাহার প্রতি বিদ্বেষাপন্ন হইবে তুমিও তাহার প্রতি বিদ্বেষাপন্ন হইবে” (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۵-۵۳۶)।
গাদীরে خوم-এর ভাষণে হযرت علی (রা) সম্পর্কে এইরূপ বলিবার কি প্রয়োজন ছিল، س সম্পর্কে ইبّن হাজার مکی তাঁহার ساوایہ মুহরিকা গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন। حافظ شمس الدين যায়اری ইبّن ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়া বলিয়াছেন، ইয়امানে হযরত علی (را)-এর কার্যক্রমে কেহ কেহ তাঁহার প্রতি বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠে। তবে কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হইয়াছে যে، گنیماটের مال بন্টন সম্পর্কে কেহ কেহ তাঁহার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। ইبّن ইসহাক বলিয়াছেন، হযরত علی (را) یامن হইতে যখন রাসূলুল্লাহ -এর নিকট مক্কায় আসেন তখন একজনকে সেনবাহিনীর দায়িত্বে রাখিয়া আসেন। س সঙ্গী হযرت علیএর কাপড় দিয়া সেনবাহিনীর সকল সদস্যের পোশাক তৈরি করিয়া দিলেন। তিনি বিষয়টা জানিতে চাহিলে সে জানাইল যে، মানুষের سंगे মেশার সময় যেন তাহাদের ভদ্র দেখায় سজন্য এই ব্যবস্থা করা হইয়াছে। তখন তিনি তাহাদিগকে পোশাক ধুইয়া ফেলিতে নির্দেশ দেন। তাহারা পোশাক ধুইয়া ফেলে। তাহার এই আচরণে সেনবাহিনীর সকল লোক ক্ষুব্ধ হইয়া উঠে। স যাহা হউক বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে কেহ রাসূলুল্লাহ -এর নিকট অভিযোগ করিয়াছিল। উক্ত ভাষণে রাসূলুল্লাহ ইহার প্রতিবাদ করিয়াছিলেন। বুখারী শরীফের বর্ণনা দ্বারা জানা যায়، হযرت بوریদা (را) রাসূলুল্লাহ -এর নিকট অভিযোগ করিয়াছিলেন। حافظ যাহাবী ইহাকে বিশুদ্ধ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন।
হযرت بوریদা (را) রাসূলুল্লাহ -এর নিকট অভিযোগ করিলে তাহা শ্রবণে তাঁহার চেহারা মুبارک বিবর্ণ হইয়া যায়، যাহা سس بوریদা (را) বর্ণনা করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ বলিলেন :
۵۴۲ ইয়া بوریদা الاsata اولى بالمو'minīn من انفسهم قلت بلی یا رسول الله قال من كنت مولاه ف علی مولاه।
“হে بوریদা। আমি কি مو'minদের নিকট তাহাদের প্রাণের অপেক্ষাও অধিক আপন নই؟ আমি বলিলাম، হাঁ، ইয়া রাসূলাল্লাহ। তারপর তিনি বলিলেন، আমি যাহার ماওلا علیও তাহার ماওলা، বন্ধু” (আসাহْhuس سیار، পৃ. ۵۳۶; শিবলী নু'মানী، سীরাতুন-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۶; হযرت محمد মুস্তফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন، পৃ. ۹۱۹)।
প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ مدینାର سन्निकট যুল-হুলায়फा নামক স্থানে আসিয়া যাত্রা বিরতি দেন এবং এইখানে রাত্রি যাপন করেন। পরের দিন প্রত্যুষে একদিকে সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদয় হইল، অপরদিকে রাসূলুল্লাহ সদলবলে مدینାର পথে চলিলেন। এক সময় مدینিয়া মুনাওয়ারা দৃষ্টি সীমার খুব কাছাকাছি চলিয়া আসে। مدینାର জনপদ দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্র তিনি বলিতে লাগিলেন:
الله اكبر لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير البون تائبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده.
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়، তাঁহার কোন শরীক নাই। রাজত্ব কেবল তাঁহারই। সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁহারই। তিনি সকল কিছুর উপরই ক্ষমতাবান। (بان্দাহগণ) প্রত্যাবর্তন করিয়াছে তাওبارত، আনুগত্যশীল، سজدارত এবং প্রতিপালকের প্রশংসারত অবস্থায়। মহান আল্লাহ سس প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছেন، আপন বান্দাহকে সাহায্য করিয়াছেন এবং সমস্ত বাহিনীকে একাই পরাست করিয়াছেন” (শিবলী নু'مانী، سীরাতুন-نبی، ۲খ.، পৃ. ۴۵۶; علی নদবী، نبیے رحمت، পৃ. ۴۰۹; হযرت محمد মুستফা সমকালীন পরিবেশ ও জীবন، পৃ. ۹۱۹-۲۰; আল-ماواحیbulluduন্নিیا، ৪খ.، পৃ. ৪৬৫-৪৬۶)。
রাসূলুল্লাহ দিনের বেলা مدینায় প্রবেশ করিলেন। তাঁহার হজ্জও সমাপ্ত হইল। ইহা ছিল তাঁহার نبوةর জীবনের প্রথম ও শেষ হজ্জ، পূর্ণতার হজ্জ এবং বিদায়ের হজ্জ।
গ্রন্থপঞ্জী: (۱) আল-কুরআন আল-কারীم; (۲) ابی عبد اللہ محمد ইবّন إسماعيل আল-بخاری (ر)، আস-ساهیح، داروس سلام، ریاد، تا.بی.; (۳) ابی عبد اللہ محمد ইبّن یازید، سُننُ إبّن ماجا، دارو إحیاal قتوب Al-আराबیا، بئیرুত، تا.بی.; (۴) امام احمد ইبّن حمبل، मुसनाद، دارو إحیاat تراتس ال-آرابی، بئیروت لبنان، দ্বিতীয় সংস্করণ ۱۹۹۳/۱۴۱۴; (۵) ইبّن কাছীর، اد-দামাশکی، আল-বিদায়া و وان-نیهیا، موواساساتو تاریخ আল-آرابی، بئیروت لبنان، প্রথম প্রকাশ ۱۹۹۲/۱۴۱۳; (۶) ইبّن ইসহাক، سীরাতে রাসূলুল্লাহ، অনুবাদ: শহীদ আখন্দ، ইসলামিক ফাউন্ডेशन বাংলাদেশ، প্রকাশকাল : ۱۹۹۲/۱۴۱۳; (۷) ডঃ মুহাম্মদ হোسায়েন হায়کل، মহানবী (س)-এর জীবন চরিত، অনুবাদ: তাজুল ইসলাম، ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ، প্রকাশ ۱۹۹۸./۱۴۰۵; (۸) علی ইبّ
৫৪৩ بুরহানুদ্দীন আল-হালাবী، আস-সীরাহ আল-হালাবিয়া، দারু ইহইয়াইত তুরাছ আল-আরবী، বৈরুত، লেবানন، তা. বি.; (৯) আব্দুর رউف দানাপুরী، আসাহহুস সিয়ার، অনুবাদ: মাوঃ আ.হ.م. মাহমুদুল হাসান ও মাوঃ আবদুল্লাহ ইبّন সা'ঈদ জালালাবাদী، ই.ফা.বা. ۱۴۱۷ হি.; (১০) আল্লামা শিবলী نو'مانী ও সা'ঈদ সুলায়मान নদভী، سীরাتون نبی، অনুঃ এ.کے.এম فضل الرحمن مونسی، বাংলাদেশ তাজ কোং لیঃ، তা. بی.; (۱۱) شায়খুল হাদীছ ماوঃ محمد تফাজ্জل হোসায়েন، হযرت محمد মুস্তাফا (س) সমকালীন পরিবেশ و জীবন، প্রকাশকাল ۱۹۹۸ খৃ.; (۱۲) সফিউر রহমান موبارকپوری، ار-রাহীকুল ماخтом (আরবী)، दारुल খায়ر، প্রথম প্রকাশ ۱۴۹۶/۱۹۷۹; (۱۳) সা'ঈদুদ ابی الحسن علی নদভী، نبیی رحمت، অনুবাদ: ابی سا'ঈদ محمد عمر علی، مجلس نשریাত-ای-اسلام، প্রকাশ ১৪۸۷ খৃ.; (۱۴) ইبّن ہیشام، سীরাতে ইبّন ہیشাম، অনুবাদ، اکرام ফারুক، বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার، ঢাকা، প্রকাশ ۱۹۹۸ খৃ.; (۱۵) ইبّن কাছীর اد-দামাশکی، আল-فوول فی سیرہ الرسول، دارول খায়র، داماشک، বৈরুত، প্রথম প্রকাশ ۱۴۹۵/۱۹۷۵; (১৬) সফিউর রহমান موبارکپوری، ار-রাহীকুল ماخтом، অনুবাদ، খাদিজা আখতার রেজاعی، আল-কুরআন एकेडमी، لندن، প্রকাশ ১৯৯৯/২০۲۰; (১৭) ইبّن কাছীর اد-দামاشکی، আস-سীরাتون নাবابیی্যা، दारુલ ما'আরিফাহ، বৈরুত، লেবানন، তা. বি.; (১৮) ماوঃ محمد عبد المتین، ইshad دیاریا، বঙ্গানুবাদ، শরহে بکیا، আশরাফিয়া لائبریری، চৌমুহনী، نو'আখالی، প্রকাশ ۱۹۹۰; (۱۹) محمد ہادیسور রহমান، تنویرال مشکات، বঙ্গানুবাদ: مشکاتुल مسাবীح، আরাফাত پابلیکیشنز، ঢাকা; (۲۰) امام مسلم، ساهیح مسلم، دارول ماআরিفاہ، বৈরুত، লেবানন، تا. بی.; (۲۱) والی ادদীন আল-খاطیب، مشکاتુલ ماআبیح، আল-مکتوبুল اسلامی، দ্বিতীয় সংস্করণ ۱۴۷۹/۱۹۷۹، বৈরুত; (۲۲) امام ابی داود، سُننُ ابی داود، دارول قتوب Al-ইلمییا، বৈরুত، লেবানন، প্রকাশ কাল ۱۳۸۹/۱۹۶۹-۷۰; (۲۳) আল-کاستালانی، আল-ماواحیbulluduন্নিیا، আল-مکتوبুল اسلامی، প্রথম সংস্করণ ۱۳۱۲/۱۹۹۱; (۲۴) ইبّন ہیشام، اس-سیراتون نابابییাহ، دارول খায়ر، দ্বিতীয় সংস্করণ ۱۴۱۶/۱۹۹۵।